Breaking News
BJP: ইস্তেহার প্রকাশ বিজেপির, 'এক দেশ এবং এক ভোট' লাগু করার প্রতিশ্রুতি      Fire: দমদমে ঝুপড়িতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, ঘটনাস্থলে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন      Bengaluru Blast: বেঙ্গালুরু ক্যাফে বিস্ফোরণকাণ্ডে কাঁথি থেকে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল এনআইএ      Sheikh Shahjahan: 'সিবিআই হলে ভালই হবে', হঠাৎ ভোলবদল শেখ শাহজাহানের      CBI: সন্দেশখালিকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের...      NIA: ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ NIA      ED: অবশেষে ইডির স্ক্যানারে চন্দ্রনাথের 'মোবাইল-হিস্ট্রি', খুলতে পারে নিয়োগ দুর্নীতি রহস্যের জট      PM Modi: তৃণমূল মানেই দুর্নীতি-লুট! ভোট প্রচারে সন্দেশখালির পর ভূপতিনগর নিয়ে সরব মোদী      NIA: ভূপতিনগর বিস্ফোরণকাণ্ডে গ্রেফতার আরও ২ , কেন্দ্রীয় এজেন্সির উপর হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন কমিশন      Sheikh Shahjahan: বিজেপির 'দালাল'রা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে বলছে, দাবি শেখ শাহজাহানের     

Bangali

Chat: পাড়ার আড্ডাটা আর নেই

বছর কুড়ি আগেও পাড়াগুলোতে পাড়া কালচার ছিল। আর ছিল রোয়াক। পাড়ার উঠতি থেকে পড়ন্ত যুবকরা সেখানে আড্ডা মারত। সাথী ছিল চা, কাউন্টার করে খাওয়া সিগারেট আর মাঝে মধ্যে  টুকটাক তেলেভাজা কি ঝালমুড়ি। ওয়াও মোমো বা মনজিনিস তখনও ভবিষ্যতের গর্ভে। রেস্তোরাঁ কালচার তখনও বাঙালীর জীবনযাত্রায় প্রবেশ করে নি।

পাড়ার যুবকদের একটা করে ভালো নাম ছিল ঠিকই, কিন্তু সেগুলো কেবল স্কুল কলেজে ব্যবহার হওয়ার জন্য। পাড়ার মধ্যে তারা হাবুল, পটলা, বাপি নামেই পরিচিত ছিল। কখনও কখনও চেহারার বৈশিষ্ট্য অনুসারের নাম দেওয়া হত। ঢ্যাঙা, ন্যাড়া, কালু ইত্যাদি নামগুলি ছিল তারই প্রতিফলন। বডি শেমিং নিয়ে আমজনতা তখনও সচেতন হয় নি৷ তাই এমন সব নাম নিয়ে আপত্তির কিছু ছিল না কারো কাছে। ঢ্যাঙা বা কালুরাও তাদের নাম শুনে স্বাভাবিক ভাবেই সাড়া দিত।

পাড়ায় বিয়ে বাড়ি হোক বা শ্রাদ্ধ বাড়ি, আগুন লাগা হোক বা মাঝ রাতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সব ব্যাপারে রোয়াকের যুবকরাই ছিলেন অগ্রণী। পাড়ায় কারো বিয়ে লাগলে যেমন কোমরে গামছা বেঁধে পরিবেশন করতে লাগত আবার তেমনই কেউ মারা গেলে শবদেহে কাঁধ দেবার লোকেরও অভাব হত না। মাঝরাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলেও কোনো সমস্যা ছিল না৷ রোগীর বাড়ির লোকের এক ডাকেই পটলা হাবুলরা সাইকেল ভ্যানে রোগীকে চাপিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেত। সারারাত জেগেও থাকত হাসপাতালে। দরকারে নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে ওষুধও কিনতো রোগীর।

