Breaking News
ED: মিলে গেল কালীঘাটের কাকুর কণ্ঠস্বর, শ্রীঘই হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ ইডির      Ram Navami: রামনবমীর আনন্দে মেতেছে অযোধ্যা, রামলালার কপালে প্রথম সূর্যতিলক      Train: দমদমে ২১ দিনের ট্রাফিক ব্লক, বাতিল একগুচ্ছ ট্রেন, প্রভাবিত কোন কোন রুট?      Sarabjit Singh: ভারতীয় বন্দি সরবজিৎ সিং-এর হত্যাকারী সরফরাজকে গুলি করে খুন লাহোরে      BJP: ইস্তেহার প্রকাশ বিজেপির, 'এক দেশ এবং এক ভোট' লাগু করার প্রতিশ্রুতি      Fire: দমদমে ঝুপড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন      Bengaluru Blast: বেঙ্গালুরু ক্যাফে বিস্ফোরণকাণ্ডে কাঁথি থেকে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল এনআইএ      Sheikh Shahjahan: 'সিবিআই হলে ভালই হবে', হঠাৎ ভোলবদল শেখ শাহজাহানের      CBI: সন্দেশখালিকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের...      NIA: ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ NIA     

Panchayat

West Bengal: বাংলা এখন বোমার রাজ্যে পরিণত হয়েছে, বাংলা পর্যবেক্ষণে এসে মন্তব্য কেন্দ্রীয় নেতার

বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটের সন্ত্রাসের বৃত্তান্ত দেখতে এসে, তাঁদের আমলের বিহার, উত্তরপ্রদেশের কথা স্মরণ করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ। বুধবার কলকাতায় এসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলা এখন বোমার রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই অভিযোগকে পাল্টা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ঠারেঠোরে স্বীকার করেছেন, তাঁরাও একসময় সন্ত্রাস করেছেন।

এদিন কলকাতায় এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী। রবি শঙ্কর প্রসাদের দাবি, মমতা মতো একজন বিচক্ষণ নেত্রীর রাজ্যে কেন এই ধরণের ঘটনা বার ঘটতে তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। পঞ্চায়েত ভোটে বিরাট জয়লাভের পর ফেসবুকে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রবি শঙ্কর প্রসাদ।

এদিন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ ছাড়াও বিজেপির এই প্রতিনিধি দলে কলকাতায় এসেছেন উত্তরপ্রদেশের নেতা সত্যপাল সিং, রাজদীপ রায় এবং রেখা বর্মা। মূলত রাজ্যের সন্ত্রাস কবলিত এলাকা গুলিতেই এই প্রতিনিধি দলের যাওয়ার কথা।

9 months ago
HighCourt: পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় চাঞ্চল্যকর নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

পঞ্চায়েত নির্বাচনের গণনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল একটি মামলা। এবার সেই মামলাতেই চাঞ্চল্যকর নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার মামলাটির শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী সমস্ত প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করছে এই মামলার ভবিষ্যতের উপর। এই বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি রিপোর্টও তলব করা হয়েছে।

শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কমিশন তার দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করেনি বলেই মনে করছে আদালত। এমনকি কেন্দ্রের নোডাল অফিসারের সঙ্গেও সঠিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই বিষয়েই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

এবিষয়ে আদালতের মন্তব্য, ভোটের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সরকার। এমনকি, আদালতের নির্দেশ ঠিকঠাক পালন হয়েছে কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে আদালত।

9 months ago
Sagardighi: শাসকের উপর আস্থা নেই সাগরদীঘির, বায়রনের নিজের পঞ্চায়েতেও হার তৃণমূলের

মণি ভট্টাচার্য: বায়রনে তো আস্থা নেই, এছাড়া সাগরদীঘির আস্থা নেই তৃণমূলেও। সেকারণেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে সাগরদিঘি হাতছাড়া তৃণমূলের। এমনকি বায়রনের নিজের এলাকাতেও বিপুল হার তৃণমূলের। সেখানে বিপুল ভোট জয়লাভ করেছে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী। ভালো ফল আইএসএফএফেরও। ফলে এটা কিছুটা স্পষ্ট যে বাম-কংগ্রেস জোটের টিকিটে উপনির্বাচন জিতে বায়রনের ডিগবাজিতে সাগরদীঘিতে কোনও ক্ষতিই হয়নি অধীর-সেলিমদের।

