Breaking News
Abhishek Banerjee: বিজেপি নেত্রীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের অভিযোগ, প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জাতীয় মহিলা কমিশনের      Convocation: যাদবপুরের পর এবার রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সমাবর্তনে স্থগিতাদেশ রাজভবনের      Sandeshkhali: স্ত্রীকে কাঁদতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন 'সন্দেশখালির বাঘ'...      High Court: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল, সুদ সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ হাইকোর্টের      Sandeshkhali: সন্দেশখালিতে জমি দখল তদন্তে সক্রিয় সিবিআই, বয়ান রেকর্ড অভিযোগকারীদের      CBI: শাহজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ! তদন্তে সিবিআই      Vote: জীবিত অথচ ভোটার তালিকায় মৃত! ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ধূপগুড়ির ১২ জন ভোটার      ED: মিলে গেল কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বর, শ্রীঘই হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ ইডির      Ram Navami: রামনবমীর আনন্দে মেতেছে অযোধ্যা, রামলালার কপালে প্রথম সূর্যতিলক      Train: দমদমে ২১ দিনের ট্রাফিক ব্লক, বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন, প্রভাবিত কোন কোন রুট?     

অন্যান্য

Konkan Railway: ভারতীয় রেলের হয়েও নিজস্বতা বজায় করে চলেছে কোঙ্কণ রেল

কোঙ্কণ রেল নামটা শোনা থাকলেও অনেকেই হয়তো জানেন না যে এটি কোথায় বা এটা কি ভারতীয় রেলের কিনা?

আজ আমরা জানব সেরমই কিছু অজানা তথ্য। কোঙ্কন রেল হল ভারতীয় রেলের ১৯ তম জোন । যার সদর দফতর হল মুম্বই-এর বেলাপুর। ভারতের কোঙ্কন উপকূলে তার উপকূলীয় শহর, শহর এবং গ্রামগুলিকে সংযুক্ত করার জন্য একটিও রেল যোগাযোগ নেই।


এমনকি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারত শাসনকারী ব্রিটিশরাও এই পথে রেলপথ নির্মাণ করেনি। প্রথম প্রস্তাবটি ১৯২০ সালে জরিপ করা হয়েছিল। ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য সমীক্ষা করা হয়েছিল । ১৯৯৮ সালের ২৬ শে জানুয়ারি  মহারাস্ট্রের রোহা থেকে কর্ণাটক রাজ্যের থকুর স্টেশন পর্যন্ত চলাচল শুরু হয়।


মোট ৭৫৬.২৫ কিমি এই যাত্রাপথ। মহারাষ্ট্রের মধ্য দিয়ে এর দৈর্ঘ্য ৩৬১ কিলোমিটার (২২৪ মাইল), কর্ণাটক হয়ে ২৩৯ কিলোমিটার (১৪৯ মাইল) এবং গোয়ার মধ্য দিয়ে ১৫৬.২৫ কিলোমিটার (৯৭.০৯ মাইল) ।  রোহা থেকে  থকুর পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র .৭৪১ কিলোমিটার পথটি ২০২২ সালের মার্চ মাসে বিদ্যুতায়িত হয়েছে । সমগ্র রেলপথটিতে ৯১ টি টানেল ও প্রায় ১৮০০ উপর রেল ব্রিজ রয়েছে।  ১৯তম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস যা গোয়া ও মুম্বইয়ের  মধ্যে চলাচল করে এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। 

উক্সি এবং ভোকে স্টেশনের মধ্যে অবস্থিত কোঙ্কন রেলওয়েতে অবস্থিত কার্বুদে টানেল , ৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল। কার্বুদে টানেল হল কোঙ্কন রেললাইনের দীর্ঘতম টানেল। এই পথে মালবাহী ট্রাক রেলে করে পরিবহন করা হয় যা RORO( Roll On/ Roll Off) নামে পরিচিত ।


এই পরিবহন মহারাষ্ট্রের কোলাড থেকে গোয়ার ভারমা পর্যন্ত চলে। এই ট্র্যাকেই অ্যান্টি

কলিশন সিস্টেম চালু করা হয়। বর্তমানে যে সকল ট্রেন চলাচল করে এই পথে তার মধ্যে অন্যতম

ট্রেন নং ১২৪৩২/১২৪৩১ হযরত নিজামুদ্দিন – তিরুবনন্তপুরম সেন্ট্রাল – হযরত নিজামুদ্দিন রাজধন এক্সপ্রেস (ত্রি-সাপ্তাহিক) ...

ট্রেন নং ১২১৩৩/১২১৩৪ মুম্বই সিএসটি – ম্যাঙ্গালুরু জং – মুম্বাই সিএসটি এক্সপ্রেস (দৈনিক) ট্রেন নং ১২১৩৩ মুম্বই সিএসটি – ম্যাঙ্গালুরু জং এক্সপ্রেস। ...

ট্রেন নম্বর ১৬৩৩৩/১৬৩৩৪ ভেরাভাল - তিরুবনন্তপুরম - ভেরাভাল এক্সপ্রেস (সাপ্তাহিক)



9 months ago
Kalpana Dutta: স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরকন্যা কল্পনা দত্ত (শেষ পর্ব)

সৌমেন সুর: জেল থেকে মুক্তির পর কল্পনা দত্ত রবীন্দ্রনাথ ও দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। উত্তরের রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, 'তোমার চিঠি পেয়ে আমি খুশি হয়েছি। দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর তুমি মুক্ত হয়েছ। তুমি এখন দিনে দিনে শান্তি ও শক্তি লাভ করো। আমাদের দেশে অনেক কাজ করার আছে। তার জন্য দৃঢ়তা ও সুনিয়ন্ত্রিত মন থাকা চাই। দুঃখ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতাই তোমার জীবন পূর্ণতা লাভ করুক। এই আমার আশীর্বাদ তোমার শুভার্থী- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।' জেলে থাকাকালীন তিনি সংকল্প করেন দেশের জন্য মাস্টারদা তারকেশ্বর দস্তিদার এবং বহু কর্মী প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পাদন করবেন তিনি।

ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তার ওপর পুলিশের নির্দেশ জারি হল, ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে কলকাতা ছাড়তে হবে। তিনি চট্টগ্রাম ফিরে যেতে বাধ্য হন। চট্টগ্রামে তখন জাপানি বোমা পড়ছে। বার্মা থেকে দলে দলে কেউ হেঁটে, কেউ নৌকায় চেপে ভারতের চলে আসছে। অন্য জেলার লোকও চলে আসছে। এদিকে জীবনযাত্রার মানও গেছে পাল্টে। চট্টগ্রামে যুদ্ধের জন্য ব্রিটিশ-আমেরিকান, আফ্রিকান ও ভারতীয় সৈন্য ছেয়ে গেছে। দিনকে দিন জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। মিলিটারি রাস্তা বাধার জন্য জমি অধিগ্রহণ করছে। এদিকে খাদ্যের সন্ধানে দলে দলে মানুষ শহরের পথে ঘাটে আশ্রয় নিয়েছে। কত মানুষ না খেতে পেয়ে রাস্তায় মরে পড়ে আছে। দুটো ভাত দাও ফ্যান দাও-এর কান্না ভেজা গলা। বিচলিত মানুষ। এই সবকিছু সাক্ষী কল্পনা দত্ত। পুরোপুরি সেবায় নিয়োজিত করলেন নিজেকে। খাওয়া, চিকিৎসা এমনকি নৈশ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা সমস্ত কাজ করতে লাগলেন।

এরপর দেশভাগের পর ভারতে চলে আসতে বাধ্য হলেও এবং চাকরি গ্রহণ ছাড়া বাঁচার পথ না থাকলেও, তিনি শিক্ষামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রুশ ভাষা শিক্ষায়তনের দায়িত্বে কাজ করেছেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী কল্পনা দত্ত পড়াশোনা করতেন বিস্তর। দেশ বিদেশের প্রচুর নামিদামি লেখক এর বই পড়তেন। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে 'বীরকন্যা' রূপেই চিহ্নিত হয়ে আছেন কল্পনা দত্ত। তথ্যঋণ- কল্পতরু সেনগুপ্ত

9 months ago
Kalpana Dutta: স্বাধীনতা সংগ্রামী বীরকন্যা কল্পনা দত্ত (১ম পর্ব)

সৌমেন সুর: ১৯৩২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবের কাছে পুরুষের বেশে কয়েকজন সঙ্গীসহ আটক করা হয়। পুলিশ তাদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সন্দেহ না করে প্রেমঘটিত ব্যাপার মনে করে। যখন সনাক্ত হন যে তিনি রায়বাহাদুরের নাতনি, তখন চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রী পুলিশ দ্বিধায় পড়ে যায়। কিন্তু ছেড়ে দেয় না, অপরাধীর মতন ১০৯ ধারায় অভিযুক্ত করে জামিন দেয়। এর সাত দিন পর ২৪শে সেপ্টেম্বর পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ হয় প্রীতিলতা ওয়েদেদারের নেতৃত্বে। এই প্রথম একজন মহিলার নেতৃত্বে বৈপ্লবিক আক্রমণ হলো। এই ঘটনায় সারাদেশের ছাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রিটিশ বিরোধী অকুতোভয় যোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম সদস্যা কল্পনা দত্ত ছিলেন বীর কন্যা। মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রিয়পাত্রী ও রবীন্দ্রনাথের কন্যাসম ছিলেন তিনি। ১০৯ ধারায় মামলা চলাকালীন ডিসেম্বর মাসে মাস্টারদা নির্দেশ পাঠালেন কল্পনা দত্তকে আত্মগোপন করতে হবে। যদি না করে তাহলে তাকে বিনা বিচারে জেলে আটক করবে। এই কথা শোনা মাত্র তার নতুন জীবন শুরু হয়। আজ এ গ্রাম, কাল অন্য গ্রাম করতে থাকে। সুখে থাকা মেয়ে কৃষকের বাড়িতে মোট চালের ভাত খাচ্ছে। ছেঁড়া কাঁথায় ঘুমোচ্ছে। তাঁর জীবনে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ১৯৩৩ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি। গৈরলা গ্রামে ক্ষিরোধ প্রভা বিশ্বাসের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন মাস্টারদার সঙ্গে। রাত ৯টা নাগাদ বুঝতে পারলেন মিলিটারি চারদিকে ঘিরে ফেলেছে। সবাই বেষ্টনী ভেদ করে বেরিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। গুলি বিনিময় শুরু হয়। অবশেষে মাস্টারদা ধরা পড়েন। আর কল্পনা দত্ত পাশের গ্রামে এক কৃষকের ধানের গোলায় আশ্রয় নেন। এদিকে কল্পনা দত্তের বিরক্ত কাহিনী গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৩৩ সালে জুন মাসে শুরু হয় চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ট্রাইবুনলি। ১৪ই অগাস্ট রায় হয় সূর্যসেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি। কল্পনা দত্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দ্বীপান্তর। মৃত্যুদণ্ড না দেবার কারণ তিনি নারী এবং বয়স কম।  তথ্যঋণ- কল্পতরু সেনগুপ্ত

9 months ago


Special: অধ্যাত্মিকতাহীন রাজনীতি মানুষকে বিকৃত করে; অসাধু তৈরী করে

সৌমেন সুর: শ্রী রবিশঙ্কর বলেছেন, 'ভালোবাসাই পৃথিবীর চালক। বসুধৈব কুটুম্বকম। কৃষ্ণের ছলনায় ভুলো না। রাধার মতো চালক হও। কৃষ্ণ রাধা থেকে পালিয়ে যেতে পারতেন না। কারণ রাধার সমস্ত জগৎই ছিল কৃষ্ণময়।' কৃষ্ণ হলেন দিব্যশক্তি। আমাদের মধ্যে রয়েছে সেই কৃষ্ণ, সেই দিব্যশক্তি। তাঁকে খুঁজতে হবে, তাঁকে ধরে থাকতে হবে। তাঁর জন্য আমাদের সংকল্প করতে হবে। পৃথিবীতে সার্বিক সংকল্প হল সেবা। যদি আমাদের জীবনে কোনও ভয় থাকে, তাহলে তা এসেছে সংকল্পের অভাব থেকে।

আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতি, দুটোই মানুষকে নিয়ে কাজ করে। অধ্যাত্মিকতাহীন রাজনীতি মানুষকে বিকৃত করে। অসাধু তৈরী করে এবং আবওহাওয়ায় কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজনীতি ও মানবতাহীন রাজনীতি নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, অপরাধ প্রবণতা ও অসাধুতা সৃষ্টি করে। কথা হল, রাজনীতি ও আধ্যাত্মিকতা একসঙ্গে চলার প্রয়োজন আছে। একমাত্র আধ্যাত্মিকতাই পারে আত্মবিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা তৈরী করতে। প্রশাসনে যারা থাকেন, তাদের জন্য মানবিকতা ও এই মূল্যবোধগুলি বিশেষ প্রয়োজন। যিনি সকলকে সমানভাবে দেখতে পারেন। অর্থাৎ একজন নেতার সমদর্শী হওয়া প্রয়োজন। সত্যাদর্শী সত্য দ্বারা চালিত হন। পারদর্শী তাঁর কাজে স্বচ্ছ হন। দূরদর্শী উদার মনের হন। প্রিয়দর্শিনীর মধ্যে প্রেম করুনার মৈত্রী থাকে। এইসব গুণগুলো প্রশাসনের জন্য জরুরি।

