বৈশাখীকে খুনের চেষ্টা করতে পারে রত্না,পুলিশ কমিশনারকে চিঠি শোভনের

কলকাতাঃ  রত্না আমাকে খুন করতে চায়। বৈশাখীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে রত্না। এই অভিযোগ করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। চিঠিতে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।



চিঠিতে শোভন লিখেছেন,'বিগত চার বছর ধরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মেয়ে আমার সঙ্গে রয়েছেন। তাঁদের সুরক্ষার বিষয়ে আমি অত্যন্ত চিন্তিত। কারণ রত্না চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বিরুদ্ধে আগেও চক্রান্ত করেছেন। এবারও তিনি হুমকি দিয়েছেন, বৈশাখীকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারার।

অন্যদিকে রত্না আশঙ্কা , সম্পত্তি হাতানোর উদ্যেশ্য ছিল বৈশাখীর। সেটা হয়ে গিয়েছে।এবার যে কোনও দিন বলবে, শোভন মারা গিয়েছেন। আমি আমার স্বামীর নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্বারস্থ হব।

নিন্দার ঝড় বৈভনকে নিয়ে

প্রেম এমন এক বস্তু যে বয়স বা সময় দিয়ে তার আবেগকে আটকে রাখা যায় না | তা কিশোর বয়সের হোক কিংবা মধ্য বয়সের বৈশাখী ও প্রৌঢ়ত্বের শোভনের হোক | বর্তমানে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক এই যুগলের নাম দিয়েছে ' বৈভন', অর্থাৎ বৈশাখীর শোভন | এতে অবশ্য অখুশি হওয়ার কথা নয় এই যুগলের, কারণ তাঁদের প্রেমের ছবি ছক্কা দেখে বা দেখিয়ে পরম আল্হাদিত এই জুটির |


শোভনের সংসারে অশান্তি থাকতেই পারে কিন্তু প্রাক্তন মন্ত্রী বা মেয়র এবং প্রাক্তন অধ্যাপিকা তা জন অরণ্যে নিয়ে আসবেন কেন, প্রশ্ন নেট নাগরিকদের | বাড়াবাড়ির চরম সীমা পার করেছেন তাঁরা | আজ এই মুহূর্তে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যে ভাষায় এই যুগলকে ট্রোল করা হচ্ছে তা দেখে লজ্জা পেতে পারে আদিম রসের কাব্য কাহিনী | প্রায় রোজই খবরে রয়েছেন তাঁরা এবং রসিয়ে গৃহস্বামী বা গৃহকর্তী যখন এই খবর দেখছেন বা পড়ছেন তখন বাড়ির কিশোর কিশোরী কে বলা হচ্ছে " এখন এখন থেকে যাও, বড়দের বিষয় দেখছি "| হুশ ফিরলে হয় বৈভনের |  

জামাইষষ্ঠীর দিন শোভনের সঙ্গে নয়া ইনিংস শুরু বৈশাখীর

কলকাতাঃ তৃণমূলে ফেরার জল্পনার মধ্যেই, ফের শিরোনামে শোভন-বৈশাখী। জামাইষষ্ঠীর দিন শোভনের সঙ্গে নয়া ইনিংস শুরু বৈশাখীর।

এদিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক প্রোফাইলের নাম বদলে লেখা হল 'বৈশাখী শোভন ব্যানার্জী'। শোভনের সঙ্গে এক ছবি দিয়ে বৈশাখী লিখলেন, 'The journey from Me to We begins…' ।



ফেসবুকে শোভনের নাম যুক্ত করা প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে বৈশাখী জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েই তাঁদের নামে যৌথ প্রোফাইল খোলা হয়েছে।

শোভন-বৈশাখীর বন্ধুত্ব বরাবরই চর্চিত। পোশাকের রং মিলান্তি থেকে শুরু করে সর্বত্র একসঙ্গে যাওয়া-আসা। শোভনকে গ্রেফতারের পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়া। কোনটাই রসিক বাঙালির অজানা নয়। ফের হাই প্রোফাইল এই জুটির বন্ধুত্ব সোশাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলেছে। 

তাড়িয়ে দিল পদ্ম ফুলটুসি জব্দ

সোমবার সন্ধ্যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই শুরু হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি তারা ফের তৃণমূলে ফিরতে চায় ?