সম্প্রতি উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশীষ বন্দোপাধ্যায়কে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হারিয়ে সাগরদিঘি জয় করে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। সেসময় অধীর-সেলিমদের মুখে চওড়া হাসি ফুটলেও, সেই হাসি বেশিদিন থাকে নি অধীরদের। অভিষেকের 'নবজোয়ারেই' কংগ্রেসের হাত ছেড়ে তৃণমূলে ডিগবাজি খায় বায়রন।

যদিও পঞ্চায়েত নির্বাচনে বায়রনের হাত ধরে নির্বাচনী বৈতরণী টপকাতে পারল না কংগ্রেস। সূত্রের খবর, সাগরদীঘির বায়রন বিশ্বাসের নিজের এলাকা,  পাটকেলডাঙ্গা পঞ্চায়েতের দখল নিল বাম-কংগ্রেস জোট। সূত্রের খবর, পাটকেলডাঙা পঞ্চায়েতে ২০ টি আসনের মধ্যে, তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৬ টি আসন। সেখানে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১০টি। বামেদের দখলে ৩টি ও আইএসএফের দখলে ১টি আসন। উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও বামেদের সমর্থনে জিতে বায়রনের দলবদলে যে কোনও লাভই হয়নি তৃণমূলের সেটা কিছুরটা স্পষ্ট। এছাড়া রাজনৈতিক মহলের দাবি, বায়রন বিশ্বাসের উপর তো নয়ই, সাগরদীঘির বিশ্বাস নেই তৃণমূলেও। বায়রন জেতার পর গোটা রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের কাছে মডেল ছিল সাগরদীঘি, এরপরে বায়রনের দলবদলে সেই মডেল নিয়ে রাজনৈতিক কটাক্ষ ও বিতর্ক থাকলেও সাগরদিঘি আদতে মডেল সেটা ফের প্রমান করল বাম-কংগ্রেস। পাশাপাশি অনুব্রতর বীরভূমেও এবার খাতা খুলল বামেরা। বীরভুমেও বামেদের দখলে ২টি পঞ্চায়েত। 

9 months ago


Electoral Violence: নির্বাচনী হিংসায় মৃত্যু হাফ সেঞ্চুরি পার, কমিশন কিন্তু কেবল দশেই দাঁড়িয়ে

মণি ভট্টাচার্য: রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা হাফ সেঞ্চুরি পার। পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে লাগামহীন সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, যার শিকার হয়েছে শাসক দল থেকে বিরোধী দলগুলি। ফলত রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনী হিংসা (Violence) নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাটা দাঁড়ালো ৫২ জন। রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে মৃত্যু হয়েছে তৃণমূল,কংগ্রেস, বিজেপি, আইএসএফ সহ সব দলের কর্মীরই।  রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসা ও মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্যবারের তুলনায় এবারও প্রায় সমান। গোটা রাজ্যের মুশিদাবাদ, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা গুলিতে মৃতের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত বেশি। এছাড়া সর্বাধিক মৃত্যুর সংখ্যায় মুর্শিদাবাদকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। 

মঙ্গলবার রাতে ভাঙড়ে আইএসএফ ও পুলিসের সংঘর্ষে ১ আইএসএসএফ ও এক সাধারণ যুবকের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদিঘি, ও রায়দিঘিতে ২ তৃণমূল কুমির মৃত্যু হয়। ফলে রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ জন। যদিও এখনও অবধি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘোষণার দিন থেকে এই প্রতিবেদন লেখা অবধি মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জন। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, নির্বাচন ঘোষণার পর মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়। এখনও অবধি সেই মৃত্যুর ধারা অব্যাহত।

পাশাপাশি বুধবার বেলা ২ টো অবধি অলিখিত সূত্রের খবর অনুযায়ী, পঞ্চায়েত নির্বাচনী হিংসায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৩ জন, মুর্শিদাবাদে ১৩ জন, কোচবিহারে ৬ জন, মালদহে ৪ জন, উত্তর দিনাজপুরে ৪ জন, নদিয়ায় ৩ জন, পুরুলিয়ায়, উত্তর ২৪ পরগনায়, পূর্ব বর্ধমানে ২ জন করে মৃত্যু হয়েছে, এছাড়া বীরভূম, দক্ষিণ দিনাজপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি অলিখিত সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০০৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০০৮ সালে ৩ দফার ভোটে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। যেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে ৩ দফার ভোটে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে ১ দফা নির্বাচনে এখনও অবধি ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

9 months ago
Nadia: ভোটগণনা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থীদের বার করে দেওয়ার অভিযোগে পথ অবরোধ, বিক্ষোভ...

