এবারে ত্রিপুরায় চন্দ্রিমা

একদিকে দুর্গাপূজার ঢাকে যখন কাঠি পড়ছে তখন উপনির্বাচনে প্রচারে নেমে পড়েছে তৃণমূল কারণ ভবানীপুরে প্রার্থী তাঁদের 'দিদি' । একই সাথে ত্রিপুরা দখলেও বারবার আগরতলার পথে যাচ্ছে কোনও না কোনও নেতামন্ত্রী । মঙ্গলবার সকালে আগরতলা গিরে পৌঁছালেন রাজ্যের পৌরমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য । তাঁর সাথে গেলেন ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । ঋতব্রতকে অবশ্য দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে ত্রিপুরা আন্দোলনের জন্য । কিন্তু এবারে দলের হয়ে দায়িত্ব পেলেন চন্দ্রিমা । তিনি ১০ সেপ্টেম্বর অবধি থাকবেন আগরতলায় ।

বিমানবন্দরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, যে ভাবে রাজ্য চলেছে তা এক কথাতে অনৈতিক । বিজেপি গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল সিপিএমের হাত শক্ত করতেই নাকি তৃণমূল এই আন্দোলন করছে । এর উত্তরে চন্দ্রিমা বললেন, রাজ্যে লণ্ডভণ্ড চলেছে । বিপ্লব দেব কি নিজেকে দেবতা মনে করছেন প্রশ্ন চন্দ্রিমার ।

Tripura Speaker: ত্রিপুরার স্পিকার রেবতীমোহন দাসের ইস্তফা, বাড়ছে গুঞ্জন

ত্রিপুরায় শক্তি বাড়ছে তৃণমূলের। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া অসমের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব গত দু’দিন ধরে ত্রিপুরাতেই আছেন। তাঁর নেতৃত্বে রোজই কোনও না কোনও দল থেকে নেতাকর্মীরা যোগদান করছেন এরাজ্যের শাসক দলে। সেই সঙ্গে সুস্মিতার বিভিন্ন কার্যকলাপে তৃণমূলে বড়সড় যোগদানের সম্ভাবনাও বাড়ছে। ত্রিপুরায় দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির ভার সুস্মিতা দেবের উপরই দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । অভিষেকের নির্দেশেই সেরাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে যাওয়ার কথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের মেয়ে সুস্মিতার।

তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেকের নির্দেশে ত্রিপুরার আটটি জেলাতেই পদযাত্রা করবেন সুস্মিতা। ত্রিপুরায় যখন তৃণমূল ঝড়ের গতিতে বাড়ছে, তখনই ইস্তফা দিলেন বিধানসভার স্পিকার রেবতী মোহন দাস । তাঁর ইস্তফা ঘিরে একটা সময় জল্পনা তৈরি হলেও পরে দলের তরফে জানানো হয়, রেবতীবাবুকে সংগঠনের কাছে লাগাবে দল।ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির  সহ-সভাপতির পদে বসানো হয়েছে তাঁকে।

সদ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া প্রতিমা ভৌমিক আগে ওই পদে ছিলেন। তবে প্রশ্ন উঠছে  স্পিকারের মতো সাংগঠনিক পদ থেকে রেবতীবাবুকে সংগঠনে কেন আনা হল? এদিকে  আগরতলার রাজনৈতিক মহলের  একাংশের দাবি, ত্রিপুরায় তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখছে গেরুয়া শিবিরকে। তাই আগেভাগে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সম্ভবত সেকারণেই রেবতীবাবুর মতো পোড়খাওয়া নেতাকে স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে দলের সংগঠনে আনা হল ।

Bjp: ভাঙ্গনের পথে ত্রিপুরা বিজেপি ?

