Tripura Speaker: ত্রিপুরার স্পিকার রেবতীমোহন দাসের ইস্তফা, বাড়ছে গুঞ্জন

ত্রিপুরায় শক্তি বাড়ছে তৃণমূলের। সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া অসমের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব গত দু’দিন ধরে ত্রিপুরাতেই আছেন। তাঁর নেতৃত্বে রোজই কোনও না কোনও দল থেকে নেতাকর্মীরা যোগদান করছেন এরাজ্যের শাসক দলে। সেই সঙ্গে সুস্মিতার বিভিন্ন কার্যকলাপে তৃণমূলে বড়সড় যোগদানের সম্ভাবনাও বাড়ছে। ত্রিপুরায় দলের সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির ভার সুস্মিতা দেবের উপরই দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । অভিষেকের নির্দেশেই সেরাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে যাওয়ার কথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষমোহন দেবের মেয়ে সুস্মিতার।

তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেকের নির্দেশে ত্রিপুরার আটটি জেলাতেই পদযাত্রা করবেন সুস্মিতা। ত্রিপুরায় যখন তৃণমূল ঝড়ের গতিতে বাড়ছে, তখনই ইস্তফা দিলেন বিধানসভার স্পিকার রেবতী মোহন দাস । তাঁর ইস্তফা ঘিরে একটা সময় জল্পনা তৈরি হলেও পরে দলের তরফে জানানো হয়, রেবতীবাবুকে সংগঠনের কাছে লাগাবে দল।ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির  সহ-সভাপতির পদে বসানো হয়েছে তাঁকে।

সদ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া প্রতিমা ভৌমিক আগে ওই পদে ছিলেন। তবে প্রশ্ন উঠছে  স্পিকারের মতো সাংগঠনিক পদ থেকে রেবতীবাবুকে সংগঠনে কেন আনা হল? এদিকে  আগরতলার রাজনৈতিক মহলের  একাংশের দাবি, ত্রিপুরায় তৃণমূলের শক্তি বৃদ্ধি কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখছে গেরুয়া শিবিরকে। তাই আগেভাগে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সম্ভবত সেকারণেই রেবতীবাবুর মতো পোড়খাওয়া নেতাকে স্পিকারের পদ থেকে সরিয়ে দলের সংগঠনে আনা হল ।

বিরোধী শূন্য বিধানসভার অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

শনিবার ধ্বনি ভোটে তৃতীয়বারের জন্য বিধানসভার নির্বাচিত হলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বিধানসভায় অধ্যক্ষ নির্বাচন বয়কট করে বিরোধী দল বিজেপি। ফলে বিরোধী শূন্য বিধানসভায় বিনা বাধায় অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের প্রায় সমস্ত বিধায়ক। নব-নির্বাচিত স্পিকারকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাটট্রিক করলেন’। অধ্যক্ষ নির্বাচনের পরই বিধানসভায় ভাষণ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যথারীতি বিরোধী দল বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন নিজের ভাষণে। ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য পরোক্ষে বিজেপিকেই দায়ী করলেন তিনি। পাশাপাশি টিকা নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


তিনি বলেন, আমি জানি, নির্বাচন কমিশন রিগিং ঠেকাবে। টি এন সেশনের সময় থেকে তাই দেখে এসেছি। কিন্তু এবার তো কোথাও কোথাও কমিশনের সহায়তার রিগিং রয়েছে। চিরকুটে লিখে বদলি করা হচ্ছে। আজ শুধু বাংলা জিতে গিয়েছে, বাংলার মানুষ প্রমাণ দিয়েছেন বাংলার মেরুদণ্ড সর্বদা শক্ত। অপরদিকে বিধানসভা বয়কট করায় বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দয়ায় জিতে এসেছিলেন, ঠিক আছে, নির্বাচন কমিশন সাহায্য না করলে ৩০ টি আসনও পেত না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। তাও লজ্জা নেই। ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে এদিন অধিবেশন বয়কট করলেন নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়করা।