পঞ্চায়েত নির্বাচনের (Panchayat elections) ফলাফলের দিন ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়ে উঠেছিল হরিণঘাটা (Haringhata) বিরোধী অঞ্চল। ভোটগণনার দিন হরিণঘাটা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয় সংলগ্ন মহাবিদ্যালয়ে গণনা চলাকালীন বিজেপি প্রার্থীদের বার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে ভোটগণনার দিন হরিণঘাটার বিরোধী ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের মাঝখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ (demonstration) দেখান বিজেপি সমর্থকেরা।

মঙ্গলবার, সন্ধে ন'টা থেকে পথ অবরোধ শুরু হয়। অবশেষে অবরোধ ওঠে রাত ১টা ১০ মিনিট নাগাদ। অভিযোগ, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। এর পরেই উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধের পর ফের তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতৃত্বের বাড়ি ভাঙচুর চালায় বলে জানা গিয়েছে। সমগ্র ঘটনাটি ঘটে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিসের উপস্থিতিতে। তবে এলাকায় দফায় দফায় অশান্তির রূপ দেখে অনুমান করা যাচ্ছে এই অশান্তি চলবে বেশ কয়েকদিন।

সম্প্রতি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চাকদহ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ দেখতে পান রাস্তার মাঝখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে বিজেপি সমর্থকরা। এর পরেই তিনি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, রাজ্যের অধিকাংশ পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে এসেছিল। গণনায় জিতে যাওয়ার পরেই শাসক দল প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে তা বারবার রিকাউন্টিং করে তারা দখলে নিচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় দেখা গিয়েছে প্রার্থীদের মারধর করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা। 

প্রশাসন দেখেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও কাজে লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ।

9 months ago


Bhangar: ভাঙড়ে পুলিসের সঙ্গে আইএসএফের খন্ডযুদ্ধে মৃত্যু ১ আইএসএফ কর্মী সহ এক যুবক

ভোটে কারচুপির অভিযোগে মঙ্গলবার রাত থেকে উত্তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের কাঁঠালিয়া এলাকা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক আইএসএফ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মারা গিয়েছেন আরও এক যুবক। তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন পুলিশের এক পদস্থ কর্তা এবং এক পুলিশকর্মী। সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় জোরদার পুলিশি টহল শুরু হয়েছে। চলছে ধরপাকড়।

মঙ্গলবার ভাঙড়-২ ব্লকের কাঁঠালিয়ার গণনাকেন্দ্রে চলছিল জেলা পরিষদের ভোটগণনা। আইএসএফ নেত্রী রেশমা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁদের জেলা পরিষদের প্রার্থী জাহানারা খাতুন প্রথমে পাঁচ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বিডিও জানান, জাহানারা ৩৬০ ভোটে হেরে গিয়েছেন। আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে ‘সেটিং’ করেছে তৃণমূল। তার পরেই ভোটের এই ফল ঘোষণা হয়েছে। তাঁরা পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন। যদিও তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। পুলিশের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে। এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ হয়। বোমা এবং গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। কিন্তু অবস্থা বদলায়নি। আইএসএফের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তাতে তাঁদের বেশ কয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে হাসান আলি নামে বছর ছাব্বিশের এক কর্মীর। কলাডাঙার বাসিন্দা হাসানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ হাসানকে কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আক্রমণ করেন। তাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ওই যুবক।

রাজু মোল্লা নামে আরও এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ৩৫ বছরের রাজুর দেহ উদ্ধার হয়েছে ভাঙড়-২ ব্লক এলাকায়। তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। মঙ্গলবার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে ঘটকপুকুরে দিদির বাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় কাঁঠালিয়া এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য দিকে, পুলিশের এক পদস্থ কর্তার হাতে গুলি লেগেছে। এক পুলিশকর্মীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বুধবার দু’জনেরই অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে।