উপদ্রবও যে একেবারে ছিল না তা নয়। পুজোয় চাঁদার জন্য হুজ্জোতি করা, সরস্বতী পুজোর আগের দিন এর ওর বাড়ির পাঁচিল ডিঙিয়ে বাগান থেকে ফল ফুল পেড়ে আনা, কারো পোষা মুরগী চুরি করে পয়লা জানুয়ারী বা মহালয়ার রাতে 'ফিস্টি' এসব লেগেই থাকত৷ পাড়ার খিটকেলে বুড়ো বুড়িদের নানা আপত্তিকর সৃজনশীল নামে ডেকে তাদের রাগিয়ে দিয়ে গালাগাল খেয়ে মজা পাবার বদভ্যাসও অনেকেরই ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে পটলা হাবুল বাপিরা ছিল পাড়ার এক একটা স্তম্ভ। পাড়াগুলো তাদের ছাড়া অচল ছিল।

তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। অনেক বদল ঘটেছে মফঃস্বল থেকে বড় শহর সর্বত্র। পাড়া কালচার আজ বিলুপ্তপ্রায়। পাড়ায় রোয়াকের দেখা পাওয়া এখন ডোডো পাখির দেখা পাওয়ার চেয়েও বেশী কঠিন৷ আর হাবুল পটলা বাপিরা? তারাও হারিয়ে গেছে কালের স্রোতে। সর্বনাশা কেরিয়ারের ইঁদুর দৌড়ের যুগে এ যুগের হাবুল পটলারা কেউ এখন মাল্টিন্যাশানাল কোম্পানির সুট বুট পরা চাকুরে, কেউ সরকারী কেরানি, কেউ বা আবার জোম্যাটো বা সুইগির ডেলিভারি বয়। কাজের চাপে আড্ডা তো পরের কথা, মুখ দেখাদেখিই হয় না মাসের পর মাস। কেউ কেউ আবার কাজের সন্ধানে চলে গেছে দূর দেশে। ন'মাসে ছ'মাসে দেশে ফেরে। আড্ডা মারা দূরে থাক, পাড়ার সবার নামই জানে না ভালো করে কেউ। বাড়িই বা আর কোথায় পাড়ায়৷ সব ভেঙে গড়ে উঠছে একের পর এক ফ্ল্যাট। সুসজ্জিত সেসব ফ্ল্যাটে আস্তানা গাড়ছে বহিরাগত বিভিন্ন মানুষরা। তাদের টান নেই পাড়ার প্রতি। অনেকের ভাষা সংস্কৃতিও ভিন্ন।

পটলা হাবুল বাপিরা আর ফিরবে না কোনোদিন। রাতের আকাশের তারার মতই তারা মিলিয়ে গেছে কালের গহীন গর্ভে।   

চিত্রদীপ সোমের কলমে 

a week ago
Scientist: বিদেশে গবেষণা করতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু বাঙালি পড়ুয়ার

বিদেশে গবেষণা করতে গিয়ে রহস্যমৃত্যু বাঙালি পড়ুয়ার। মৃতের নাম রোশনি দাস। তিনি দুর্গাপুরের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। দেহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবি করা হয়েছে। সুইডেনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে গিয়েছিলেন রোশনি।

পরিবার জানিয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ির সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন রোশনি। এরপর ১২ অক্টোবর সুইডেনের ভারতীয় দূতাবাস থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরের দিনেই ভবানী ভবন থেকে ফোন আসে দুর্গাপুরের এই পরিবারের কাছে।

জানানো হয় তাঁদের মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর। বলা হয়, একটি বন্ধ অ্যাপার্টমেন্টের ভিতর থেকে রোশনির দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতারও হয়েছেন সুইডেনের এক নাগরিক। তবে কী কারণে মৃত্যু, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় পরিবার।

বছর তিরিশের রোশনি ডিপিএল টাউনশিপের বাসিন্দা। ছাত্রী ছিলেন দুর্গাপুর স্কুলের। বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে প্রাণীবিদ্যায় অনার্স। ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজি নিয়ে উচ্চশিক্ষা। বর্তমানে সুইডেনের উমেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরেট করছিলেন।

6 months ago
Special: 'ভোজন রসিক বাঙালি' শেষ পর্ব, জানুন বাঙালি অদ্বিতীয়া নারীদের রান্নার গুণ