যদি সমাজে বিশৃঙ্খলা থাকে, আধ্যাত্মিকতার মূল্য না থাকে, তাহলে সেই সমাজকে পরিচালনা করা কঠিন। আধ্যাত্মিকতা মানুষকে সৎ ও দায়বদ্ধ করে। অপরাধ মুক্ত সমাজ তৈরির জন্য এটা প্রয়োজন। যখন ধর্মের নাম অনেক যুদ্ধ হয়, তখন আধ্যাত্মিকতা সাহস দেয়, আত্মবিশ্বাস তৈরী করে। এবং কঠিন সময়েও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে মানুষকে। আজ ধর্ম ও রাজনীতির সংস্করণ দরকার। ধর্মকে অনেক বেশি আধ্যাত্মিক হতে হবে। কলার খোলসটা হল ধর্ম, আর ভিতরের শাঁসটা হল আধ্যাত্মিকতা। স্বাধীনতা দিতে হবে, প্রত্যেকের নিজের ধর্মকে, প্রার্থনাকে। তাহলে পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান ভান্ডারকে এক করা যাবে।  সমস্ত রাজনীতিবিদদের মধ্যে সহাবস্থান হয় না, তখনই আমরা পাই ছদ্মধর্মীয় নেতাদের। সবশেষে বলি, আধ্যাত্মিকতা জীবন সম্বন্ধে উদার দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। যাতে করে সকলের সঙ্গে সবকিছু ভাগ করে নেওয়া যায়। তথ্যঋণ- কোন বসু মিত্র।

9 months ago
Vishwakarma: সৃষ্টির দেবতা বিশ্বকর্মা

সৌমেন সুরঃ আর মাত্র সাতদিন পরে অর্থাৎ ১৮ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো। বিষয়টি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে বলেই তথ্যটা আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। বিশ্বকর্মা হলেন সবকিছুর স্রষ্টা। এই বিশ্বের সমস্ত কারিগর শিল্পীর প্রধান প্রতিনিধি তিনি। একসময় এই বিশ্বব্রক্ষ্মান্ড ছিল অন্ধকারে পূর্ণ। তখন জল, পৃথিবী, বায়ু, তেজ, স্পন্দন, ধ্বনি ছিল না। জীব পদার্থের অস্তিত্ব ছিল না। সবকিছুই অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। একদিন হঠাৎ ধ্বনি জেগে ওঠে। সংকেত হয়- সৃষ্টির সূচনা আরম্ভ হলো। এক উজ্জ্বল আলোকময় দীপ্তির মধ্যে প্রকাশিত হলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। জন্ম হলো জল,মাটি,বায়ু,গ্রহ,নক্ষত্র, দেবতা, দানব, মানব। জগৎকে যিনি সৃষ্টি করলেন তিনি মহাস্রষ্টা বিশ্বকর্মা।

বেদ বেদান্ত, রামায়ণ, মহাভারত বিভিন্ন পুরাণে বিশ্বকর্মার যে ভাবনা জন্ম নিলো উত্তরকালে তার প্রতিফলন দেখা দিলো। প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে যখন আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠলো স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন এলো জীবনযাত্রার। সমস্ত শ্রমিক শ্রেণির মানুষের কাছে তাদের কর্মের দেবতা হয়ে উঠলেন বিশ্বকর্মা। বৈদিক যুগে যা ছিল অরূপে, একালে তারই প্রকাশ হলো রূপে। বর্তমানে মানুষের জীবনে যন্ত্রের ব্যবহার ক্রমশই বেড়ে চলেছে। আর যন্ত্র অর্থে বিশ্বকর্মা। তাই অনেক বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর মতো বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দেবমূর্তি এনে পুজোর আয়োজন করা হয়। বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে যন্ত্রসংক্রান্ত বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয় সেখানে বিশ্বকর্মা পুজো হয়।

বিশেকর্মা শুধু যন্ত্র সৃষ্টি করেন না, তিনি জ্ঞানের প্রসারও করেন। কোথাও কোথাও দীপাবলির দিন বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করা হয়। বিশ্বকর্মা পুজোয় আর এক বৈশিষ্ট্য হলো ঘুড়ি ওড়ানো। ঘুড়ির মধ্যে দিয়ে মানুষ মেলে ধরে নিজেকে অসীম অনন্তে, যা বিশ্বকর্মার মূল ভাবের প্রতীক। এই বিশ্বকর্মা পুজো শুধু বাংলায় নয়, অসম, ত্রিপুরা, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নানা অঞ্চলে প্রচলন আছে, এমন কি দক্ষিণ ভারতের কিছু কিছু আঞ্চলে এই পুজোর প্রচলন আছে।

9 months ago


Android: অ্যান্ড্রয়েডের রিব্র্যান্ডিং করছে গুগল, বদল ভিসুয়াল আইডেন্টিটিও

গত এক দশক ধরে অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহার বাড়ছে। একাধিক ব্র্যান্ড অ্যান্ড্রয়েডের উপর কাজ করছে। একের পর এক আপডেট আসছে। এবার অ্যান্ড্রয়েডের রিব্র্যান্ডিং করছে গুগল। ভিসুয়াল আইডেন্টিটি পরিবর্তন হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ডায়নামিক অ্যান্ড্রয়েড রোবট ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা কোনও বিশেষ মুহূর্তের সঙ্গে সংযোগস্থাপন করতে পারবে। নতুন ভিসুয়াল এলিমেন্ট স্বয়ংক্রিয় অভিব্যক্তি, ব্যক্তিগত প্যাশন ও কনটেক্সকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। গুগলের সঙ্গে জোট বেঁধে এই কাজ করছে অ্যান্ড্রয়েড। গুগল অ্যাপের সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্ম ও পরিষেবা সম্পূর্ণ বদলে যাবে। এই যৌথ উদ্যোগের লোগো ঠিক করা হয়েছে ইংরেজি ক্যাপিটাল লেটার। গুগলের লোগোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই লোগোয় থ্রিডি এফেক্ট আনা হয়েছে। এর নাম বাগড্রয়েড। অ্যান্ড্রয়েড কমিউনিটির জন্য যা অত্যন্ত কার্যকর হতে চলেছে।