মঙ্গলবার রাতে গুলি এবং বোমার লড়াইয়ের মধ্যে সারা রাত গণনাকেন্দ্রের একটি ঘরের মধ্যেই আটকে ছিলেন এক ভোটকর্মী এবং পুলিশকর্মীরা। বুধবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এসে তাঁদের উদ্ধার করে। সকাল সকাল ঘটনাস্থলে যান এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ পুলিশের পদস্থ কর্তারা। শুরু হয় ধরপাকড়। আপাতত থমথমে পুরো এলাকা। নতুন করে অশান্তির খবর নেই। তবে কাঁঠালিয়া হাই স্কুল চত্বর থেকে ভাঙড়ের কাশীপুর রোড জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ইটের টুকরো, বোমার সুতলি ইত্যাদি। পুলিশের একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে।

9 months ago
Vote: বায়রন ফর্মুলায় ভোট এলো না

প্রসূন গুপ্তঃ সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস বিপুল ভোটে তৃণমূল ও বিজেপিকে পরাস্থ করেছিলেন। পরম তৃপ্তি ও আত্মতুষ্টিতে জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেছিলেন যে, এই জয় সমস্ত বিরোধীদের সম্মিলিত জয়। শুধু তিনি নন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল সংখ্যালঘু ভোটে ভাঙ্গন ধরানো এই ভাবেই সম্ভব। এ রাজ্যে বেসরকারি মতে প্রায় ৩৪ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে, কাজেই সেই ভোটে ভাঙ্গন ধারাতে পারলে তৃণমূলকে রাজ্য থেকে সরানো যেতেই পারে। একই ধারণা ছিল বিজেপিরও। বিজেপির নেতারা ভেবেছিলেন, সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হলে হিন্দু ভোট নিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করতে পারে। এ ছিল যেন এক অলিখিত সমঝোতা। এর সঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকীর ইমেজও রয়েছে। অঙ্কে ভুল ছিল। বায়রন তিন মাস যেতে না যেতেই তৃণমূলে যোগ দেন এবং আবার কংগ্রেস শূন্য হয়ে যায়।

তবে অধীরবাবু বলেছিলেন যে, বায়রন জনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু বায়রন মডেল পরবর্তী ভোটে কাজ দেবেই অর্থাৎ মুসলিম ভোট তাদের দিকে আসবে। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোটার ফলাফল সমস্ত ধারণাকেই পাল্টে দিলো। দেখা যাচ্ছে আজকেও সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগই মমতার দিকেই রয়েছে, যেমনটি ২০১৯ বা ২০২১ এ ছিল। আলোচনা করে দেখা গিয়েছে সংখ্যালঘু ভোটারদের ধারণা তাদের ভোট ভাগাভাগি হলে ফায়দা আখেরে বিজেপির।

এছাড়া কংগ্রেস বা সিপিএমে ভোট দিয়ে লাভ নেই কারণ দুটি দলই শূন্যতায় ভুগছে। ভোটের ফলাফলে এটাও দেখা গিয়েছে নওশাদ সিদ্দিকীর কোনও প্রভাব ভাঙ্গর ছাড়া কোথাও নেই। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ইত্যাদি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতে মুসলিমরা ঢেলে ভোট দিয়েছে তৃণমূলকে। অন্য জেলাতেও একই অবস্থা কাজেই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনেও এই ভোট যে তৃণমূলের দিকে হেলে থাকবে তা বোঝা যায়। অন্যদিকে, হিন্দু ভোটের একটি অংশ যে বিজেপি পেয়ে থাকতো তাতেও ফাটল ধরেছে, যথা আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার ফলাফল তাই প্রমাণ করে।

9 months ago
Counting: কোথাও বাহিনী সক্রিয়, কোথাও তৃণমূল, অশান্তি-মারধরের মধ্যে চলছে পঞ্চায়েতের গণনা