সৌমেন সুর: বাঙালির আমিষ-নিরামিষ দুটি রান্নার খ্যাতি একসময় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। চৈতন্য দেবের আচার্য অদৈত্বদেবের স্ত্রী সীতাদেবীর নিরামিষ রান্নার যে নিখুঁত বিবরণ আছে, তা বাঙালীর রান্নার ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। 'ইন্ডিয়া ইন বন্ডেজ' গ্রন্থটির বিখ্যাত লেখক জেএ সান্ডারল্যান্ড, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর স্ত্রীয়ের হাতের রান্না খেয়ে ভীষণ মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাঁকে আমেরিকায় রান্নার স্কুল খোলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। রাজা নবকৃষ্ণদেব তাঁর মাতৃশ্রাদ্ধে সেইসময় কুড়ি লক্ষ টাকা খরচ করেছিলেন। নিমন্ত্রিতদের আহার্য সব দোকান থেকে সংগ্রহ করার জন্য, সেদিন কলকাতার সব মুদি দোকানের চাল-ডালই ফুরিয়ে গিয়েছিল।

কুমারটুলিতে একটিও মাটির হাড়ি ছিল না। ছিল না আশেপাশের কোনও কলাগাছের আস্ত পাতা। নবকৃষ্ণের এই নিমন্ত্রণ আজও ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে। বিদ্যাসাগরের মা ভগবতীদেবীর রান্নার খুব যশ ছিল। তাঁর হাতের আমিষ রান্না খেয়ে, তত্কালীন শিক্ষাকর্তা হ্যারিসন সাহেব দারুন খুশি হয়েছিলেন। এই রান্নার গুণটি বিদ্যাসাগর মহাশয় ভীষণভাবে রপ্ত করেছিলেন।

ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে খাওয়া আর খাওয়ানোর ব্যাপারে বাঙালিদের মতো এমন ভোজনরসিক জাত সত্যিই বিরল। তবে এখন আর সেই নিমন্ত্রণের বহর নেই।পেটুকদেরও আর সেই ইজ্জত নেই। আছে শুধু হারিয়ে যাওয়া কিছু উজ্জ্বল স্মৃতি।

তথ্যঋণ সুরজিত্ ধর।

one year ago


Special: 'ভোজন রসিক বাঙালি', জানুন খাদ্যরসিক দেশবন্ধু থেকে রামমোহনের কীর্তি

সৌমেন সুর: সে একটা দিন গেছে। এখন আর তেমন কিছু চোখে পড়ে না। যখন মানুষ খেয়ে এবং খাইয়ে সমান তৃপ্তি পেতো। জিনিসপত্রের তেমন আকাল ছিল না। এক একজন খেতে পারতেনও প্রচুর। সেসব কথা শুনলে নেহাতই্ গল্পকথা মনে হবে। যেমন ধরুন রাজা রামমোহন রায়ের কথা। তিনি ছিলেন সুপুরুষ ও তেজস্বী। খাওয়ার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অনেকের উপরে। একটা গোটা পাঁঠার মাংস খাওয়া তার কাছে কোনও কঠিন ব্যাপার ছিল না। দিনে বারো সের দুধ খেতেন। পঞ্চাশটা আম আর এক কাঁদি কলা-নারকেল অনায়াসে সেবন করতেন। নিজের শারীরিক শক্তি সম্পর্কে ছিল প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস।

অন্যদিকে প্যারীমোহন সরকার, প্রথম জীবনে ছিলেন ভীষণ পেটুক। সে সময় তিনি জলখাবার সারতেন এক ধামা মুড়ি আর শ'খানেক মুলো খেয়ে। বারাসাতে এক নিমন্ত্রণ বাড়িতে তর্ক করে খেয়ে ফেলেছিলেন একসের ছানাবড়া। মাংস খাওয়ার ব্যাপারে বিদ্যাসাগর মহাশয় ছিলেন তার যোগ্য সহচর। পাঁঠা কাটা হলে দুই বন্ধু মিলে অর্ধেকটা সাবাড় করে দিতেন।

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনও এ ব্যাপারে কম যান না। পেটভরে পোলাও মাংস খেয়ে, দু সের রসগোল্লা-অম্লান বদনে খেয়ে ফেলতেন। সেকালের খাওয়া নিয়ে কোনও কথা উঠলে ঠাকুরবাড়ির কথা চলে আসে অবিশ্বাস্যভাবে। দ্বারকানাথ, দেবেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ-- এঁরা প্রচুর খেতে না পারলেও খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে ছিলেন ভীষণ শৌখিন। রবীন্দ্রনাথ আবার এক খাবার দুবার খেতেন না। প্রখ্যাত লেখিকা পার্ল বাক বাঙালি রান্নার প্রশংসা করে গেছেন। সবুজ কলাপাতার উপরে অতি মিহি চালের ভাতের সঙ্গে নানা দর্শনধারী পদের গুন ও স্বাদুতাকে তিনি পোয়েটিক বলে বর্ণনা করে গেছেন।