আগামী বছর অ্যান্ড্রয়েডের নতুন এই লোগো থ্রিডি রূপে ধরা দিতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোতে এই ক্যাপিটাল এ লেখা লোগো দেখা যেতে পারে।

9 months ago
Teachers' Day: শিক্ষকতা শুধু জীবিকা নয়, এক মহাব্রত

সৌমেন সুর: আমাদের জীবনে এমন কতকগুলো দিন আসে যেগুলো নতুন ভাবে আমাদের উজ্জীবিত করে। অনুপ্রাণিত করে। সেদিন মনে হয় আমাদের অন্তরের শুদ্ধিকরণ হল। জাগরণ হল শ্রদ্ধাবোধের। মানুষ গড়ার কারিগরদের প্রতি সেদিন আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন। ৫ই সেপ্টেম্বর এমনই একটা মহান দিন। মহান সাধক ও মহান শিক্ষক সর্বোপরি ড. রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিবস উপলক্ষে ৫ই সেপ্টেম্বর 'শিক্ষক দিবস' রূপে দেশ ও জাতির কাছে চিহ্নিত হয়। শিক্ষক জাতির মেরুদন্ড। তারা সমাজের প্রণম্য। একমাত্র তারাই শিক্ষার্থীর মনের অন্ধকার দূর করে জ্বালিয়ে দেন জ্ঞানের প্রদীপ। শিক্ষকরাই দেশ ও জাতির অগ্রগতির উৎস। সমস্ত বিভাগীয় শিক্ষকদের কাছে ৫ই সেপ্টেম্বর তারিখটি উজ্জ্বলতার অনন্য নির্যাস।

১৮৮৮ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন অনন্য প্রতি ভাই প্রদীপ্ত সাধক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ। ১৯০৫ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনে এম. এ। এরপর মাদ্রাজের প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা শুরু। তারপর মহীশূর কলেজে অধ্যাপনা। এই মহিশুর এই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯১৮ সালে। সাক্ষাতের আগেই তার লেখা 'দ্য ফিলোজফি অব রবীন্দ্রনাথ টেগোর' গ্রন্থের প্রকাশ। ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন। টানা কুড়ি বছর এই বিভাগে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি হন।

কথা হলো শিক্ষক হলেন দেশের অন্যতম প্রধান কর্ণধার। রাধাকৃষ্ণণ ছিলেন একজন আদর্শনিষ্ঠ শিক্ষক, বিদ্যান, বাগ্মীও জ্ঞান তপস্বী। তার ওপর রাষ্ট্রপ্রধান। তাই ৫ই সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন উপলক্ষে 'শিক্ষক দিবস' হিসেবে পালন করা হয়। এই পবিত্র দিনের শিক্ষকরাই যে জাতির মেরুদন্ড তা শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হয়। শিক্ষক শুধু শিক্ষাই দেন না। তিনি শিক্ষার্থীর কোমল মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। চিত্তের প্রসার ঘটান। সাধারণ মানুষ শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবান হোক। এটাই শিক্ষক দিবসের প্রাণের কথা। আবার এই দিনের শিক্ষক সমাজ তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করুক, এটাই শিক্ষক দিবসের মহৎ বার্তা।

9 months ago
Janmashtami: জন্মাষ্টমীর তিথি থেকে গোপালের প্রিয় ভোগ, জানুন বিশদে

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। তারপরেই সকলের প্রিয় গোপালের জন্মদিন। অনেকেই এখনও জানেন না বাংলা ক্যালেন্ডার মেনে জন্মাষ্টমীর (Janmashtami 2023) তিথি। বুধবার নাকি বৃহস্পতিবার জন্মাষ্টমী পালন করা উচিৎ, এই নিয়েও সন্দেহ রয়ে গিয়েছে অনেকের মনে। জানুন বিশদে। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিকেল ৩ টে ৩৭ মিনিট গতে শুরু হচ্ছে অষ্টমী। ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টে ১৪ মিনিটে শেষ হবে অষ্টমী তিথি। অনেকে জন্মাষ্টমী পুজোর পরের দিন নন্দোৎসব করেন। অষ্টমী গতে নবমী তিথিতে অনেকে নন্দোৎসব করবেন।

গোপাল কী খেতে ভালোবাসে, তা নিয়ে অনেকেই মনে প্রশ্ন থাকে। ভাদ্র মাসে তাল ফল হয়। এই তাল ছাড়া গোপালের ভোগ অসম্পূর্ন। এছাড়াও মালপোয়া গোপালের বিশেষ পছন্দের। অনেকে মনে করেন ছাপ্পান্ন ভোগ দিলেই গোপাল খুশি। তবে গোপালকে বাড়ির ছেলেই ভাবুন বা ভগবান, সাধ্যমতো সবকিছু নিবেদন করা যায় ননী-গোপালকে। লুচি-সুজি, বাসন্তী পোলাও নিরামিষ তরকারি, পাঁচ রকমের ভাজা নিবেদন করা যায়। তবে গোপালের প্রিয় খাবার মাখন দিতে ভুলে যাবেন না কিন্তু।

9 months ago


Speial story: "তরুণ সমাজ তোমাদের আশায় সমাজের নাগরিকবৃন্দ"

দেশের যুবসম্প্রদায় হলো শক্তির উত্স। দেশের মানুষ তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করে। তারা যদি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে কতটা সচেতন, তা একমাত্র তরুণ সমাজই অনুধাবন করতে পারে। এখন তরুণ সমাজকে প্রথমে দেশকে জানতে হবে। দেশের সমাজ সংস্কৃতিকে ভাল করে বুঝতে হবে। নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা করার জন্য় সমাজ সেবামূলক কর্মসূচী গ্রহন করতে হবে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্য়া, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ভারতবর্ষের সংহতি বিনষ্ট করছে। তাই দেশের নাগরিক হিসাবে দেশ সেবার ক্ষেত্রে প্রত্য়েক নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য় রয়েছে। দেশের জন্য় আমরা, দেশ না থাকলে, আমাদের অস্তিত্ব যে বির্পযস্ত, একথা উপলব্ধি করলে দেশ গঠনের উপযোগিতা চোখের সামনে ভেসে উঠবে। তাই দেশকে গঠন করার লক্ষ্য়ে দেশের সেবার প্রয়োজনীয়তা আছে। এই ব্য়াপারে সর্বাগ্রে তরুণ সমাজই একমাত্র উপযুক্ত-একথা বলাই বাহুল্য়।

