পুরুলিয়ায় ভোটের আগে গোলমাল থামাতে ৩০টি ‘ফ্লাইং স্কোয়াড টিম’

আগামী ২৭ মার্চ পুরুলিয়ায় প্রথম দফার ভোট। তার আগে জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচনী দফতেরর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। সোমবার জিপিএস-যুক্ত ৩০টি বিশেষ গাড়ি পথে নামালো পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। মূলত ভোট পূর্ববর্তী সমস্যা এবং হিংসা বা গোলমালের অভিযোগ পেলেই যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে সমস্যার নিষ্পত্তি করার জন্যই এই ব্যবস্থা। গাড়িগুলির পোশাকি নাম ‘এফএসটি’ বা ‘ফ্লাইং স্কোয়াড টিম’। এই গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) প্রযুক্তি লাগানো রয়েছে। ফলে জেলার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কক্ষ বা মনিটরিং সেন্টার থেকে গাড়িগুলির গতিবিধি জানা সম্ভব হবে। কোথাও কোনও গোলমাল বা হিংসার খবর পেলেই সেখানে ১০০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে এই ‘ফ্লাইং স্কোয়াড টিম’। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।


রবিবার বিকেলে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এই গাড়িগুলির যাত্রা শুরু করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোটের দিন পর্যন্ত গাড়িগুলি পুরুলিয়া জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রেক আনাচে কানাচে ঘুরবে। একেকটি গাড়িতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে তিনজন আধিকারিক ও পুলিশকর্মী থাকবেন। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোথাও আদর্শ আচরনবিধি লঙ্ঘন হলে সি-ভিজিল (c-VIGIL) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ করা যাবে। এছাড়াও আছে ১৯৫০ টোল ফ্রি নম্বর এবং জেলা নির্বাচনী সেলের আলাদা নম্বর। অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট বিধানসভায় থাকা ফ্লায়িং স্কোয়াড টিমকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার প্রত্যেকটি বিধানসভাতে কমপক্ষে তিনটি করে জিপিএসযুক্ত বিশেষ গাড়ি ঘুরবে।

দিল্লি গেল বিজেপির ১৩০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যেই সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রার্থী তালিকা তৈরি করা নিয়ে চুরান্ত প্রস্তুতি চলছে। রাজ্যের শাসক দল দিন কয়েকের মধ্যেই চুরান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে ১৩০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি ১৬৪ আসনের তালিকা জানানো হবে। আরও জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ১৩০ আসনের জন্য একটি খসরা প্রার্থী তালিকা দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। একেকটি আসনের ক্ষেত্রে এক বা একাধিক নাম রয়েছে ওই তালিকায়। সেখান থেকেই দিল্লির নেতৃত্ব চুরান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।


বিজেপি সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট হচ্ছে, তাই ভোটের দফার সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। বিগত লোকসভা নির্বাচনেও এভাবে দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। এবারও সম্ভবত তাই হতে চলেছে। আগেই বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বিজেপির বিভিন্ন সাংগঠনিক জোনের নেতৃত্বের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম চাওয়া হয়েছিল। স্থানীয় স্তর থেকে আসা নামগুলি থেকে একটা খসরা তালিকা তৈরি করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। সেটাই দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে একেকটি আসনে দুই বা তার বেশি নাম রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। বিজেপি সূত্রে খবর, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই তালিকা যাচাই করতে প্রয়োজনে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন। এরপরই দেওয়া হবে চুরান্ত ছাড়পত্র। 

কয়লা পাচারকাণ্ডে শুক্রবার রাজ্যজুড়ে সর্ববৃহৎ তল্লাশি অভিযানে সিবিআই-ইডি

আজই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ করতে পারে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর প্রাক্কালে শুক্রবারই রাজ্যজুড়ে বড়সড় অভিযানে নামলো দুটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। যৌথভাবেই সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি) রাজ্যে এখনও পর্যন্ত সর্ববৃহৎ অভিযান শুরু করেছে। মোট ১৬টি দলে ভাগ হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সিবিআই এবং ইডির আধিকারিকরা। তাঁদের নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে ৮০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। একযোগেই অভিযান চলছে কলকাতা, আসানসোল, বর্ধমান, দুর্গাপুরের কয়েকটি এলাকায়। 

জানা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে দুর্গাপুরের একাধিক শপিং মল রয়েছে। মূলত কয়লা পাচারে মূল অভিযুক্ত অনুপ মাঝি ওরফে লালার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তালিকায়। তেমনই ওই সমস্ত এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীদের বাড়িতেও চলছে তল্লাশি অভিযান। সূত্রের খবর, তাৎপর্যপূর্ণভাবে গোটা অভিযানের নেতৃত্বে রয়েছেন দিল্লি থেকে আসা আধিকারিকরা। কলকাতার বড়বাজার, ধর্মতলা, চাঁদনি চক, এবং ফুলবাগানে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে সিবিআই ও ইডি-র তদন্তকারীরা।