তথ্যঋণ/ সুরজিত্ ধর

one year ago
Luchi: 'লুচি তুমি চিন্তনে মননে, বাজিমাত হয় তোমার স্মরনে'

সৌমেন সুর: প্রথমে লুচি শব্দটি কোথা থেকে এসেছে সে সম্পর্কে একটু ব্যাখ্যা করি। লুচি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত রুচিক থেকে, যার অর্থ খেতে ভালো। লুচির সঙ্গে বাঙালির প্রাণের যোগ অস্বীকার করা যায় না।

ঠাকুরবাড়ির দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন, 'আমার লুচি ঘিয়ে না ভেজে জলে ভেজে দাও।' লুচির স্বাদ যেন অমৃত সমান। রবীন্দ্রনাথ পেনেটির বাগানে লুচি খেয়ে আমাদের জানান, 'সকালবেলায় এখো গুড় দিয়ে যে বাসি লুচি খাইতাম, নিশ্চয়ই স্বর্গলোকে ইন্দ্র যে অমৃত খাইয়া থাকেন, তাহার সঙ্গে তার স্বাদের বিশেষ কিছু পার্থক্য নাই।' লুচির কদর সর্বত্র।

লুচি খেতে ভালোবাসে না, এমন মানুষ খুব কমই মেলে। পিকনিকে লুচি, শিকারে লুচি, বিয়েবাড়িতে সকালে হাজিরা দিতে পারলে লুচি মাস্ট। একটা জায়গায় লুচির বর্ণনা করা হয়েছে শুনলে জিভে জল আসতে বাধ্য। 'ঘিয়ে ভাজা তপ্ত লুচি, দুচারি আদার কুচি/ কচুরি তাহাতে খান দুই। /ছোঁকা আর শাক ভাজা মতিচুর বোঁদে গজা/ফলারের যোগার বড়ই।'

লুচি একই সঙ্গে সাত্ত্বিক ও রাজসিক। মানে কোন ব্রতে উপবাসভঙ্গে যেমন লুচি, তেমনি লুচি দিয়ে কষা মাংস লা জবাব। লুচি নিছক একটি রসনা বিলাস নয়, লুচি দিয়ে চিহ্নিত করা যায়, বাঙালি সমাজের শ্রেণীবিন্যাস, হদিশ পাওয়া যায় অনেক জটিল কূটনীতির।

তবে ইদানিং একদিকে কোলেস্টেরল, অন্যদিকে চাওমিন, পাস্তা পিজ্জার ধাক্কায় হিন্দু কী মুসলমান, সব বাঙালিই দেখছি আজকাল বেলুচিস্তানের বাসিন্দা হয়ে পড়েছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাই বোধহয় কনটেন্টে না হোক খাবার দাবারের বর্ণনায় এখন সত্যি সত্যিই আন্তর্জাতিক, লুচি সেখানে ব্রাত্য।

one year ago


Tripura: ত্রিপুরার ভোট, কে কোথায় দাঁড়িয়ে (পর্ব ৮)

প্রসূন গুপ্ত: ত্রিপুরায় বাঙালি ও উপজাতি রয়েছে, যা এর আগেও বলেছি। কিন্তু সে রাজ্যের বাঙালিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের যেমন মিল রয়েছে তেমন অমিলও বিস্তর। মিল রয়েছে সংস্কৃতিতে, পুজো-অর্চনা, শিক্ষাক্ষেত্রে। সেখানেও ঘটা করে পয়লা বৈশাখ থেকে রবীন্দ্র- নজরুল জয়ন্তী যেমন পালিত হয় তেমনই দুর্গাপুজো ওই রাজ্যের প্রধান উৎসব। তারপর কালীপুজো,সরস্বতী পুজো ইত্যাদি নিয়ম করে পালিত হয়ে থাকে। এ রাজ্যে যেমন বইমেলা পালিত হয় তেমন আগরতলা বইমেলাও প্রতিবছর পালিত হয় রাজবাড়ীর সামনের মাঠে।