 তরুণ সমাজকে ভাবতে হবে, রাতের গভীরে ফুটে আছে সকাল, তাকেই নিয়ে আসতে হবে এই জীবনে। যা কিছু অসত্য়, যা কিছু মিথ্য়া, তাকে অতিক্রম করে সত্য়কে প্রতিষ্ঠা করা মানবজীবনের সার্থকতা। একথা তরুণ সমাজকে ভাবতে হবে, বুঝতে হবে। আমাদের জীবনের সংগ্রামই হলো-অন্ধকার থেকে আলোয় আসা। রাত্রির অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়, একসময় অন্ধকার ভেদ করে ফুটে উঠবে সকাল। তখন সবকিছু দৃশ্য়মান হয়ে যাবে। অতএব তরুণ সমাজকে জাগ্রত থাকতে হবে, তাদের মাথায় নৈতিকতার আকাশ। সেখানে আলো তাদের ফোটাতেই হবে। মানুষের কাছে তরুণ সমাজ ঝড়ের বার্তা, আগাম জানিয়ে সেটা রোধ করার জন্য় তাদের এগিয়ে এসে, সমাজকে কলুষ মুক্ত করার জন্য় সতর্ক হয়ে কর্মে প্রবেশ করতে হবে। তরুণ সমাজকে ভাবতে হবে, জীবনের নানান অন্ধকারকে দূর করতে পারলে জীবন সত্য়ের আলোয় উদ্ভাসিত হবেই। 

9 months ago
Rabindranath: এক সৃষ্টিশীল সাহিত্যের দরজায় আকাশচুম্বী রবীন্দ্রনাথ

সৌমেন সুর: বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাব এক বিস্ময়কর ঘটনা। সাহিত্যে সবকিছু নতুন করে পাওয়ার আশায় যেন রবীন্দ্রনাথের প্রকাশ ঘটলো। উনি চিনিয়ে দিলেন গল্পে সংলাপের সন্নিবেশে শব্দের জাদুকাঠি। বঙ্কিমচন্দ্রের বাংলা গদ্য ও বিহারীলাল চক্রবর্তীর বাংলা পদ্য যেন রবীন্দ্রনাথের কলমে পরিণত বয়সে পদার্পণ করলো।

শৈশবে বিশাল বারান্দা বিশিষ্ট বাড়ির অন্তঃপুরে বন্দী জীবন আর চার দেয়ালে বদ্ধ ক্লাসরুমের হাত থেকে মুক্তি পাবার পর, একের পর এক রবীন্দ্র প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে শুরু করলো। কখনো তিনি কবি, কখনো নাট্যকার, কখনো প্রাবন্ধিক, কখনো গল্পকার আবার কখনো তিনি সংগীত স্রষ্টা। তবে রবীন্দ্রনাথের দার্শনিক উপলব্ধির মহোত্তম প্রকাশ তাঁর সঙ্গীতে। ভারতীয় মার্গ সংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্য সংগীতের মিলন ঘটিয়ে তিনি সংগীতে এক নতুন পথ সৃষ্টি করেন, যা পরবর্তীতে 'ভাঙা গান' নামে পরিচিতি পায়।

জমিদারি কাজে যখন শিলাইদহে কবি অবস্থান করেন, তখন বেশ কিছু বাউলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয় এবং বাউল সম্প্রদায়ের গানের আধ্যাত্মিক চেতনা ও তার সাহিত্য কবির মনকে উত্তাল করে দেয়। লালন ফকিরের একটি গান 'আমি কোথায় পাবো তারে, আমার মনের মানুষ যে রে' গানটি কবিকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। এরপর কবি লালনের সঙ্গে দেখা করবার জন্য ছটফট করতে থাকেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে লালনের সঙ্গে কবির সাক্ষাৎ হয়নি।

অন্যদিকে কবি চিঠি লিখতেন সযত্নে, চিঠিতে থাকতো গভীর অনুভূতি। তাঁর লেখা চিঠি অবশেষে পত্রসাহিত্য হয়ে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। উপন্যাস লেখার বুননের থেকে কবি গল্পে অত্যন্ত বেশি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। পরিশীলিত ভাষা, পরিমার্জিত কাহিনীর বুনোট। সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ অজেয়। এক নতুন দিক নির্দেশ করে দিয়েছিলেন কবি। আধুনিকতাতেও তিনি পিছিয়ে নেই। চ্যালেঞ্জবশত লিখলেন ' শেষের কবিতা'। যে উপন্যাস মানুষের মনে এক বিশিষ্ট স্থান আদায় করে নেয়। সাহিত্যের দরজায় মহাকবি রবীন্দ্রনাথের অন্যতম একজন সৃষ্টিশীল প্রতিভাধর মানুষ হয়ে,  মানুষের মনে চিরকাল বিরাজ করে থাকতেন।

10 months ago


Environment: আজ মনের মত পরিবেশের বড় অভাব

সৌমেন সুর: পৃথিবীতে প্রাণী সৃষ্টি হওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ গড়তে বহু কোটি বছর লেগেছিল। তাই পরিবেশ ও প্রাণ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। সমস্ত প্রাণই এই পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত। বিশেষ করে মানব জীবন। পরিবেশ বোঝাতে গিয়ে আমরা সামাজিক, পারিবারিক, প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের কথা বলছি। মানব জীবনে এই প্রত্যেকটি পরিবেশের গুরুত্ব অসীম, সুস্থ পরিবেশ মানুষকে মানবিক গুণের সমৃদ্ধ করে, দূষিত পরিবেশ মানুষকে করে অমানুষ। যেমন যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে ঘটে যাওয়া নৃশংসমূলক বর্বরোচিত এক অমানবিক কর্মকাণ্ড। পরিবেশ দূষিত হলে এমন ভয়ার্ত কাণ্ডের উদ্ভব হয়। সমাজবিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, পরিবেশ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবেশ নির্মল হওয়া একান্ত আবশ্যক। যদি কোনো ছাত্রছাত্রী পড়তে এসে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় নিজেকে মেলে ধরে, তাহলে তার পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটলো, ক্যারিয়ারে পেরেক পোতা হয়ে গেল। কার সর্বনাশ হলো? হিসেব করে দেখুন আপনার নিজের। অথচ আপনার বাবা-মা কত কষ্ট করে আপনাকে পাঠিয়েছে একটা আশায়, তাদের সন্তান মানুষ হবে, তাদের পাশে দাঁড়াবে কিন্তু সব আশা ধুলিসাৎ হয়ে গেল শুধুমাত্র আপনার ভুলের জন্য। আপনি দূষিত পরিবেশের দাস হয়ে গেছেন। যেখানে স্বপ্ন আশা বৃথা।

