
ইন্ডিগো কাস্টমার কেয়ার (Indigo Customer Care) সুরাহা করতে না পারায় সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক করে নিজের হারিয়ে যাওয়া ব্যাগ (Baggage shuffle) খুঁজে পেলেন এক যাত্রী। পেশায় সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার সেই যাত্রীর নাম নন্দন কুমার। ট্যুইটার প্রোফাইলে উল্লেখ, তিনি একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার তথা ডেভেলপার। গোটা এই ব্যাগ অনুসন্ধানের পর্ব থেকে ব্যাগ হাতে পাওয়ার কাহিনী তিনি ধাপে ধাপে ট্যুইট করেন। যদিও ইন্ডিগোর তরফে দাবি করা হয়েছে, যাত্রীদের ব্যক্তিগত বিবরণ গোপন রাখা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য এবং নন্দন কুমার কোনওভাবেই সংস্থার ওয়েবসাইটের সঙ্গে আপস (Website Hack) করেননি।
Hey @IndiGo6E ,
— Nandan kumar (@_sirius93_) March 28, 2022
Want to hear a story? And at the end of it I will tell you hole (technical vulnerability )in your system? #dev #bug #bugbounty 😝😝 1/n
জানা গিয়েছে, রবিবার পাটনা-বেঙ্গালুরু ইন্ডিগোর বিমানে যাত্রা করেন নন্দন কুমার। বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরেই নন্দনের ব্যাগ এক সহযাত্রীর সঙ্গে বদলে যায়। এবং বাড়ি পৌঁছে সেটা বুঝতে পারেন নন্দন কুমার। যদিও এই ঘটনাকে 'উদ্দেশ্যহীন ভুল' বলে ট্যুইট করেন সেই ইঞ্জিনিয়ার। কারণ সামান্য ডিজাইন ছাড়া দু'জনের ব্যাগ প্রায় এক। এমনটাই ট্যুইট করেন নন্দন।
এরপরেই ব্যাগ ফেরর পেতে ইন্ডিগোর কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। নন্দন কুমার লেখেন, 'আমার সমস্যা শুনে সেই সহযাত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ইন্ডিগো। কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছে কাস্টমার কেয়ার।' এরপরেই ধৈর্য হারান তিনি। সেই প্রসঙ্গ ট্যুইটে উল্লেখ করে নন্দন লেখেন, 'দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও কাস্টমার কেয়ার কোনও সুরাহা করতে পারে না। এবং সেই সহযাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অস্বীকার করে। শুধু বলে যায় সেই সহযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ হলেই আপনাকে জানানো হবে।'
কিন্তু এরপর গোটা একটা রাত কেটে গেলেও, কোনও ফোন না আসায় তিনি নিজে মাঠে নামেন। এই প্রসঙ্গ ট্যুইটে উল্লেখ করে নন্দন কুমার লেখেন, 'প্রথমে আমি সেই সহযাত্রীর পিএনআর নম্বর দিয়ে ইন্ডিগোর ওয়েবসাইট থেকে যাত্রীতালিকা দেখা শুরু করি। যেহেতু আমার কাছে সেই যাত্রীর ব্যাগ ছিল, তাই ট্যাগ দেখে পিএনআর পেতে অসুবিধা হয়নি। কিন্তু তাতেও কিছু হাতে আসেনি।' এরপরেই নিজের পেশাগত বিদ্যাকে কাজে লাগাতে উদ্যত হয়েছিলেন সেই ইঞ্জিনিয়ার।
তিনি লেখেন, 'ইন্ডিগো ওয়েবসাইটের ডেভেলপার উইন্ডো খুলে সেই সহযাত্রীর ফোন নম্বর, ই-মেল আইডি উদ্ধার করি। এটাই ছিল আমার নিম্নমাত্রার হ্যাকিংয়ের মুহূর্ত। তারপরেই সেই সহযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বাড়ি এবং আমার বাড়ির মাঝামাঝি এক জায়গায় সাক্ষাৎ করে আমরা ব্যাগ অদল-বদল করি। ভাগ্যক্রমে সেই সহযাত্রী খুব একটা দূরে থাকতেন না।'
তাঁর এই ব্যাগ উদ্ধারের কাহিনী উল্লেখের পাশাপাশি ট্যুইটে ইন্ডিগোর প্রতিও বার্তা পাঠিয়েছেন সেই ইঞ্জিনিয়ার। তিনি লিখেছেন, 'আপনাদের ওয়েবসাইট থেকে সংবেদনশীল তথ্য বেরিয়ে এসেছে।' এরপরেই পাল্টা ট্যুইট করে সেই বিমান সংস্থা।