১৩ জুন, ২০২৪

Nadia: আর্থিক অভাব! বাধা অমান্য করে মেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ায় আত্মঘাতী বাবা
CN Webdesk      শেষ আপডেট: 2024-02-12 16:44:53   Share:   

আর্থিক দারিদ্রতার কারণে মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ালেন বাবা। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে দেবে না বলে মেয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্য়াডমিড ও রেজিস্ট্রেশন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন বাবা। বাবার কথা অমান্য় করে অ্যাডমিট ও রেজিস্ট্রেশনের জেরক্স কপি নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গেলে আত্মঘাতী হন বাবা। ঘটনাটি রানাঘাট থানার হবিবপুর গ্রামের।

জানা গিয়েছে, ওই মাধ্য়মিক পরীক্ষার্থীর নাম মনিকা মণ্ডল (১৬)। বাবা রামপ্রসাদ মণ্ডল, পেশায় লরি চালক। হবিবপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মনিকার চিরকাল উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে গিয়ে তার জীবনে নেমে এল অন্ধকার। ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ইচ্ছা ছিল পড়াশোনা করার। কিন্তু পড়াশোনার অদ্য়ম ইচ্ছাটা হেরে গেল আর্থিক দারিদ্রতার কাছে। 

সূত্রের খবর, আর্থিক দারিদ্রতার কারণেই বাবা তার মেয়েকে বাধা দিয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে। বাবার সেই বাধা অমান্য করে সে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। মেয়ের জোরপূর্বক পরীক্ষায় বসাটা মেনে নিতে পারল না তার বাবা। মাধ্যমিকের ইংরাজি পরীক্ষার দিন বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বাবা। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, মনিকার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অভাবে সংসারে দু'মুঠো ভাত জোগানোটাই মুশকিল। সেখানে পড়াশোনার ব্য়াপারটা একেবারে ধরা ছোঁয়ার বাইরে বলতে গেলে। বর্তমানে তাঁদের সম্বল বলতে রয়েছে ছোট্ট একটি বাড়ি। পরিবারে রোজগেরে বলে আর কেউ নেই। মনিকার মা অসুস্থ শরীর নিয়ে কী কাজই করবে, আর কীভাবেই ছোট ছোট সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেবে সেই ভেবেই দুচোখ জলে ভরে যাচ্ছে।

মনিকার মায়েরও ইচ্ছা সন্তানরা শিক্ষার আলোয় শিক্ষিত হোক। কিন্তু এখনও দারিদ্রতার গভীর অন্ধকারে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোটা পরিবার। তাই সন্তানদের লেখাপড়া করার জন্য দুমুঠো অন্নের জন্য সরকারি সহযোগিতার দাবি করছে পরিবার। সরকারি সহযোগিতা পেলেই সন্তানদের শিক্ষিত করতে পারবে, সন্তানদের দু'মুঠো অন্ন জোগাতে পারবে। এখন দেখার সরকারিভাবে প্রশাসন কতটা সহযোগিতা করে।


Follow us on :