বাহিনি মোতায়েন করেও রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের গণনায় অশান্তি এড়ানো গেল না। গত একঘণ্টায় রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। এরমধ্যে মুর্শিদাবাদে ফের আক্রান্ত তৃণমূল কংগ্রেস। কেশপুরে গণনা কেন্দ্রের সামনেই বিরোধীদের বিক্ষোভ। অভিযোগ, তৃণমূল এজেন্ট বসাতে দিচ্ছে না। এরমধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থেকেও বোমাবাজির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। তারপরেও অশান্তি কিন্তু ঠেকানো যাচ্ছে না। এরমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় দুই সিপিএম প্রার্থীকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে সিপিএম প্রার্থীর মেরে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাটোয়াতেও আক্রান্ত সিপিএম প্রার্থী। এরমধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিসের বিরুদ্ধে লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

ফলে এদিন প্রশ্ন উঠছে, বাহিনী মোতায়েনের কৌশল নিয়ে। গণনা কেন্দ্রে অশান্তি এড়াতে ঢেলে বাহিনী দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ঝামেলা চলছে তার অনেক বাইরে। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী শূন্য।

9 months ago


Panchayat: চলছে গণনা, পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলে কে এগিয়ে?

শেষ হয়েছে পঞ্চায়েত ভোট। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোটের ফলপ্রকাশ। পঞ্চায়েতের দখল কি এবারও থাকবে ঘাসফুল শিবিরের হাতে? কেমন ফল করবে বিরোধীরা? উত্তর রয়েছে ব্যালট বক্সে। কে এগিয়ে যাচ্ছে? পিছিয়ে পড়ছে কোন দল? এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের দখলে ১২১৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। বিজেপির দখলে ২৮৮টি আসনে। বামেরা জয় পেয়েছে ১০৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে। কংগ্রেসের দখলে ১৩৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত। আইএসএফ জয় পেয়েছে ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতে। অন্যান্যদের দখলে ৪৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। 

9 months ago
Re-Polling: এত হিংসা, একটু সংবেদনশীল হলে কি পঞ্চায়েত নির্বাচনে এত মৃত্যু হত!

সৌমেন সুর: ভোটের শেষে বলি হল ৪৬ জন মানুষ। কেউ হলেন পিতৃ হারা, কোনও কোনও মায়ের কোল শূন্য হলো। এই সংঘর্ষ-হিংসা-বিদ্বেষে কার ঠিক কতটা লাভ হল! প্রাণ তো আর ফিরে আসবে না। যে গেল সে তো চলেই গেল। মানুষে মানুষে এই বিভেদ সামান্য রাজনীতির জন্য। কেন? রাজনৈতিক মতভেদ, তরজা থাকবে, তাই বলে আক্রোশ মেটানো হবে প্রাণ নিয়ে! রাত কেটে সকাল হতেই খুনের খবর। খবর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত পৌঁছে দেয় যে মাধ্যম, তাকে আমরা গণমাধ্যম বলি। যেমন- সংবাদপত্র, বেতার,  দূরদর্শন ও চলচ্চিত্র। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, সাহিত্য, খেলাধুলা, বিজ্ঞান, সিনেমা, বাণিজ্য সব জগতের খবর নিয়ে প্রকাশিত হয় উপরিউক্ত গণমাধ্যমগুলি। আমার বক্তব্য হচ্ছে- সর্বক্ষণ যদি আমরা খুন, মারামারি, রক্তপাত দেখি তাহলে আমাদের রিপুগুলো ১০০% নষ্ট হতে বাধ্য। আমরা জানি যে, আমাদের রিপু গুলোকে শান্ত রাখা একান্ত দরকার। রিপু শান্ত থাকলে মন শান্ত, জীবন শান্ত। তাহলেই মানুষের আচার ব্যবহার, কথাবলা, চরিত্র সবদিক থেকেই একটা সুফল পাওয়া যায়। অথচ আমাদের জীবনযাত্রা ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে। নিত্যদিন একটা অযাতিত টেনশনে আমরা দিন কাটাচ্ছি। সর্বসময়ে মনে হয়,  'আর কিছুতেই যায় না মনের ভার/ দিনের আকাশ মেঘে অন্ধকার।' এই কি জীবন! কেন আমরা হেলায় ফেলায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দেব!