শিক্ষার শেষে মানুষ যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করে তখন সে সামাজিক পরিবেশে গিয়ে পড়ে। এই পরিবেশে সে প্রত্যক্ষ করে একদিকে আদর্শ অন্যদিকে আদর্শ হীনতা, একদিকে মূল্যবোধ অন্যদিকে মূল্যবোধের অভাব, একদিকে সুনীতি অপরদিকে চরম দুর্নীতি, একদিকে ত্যাগ অপরদিকে লোভ- মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে যায়, এদের হাতছানিতে। যে যেমন ভাবে প্রভাবিত হয় সে তেমনভাবেই সমাজে পরিচিত হয়। দূষিত পরিবেশের স্পর্শ আপনার গায়ে যাতে না লাগে, তার জন্য আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকতে হবে। চক্রব্যূহের ফাঁদে কখনোই নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন না। চেষ্টা করবেন দূরে সরে থাকতে। মনে রাখবেন জীবনে সাফল্য আপনাকে পেতেই হবে। Success is the best revenge. Bad Environment থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

10 months ago
Durgapuja: দুর্গাপুজোকে কেন 'কলির অশ্বমেধ যজ্ঞ' বলা হয় জানেন?

সৌমেন সুরঃ দুর্গাপুজোকে বলা হয় কলির অশ্বমেধ যজ্ঞ। এই যজ্ঞের সূচনা লগ্ন মহালয়ার ক্ষণ থেকে। তত্ত্বগতভাবে মহালয়ার সঙ্গে দেবীপুজার প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক না থাকলেও সাধারণভাবে এই দুটি উৎসবকে আমরা একই উৎসব রূপে চিহ্নিত করে থাকি। বিশেষ করে বাঙালির কাছে এই শুভ তিথিটি কাব্যিকভাবে স্থান পেয়েছে। দেবী পার্বতী তাঁর সন্তানদের নিয়ে কৈলাস থেকে আসছেন বাপের বাড়ি। পিতা হিমালয় আর মা মেনকার সঙ্গে মানব মনও অপেক্ষা করে থাকে কন্যা উমার উপস্থিতির জন্য। দেবী আসেন বাংলার কন্যা হয়ে। মানুষ কল্পনা করে এই মহালয়ার পুণ্য তিথিতে দেবী কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি যাত্রা করেন। মহালয়ার অর্থ দেবী আগমনের সাত দিনের অপেক্ষা। আর ধর্মের ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করছেন তাদের মতে অর্থাৎ পন্ডিতের মতে 'পিতৃপুরুষ' উপাসনা ধর্মভাবনা সৃষ্টির কারণ। মহালয়ার দিনটি সেই পিতৃউপাসনার দিন। পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে চলে জলদান। সমস্ত অনুষ্ঠানটির মধ্যে আমাদের ভারতবর্ষের সংস্কৃতির মূল ভাবনাটি ফুটে ওঠে। মহালয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় দেবীপক্ষ। এক অমাবস্যা থেকে পরের পূর্ণিমা পর্যন্ত আমাদের আরাধনার কাল। সেই আরাধনার সূচনা হয় মহালয়ার পিতৃঅর্চনার মধ্যে দিয়ে। এরপরই দেবীপক্ষের মূল অংশে চলে যায়।

কাঠক সংহিতায় দেবী অম্বিকাকে শতরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে ' শরদ্বৈ অম্বিকা।' শরৎরূপী অম্বিকার পুজো বলেই তো শারদীয়া। পন্ডিতগন বলেন, এ হলো অকালবোধন। অকালবোধন বলা হয়েছে এইজন্য যে,  আমাদের ছ' মাসে দেবতাদের একদিন, অন্য ছ'মাসে একরাত। মাঘ থেকে আষাঢ় এই ছয় মাস উত্তরায়ন। দেবতারা জাগ্রত থাকেন। শ্রাবণ থেকে পৌষ এই ছয় মাস দক্ষিণায়ন। দেবতারা নিদ্রিত থাকেন। ত্রেতাযুগে রামচন্দ্র রাবণ বধের জন্য দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হয়েছিলেন। নিদ্রিত দেবতাকে জাগ্রত করেছিলেন বলে এই পুজোকে অকালবোধন বলে।

শস্যের সঙ্গে দেবীর নিগুঢ় সম্পর্ক। বেবির আর একটি রূপ হল শস্যবধূ। এই শস্যবধূকে বলা হয় নবপত্রিকা। নবপত্রিকায় কলা গাছের সঙ্গে থাকে কচু, হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, মানকচু, অশোক এবং ধান। এইভাবে বিভিন্ন শস্যের সঙ্গে দেবীকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেবীর শাকম্ভরী রূপটি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। শস্যদায়িনী রূপে দেবীর দশটি অস্ত্রের সঙ্গে দশ রকমের শাককেও যুক্ত করা হয়েছে। যেমন,  পাতা, অগ্র, মূল, কবীর, ফল, কাণ্ড, ত্বক, ফুল, অস্থিরূঢ়ক, কবুক। যাইহোক, আমাদের জীবনের নানা অংশ পিতৃপুরুষ বন্দনা থেকে শাকান্ন পর্যন্ত দেবীপুজোর সঙ্গে জড়িত।

এই পূজো আজ বিশ্ববন্দিত। প্রচুর মানুষের মনে ফুটে ওঠে আনন্দের ফোয়ারা। কারণ সারা পুজো জুড়ে চলে অভাবনীয় অর্থনীতি। গরীব, দিনমজুর, অন্য শ্রেণীর মানুষ দুটো পয়সা হাতে পায়। সুখের বিলাসে দিন কাটায়। তাই এই মহাজাগ্রত সর্ব মানব মিলন পুজোকে কখনোই রাজনৈতিক কলুষতায় কলুষিত হতে দেওয়া উচিত নয়। আসুন এই পুজোকে কেন্দ্র করে মাকে প্রার্থনা জানাই- সবাই সুখে থাক, আনন্দে থাক, শান্তিতে বিরাজ করুক। জয় মা দুর্গা। তথ্যঋণ- পূর্বা সেনগুপ্ত