সূত্র মারফত জানা গিয়েছিলো বিজেপির বিধায়ক ও প্রাক্তন কংগ্রেসি সুদীপ রায়বর্মণ কলকাতায় এসে ত্রিমূলের সাথে বৈঠক করেছেন । তাঁর নাকি কথা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে । এরপরই চিত্র বদলাতে শুরু হয় । সুদীপ আগরতলায় ফিরে দলের অন্য বিধায়কদের সাথে কথা বলেন এবং কথা বলেন দলত্যাগ করে যারা বিজেপিতে গিয়েছিলেন ।

তাদের অনেকেরই সুর পাল্টেছে । রবিবার প্রথম সারির নেতা এবং সমর্থকদের নিয়ে সভা করলেন সুদীপ । পরে প্রচার মাধ্যমকে জানান, সরকার তাঁদের কোনও কথাই শুনছে না । নিজেদের মতো রাজ্য চালাচ্ছে এর প্রতিবাদ স্বরূপ তিনি জানান আমরা প্রতিবাদ করছি, বিরোধিতা করছি 'অন রেকর্ড' । অর্থাৎ সরকারের সমালোচনা করছেন সরকারি ভাবে ।

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিষেক সহ তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা নিয়মিত ভাবে ত্রিপুরা যাচ্ছেন । তাঁদের উপর হামলা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের । ইতিমধ্যে কংগ্রেস থেকে কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন । তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানিয়েছিলেন যে, বিজেপি না ভাঙলে রাজ্য দখল করা সময়ে সাপেক্ষ বিষয় । কিন্তু যে দ্রুত গতিতে তারা এগোচ্ছে এবং সুদীপের মতো বড় নেতা বেসুরো হচ্ছেন তাতে বিজেপি ভাঙ্গনের বিষয়টি কিন্তু প্রশ্নের মুখে । 


Mamata Banerjee: ত্রিপুরার নন্দীগ্রামে পা রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে তৃণমূল ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় পা রেখেছেন। যদিও সেখানে তৃণমূল নেতারা চাইছেন, দলের শীর্ষ নেতারা প্রচার শুরু করুক নন্দীগ্রাম থেকেই। ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলবোনা গো নন্দীগ্রাম।---সদ্য সমাপ্ত বাংলার ভোটে এই স্লোগান বারবার তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার নন্দীগ্রাম আসন থেকেই মোদী-শাহ বধের ডাক দিয়েছিলেন মমতা। যদিও নন্দীগ্রাম নিরাশ করেছে তৃণমূলকে। বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অল্প ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার পাশাপাশি, ত্রিপুরার নন্দীগ্রামে এবার নজর তৃণমূল কংগ্রেসের। তবে এসবের বাইরে বাংলার সঙ্গে এমন একটা জায়গার মিল রয়েছে,যা অনেকের অজানা। সেটা হলো “নন্দীগ্রাম।” বাংলার নন্দীগ্রামের মত ত্রিপুরাতেও আছে “নন্দীগ্রাম।”

ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার সাব্রুমে রয়েছে নন্দীগ্রাম। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হাত ধরেই এখন ত্রিপুরার অখ্যাত নন্দীগ্রামকেই রাজনীতির লাইম লাইটে নিয়ে আসতে চলেছে বাংলার শাসক দল। সাব্রুমের নন্দীগ্রামকে ভিত্তি করেই ত্রিপুরাতে বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই ফের ত্রিপুরা রাজ্যে যাবেন একাধিক শীর্ষ স্তরের নেতা।

সূত্রের খবর সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে শীর্ষ নেতারা আসবে। এই শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ত্রিপুরা রাজ্যে আসলে তাদের নিয়ে যেতে চায় তৃণমূল নেতৃত্ব সাব্রুমের নন্দীগ্রামে। এ কারণেই বাংলা থেকে আসা তৃণমূল নেতাদের বারবার নিয়ে যেতে চাওয়া হচ্ছে সাব্রুমের নন্দীগ্রামে।তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় আসলে সাব্রুমের নন্দীগ্রামে তাঁকে যাওয়ার অনুরোধ জানবেন রাজ্যের নেতারা।