সবকিছু চলুক সিস্টেমকে ধরে। অবাধ মেলামেশা থাকবে, ভালোবাসা থাকবে, রাজনৈতিক মতভেদ থাকবে- কিন্তু তার পরিণতি হিংসা দিয়ে নয়। এর জন্য সমস্ত গণমাধ্যমগুলোকে সৎ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে সমস্ত মানুষের স্বার্থে। নির্দিষ্ট কোন দলের হয়ে নয়। সব সময় যদি আমরা নেগেটিভ দৃশ্য দেখি, তাহলে আমাদের রিপু নষ্ট হবেই। তাই গণমাধ্যমকে অনুরোধ, খারাপের পাশাপাশি ভালো কর্মের দৃশ্য বা খবর, পৌঁছে দেওয়া উচিত মানুষের জন্য।

সামান্য ভোট পর্বের জন্য জীবন চলে যাবে- সে যে দলেরই হোক, এটা মন থেকে মেনে নেওয়া যায় না।  আসুন আমরা শপথ নিয়ে আগামীতে একটা প্রাণ ও বিসর্জিত হবে না, সামান্য লোভের বিনিময়ে। একটু সংযত হই আমরা। আগামী প্রজন্মকে নির্ভেজাল নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচতে সাহায্য করি। মনে রাখবেন, নিজের জীবনের লড়াইটা নিজেকে লড়তে হবে, জ্ঞান অনেকেই দেবে, কিন্তু সঙ্গ কেউ দেবেনা।

9 months ago


Rajiva: নির্বাচন ও পুনঃনির্বাচন সর্বত্রই দেরি, প্রশ্ন উঠছে রাজীব সিনহার শৃঙ্খলা নিয়ে

পুনর্নির্বাচনের (re-election) দিনেও দেরিতে অফিসে পৌঁছলেন রাজ্যের নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা (Rajiva Sinha)। পঞ্চায়েত ভোটেও দেরি, আবার পুনর্নির্বাচনের দিনেও দেরি করলেন তিনি। ফলত, পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat elections) রাজ্য কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। 

পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে এখনও গোটা রাজ্যজুড়ে চলছে অশান্তির ঝড়। শনিবার, পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনেও ঘড়ি দেখে অফিসের সময় অনুযায়ী সকাল ১০টা ১ নাগাদ অফিসে পৌঁছেছিলেন রাজীব সিনহা। সকাল ৭ টা থেকে ভোট পর্ব শুরু হলেও তিন ঘন্টা কেটে যাওয়ার পরে ভোট দফতরে দেখা মিলল রাজ্য কমিশনারের। যেখানে ভোটগ্রহন পর্ব শুরুর আগেই ভোট দফতরে উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। সেখানে তিনি দেরিতে অফিস পৌঁছলেন। ভোটের দিনে একাধিক জায়গাতে বোমাবাজি, গুলি, ভোট লুট হওয়ার মতো ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। 

সোমবার, ফের পুনর্নির্বাচনের দিনেও অফিসে আসতে দেরি করলেন রাজীব সিনহা। এদিনও সকাল ১০ টার পর অফিসে আসলেন তিনি। গাড়ি থেকে নামতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন রাজীব সিনহা। তবে কোনও প্রশ্নের জবাব দিলেন না রাজ্য নির্বাচন কমিশনার। এর ফলে স্বাভাবিকভাবে রাজ্য কমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

ইতিমধ্যে পুনর্নির্বাচনের ৬৯৬ টি বুথে ভোট হচ্ছে। ভোট পর্বের দিন থেকে রাজ্য়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই বিষয়ে রাজীব সিনহা তেমন কোনও মন্তব্য করেন নি। 

9 months ago
Chaos: শনিবারের মতো সোমবারও পঞ্চায়েত ভোটের পুনর্নির্বাচনে হিংসার একই ছবি

৮ জুলাই শনিবার ছিল রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Electoin)। সেই নির্বাচনে মৃত্যু, বোমাবাজি, গুলি, মারধর সবমিলিয়ে এক উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল গোটা রাজ্য জুড়ে। এমনকি বাদ যায়নি বুথে বুথে শাসক দলের ছাপ্পা ভোট সহ ব্যালট লুঠ করার প্রক্রিয়া। আর সেই ছাপ্পা ভোটের বিরোধীতা করে পুননির্বাচনের (Re-Polling) দাবিতে পথে নেমেছিল বিরোধী দলগুলি। রাজ্যের জেলায় জেলায় সেই নিয়ে শুরু হয়েছিল অনেক বিক্ষোভও। তাই সবকিছু তথ্য যাচাই করে, ভেবেচিন্তে সোমবার নির্বাচন কমিশন (State Election Commision) ৬৯৬ টি বুথে পুননির্বাচনের নির্দেশ দেয়। 