কিন্তু অমিলও আছে, প্রথমত ভাষাগত। এখানকার বাঙালি বলতেই ওপার বাংলার কুমিল্লা ও নোয়াখালী থেকে আগত উদ্বাস্তু। বাংলাদেশ বা উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাষার মতো পূর্ববঙ্গীয় ভাষা এখানে। এখানকার মানুষের খাওয়াদাওয়া একটু ভিন্ন। এখানে ছুটির দিনে জলখাবার থেকে নৈশভোজ অবধি ভাত চলে। তিন বেলায় ভাত, লুচি-পরোটা বা চাউমিন অথবা পাউরুটি যে চলে না, তা নয় কিন্তু এই খাবারের প্রতি ঝোঁক কম। মাছ খেতে ত্রিপুরাবাসী খুব ভালোবাসে কিন্তু মাছ মাংস থেকে তরিতরকারির দাম প্রচণ্ড।

কলকাতার রাস্তায় এখনও ২৫ টাকায় ভাত-ডাল-সবজি পাওয়া যায়। কিন্তু আগরতলার যেকোনও ভাতের হোটেলে সবজি-ডাল-ভাত খেতে ৭৫ টাকা খরচ হয়। মাছ-ভাত ২৫০ থেকে ৭০০ টাকা অবধি দাম ওঠে কাজেই এখানকার মানুষ পারতপক্ষে রাস্তায় বা হোটেলে খেতে চান না।

চাকরি বলতে সরকারি। পশ্চিমবঙ্গে ১২% মানুষ সরকারি চাকরি করে এবং বাকি বেসরকারি। কিন্তু ওই রাজ্যে চাকরি মানেই সরকারি, কিছুটা বেসরকারি। সমস্যা শিল্প-বাণিজ্য নেই, কাজ করবে কোথায়? কিছু সংস্থার শাখা অফিস যা আছে তাতে ক'জনই বা কাজ করে।ব্যবসা বলতে ট্রেডিং। আসলে ত্রিপুরায় শিল্প হলে তার প্রোডাক্ট সারা ভারতে পাঠাতে যে পরিমান জ্বালানি খরচ হবে তাতে ভারতের অন্য প্রান্তের ওই একই প্রোডাক্টের দামের কাছে মার খাবে এ রাজ্যের প্রোডাক্ট। ফলে চাকরির বাজার খুবই খারাপ।

বর্তমানে রাজ্যের মানুষের দাবি কর্ম-দ্রব্যমূল্য হ্রাস। কংগ্রেস থেকে বর্তমান বিজেপি সরকার কেউই এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়নি। (চলবে) 

one year ago
Theatre: 'বাংলা পেশাদার থিয়েটারের দেড়শো বছরে' (প্রথম পর্ব)

সৌমেন বসু: ১৮৭২ সালের ৭ই ডিসেম্বর, ন্যাশনাল থিয়েটারের 'নীলদর্পন' নাটক মঞ্চস্থ হল মধুসূদন সান্যালের ঘড়িওয়ালা বাড়িতে। তখনকার সময় বাঙালি সমাজ জীবনবোধের এক নতুন সংস্থা পেলো থিয়েটার। এতদিন জমিদার বাড়িতে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য মঞ্চস্থ হতো। কিন্তু শৌখিন থিয়েটার সামাজিক দায়িত্ব পালনে অগ্রণীর ভূমিকায় প্রকাশ পেল। সমাজ সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে থিয়েটারকে সংযুক্ত করে দেওয়ার প্রয়াস এবং নানারকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা যে হয়নি তা নয়। তবু অতৃপ্তি ছিল- শখের থিয়েটারের কর্মকাণ্ড দেখার জন্য তাদের আত্মীয়স্বজন, চেনা পরিচিতজনদের টিকিট ছাপিয়ে নিমন্ত্রণ করতেন।

