কেন্দ্রীয় দলের অভিযোগ কার্যত মেনে নিল রাজ্য, জারি ১১ দফা নির্দেশিকা!

0

রাজ্যের করোনা মোকাবিলায় রাজ্যের অব্যবস্থা নিয়ে শুক্রবারই দুটি চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্রের ইন্টার মিনিস্টেরিয়াল সেন্ট্রাল টিম (আইএমসিটি)। এরপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। করোনা মোকাবিলায় এই রাজ্যে যে পরিকাঠামোয় খামতি আছে সেটা কার্যত মেনে নিল নবান্ন। শুক্রবার রাতেই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও কোভিড হাসপাতালগুলিকে ১১ দফা নির্দেশ পাঠালেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। শুক্রবার বিকেলেই জোড়া পত্রাঘাতের পরই তড়িঘড়ি নবান্নে শুরু হয় তৎপরতা। দ্রুততার সঙ্গেই জরুরী ১১ দফা নির্দেশিকা তৈরি হয়। এবং সেটি রাজ্যের মেডিকেল কলেজ ও কোভিড হাসপাতালের প্রিন্সিপ্যাল ও সুপারদের কাছে পাঠিয়ে দেন মুখ্যসচিব। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী বলা যায়, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের তোলা একগুচ্ছ অভিযোগের বেশ কয়েকটি কার্যত মেনে নিল রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রীয় দল অভিযোগ তুলেছিল, নিউটাউনের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে করোনা সন্দেহভাজন অনেকেরই পরীক্ষা করা হয়নি। এমনকি ৪-৫ দিনেও তাঁদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। এতে অন্যান্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তেই পারে। মুখ্যসচিবের পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার ফল জানাতে হবে। পাশাপাশি, বাঙুর কোভিড হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকছে বলে অভিযোগ জানান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। এই অভিযোগও কার্যত মেনে নিয়েছেন মুখ্যসচিব, নির্দেশিকায় তিনি জানিয়েছেন, কোনও ওয়ার্ডে রোগীর মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গেই দেহ সেখান থেকে সরাতে হবে। উল্লেখ্য, এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের বিদ্যেবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা IMA-র সভাপতি চিকিৎসক শান্তনু সেন। এছাড়াও মুখ্যসচিব ওই নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, কোনও রোগী হাসপাতাল ফেরাতে পারবে না। এছাড়াও রোগীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। হাসপাতালগুলি নিয়মিত স্যানিটাইজ করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি একমাসের ওপর ভয়াবহ আকার নিয়েছে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে রাজ্যে। ফলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, যে পর্যবেক্ষণ রাজ্যের আমলাদের করা উচিত ছিল তা কেন্দ্রের আমলাদের বিশেষ বিমানে দিল্লি থেকে উড়ে এসে করতে হল কেন?

রাজ্যের দেওয়া ১১ দফা নির্দেশিকা…