তাঁরা চাইছেন সেখানে গিয়ে বাংলার নন্দীগ্রামের আওয়াজ তুলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  আমার নাম, তোমার নাম,সিঙ্গুর, ভাঙড়, নন্দীগ্রাম।”–এই স্লোগান দিয়েই লড়াইয়ের ডাক দিতে চায় ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার নন্দীগ্রাম একটি বিধানসভা কেন্দ্র।আর ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার অজ গ্রাম “নন্দীগ্রাম” একটি পঞ্চায়েত। তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন,” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরাতে অবশ্যই আসবেন৷ আগেও এসেছেন তিনি। এই রাজ্যের মানুষের সাথে তার অনেক দিনের সম্পর্ক আছে। দলের শীর্ষ নেতারাও পরিদর্শন করবেন রাজ্যের প্রতিটি জেলা ও মহকুমা। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে ত্রিপুরার জন্যে রাজনৈতিক ভাবেও অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপি অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাদের এক নেতা জানিয়েছেন ,”এক রাজ্যের মন্ত্রীরা কিভাবে টানা দিনের পর দিন ত্রিপুরায় বসে থাকবেন? তাহলে কিভাবে চলবে তাদের রাজ্য?" অবশ্য নিন্দুকদের এই সমস্ত কথা-বার্তা নিয়ে ভাবতে রাজি নয় তৃণমূল।

তাদের বক্তব্য,”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেন ভেবে চিন্তেই করেন।এই মুহূর্তে মমতা বন্দোপাধ্যায় এলে ত্রিপুরায় তাদের দলের সংগঠন দ্রুত মজবুত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতাদের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়েই মূলত তৃণমূলকে শক্তিশালী করে তুলতে ঘাস ফুল শিবিরের এই রণকৌশল।তৃণমূল নেতা আশিষলাল সিংহ  জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত ১৪ সালে তৃণমূলের তিনজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। এদিকে আজ ছাত্র দিবস ত্রিপুরাতে পালন করা হবে.তৃণমূলের তরফে মিছিল বের করা হবে.  তবে কি এই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পা রাখতে চলেছেন প্রশ্ন একটাই। 

মিশন ত্রিপুরায় এবার দেব

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মিশন ত্রিপুরার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নিয়েছেন । তাঁর নির্দেশে নিয়মিত ভাবে ত্রিপুরায় হাজির হচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা । শোনা গেলো ৫ জন নেতাকে নেতা মন্ত্রীর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতি মাসে তিনবার করে আগরতলায় উপস্থিত থাকার জন্য । কুনাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক প্রমুখদের হাজির থাকতে হবে ।

সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষৎকারে কুনাল জানিয়েছেন, মিশন ত্রিপুরা ২০২৩ এ তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনবে । তিনি নিয়মিত গিয়ে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন । ত্রিপুরার বিভিন্ন নেতা স্থানীয় সমস্যা ইতিমধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন । একটি নতুন অঞ্চলে সংগঠন তৈরী করা বেশ কঠিন বলেই অভিষেক জোর দিয়েছেন ২ বছর আগে থেকেই । ইতিমধ্যে অনেক অন্য দলের নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছে কিন্তু কুনালদের টার্গেট বিজেপিকে ভাঙা ।

ইতিমধ্যে ঠিক হয়েছে তৃণমূলের ঘাটালের সংসদ দেবকে ত্রিপুরায় পাঠানো হবে । দেব জনপ্রিয় অভিনেতা, তাঁর উপস্থিতি যে লোকবল বাড়াবে নাকি ভিড় বাড়াবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে । ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানালেন যে, এবারে বিজেপির জমি নরম হচ্ছে এবং তাদের সন্ত্রাস বাড়ছে । ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি আশিসলাল সিংহ জানালেন, এখন ঐক্য দরকার কারণ ত্রিপুরা এখন মমতাময় । 


ত্রিপুরায় কি প্রকাশ্য বিদ্রোহে সুদীপ?

