অভিষেক, শুভেন্দুর চাপান উতোর

আজ ঘাটালের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তাঁর বক্তব্যে জানালেন যে মেদিনীপুরে সমস্ত বিজেপি প্রার্থীর পরাজয় হবে | জামানত জব্দও হবে ঘটালে বলে দাবি তাঁর | তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন যে মেদিনীপুর কারুর পৈতৃক সম্পত্তি নয় | ইঙ্গিতটি যে অধিকারীতে আটকে তা বলাই বাহুল্য | পাশাপাশি আজ হুগলির ডানকুনির জনসভাতে গর্জে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী | তিনি বলেন, তৃণমূল করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর | তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন নবান্নর সিএমও অফিসকে | তাঁদের ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন |
শুরু হয়ে গেল লড়াই | একসময় একসাথে থাকা দুই যুব নেতা আজ পরস্পর বিরোধী | এক সময়ে প্রফুল্ল সেন ও অজয় মুখোপাধ্যায় পরম ঘনিষ্ঠ ছিলেন পরে ১৯৬৭ তে তাঁরা আলাদা হয়ে যান | ৬৭ তে অজয়বাবু হারান প্রফুল্ল সেনকে আবার ১৯৬৯ এ প্রফুল্ল সেন হারান অজয়বাবুকে কিন্তু দুই গান্ধিবাদী নেতার সম্পর্ক নষ্ট হয়নি | কিন্তু আজ বর্তমানের দুই নেতা ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নেমেছেন ভোট যুদ্ধে |

CMO থেকে রাজনৈতিক নির্দেশ আসছে, তালাচাবি লাগাতে হবেঃ শুভেন্দু

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে। ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এরমধ্যেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরে ইস্কনে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ‘নবান্নে যে সমস্ত আধিকারিকরা আছেন কমিশনকে বলব অবিলম্বে তাঁদের সরাতে হবে। সিএমও-তে তালাচাবি লাগাতে হবে। কারণ ওখানে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা রাজনৈতিক নির্দেশ দিচ্ছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলব, কমিশনের সবটাই দেখা দরকার। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলবে’। ৮ দফা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে ২০ দফা ভোট হওয়া উচিৎ ছিল।


অপরদিকে, শনিবার বিকেলেই বিজেপির এক প্রতিনিধি দল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতের যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযোগপত্র তুলে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পরে সাংবাদিকদের স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, রাজ্য প্রশাসন ভোট ঘোষণা হওয়ার পরও প্রকল্পে টাকা দিচ্ছেন। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার নির্দেশিকা দিয়েছেন। এছাড়া যে সমস্ত পুরসভা ও কর্পোরেশনে প্রশাসক বসানো হয়েছে সেখানেও পিছনের দরজা দিয়ে প্রকল্প চালু করছে। মানুষকে খুশি করতেই এগুলি করছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া, বেশ কয়েকজন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামেও নালিশ ঠুকে এসেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

আর্মহার্স্ট স্ট্রিটে শুভেন্দু-অর্জুন-মুকুলদের মিছিলে ঝাঁটা-জুতো ছুঁড়ল তৃণমূল

এবার খাস কলকাতায় বিজেপির মিছিল আটকাল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা। ঠুঁঠো জগন্নাথ হয়ে দেখল পুলিশ। ফলে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বুধবার বিকেলে। হৃষিকেশ পার্ক থেকে লেবুতলা পার্ক পর্যন্ত মিছিল কর্মসূচি ছিল বিজেপির। বিজেপির সেই মিছিল যখন ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার আগেই বেশ কয়েকশো তৃণমূল কর্মী সমর্থক সেখানে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।