ফলে অনেক দর্শক টিকিটের জন্য প্রার্থনা করে না পেয়ে বিফল মনোরথে ফিরতেন। এই অতৃপ্তি থেকেই বাংলা থিয়েটার সাধারণের সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করে। যে কারণেই হোক, ন্যাশনাল থিয়েটার বাংলা থিয়েটারকে স্বাবলম্বী করে তুলেছিল। পেশাদার ভাবে তাকাতে হয়নি থিয়েটারকে। অর্থনৈতিক সুবিধা শিল্পীদের যেমন নাট্যনির্ভর করে তুললো, তেমনি সাধারণ দর্শকের সমাগমে তারা সাধারণ মানুষের প্রাণের কথাকে রূপ দিতে থাকলো।

এবার থিয়েটারের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক বিশেষত স্বদেশ প্রেমের সম্পর্ক হয়ে ওঠে গাঢ়তর। এই সময়ে একের পর এক স্বদেশ প্রেমের নাটক রচিত হয়। (চলবে)

one year ago
Utsav: কল্পতরু উৎসব থেকে পিকনিক, জু-নিক্কো পার্ক! বছর পয়লায় বাঙালির পায়ে সর্ষে

হর্ষ-বিষাদ, চাওয়া-পাওয়ার খাতাকে পিছনে ফেলে নতুন বছর ২০২৩-কে (New Year 2023) স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব। সেই পথের পথিক বাংলাও, বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে। তাই উৎসবকে আনন্দে পরিণত করতে বাঙালির (Bengal Festival) জুড়ি মেলা ভার। সেই প্রথা বজায় থাকলো ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন। একে রবিবার, তার উপর শীতের কামড় কম। এই দুয়ের মিশেলে রবিবার ফেস্টিভ মুডে পাহাড়-সুন্দরবন। চিড়িয়াখানা, সায়েন্স সিটি, পিকনিক (Picnic), পাহাড়,সমুদ্র, জঙ্গল, কাশীপুর উদ্যানবাটিতে মানুষের ঢল। ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া উৎসবের সপ্তাহে এদিন ইতি পড়লো।

পয়লা জানুয়ারি তিথি মেনে কল্পতরু উৎসব পালিত হয় রাজ্যব্যাপী। তাই সকাল থেকে কাশীপুর উদ্যানবাটি, দক্ষিণেশ্বর-সহ রামকৃষ্ণের স্মৃতি বিজরিত একাধিক জায়গায় ভক্তদের ঢল নেমেছে। বেলুড় মঠও ছিল লোকারণ্য। পিছিয়ে ছিল না তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, লেক কালীবাড়ি, কঙ্কালিতলার মতো পীঠস্থানও। দেবী দর্শন এবং দেবী পুজোয় যোগ দিতে সকাল থেকেই এই জায়গাগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন আম জনতা।

প্রচুর দর্শক সমাগম কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলোতে। ভিক্টোরিয়া থেকে চিড়িয়াখান, ইকো পার্ক, সায়েন্স সিটিতেও বেলা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে মানুষের ঢল। টাকি থেকে ঝাড়খালি, গাদিয়ারা থেকে দুর্গাপুর, রাজ্যের একাধিক পিকনিক স্পটেও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতোন। নতুন বছরের প্রথম দিনে তাই ঠাকুরের বাণী মেনে একটাই কথা: সকলের চৈতন্য হোক।

one year ago


Christmas: বাঙালির বড়দিন, আড্ডা, পরিবার এবং পার্কস্ট্রিট-বো ব্যারাকে ঢুঁ মারা

প্রসূন গুপ্ত:  আমাদের বাঙালিদের কাছে বড়দিনটিও বন্ধু অথবা বান্ধবী কিংবা প্রেমিক প্রেমিকার বেরিয়ে হৈচৈ করার দিন। এটা বাস্তব যতই ১৪ ফেব্রুয়ারী সারা বিশ্ব প্রেমের দিন হিসাবে ধরুক না কেন, বাঙালির প্রেমের দিন সরস্বতী পুজো। অবশ্য প্রেমের প্রস্তাবনার দিনও বলা চলে। এই প্রেমটি জমে গেলে বেরিয়ে পড়া, কোথাও নিভৃতে থাকা অথবা অবশ্যই বড়দিনে পার্ক স্ট্রিট বা নিজ নিজ শহরের রেঁস্তোরায় রাতের ডিনার। এসব গল্পের শুরু ৭০ দশকে এবং আজও কিছু একটা করা।