সুদীপ রায় বর্মন, ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলের এক জনপ্রিয় নাম । তাঁর বাবা সমীর রয়বর্মন একসময় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন । কংগ্রেস পরিবার । এ রাজ্যে কংগ্রেস বামেদের সঙ্গে জোট বাঁধায় সদলবলে কংগ্রেস ছাড়েন সুদীপ । এরপরে তৃণমূলের সঙ্গে কাজ শুরু করলেও সংগঠনের অভাবে বাধ্য হয়েই বিজেপিতে যোগ দেন । বিজেপি সুদীপকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসে ত্রিপুরায় । মানুষের ধারণা ছিল, সুদীপকেই হয়তো মুখ্যমন্ত্রী করা হবে কিন্তু পালাবদলে বিজেপি তার নিজের স্ট্রাটেজি বজায় রেখে স্থান দেয় প্রাক্তন সঙ্ঘ পরিবারের মানুষকেই । কিছুদিনের মধ্যে মূলত কংগ্রেস সংস্কৃতিতে অভ্যস্থ সুদীপ দলের মধ্যে কোনঠাসা হয়ে যান । অবশ্য তাঁর সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুসম্পর্ক ছিলই বলে জানা যায় । এবারে তৃণমূল ত্রিপুরায় ঝাঁপিয়ে পড়লে প্রশ্ন ওঠে সুদীপ এখন কোথায় যিনি কিনা ত্রিপুরা রাজনীতির তুরুপের তাস ।
আজ অনেকটা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন সুদীপ । ফেসবুকে সরাসরি সমালোচনা করেন বর্তমান সরকারকে । এই নিয়ে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা । সিএন পোর্টালকে সুদীপ জানালেন, এখনই বিশদ কিছু বলছি না তবে সময় কথা বলবে ।

সিপিএমকে সাথে চাইছে তৃণমূল

ত্রিপুরার বাকবিতন্ডা এবং এ রাজ্যের নেতা মন্ত্রীদের আগতলায় আসা অব্যহত রয়েছে । আজ তৃণমূলের মুখপাত্র তথা শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জানালেন, তাঁরা বর্তমান রাজ্য সরকারের কাজের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন এবং আন্দোলন চলবে । তিনি বলেন দলের যুব নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে । ব্রাত্য বলেন, সিপিএম এই করছে? তাদের ভাবনাটা কি ? তারা কি পথে নেমে আন্দোলন করবে না । যদি না করেন তবে তারা তৃণমূলের পতাকার তলায় চলে আসুক । 

ব্রাত্য অবশ্য বলেন যে ত্রিপুরার সিপিএমের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা আছে । কিন্তু তিনি বলেন, যে ভাবে এতদিনের সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তিনবারের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, কেশপুর ইত্যাদি জায়গায় আন্দোলন করেছেন, যে ভাবে তিনি ২১ জুলাই মার্ খেয়েও লড়াই করেছেন তাতে ত্রিপুরার আন্দোলনে যে জিতবেনই তা বলাই বাহুল্য । কাজেই সিপি এম যেন বাংলার মতো ভুল না করে । 


ত্রিপুরায় তৃণমূলের ৯ সাংসদ,পাল্টা মিছিল বিজেপির

ত্রিপুরাঃ দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত-সহ তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের গ্রেফতারি ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছিল ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ছুটে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

আজ ত্রিপুরায় ফের পা রাখলেন তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদ। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিপুরায় দলের সংগঠন বাড়াতে এবং জনসংযোগ তৈরিতে বার বার ত্রিপুরায় ছুটে যাচ্ছেন দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। 

এদিন যাদের ত্রিপুরায় পৌঁছানোর কথা,তাদের মধ্যে রয়েছেন দোলা সেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, অর্পিতা ঘোষ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, অপরূপা পোদ্দার, আবীররঞ্জন বিশ্বাস, আবু তাহের খান ও বসুন্ধরা গোস্বামী। 

এছাড়া ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আগে থেকেই আগরতলায় রয়েছেন সাংসদ শান্তনু সেন ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। 

অন্যদিকে তৃণমূলের বিরোধীতা করে আজই ত্রিপুরা জুড়ে মিছিল করবে বিজেপি। শান্ত ত্রিপুরাকে আশান্ত করছে তৃণমূল। এমনটাই অভিযোগ ত্রিপুরা বিজেপির।  

breaking news ঃ দেবাংশু,জয়া, সুদীপ-সহ ১৪ যুবনেতাকেই জামিন দিল ত্রিপুরা খোয়াই আদালত