অন্যদিকে শোভন-বৈশাখীকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বললেন, "ঘরে ঘরে পদ্ম, দিদিমণি জব্দ - গ্ল্যাক্সো বেবির ফুলটুসি তো এসব বলেই মিছিল করেছিলেন। এখন তাড়িয়ে দিল পদ্ম ফুলটুসি জব্দ। ভোটের আগে যাঁরা বলছিলেন কৈলাসজি, মেননজি, অমুক জি, তমুক জি এখন আবার পার্থদা, ববিদা - আমরা সব বুঝি। "

রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মাতৃ-বিয়োগ। খবর পেয়ে শিল্পমন্ত্রীর বাড়ি গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ দলীয় নেতা কর্মীরা। পাশাপাশি গিয়েছিলেন বিরোধী নেতা-কর্মীরা। সোমবার রাত ৮টা ২৫ নাগাদ পার্থর বাড়িতে যান শোভন-বৈশাখীও।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বৈশাখী বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী ওঁর বাকি তিন সহকর্মীর বিষয়ে যতটা চিন্তিত ছিলেন, শোভনের ক্ষেত্রেও ততটাই ছিলেন। শোভন গ্রেফতার হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাশে ছিলেন। এই জন্য আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। শোভনের কাছে দিদিমণির স্থান অথবা দিদিমণির কাছে কাননের স্থান কখনই বদলাবে না।"




অন্তর্বর্তী জামিন ববিদের

অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে জামিন মঞ্জুর হলো ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের | শুক্রবার সকাল থেকেই উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল তৃণমূলের লক্ষ লক্ষ কর্মী সমর্থক, সেই সাথে নেতাদের পরিবারবর্গও | এই কয়েকদিন গৃহবন্দী ছিলেন ব্যস্ততম মন্ত্রী ববি হাকিম, যাঁর উপর কলকাতার দায়িত্বও রয়েছে এবং একই সাথে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দায়িত্বও কম নয়, ইয়াস উত্তর পর্বে পঞ্চায়েতের কাজ অনেক | বিশেষজ্ঞদের মতে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কার পর আশাই করা গিয়েছিলো যে এই মামলায় জামিন হবেই | তবে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে যথা ১) মিডিয়ার কাছে নারদ মামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে পারবে না এই চার জন  ২) সিবিআই যখনই ডাকবে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে অবশ্য এই সময়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা চলবে  ৩) ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড জমা দিতে হবে | এই সমস্ত বিষয় ছাড়া বাকি এঁরা স্বাভাবিক কাজকর্ম ও জীবনযাত্রায় যেতে পারবেন | তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানান ,মোটের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সম্পূর্ণ ঘটনাটাই প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে করা হয়েছে | এখনও একটি বিষয় থেকে গেলো তা, এই মামলা অন্য রাজ্য নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা | বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই করোনা আবহে তার সমর্থনও পাবে না সিবিআই |

গভীর রাতে রিস্ক বন্ডে সই করে বাড়ি ফিরলেন শোভন

শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র হাসপাতাল থেকে ছুটির দাবি জানাতে থাকেন। এমনকি এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর ওয়ার্ডের জানালা থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন ক্ষুব্ধ শোভন। পরে তাঁর দাবি মেনে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর হাসপাতাল থেকে ছুটি পেলেন নারদকাণ্ডে গ্রেফতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। শনিবার রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে ছুটি পান। যদিও সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সি জেলেই। এরপর কিছু কাগজপত্রে সই করার পর গভীর রাতেই গোলপার্কে তাঁর বাড়ি ফেরেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। আদালতের নির্দেশে তাঁকে এখন গৃহবন্দি থাকতে হবে নজরদারির মধ্যে।


শনিবার বিকেল থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালে নাটক জমে ওঠে শোভনবাবুকে নিয়ে। প্রথমে তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন শোভনবাবুকে জোর করে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। ঠিকমতো চিকিৎসাও করা হচ্ছে না। পরে হাসপাতালের শোভন চট্টোপাধ্যায়ও হাসপাতালের জানলা থেকে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন তিনি সুস্থ। তাঁকে ছুটি দেওয়া যেতেই পারে। এরজন্য তিনি বন্ডে সই করতেও রাজি। এরপরই এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। রাতের মধ্যেই জরুরি বন্ডে সই করিয়ে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। রাত ৯টা নাগাদ গোলাপি স্যুট পড়ে হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে আসেন। সেখান থেকে পুলিশের গাড়িতে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। গভীর রাতেই কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সই করানোর পর জেল থেকে গোলপার্কের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত  আপাতত সেখানেই তিনি থাকবেন।