আজ অর্থাৎ সোমবার রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের পুননির্বাচন। পঞ্চায়েতের যেই বুথ গুলিতে ছাপ্পা ভোট হয়েছে এবং ব্যালট বক্স লুঠ হয়েছে, সেই বুথগুলিতেই করা হচ্ছে পুননির্বাচন। সবমিলিয়ে রাজ্যের মোট ৬৯৬ টি বুথে পুননির্বাচন। আগের তুলনায় পুননির্বাচনে বেশি অশান্তি না হলেও এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক বাম প্রার্থীর শ্বশুর শুকুর আলী শেখের। শনিবারের তুলনায় এদিন একটু শান্ত পরিবেশ নজরে আসছে পুননির্বাচনের বুথগুলি থেকে। এমনকি শনিবার পঞ্চায়েত ভোটের দিন বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখা না গেলেও, পুননির্বাচনে বুথ গুলির বাইরে বেশ সক্রিয়তার সঙ্গে দেখা গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

9 months ago
Election: প্রয়োজনের দিনে খোঁজ নেই, অথচ মাত্র ৬৯৬ টি বুথে পুনর্নির্বাচনে সক্রিয় কেন্দ্রীয় বাহিনী

মণি ভট্টাচার্য: ইতিমধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election) সম্পন্ন হয়েছে। হিংসা-মৃত্যু, সংঘর্ষ, ছাপ্পা, ব্যালট লুঠের অভিযোগে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় পুনর্নির্বাচন শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে ৬৯৬ টি আসনে পুনর্নির্বাচন (Reelection) আজ অর্থাৎ সোমবার। পুনঃনির্বাচনের দিন কিন্তু দেখা গেল উল্টো চিত্র।  রাজ্যে নির্বাচনের দিন অর্থাৎ শনিবার রাজ্য জুড়ে বহু জেলায় একই অভিযোগ ছিল যে কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও বুথে নেই। অর্থাৎ পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বহু বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন ছিলনা। অথচ আজ অর্থাৎ সোমবার রাজ্যে পুনর্নির্বাচনের দিন রাজ্যের প্রায় প্রত্যেকটি বুথেই রয়েছে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর থেকে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে প্রয়োজনের দিন পাওয়া গেল না কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। প্রয়োজনের দিন রাজ্যে ২১ টি প্রাণ গেল, সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাওয়া যায়নি। আজ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে কি হবে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যে ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে প্রায় ৬৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচনের আগের দিনই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। সেইমতো রাজ্য নির্বাচন কমিশন,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও আইজি বিএসএফের বৈঠকে ঠিক হয় যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে দুটির বেশি বুথ আছে সেখানে কমপক্ষে চারটি কেন্দ্রীয় বাহিনী, যেখানে ৬টির বেশি বুথ আছে, সেখানে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী অর্থাৎ এভাবেই ভোট গ্রহণ কেন্দ্র মাফিক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের একটি ছক সম্পন্ন হয়। যদিও ভোটের দিন কিন্তু তার কোন কিছুই হয়নি। ফলস্বরূপ রাজ্যে প্রত্যেকটি জেলায় বুথ দখল, রিগিং, ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়া, ব্যালট ছিনতাই, ছাপ্পা, হিংসা-সংঘর্ষ ও মৃত্যুর মতন ঘটনাগুলি ঘটেছে। যা বাংলার ভোটকে ফের রক্তস্নাত হিসেবেই চিনিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, যেখানে রাজ্যে ৬১ হাজার বুথে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্যাপ্ত পরিমাণে বুথ গুলিতে না থাকার কারণে এত হিংসা অশান্তি, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়া হয়নি। অথচ আজ মাত্র ৬৯৬ টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে, সেখানে প্রত্যেক বুথে সশস্ত্র বাহিনী। এ ঘটনার পর অবশ্য বিজেপির একাংশের দাবি, ' নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা, জুতো মেরে গরু দান করছেন।' যদিও ইতিমধ্যে নির্বাচনী হিংসা, বেলাগাম সন্ত্রাস নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে অধীর রঞ্জন চৌধুরী। পাশাপাশি বিরোধী দল নেতা নির্বাচনের রাতেই নির্বাচন কমিশনের ডেটে তালা মেরে  কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

9 months ago


Panchayat: কার দখলে বাংলার গ্রাম?

