ভবানীপুর থেকে পদত্যাগ শোভনদেবের, তবে কী এখানে মমতা?

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক পদে পদত্যাগ করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রে একুশের বিধানসভায় বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে ৫০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। তাঁকে মন্ত্রীও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষি মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শোভনদেববাবুকে। এবার তিনি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করায় মনে করা হচ্ছে এই কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে ভোটে দাঁড়াতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সয়ং। উল্লেখ্য, ২০১৬ বিধানসভায় এই ভবানীপুর থেকেই জিতেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু একুশের ভোটে তিনি নন্দীগ্রামে দাঁড়ান। কিন্তু বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অল্প ভোটে হারেন। ফলে তাঁকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কোনও একটি আসন থেকে জিতে বিধানসভায় আসতেই হতো। ফলে তিনি হয়তো পুরোনো আসনেই উপনির্বচনে লড়তে চাইছেন। সেই কারণেই পদত্যাগ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর বক্তব্য, আপাতত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই আছেন উনি। আমার ইচ্ছা এখান থেকেই লড়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী হোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আর এরপর দল আমার জন্য যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বিশ্বস্ত সৈনিকের মতো মাথা পেতে নেব।

সোমবার মন্ত্রীসভা গঠন করবেন মুখ্যমন্ত্রী, আসতে পারে নতুন একঝাঁক মুখ

আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রীসভার সদস্যরা। কিন্তু কারা কারা মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন? পুরোনোদের দফতর বদল হচ্ছে কিনা আবার তারকাদের মধ্যে কে কে স্থান পাচ্ছেন নতুন মন্ত্রীসভায়? তৃণমূলের অন্দরে এই প্রশ্নগুলিই ঘুরপাক খাচ্ছে। এবার ভোটে লড়েননি বিদায়ী অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতেই রাখতে পারেন অর্থমন্ত্রক। তবে এই দফতরে কোনও একজনকে প্রতিমন্ত্রী করতে পারেন। সেক্ষত্রে স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রী হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। অপরদিকে অমিত মিত্রকে অর্থ দফতরের উপদেষ্টা মণ্ডলীর মাথায় বসানো হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রক থাকবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতেই। তবে ব্রাত্য বসুর নামও উঠে আসছে তৃণমূলের অন্দরে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দফতরও বদল হবে না হয়তো।

সেচমন্ত্রকের দায়িত্বে আসতে পারেন মানস ভূঁইয়া। তবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দফতর বদল হতে পারে। পরিবহণ মন্ত্রকের দায়িত্ব ফের ফিরে পেতে পারেন মদন মিত্র। চন্দ্রিমাকেও বড় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে মন্ত্রীত্ব পেতে পারেন যথাক্রমে সাবিত্রি মিত্র ও সাবিনা ইয়াসমিন এবং সুব্রত সাহা ও অপূর্ব সরকার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অখিল গিরি মন্ত্রীসভায় আসার সম্ভবনা উজ্জ্বল। তারকা বিধায়কদের মধ্যে মনোজ তেওয়ারি, রাজ চক্রবর্তী এবং জুন মালিয়ার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। অপরদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় দারুণ ফল করেছে তৃণমূল। এই জেলার সওকত মোল্লা, দিলীপ মণ্ডলের মন্ত্রীত্ব পাওয়ার সম্ভবনা উজ্জ্বল। বিদায়ী পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব হেরে গিয়েছেন, তাঁর জায়গায় এবার দায়িত্ব পেতে পারেন ইন্দ্রনীল সেন। অপরদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন মেখলিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত পরেশচন্দ্র অধিকারী।