ওয়ান ডে বা টি২০-র টিকিট পাওয়ার মতোই পাড়ায় বলার মতো বিষয় , আজ সন্ধ্যাটা কাটলো পার্ক স্ট্রিটে।|শুধু বন্ধুবান্ধব নয় পরিবার নিয়ে বড়দিনে বাইরে খাওয়ার রেওয়াজ চলছেই। দিল্লি মুম্বাই বা অন্য শহরে নির্দিষ্ট কোনও রাস্তায় যেতেই হবে এমন কোনও ব্যাপার নেই যা আছে কলকাতায়।

করোনা আবহে ২০২০-তে তো জমায়েত হওয়াই নিষিদ্ধ ছিল। ২১ও বাঁধার মধ্যেই ছিল বেশ কিছুটা। পুজোর সময়ে তাই দেখা গিয়েছিলো, বড়দিনে তো বটেই। কিন্তু ২০২২ যেন বাঁধন ছাড়া। দেদার ভিড় পুজোপার্বনে। ভিড় ক্রিসমাস থেকে ৩১ ডিসেম্বর। যদিও করোনার নতুন রূপ বিএফ-৭ চোখ রাঙাচ্ছে। তবু যতক্ষণ চরম বার্তা না আসছে বাঙালি টসকাবে না। কাজেই রবিবার রাতটি ছিল কলকাতার বাঙালির কাছে ফিরে পাওয়া বড়দিন। কপোত কপোতিরা অনেকেই বেরিয়েছে। তবে সকলেই যে পার্ক স্ট্রিট বা সাহেব পাড়ায় গিয়েছে এমন নয়।

অনেকেই নিজের মহল্লায় বা বন্ধুদের বাড়িতে বা নতুন জুটিরা বাড়িতেই সন্ধ্যা থেকে রাত কাটিয়েছে। বাঙালির আজ পয়সা কোথায়? একেবারে বড় চাকুরিজীবীদের কথা আলাদা অথবা ব্যবসায়ীদের বা পেশাদারীদের হয়তো বড়দিনে বড় খরচ করার সামর্থ আছে কিন্তু মধ্যবিত্ত বাঙালি যাবে কোথায় ? একেকটা রেঁস্তোরায় একেকজনের খরচ ১৫০০/- থেকে ১৮০০/- , সূরার দাম তো আলাদা। কোথায় পাবে এই খরচ | করোনা কেড়ে নিয়েছে সব। বিশ্বে বেকারত্ব বেড়েছে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট, নিয়ে জানালেন ঋতম শতাব্দী জুটি। কাজেই বাড়িতে রান্না করে বা অপেক্ষাকৃত কম দামি হোটেলের খাবার আনিয়ে খাওয়া দাওয়া সারো। তাই রাস্তায় মহল্লায় কিংবা বাড়িতে সারতে হলো বড়দিন।

one year ago
Ananda: পায়ের তলায় সর্ষে বাঙালির, পুজোর গন্ধ মেখে তাই ছুটে যাওয়া দিঘা, পুরী বা দার্জিলিং

সুজিত সাহা: পুজো পুজো গন্ধ মেখে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির মন ছোটে একটু ভিন্ন স্বাদের আশায়। রাস্তাঘাট, মাঠময়দান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, কলকাতার, চতুর্দিকে রঙবেরঙ মানুষের ভিড়। আর বাড়ির সামনে পুজো হলে তো কথাই নেই। নিজের বাড়িতে ঢুকতেও বাঁশের ব্যারিকেডে লাইন। শহর বা শহরতলিতে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তার দু'পাশে লাল শালু জড়ানো সস্তার বিরিয়ানি হাড়ির সিন্থেটিক আতরের গন্ধ চারদিকে। নাভিশ্বাস এক শ্রেণির মানুষের। সারা বছরের কর্মব্যস্ততার মাঝে ছুটিকে একটু অন্য স্বাদে অনুভব করার চেষ্টা, তাঁরা মনে করে পুজোর সময় কলকাতাকে। ওরে বাবা রক্ষা করো।

