ব্রেকিং নিউজ
  পুজোর আগেই ফের দুইবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস     নন্দীগ্রামে একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার লক্ষাধিক টাকা, চাঞ্চল্য     শিলিগুড়ি মহাকুমার ফুলবাড়ী ঘোষপুকুর বাইপাস রাস্তায় টেলার ও ট্রাকের সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩     ক্যানিং-এ বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এক বৃদ্ধের, আটক বাইক চালক  
Battle-of-life-stopped-at-92ex-Olympian-Badru-dies
Badru: থামল জীবন, প্রয়াত প্রাক্তন অলিম্পিয়ান 'বদ্রু ব্যানার্জি '

Post By : সিএন ওয়েবডেস্ক
Posted on :2022-08-20 11:31:58


পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়, চুনি গোস্বামী, সুভাষ ভৌমিক, সুরজিৎ সেনগুপ্তর পর বাংলার ফুটবল হারাল আরও এক কিংবদন্তিকে। প্রয়াত বদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়(Badru Banerjee)। প্রায় এক মাসের লড়াই শেষে থামল জীবন যুদ্ধ। শনিবার এসএসকেএম হাসপাতালেই প্রয়াত হলেন সমর বন্দ্যোপাধ্যায়,যিনি ক্রীড়ামহলে বদ্রু নামেই বেশি পরিচিত । ৯২ বছরের প্রাক্তন অলিম্পিয়ান(olympian) এবং প্রিয় ফুটবলারের(footballer) মৃত্যুতে শোকের ছায়া ময়দান এবং ভারতীয় ফুটবল মহলে(Indian football)।

গত ২৭ জুলাই গুরুতর অসুস্থ হয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্রমশঃ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। অ্যালজাইমারস, উচ্চ রক্তচাপ এবং অ্যাজোটেমিয়া- বিভিন্ন সমস্যা ছিল তাঁর। শনিবার ভোররাতে এসএসকেএম হাসপাতালেই প্রয়াত হলেন সমর বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য,বাড়িতেই তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। পরিবারের যোগাযোগ করে মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে। সবুজ-মেরুনের উদ্যোগে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বদ্রু বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়।

কলকাতা ময়দানের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন তিনি। ১৯৫২-৫৯ সাত বছর মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন বদ্রু। ১৯৫৮ সালে অধিনায়কও ছিলেন। সবুজ মেরুন জার্সিতে ১০টি ট্রফি জিতেছেন। ১৯৫৩ এবং ১৯৫৫ সালে প্রথমবার ডুরান্ড কাপ এবং রোভার্স কাপ জেতে মোহনবাগান। মোহনবাগান দলের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, হংকং এবং সিঙ্গাপুরে বিদেশ সফরেও গিয়েছিলেন বদ্রু ব্যানার্জি। সেই সফরে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ছিলেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে চারটে গোল রয়েছে কিংবদন্তি ফুটবলারের। সবুজ মেরুন জার্সিতে মহমেডানের বিরুদ্ধে করেছেন পাঁচ গোল। ১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিক্সে এই তারকা ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বেই ভারত সেমিফাইনালে উঠেছিল। বাংলা ফুটবলেও তাঁর অবদান কম নয়। প্লেয়ার এবং কোচ হিসেবে সন্তোষ ট্রফি জিতেছেন বাংলার হয়ে। ভারতীয় ফুটবল দলের নির্বাচকও ছিলেন তিনি। মানস ভট্টাচার্য এবং বিদেশ বসুর মতো ফুটবলারদের তিনিই তুলে আনেন। ২০০৯ সালে মোহনবাগান রত্ন পান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর চিকিত্সায় একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠিত হয়। দুজন নিউরোলজিস্টও তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। সিটি স্ক্যানে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণও হয় তাঁর। গত কয়েক দিন ধরেই সঙ্কটজনক অবস্থায় ছিলেন তিনি। ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল তাঁকে।

প্রাক্তন অলিম্পিয়ানের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকবার্তায় তিনি লেখেন, "তারকা ফুটবলার সমর (বদ্রু) ব্যানার্জির প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তিনি ১৯৫৬ সালে মেলবোর্নে সামার অলিম্পিকসে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া মোহনবাগান, বালি প্রতিভা ক্লাব, বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে দলেও খেলেছিলেন। অংশ নিয়েছেন ডুরান্ড কাপ, কলকাতা ফুটবল লিগ, আইএফএ শিল্ড, রোভার্স কাপে। তাঁর  জনপ্রিয়তা ছিল অতুলনীয়।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৬-১৭ সালে তাঁকে 'লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করে।

তাঁর প্রয়াণে ক্রীড়া জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি সমর (বদ্রু) ব্যানার্জির পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের  আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।"

                    






All rights reserved © 2021 Calcutta News   Home | About | Career | Contact Us

এই সংক্রান্ত আরও পড়ুন