বিরোধী দলনেতা বাছতে দুই পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল বিজেপি

রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে না পারলেও বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে বিজেপি। কিন্তু কে হবেন বিরোধী দলনেতা? এই নিয়ে জল্পনা চলছে কয়েকদিন ধরেই। এবার কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গ বিধানভায় দলের নেতা বাছতে দু’জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল। শনিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন একথা। তিনি জানিয়েছেন, অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ভূপেন্দ্র যাদব এবং কেন্দ্রীয়মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বিজেপির মাত্র তিনজন বিধায়ক ছিল পশ্চিমবঙ্গে। একুশের নির্বাচনে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। ফলে গুরুত্ব বেড়েছে দলের। তাই বিরোধী দলনেতা বাছাই করতে সাবধানী বিজেপি। প্রবল প্রতিপক্ষ তৃণমূলের সঙ্গে পাল্লা দিতে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে কোনও ওজনদার বিধায়কই বিরোধী দলনেতার দৌঁড়ে থাকবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। গতবার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা ছিলেন মনোজ টিগ্গা। কিন্তু এবার মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিধায়ক হয়েছেন। ফলে এই দু’জন বিরোধী দলনেতার দৌঁড়ে এগিয়ে। পাশাপাশি সংঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ কোনও নেতাকেও এই দায়িত্ব দিতে পারে বিজেপি। সবটাই ঠিক হবে রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং ভূপেন্দ্র যাদবের রিপোর্টের ভিত্তিতে।

‘জল্পনা’ থামিয়ে মুকুল রায় জানিয়ে দিলেন তাঁর আগামী লক্ষ্য

২০ বছর পর তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন বিধানসভা নির্বাচনে। এবার অবশ্য বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রার্থীকে হেলায় হারালেন কোনও দিন ভোটে না জেতা মুকুল রায়। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হয়েও তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থী করে বিজেপি। জানা যায় এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পারলেও দলের সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়ে ভোটে লড়েন তিনি। কিন্তু জেতার পরও বিধানসভায় দলীয় বৈঠকে না থাকা এবং তৃণমূল পরিষদীয় কক্ষে আড্ডা মারার মতো ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় মুকুল রায়কে নিয়ে। রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয় মুকুল রায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। জল্পনা আরও উস্কে দিয়ে মুকুল রায় বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে মুকুল রায় বলেছিলেন, ‘আমি আজ কিছু বলব না। যখন বলার হবে তখন তোমাদের ডেকে নেব। মানুষের জীবনে এমন দু'একটা দিন আসে যখন মানুষকে চুপ থাকতে হয়’। তবে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অবশ্য নিরাবতা ভাঙলেন বিজেপি নেতা। অবশ্য সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি জানিয়ে দিলেন তাঁর আগামী দিনের লক্ষ্য। শনিবার টুইট করে মুকুল রায় জানালেন, ‘বিজেপির সৈনিক হিসেবেই এই রাজ্যে গণতন্ত্রকে পুনর্বহাল করার লড়াই জারি রাখব আমি। আমি সবাইকে অনুগ্রহ করব যাতে তারা সব সাজানো গল্প এবং জল্পনা দূরে সরিয়ে রাখে। আমা আমার রাজনৈতিক পথে দৃঢ়’।


অপরদিকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন সেটা নিয়ে জল্পনা থামার লক্ষণ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে অভিজ্ঞতার নিরিখে মুকুল রায়ই ওই পদে যোগ্য। তবে তাঁর সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছেন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো শুভেন্দু অধিকারীও। এই পরিস্থিতিতে মুকুল রায় মৌন থাকায় বিভিন্ন জল্পনা বাংলার রাজনৈতিক মহলে ভেসে বেড়াতে শুরু করে। শোনা যায়, বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন মুকুল রায়। আর সেই জল্পনা উস্কে শুক্রবার শপথ নেওয়ার আগে বিধানসভায় পরিষদীয় দলের কক্ষে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক। এরপর শপথ নেওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময় হয় তাঁর। দুজনকে একান্তে কথা বলতেও দেখা যায় সেদিন। এরপরই তিনি বিধানসভা ছাড়েন। যোগ দেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ডাকা বৈঠকে। ফলে জল্পনা আরও বাড়ে। এরপরই সব জল্পনার অবসান ঘটালেন সয়ং মুকুল রায়। টুইট করে জানালেন বিজেপির সৈনিক হিসেবেই তিনি রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াই জারি রাখবেন।

ভোট পরবর্তী হিংসাঃ মুখ্যসচিবকে তলব করলেন রাজ্যপাল

রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত অব্যহত। এবার রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগীতার অভিযোগ তুলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ডেকে পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শনিবার সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে তাঁকে রাজভবনে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। শনিবার টুইট করে নিজেই রাজ্যপাল জানান, ‘রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা ও বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিতে ব্যর্থ অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এইচ এস দ্বিবেদী। তাই মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে’। তিনি টুইটে আরও লেখেন, ‘আমার নির্দেশের পরেও রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট না দেওয়াকে কোনও মতেই সমর্থন করা যায় না। এমনকি রাজ্যের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন সেই রিপোর্টও আমাকে পাঠাননি তিনি। এই ঘটনা থেকে প্রমাণিত, তিনি নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। ভোট পরবর্তী হিংসার ফলে রাজ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে। রাজ্যের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার যে রিপোর্ট দিয়েছেন সেই রিপোর্ট সম্পর্কে রাজ্যপালকে জানানোর জন্যই তলব করা হয়েছে তাঁকে’।


উল্লেখ্য, এর আগেও বহুবার রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন রাজ্যপাল। দিন দুই আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও মন্ত্রীসভা গঠন করে উঠতে পারেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে। বিজেপি বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচনের অধিবেশন বয়কট করেছে শনিবার। এরমধ্যেই রাজ্যপাল রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করার ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।