প্রসূন গুপ্তঃ রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটের গণনা। এই ফলাফল নিঃসন্দেহে লোকসভা ভোটের সেমিফাইনাল। এবারে সবকটি দলের ভাবনা তাদের অবস্থান কি হবে। এটা বাস্তব কিছু কিছু স্থানে প্রবল সংঘাত হয়েছে। প্রাণ গিয়েছে দেড় ডজনের বেশি। মৃত্যু কখনই কাম্য নয়, কিন্তু আশ্চর্য বিষয় মৃত্যু হয়েছে শাসক তৃণমূলের বেশি। প্রশ্ন থাকতেই পারে তবে কি বিরোধীদের মাসল পাওয়ার বেড়েছে? খবর যতটুকু প্রাক্তন ও বর্তমান সিপিএম কিন্তু মাসল পাওয়ার দেখাতে কসুর করে নি, ক্ষেত্র বিশেষে বিজেপিও। কোথাও কোথাও অলিখিত বা প্রকাশ্য জোটও হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলে ফায়দা তুলবে কে?

বিভিন্ন বুথ ফেরত সমীক্ষা জানাচ্ছে যে, তৃণমূলের আগের বছরের থেকে আসন কমবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সিংহভাগ জেলা তাদের দখলেই থাকবে। হয়তো দুটি জেলায় বিজেপি জেলা পরিষদে এগিয়ে থাকতে পারে। তাও শেষ লগ্নে কি হবে সে বিষয়ে পূর্বাভাস দিলেন না বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ নিয়ে কিছুটা হতাশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সাগরদিঘির ফর্মূলা যে কাজ করেনি তা কিন্তু বিভিন্ন সার্ভে রিপোর্টে পরিস্কার। পাশাপাশি ভোটের আগে প্রবল দাপট দেখালেও ভোট পর্বে নওশাদ সিদ্দিকিকে খুঁজে পাওয়া যায় নি। আসলে বিরোধীদের ধারণা ছিল, নওশাদ এবং সেলিমের সিপিএম হয়তো মুসলিম ভোটে ভাঙন ধরাতে পারবে ক্ষেত্র বিশেষে তা হয়নি। বরং এবারেও সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগ ভোট তৃণমূলেই গিয়েছে।

সোমবার ফের কিছু বুথে পুনঃনির্বাচন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী সজাগ, কিন্তু যা হওয়ার তা হয়েই গিয়েছে, সোমবারের ভোট খুব বেশি কিছু পরিবর্তন আনতে পারবে না বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলে।

ভোটের আগাম ধারণাতে জানা যাচ্ছে সবচাইতে খারাপ ফল হবে সিপিএম-এর। তারা এবারের ভোটে যথেষ্ট সক্রিয় থাকা সত্বেও, তাদের " কমিটেড" ভোট তাদের বাক্সে পরে নি। এবারেও শতাংশের নিরিখে তৃতীয় বা চতুর্খ স্থান থাকবে বলেই ধারণা। লোকসভায় এবারের ফলাফলের ভিত্তিতে ফের শূন্যে চলে যেতে পারে লাল পতাকা। নতুন প্রজন্ম আর যাই হোক কমিউনিষ্ট হিসাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারে নি।

9 months ago
Election: ভোটের দিন ছেলেকে হারিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে ভোট দিলেন বাসন্তীর তৃণমূল কর্মীর মা

ভোটের দিন, ভোটের কারণেই ছেলেকে হারিয়েছেন। শনিবার বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল বাসন্তীর (Basanti) তৃণমূল (TMC) কর্মী আনিসুর ওস্তাগারের। সেই আনিসুরের মা আমিনা ওস্তাগার এদিন ফের ভোট দিলেন। ছেলের শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১৩ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন আচমকা বোমা বিস্ফোরণ। তাতেই মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল কর্মী আনিসুরের। বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। যদিও, স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায় নির্দল প্রার্থীর দলবল বোমা ছোড়ে। সোমবার সেখানেই চলছে পুনর্নির্বাচন।

9 months ago