ত্রিপুরাঃ খোয়াই আদালতে জামিন পেলেন দেবাংশু, জয়া, সুদীপ-সহ ধৃত ১৪ তৃণমূল নেতা। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেলেন তাঁরা। 


বিস্তারিত আসছে 


ত্রিপুরায় পৌঁছে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল অভিষেক

মহামারী আইনে ত্রিপুরায় গ্রেফতার ১১ তৃণমূল নেতা। তাদের পাশে দাঁড়াতে ত্রিপুরায় পৌঁছলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন। 

ত্রিপুয়ার পৌঁছে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "যত ক্ষমতা রয়েছে প্রয়োগ করুক। ত্রিপুরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। এখানে আইনের শাসন নয়, শাসনের আইন চলছে ত্রিপুরায়। আমরা শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ব। তৃণমূল বিজেপিকে এক ছটাক জমি ছাড়বে না।"  

তৃণমূল নেতাদের উপর হামলার অভিযোগে শনিবার রাত থেকেই ত্রিপুরার খোয়াই থানায় অবস্থান বিক্ষোভ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতারা। মহামারী আইনে রবিবার ভোরে ১১ তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিস।

যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে,তারা হলেন সুদীপ রাহা, দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তানিয়া পোদ্দার, মনোরঞ্জন দেবনাথ, শিবতনু সাহা, আশিসলাল সিং, রণবীর ভৌমিক, মেহেদি হাসান, স্বপন মিঁয়া, অমল ভৌমিক, সুমন মিঁয়া, সুরজিৎ সূত্রধর এবং দেব সরকারকে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির আন্ডার সেকশন ১৮৮ এবং ১৮৯৭-এর মহামারি আইনের তিনটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

তৃণমূলের পঞ্চরত্নর উপর দায়িত্ব ত্রিপুরার

ত্রিপুরাকে এবার পাখির চোখ করে এগোতে চাইছে মমতা, অভিষেক । প্রথমবার ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছিল । তারপর এদের উপস্থিতিতে আগরতলা গিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । কারুরই উপস্থিতি প্রাথমিক ভাবে স্বাস্থ্যকর হয় নি কিন্তু ফের এদেরকেই দায়িত্ব দিতে চাইছে অভিষেক । তিনি যদিও জানিয়েছেন যে প্রতি মাসে তিনি দু থেকে তিনবার ত্রিপুরা যাবেন ।

আপাতত ৫ তৃণমূল নেতাকে ত্রিপুরায় প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । তাঁদের মধ্যে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, মলয় ঘটক থাকছেন । এছাড়া থাকছেন দায়িত্বে তিন নেতা । দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, আইএনটিটিইউসি রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন বিধায়ক সমীর চক্রবর্তী (বুয়া) । এই সপ্তাহের পরই ঝাঁপিয়ে পড়বেন তাঁরা বলে সংবাদ । 


কুণালের উপর নজরদারির অভিযোগ

চলতি সপ্তাহের গোড়ায় আগরতলায় গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ । তিনি বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন এবং যোগাযোগ রেখেছিলেন ত্রিপুরা তৃণমূলের সঙ্গে । তিনি জানান যে, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির উপর হামলার পর সমস্ত বিষয়গুলি দেখার জন্যই তাঁর ত্রিপুরায় আগমন ছিল । কুণাল সেখানে বামপন্থী নেতার সঙ্গেও যোগাযোগ করেন, বামপন্থীদের বর্তমান অবস্থান বুঝতে । তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন যেখানে তিনি গিয়েছেন যেখানেই তাঁর গাড়ির উপর  নজরদারি করা হয়েছে । তাঁর কোথাও যাওয়ার পথে সর্বদা বাইক বাহিনী তাঁর গাড়ির পিছু নিয়েছিল । তিনি জানান, কোনও ভাবেই তাঁদের ওই ভাবে আটকানো যাবে না । তিনি ফের আগরতলা যাবেন বলে জানান । সেই সঙ্গে একটি ট্যুইট করে তাঁর যাত্রাপথের ভিডিও পোস্ট করেন ।