10 months ago
Durga Puja: পুজোয় ফেরিওয়ালা মেয়ের চিন্তাভাবনায়... (শেষ পর্ব)

সৌমেন সুরঃ (দুর্গাপুজো সম্পর্কীয় ধারাবাহিক আলোচনার সমাপ্তি পর্বের শেষ খন্ড) দেখতে দেখতে পুজো এসে গেল। ষষ্ঠীর দিন মোটামুটি দর্শনার্থীদের ভিড়। বুনিদের দোকানটা ভালই চলছে। বুনি একমনে কাস্টমারদের খাবার দিয়েই চলেছে। আজ বুনিকে একটু অন্যরকম লাগছে। খুব ভাল করে সেজেছে ও। ওর রূপের টানে মানুষ বেশি করে ভিড় করছে। সন্ধে সাতটায় দোকান চালু হয়েছে। রাত দশটার মধ্যে সমস্ত মাল শেষ। দোকানের সমস্ত মালপত্র ভ্যানে ওঠায়। একবুক আনন্দ নিয়ে বাবা মেয়ে ও বাচ্চা ছেলেটা ভ্যানে উঠে পড়ে।

বাড়ি এসে একটু ফ্রেশ হয়ে বুনির বাবা দিনান্তের আয়ের টাকা পয়সা গুলো গুনতে থাকে। একমুখ হাসি নিয়ে বুনিকে বলে, 'হাজার তিনেক টাকা লাভ হয়েছে।' বুনি খুশি হয়ে বাবাকে বলে, 'বাবা, আমি তোমার হাসিমুখটা দেখতে চাই। গতবছর মুখ হাড়ি করে ছিলে, তখনই আমি চিন্তা করেছিলাম, সামনের পুজোয় আমি তোমাকে সাহায্য করবো।'

খাবারের জিনিস দ্বিগুন করে সপ্তমীতে চললো দুজনে দোকানে। মানুষের এত ভিড়, রাত নটার মধ্যে সমস্ত মাল শেষ। অষ্টমীর দিনও তাই। সারা বাড়িতে মাত্র তিনজন প্রাণী। বুনি ও তার মা বাবা। প্রত্যেকের মনে চরম আনন্দ। সকাল সকাল পুজো দিয়ে বুনি খাবার বানাতে বসে যায়। আজ নবমী, খাবার চারগুন বেশি। বিকেলের রান্না শেষ। বুনি স্নান সেরে জিন্স ও কুর্তি পরে মালপত্র নিয়ে ভ্যানে উঠে পড়ে। সঙ্গে বাবা ও বাচ্চা ছেলেটি। আজ তিনটে ভ্যান। বুনির বাবা একটু ইতস্তুত করেছিল, চারগুন খাবার! যদি বিক্রি না হয় তাহলে তো- বুনি বাধা দিয়ে বাবাকে বলে, 'বাবা, ব্যবসা হলো সাপ লুডো খেলার মতো, বিক্রি হলে বিশাল ব্যাপার, না হলে হতাশা। দেখো বাবা, আজ শেষ দিন। ব্যবসায় একটু ঝুঁকি নিতে হয়। তুমি অত ভেবো নাতো, যা থাকে কপালে। মা নিশ্চই গরীবকে মারবেনা।'

আজ মানুষের ঢল নেমেছে। বুনির দোকানে ভীষণ ভিড়। সব ধরনের খদ্দের জমায়েত হয়েছে দোকানে। রাত একটার মধ্যে সমস্ত মাল নিঃশেষ। সবকিছু গুছিয়ে মাঝরাতে বাড়ি ফেরে বুনিরা। আজ বাড়ির সমান মনে প্রচন্ড আনন্দ।" বাবা মা টাকাপয়সা গুনে বুনিকে বলে, 'মা আমি সারাজীবন এত টাকার লাভ চোখে দেখিনি। ২৮ হাজার টাকা। সব তোর করিশ্মা।' বুনু প্রতিবাদ করে, 'না বাবা, আমি কেউ না, সব ঐ ওপরওয়ালা। উনি যদি সহায় না হতেন তাহলে আজকের এই আনন্দের মুখ আমরা কেউ দেখতে পেতাম! যাক বাবা, কাল আমাদের ছুটি। আমরা গঙ্গার ঘাটে মায়ের বিসর্জন দেখবো। আর মনে মনে বলবো, মা আবার এসো তুমি। সমস্ত গরীব দিনমজুরদের ঘরে আলো দেখাও, সবাই যেন সুখে শান্তিতে থাকতে পারে' বাবা মা ভক্তিভরে হাতজোড় করে। তিনবার শব্দ করে ওঠেন, 'জয় মা দুর্গা।' দূর থেকে প্রথম ভোরের ঢাকের আওয়াজ ভেসে ওঠে। ঢাকিরা ঢাকে বিসর্জনের বোল তোলে। (সমান্ত)।

10 months ago


Special Story: কন্যা উমা চিন্ময়ী রূপে সবার হৃদয়ে বিরাজমান

সৌমেন সুর: (দুর্গাপুজো সম্পর্কীয় ধারাবাহিক আলোচনা) শ্রী শ্রী চণ্ডীর ঋষি মেধস মুনি বলেছেন- মহামায়া মায়ের ইচ্ছাতেই ব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু ঘটছে। ইনি মহাশক্তি। সৃষ্টি স্থিতি বিনাশ করেন। ইনি যেমন, মানুষ অশুভ কর্ম করলে দুঃখ দুর্দশা প্রদান করেন, তেমনি তাকে বিশ্বাস ভক্তি করলে তাকে ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ প্রদান করেন। মহামায়া সর্বদা বর্তমান। এমন কিছু নেই ইনি করতে পারেন না। মোট কথা ইনি অঘটন-ঘটন পটিয়সী। ইনিই মহাশক্তি। এই মহাশক্তিই দুর্গা কালী লক্ষ্মী সরস্বতী নামে পরিচিত। মহাশক্তি সর্বদাই শক্তিমান ব্রহ্মকে আশ্রয় করে থাকে। এই ব্রহ্ম হল নিষ্ক্রিয় চলমানহীন। শক্তিকে আশ্রয় করেই তিনি সচল ও কর্মপ্রাণ হয়ে ওঠেন। এই নিষ্ক্রিয় জ্ঞানময় সত্তাকে বলে শিব। এই সদাশিবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে শক্তিরূপী দেবী দুর্গা সক্রিয় ও লীলাময়ী হয়ে ওঠেন। তাই তিনি সৃষ্টি স্থিতি প্রলয় করেন। তাই দুর্গা হলেন ত্রিগুণাময়ী। কিন্তু রহস্য হলো, শিব দুর্গার স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কটা। এই সম্পর্কটা এসেছে বিভিন্ন লোকগাথা ও পুরান কাহিনী থেকে। এর ফলে মহাজাগতিক দেবতারা বা দেবদেবীরা আমাদের ঘরে চলে আসেন। এদের নিয়ে নানা কাহিনীতে উঠে এসেছে, শিব পার্বতী একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না। শিব ছাড়া দুর্গা প্রেরণা লাভ করতে পারে না, আবার দুর্গা ছাড়া শিবের কোন কর্মে মন যায় না। এমনই হলো শিবশক্তির প্রবল আকর্ষণ।