বাঙালির দিপুদা; দিঘা, পুরী, দার্জিলিং তো আছে। সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে বকখালি, টাকি, হিমাচল প্রদেশ, কাকদ্বীপ আরও কত নাম! যার যেখানে মন চায়, আমাদের ছুটি ছুটি চল নেব লুটি ওই আনন্দ ঝর্নায় বলতে বলতে চলে যায়। আমার একটা ছোট ভ্রমণপিপাসু দল আছে, যারা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল পুরীর জন্য। একাধিকবার যাওয়া সত্বেও সময়টা অন্যভাবে অতিবাহিত করতে এবারের যাত্রা। পুরী পৌঁছলাম সপ্তমীর ভোরে। আলো-আঁধারির ভোরে টোটোয় চেপে এগোতেই সূর্য উঁকি মারল সমুদ্রের বুক চিড়ে। আলো বাড়ার সঙ্গেই বালুকাবেলায় ছুটে আসা ঢেউগুলো ঝিকমিক করে মিলিয়ে যাচ্ছে। আবার আর একটা ঢেউ ছুটে আসার জন্য তৈরি।

আমি এই সূর্যোদয়ের মাঝে সুবিশাল জলরাশির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে কখন হারিয়ে ফেলেছি জানি না। সম্বিত ফিরল দেখি আমার এক বন্ধু একতাল বালি নিয়ে ঢিবি করছেন।দৃশ্য দেখে হাসলাম বটে, সবাই যে যার নিজের মতো করে সময়ের সঙ্গে কথা বলছে। সমুদ্রে স্নান, ঘোরাঘুরি, অনাবিল আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, কখন যে তিন দিন কেটে যাবে টের পাব না। দশমীর দিন আবার দুরন্ত এসে ঠেকবে শিয়ালদহে। একাদশী থেকে আবার সেই আগের জীবন, থোর বড়ি খারা আর...।   

2 years ago


Durga: ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বাঁকুড়ার কোড়ো পাহাড়, চূড়ায় পূজিত অষ্টভুজা মা, যাবেন নাকি?

বাঙালীর পায়ের তলায় সর্ষে। পুজো আসতেই অবাধ্য মন বেরিয়ে পড়ে কাছে দূরে কোথাও। এমন একটা জায়গার সন্ধান রইলো আপনাদের জন্য। যেখানে রয়েছে পুজো, যেখানে রয়েছে খেলনা পাহাড়, বাহারি নদী। আর মন ছুঁয়ে যাওয়া সবুজ। কোথায়? বাঁকুড়া থেকে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ি ছোটালে আঠারো কিলোমিটার ভিতরে রয়েছে কোড়ো পাহাড়। উচ্চতা মেরেকেটে ৫০০ ফুট। পাহাড়ের পাশ দিয়ে অলস অজগরের মত বয়েছে শালি নদী।  পাহাড়ের মাঝ বরাবর তপোবন ঘেরা আশ্রম। এতদূর পর্যন্তই গাড়ি যাবে। এখান থেকে সিড়ি বেয়ে পাহাড়ের মাথায় পৌঁছলে দেখা মিলবে অষ্টভূজা মায়ের।

কথিত আছে আজ থেকে আশি বছর আগে এক সাধু এই পাহাড়ের গুহায় তপস্যা করার সময়ে দেবীর বালিকা রূপ দেখতে পান। পরবর্তীতে দেবীর স্বপ্নাদেশে কাশী থেকে আনা হয় দেবী মূর্তি। উপলব্ধি করুন সবুজ পাহাড়, নীল জল আর হলুদ রোদ। ভেসে আসছে মায়ের পুজোর মন্ত্রধ্বনি। দূরে শালি নদীর ওপর গাংগুয়া জলাধারের শান্ত নীল জলে বাতাসের আলপনা। বুকের পাথর কখন সরে গিয়েছে বুঝতেই পারবেন না।

বৈষ্ণব মতে এখানে পুজিত হন মা। ঢাক ঢোলের আতিশয্য নেই। শুধু রয়েছে মনের অনাবিল ভক্তি। মায়ের লীলার কথা বলতে গিয়ে আনন্দে বিহ্বল হয়ে পড়েন সেবক।

কাছেই রয়েছে শুশুনিয়া পাহাড়। ছুটি যদি দু'দিন বাড়িয়ে নিতে পারেন তাহলে মায়ের মন্দিরে পুজো দিয়ে ঘুরে আসতেই পারেন। পুজোর সময় পকেট ফ্রেন্ডলি কোড়ো পাহাড় হতেই পারে আপনার ভ্রমণ ডেস্টিনেশন।

2 years ago