লড়াই শুরু শনিবার থেকেই

নির্বাচন কমিশনার দিন ধার্য্ করে দেবার সাথে সাথেই ভোট লড়াইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নেমে পড়লো বঙ্গ রাজনৈতিক দলগুলি | এবারে প্রথম ঠিক হবে বিভিন্ন কেন্দ্রের প্রার্থী, তারপরই এলাকা ভিত্তিক প্রচার | এবারে ৮ পর্বের ভোটে লক্ষাধিক বুথ করা হয়েছে এবং বুথকর্মী ঠিক করাটাই প্রধান কাজ | রাজনৈতিক মহলের ঢারণা ১৯৬৭ র মতো কঠিন লড়াই এবারের ভোট যেখানে টুসকি দিয়ে কেউ বলতে পাবেন না কে এগিয়ে কে পিছিয়ে | তিন শক্তির লড়াই হলেও প্রচার মাধ্যমের নজরে কিন্তু তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াই | কিন্তু স্ট্রাটেজি কি হতে পারে?


সর্ব ভারতীয় দল বিজেপি জোর দিচ্ছে প্রচারের উপর | প্রধানমন্ত্রী থেকে দেশের বড় নেতাদের দফায় দফায় নিয়ে আসা হচ্ছে বাংলায় | পাশাপাশি সংঘ পরিবারও কাজ করছে এলাকায় এলাকায় | শেষে থাকে প্রার্থী নির্বাচন | এটি একেবারেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে | সংগঠনশীল দল বিজেপি কাজেই 'অমুকের ঘনিষ্ট' ধরণের কাছের লোককে পাত্তা না দিয়ে তারা জোর দিচ্ছে কাজের লোকের উপর | তৃণমূল ১০ বছর ক্ষমতায় আছে কাজেই এলাকা ভিত্তিক অবস্থানের ধারণা তাদে আছে | এবারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাদের মুখ |


তবে 'দিদি' প্রচার বাদ দিয়ে 'বাংলার মেয়ে'র স্ট্রাটেজি তারা নিচ্ছে | অন্যদিকে বাম ও কংগ্রেস সহ আব্বাসের দলের জোট কাদের ভোট কাটে সেটাও নজরে ত্থাকবে | সিপিএম সূত্রে জানা গেলো এবারে তারা তারুণ্যনের উপর জোর দেবে | বিগত লোকসভায় তাদের ভোট শতাংশ নেমে গিয়েছিলো 7% এ, এবারে কংগ্রেসের সাথে জোট করে এবং তরুণ প্রার্থীর স্ট্রাটেজিকে কাজে লাগিয়ে সেই শতাংশ ২০ % নিয়ে যাবে | কি হবে পরের কথা কিন্তু ভোট শতাংশ এবং ভাগাভাগি এবারের ভোটে আসন বাকি ঠিক করবে | কাজটা সত্যি কঠিন সবারই কাছে ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবারে ১৯৬৭ র মতোই |

লক্ষীর পর মনোজ

লক্ষীরতন শুক্লা মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এখনও তৃণমূলের হাওড়ার বিধায়ক, তবে নেত্রীকে জানিয়েছিলেন যে রাজনীতিতে আর উৎসাহ নেই বরং ক্রিকেট জগতে ফিরে যেতে চান | তৃণমূল দলে উত্তরপূর্ব ভারতের নেতা ছিলেন লক্ষী, আসানসোলের জিতেন্দ্র প্রমুখরা | অন্যতম হিন্দি দেহাতি ভাষী মুখ ছিলেন অর্জুন সিং কিন্তু বর্তমানে দল ছেড়ে তিনি বিজেপির সাংসদ | এই রাজ্যে কয়েক লক্ষ বিহারি ভোট রয়েছে যা ভোট বাক্সে নিতে গেলে দরকার হিন্দি ভাষী নেতা | গুঞ্জনে উঠে এলো প্রাক্তন ভারতীয় তথা বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারির নাম |
সূত্র মারফত জানা গেলো মনোজের তৃণমূলে যোগ দেওয়াটা এখন সময়ের অপেক্ষা | এই বিষয়ে মনোজকে যোগাযোগ করলে তার ফোন বেজে যায় | মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এই বিষয়ে মুখ খুলতে চান নি | জানা যাচ্ছে মনোজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকেই দলে যোগ দেবেন এবং বুধবার সম্ভবত ডানলপের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন | শুক্লার মতো তিনিও হাওড়ার বাসিন্দা |