বাঙালি পণ্ডিতদের আরও ধারণা হলো, এরা স্বামী-স্ত্রী মিলে হিমালয়ের স্বর্গরাজ্য কৈলাসে বাস করেন। ক্রমে ক্রমে এদের মধ্যে প্রেমের জোয়ার এলো। এক এক করে চারটি সন্তান হলো। যথাক্রমে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ । এবার বাঙালি কবিরা বর্ষার পর তাঁকে বঙ্গে দেখতে চায়। তাই মাতৃভক্ত কবি নজরুল লিখলেন, 'বর্ষ গেল, আশ্বিন এলো, উমা এলো কই/ শূন্য ঘরে কেমন করে পরান বেঁধে রই/ ও গিরিরাজ সবার মেয়ে/ মায়ের কোলে এলো ধেয়ে/ আমারই ঘর রইলো আঁধার/ আমি কি মা নই।' এখানে মা মেনকার এই আর্তি বাঙালি জননীর প্রতীক স্বরূপা। যাই হোক, শিব, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক গনেশ এই পরিবার নিয়ে বাঙালি সমাজ সংস্কৃতিতে মেতে ওঠে। দেখতে দেখতে ষষ্ঠী থেকে দশমী এসে যায়। মা তাঁর পরিবার নিয়ে ফিরে যাবে কৈলাশে। মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ে। মাকে বিদায় জানাতে হবে। পাঁচটা দিন হই হই করে সবার আনন্দে কেটেছে। এবার বিষাদে ভরে যায় মন। মায়ের কানে কানে তাই বলে, 'আবার এসো মা, আবার এসো।' বাস্তবিকই বাঙালির মনের কোণে সারা বছরই উমাকে ধরে রাখার উন্মাদনা জাগে। কিন্তু বিসর্জন মানে প্রাণের মধ্যে পুনঃ আহ্বান। তাই গঙ্গায় বিসর্জন দিলেও চিন্ময়ীরূপে মা সবার হৃদয়ে বিরাজমান। তথ্য সংকেত-স্বামী বেদানন্দ

10 months ago
Durga Puja: পুজোয় ফেরিওয়ালা মেয়ের চিন্তাভাবনায়... (১ম পর্ব)

সৌমেন সুর: (দুর্গাপুজো সম্পর্কীয় ধারাবাহিক আলোচনার সমাপ্তি পর্বের ১ম খন্ড) সকাল থেকে আকাশটা কেমন মুখ ভার করে আছে। বুনির বাবা একটু চিন্তিত। চিন্তাটা স্বাভাবিক। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে ফেরিওয়ালার দিন শেষ। সারা বছর ফেরী করার পর পুজোর চারটে দিন একটু বেশি ইনকামের আশায় বুনির বাবার মত অনেকেই হা করে বসে থাকে।। প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বিক্রি করে বুনির বাবা। দিনান্তে তেমন লাভের মুখ হয়তো দেখতে পায় না, তবে যেটুকু হয় তাতে কোনোরকমে সংসার চলে যায়। সংসারের খরচ ছাড়া বুনির কলেজের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। অপেক্ষা করতে থাকে পুজোর জন্য। বুনির বাবা অনেক আশা নিয়ে পুজোয় খাবারের দোকান দিয়েছিল রাস্তায়। কিন্তু মাথায় হাত তার। বিক্রি তেমন ভালো হয়নি। অর্ধেকটাই লস। খুব মুষড়ে পড়েছিল বুনির বাবা। এবছর আর দোকানের নাম করে না। কিন্তু বুনি ছাড়বার পাত্র নয়। বাবাকে বলে দোকান দিতে। ও বসবে দোকানে। কথাটা শুনে বুনির বাবা অবাক হয়ে গিয়েছিল। কলেজের পড়ুয়া মেয়ে বাবার সঙ্গে রাস্তার দোকানে বসবে!

আসলে বুনি তার বাবাকে বুঝতে পেরেছিল। সেই পুরনো প্রাগৈতিহাসিক যুগে পড়ে আছে তার বাবা। বর্তমানে অনেক কিছুর বদল হয়েছে। সেই আধুনিকতার ছাপ বাবার ব্যবসায়ে নেই। বাবার ব্যবসার ধরন, গেট আপ, ব্যবহার, কথাবার্তা একেবারে ম্যার ম্যারে, সেকেলে। কোথায় চৌকস উজ্জ্বলতা থাকবে তা নয়- একদম বোগাস। এসব কিছু বুঝতে পেরে বাবার পাশে থাকার জন্য এগিয়ে এসেছিল সে। বুনি বাবাকে বলে, 'বাবা দোকানে থাকবে চা, ডিমটোস্ট, ঘুগনি আর চিলি চিকেন। তোমার ভয় নেই চিলি চিকেন আমি বানাবো। তুমি শুধু চা বানাবে। বাকি সব আমি সামলে নেব। সঙ্গে একটা বাচ্চা ছেলে থাকবে ব্যাস।'

বুনির কথা শুনে ওর বাবার মনে একটা চাপা আনন্দ ফুটে ওঠে। কোনো কথা বলেন না। মনে মনে ভাবেন, মেয়ের কি প্ল্যান আছে কে জানে। বুনির বাবা দিনমজুর,  ফেরিওয়ালা। জীবন যে কত সুন্দর, এ ফিলিংস বুনি ছাড়া এ পরিবারের আর কারো হয়নি। সবাই একটা উদ্দেশ্য নিয়ে চলে, তবে সে উদ্দেশ্য কারো সফল হয়, কারো হয় না। দোচালের মধ্যে এই পরিবারের জীবন। পরিপূর্ণ সুখ কোনদিন কল্পনা করেনি। ( চলবে)

10 months ago