দেড়বছরে ত্রিপুরার উন্নয়ন গর্বে তৃণমূল, বার্তা অভিষেকের

সোমবার ত্রিপুরা সফরে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ত্রিপুরায়  পৌঁছতে তাকে নানাভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। রীতিমত কনভয় আটকে বিক্ষোভ চলে. এদিকে তাঁর গাড়ির ওপর হামলা করা হয়. এই নিয়ে সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করলেন তিনি।

 এদিন সাফ জানালেন,'আগামী দেড় বছরের মধ্যে ত্রিপুরায় উন্নয়নের সরকার গর্বে এই তৃণমূল'. এই কথার মধ্যেই তিনি কিন্তু একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মারলেন। ২০২৩ এর মিশন ত্রিপুরা। সেখাকার পরিস্থিতি দেখতেই হাজির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে একুশের ভোট জয় হয়েছে তৃণমূলের। সেইদিক থেকে দায়িত্বপালন করতেই আজ এত এই সফর.কিন্তু ত্রিপুরাতে পৌঁছতেই তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে। এদিন তিনি ও বলেন,' ধমকে চমকে কিছু হবেনা। এসব তৃণমূলকে আরও বেশি করে তাতাবে'. এছাড়া দুয়ারে দুয়ারে গুঁড়া নয়,পৌঁছবে সরকার।  ত্রিপুরায় এখন থেকেই খেলা শুরু এমনই বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।

অভিষেক আসতেই বিক্ষোভ সরকারি দলের

জানাই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাদরে অভ্যর্থনা জানানো হবে না এবং তাই হলো । ত্রিপুরা সফর নিয়ে বিজেপি দলের টেনশন ছিলই এবং সেই মতোই তারা বারেবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়কে আটকাবার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে । পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে পর্যদুস্তু করেছিল বিধানসভার ভোটে তারপরই তৃণমূলের টার্গেট ছিল ত্রিপুরা । যদিও সেখানে ভোটের এখনো বিস্তর দেরি তবুও ত্রিপুরা বিজেপি কর্মযজ্ঞতে খুশি নয় রাজ্যের মানুষ বলে ধারণা তৃণমূলের ।
অভিষেক বিশেষ বিমানে নেমে তৃণমূল প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে যান । এখানে অবশ্য তৃণমূলের সামর্থক ছিল, তারাই অভিষেক জিন্দাবাদ বা খেলা হবে স্লোগান দিতে থাকে । এখানে অবশ্য ত্রিপুরার সরকার বিরোধী একটি দল কাজের দাবিতে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে । অভিষেক তাদের সাথে কথাও বলেন । অন্যদিকে প্রচুর পুলিশ নামানো হয়েছে । মন্দির দর্শনের পর অভিষেক স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের সাথে কথা বলবেন কিন্তু সেখানেও যে বাধা দেওয়া হবে তা বলাই বাহুল্য । বিকেল ৪ টা তে সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার কথা যদিও কোনও হোটেল তাঁদের জায়গা দেবে বলে সন্দেহ । সেক্ষেত্রে প্রেসক্লাবে বৈঠক হতে পারে

সরগরম ত্রিপুরার রাজনীতি

বৃহস্পতিবার সকালে আগরতলা পৌঁছলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা পৌঁছনোর কথা থাকলেও, এছাড়া কর্মসূচিতে বেশ কিছু রদবদল হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই  আগামী শুক্রবার দুপুরের বিমানে দিল্লি থেকে ত্রিপুরা রওনা হতে পারেন তিনি।

গত কয়েক দিন ধরে আগরতলার একটি হোটেলে বন্দি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। এদিকে সমীক্ষার কাজে গিয়ে ত্রিপুরায় আটকে পড়েছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকারের এমন কাজের বিরুদ্ধে সরব হতে বুধবার ত্রিপুরায় গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক, ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রাজনীতির যাত্রাপথ সুগম করতে শুক্রবার পা রাখতে চলেছেন আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।