তারকা ভিড়ে ২১ এর নির্বাচন

এবারের পশ্চিমবঙ্গের ভোট প্রচারে তাবড় তাবড় রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সিনেমা এবং খেলার জগতের মানুষদের দেখা যাবে। তিন পক্ষই কোমর বেঁধে নামছে। খুবই চ্যালেঞ্জের ভোট এবারে, ২০১৬-র নির্বাচনের থেকেও কঠিন লড়াই। ফের ১৮ ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে প্রধানমন্ত্রী দফায় দফায় আসবেন রাজ্যে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রী প্রচারে আসবেন। আসছেন হেমা মালিনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেলেব সাংসদরা। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী প্রচারে রাজ্যে আসছেন শারদ পাওয়ার, তেজস্বী যাদব, শত্রুঘ্ন সিনহা থেকে আজহারউদ্দিন। পিছিয়ে নেই বামেরাও সীতারাম ইয়াচুরি, কানহাইয়া কুমার প্রমুখ। আসবেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও, এবার তিনি একজন ভোট ফ্যাক্টর। মোটের উপর ময়দানে 'খেলা হবে' সমস্ত দলেরই |

রাজ্যে ভোট ৬-৮ দফায়, দিন ঘোষণা ১৫ তারিখের পর

পশ্চিমবঙ্গে ৬ থেকে ৮ পর্বে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। এমনই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রের। জানা গিয়েছে, এমাসের ১৫ তারিখের পর নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে। কেরল, তামিলনাডু, পুদুচেরিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ১৫ ফেব্রুয়ারি দাক্ষিণাত্য সফর শেষ হবে তাদের। তারা ফিরে আসার পরই দিন ঘোষণা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমে ইতিমধ্যেই ফুল বেঞ্চ ঘুরে গিয়েছে। কমিশন এপ্রিলের মধ্যেই ভোট চুকিয়ে দিতে চায়। ৩০ মে রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি শেষ বা মার্চের গোড়ায় এই পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটের দিনপঞ্জি ঘোষণা হবে। তামিলনাডু, কেরল ও পুদুচেরিতে ভোট হবে এক দফায়। এ রাজ্যে তা হবে ৬-৮ দফায়। অসমে ২ বা ৩ পর্ব ভোট হতে পারে। তবে সব জায়গার ভোটই গোনা হবে একদিনেই। নির্বাচন কমিশন চায়, ১ মে-র আগেই ভোটগ্রহণ শেষ করে ফেলতে। তারপর শুরু হয়ে যাবে দশম ও একাদশের সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার নেতৃত্বে দুই কমিশনার সুশীল চন্দ্র ও রাজীব কুমার ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁরা তামিলনাডু, কেরল ও পুদুচেরিতে যাবেন।

বাম কংগ্রেসের ভোটের ইস্যু কর্মহীনতা, অনুন্নয়ন

ভোটের ৫ মাস আগে থেকেই বাংলায় ২০২১ এর নির্বাচনী সভা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি। মূল লড়াই এবার এই দুই দলের মধ্যে। কিন্তু এখনও কোনও দলই অর্থনীতি বা কর্মহীনতা, বেকারত্ব নিয়ে খুব একটা মুখ খুলছেন না। ৫ বছরের মার্কশিটও বিশেষভাবে কেউই তুলে ধরছেন না যদিও এখনও প্রধানমন্ত্রী ময়দানে নামেননি পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁর ১০ বছরের কাজের কথা বলছেন কিন্তু বাকি সবাই ব্যস্ত ব্যক্তিগত আক্রমণে।
কিন্তু বাম-কংগ্রেসের অন্দরমহলের কথায় জানা যাচ্ছে, তারা অর্থনীতি, বেকারত্ব, কর্মহীনতা ইত্যাদি ইস্যুতে বাজার গরম করতে নামছে। তাদের সুবিধা কেন্দ্র কিংবা রাজ্য কোথাও ক্ষমতায় নেই তাদের দল। এর সাথে কৃষি আন্দোলনকে তুলে ধরবে তারা। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কলকাতা ঘুরে গেলেন আবার আসবেন ভোট প্রচারে। আসবেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতারাও। পাশাপাশি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামছেন। রাজ বব্বর  থেকে আজহারউদ্দিনের মতো তারকা নেতারাও।