Durga Puja: বৃষ্টি কমতেই কেনাকাটার ঢল কলকাতায়, চোখে পড়ার মত ভিড়

হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ। তারপরে বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। এই একটা বছরের জন্য সকলেই কিন্তু অপেক্ষা করে । তবে গত এক বছর ধরে করোনা অতিমারীর জেরে কিছুটা এই উৎসব থমকে গেছে। কিন্তু তাতে কি মানুষ থেমে নেই । কেনাকাটা করতে বেরিয়ে পড়ছে সকালেই। একেই এবছর যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে অনেকটাই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কলকাতার একাধিক জায়গায় হাটু সমান জল জমেছে। যারফলে ব্যবসাদেরদের অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। বিশেষত ফুট মার্কেটগুলির ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা।

তবে সবমিলিয়ে বলা যায় গতকাল রবিবারের বাজার খুব খারাপ যায়নি।যদিও দুপুরে খানিকটা বৃষ্টি হওয়ায় থমকে গেছিল কেনাকাটাতে। এরপর বিকেল গড়াতেই মানুষের ঢল নামে রাস্তায়। এদিন বিকেলে হাতিবাগান থেকে শুরু করে গড়িয়াহাট মার্কেট, ধর্মতলা চত্বরে দেখা গেছে চোখে পড়ার মত ভিড় ।  কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে শুক্রবারই স্পষ্ট হয়েছিল দেওয়াল লিখন।

এ বছরও পুজো মণ্ডপ দর্শকশূন্য রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু তাতে কি মানুষ সেই কথা ভেবেই বেরিয়ে পড়েছে কেনাকাটা করতে। এদিন ব্যবসায়ীদের মুখেও বেশ খানিকটা হাসি দেখা যায় । সবমিলিয়ে বলা যায় রবিবারের বাজার কিন্তু ফ্লপ হয়নি। 

Durga Puja: আপনি কি দুর্গাপূজার কেনাকাটি করছেন? কয়েকটি বিষয়ে সাবধানে থাকুন

দুর্গাপুজো আসছে আর বাঙালি পুজোর বাজার সারবে না, তাও কি হয়? করোনা যতই আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসের রদবদল ঘটিয়ে থাকুক না কেন, এই অভ্যাসটা চিরন্তন। তাই এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে কেনাকাটা। কোথাও কোথাও আবার ভিড়ের মধ্যেই চলছে দেদার কেনাকাটা! তবে করোনাকালে পুজোর বাজার করার সময় এতটাও উদাসীন থাকা উচিত নয়। সংক্রমণ এড়াতে মেনে চলুন কিছু সতর্কতা।ঠিক কি কি করবেন দেখে নেওয়া যাক । 


#পুজোর বাজার করার আনন্দে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের কথা ভুলে যাবেন না যেন! মাস্ক পরে পুজোর বাজার করতে যান। আর অবশ্যই সঙ্গে রাখুন স্যানিটাইজার।


#পুজোর বাজার করতে যাওয়ার সময় ব্যাগে রাখতে পারেন গ্লাভস। জামাকাপড় ছোঁয়ার আগে গ্লাভসটা পরে নিলে ভাল। কারণ আপনার আগে কেউ অপরিচ্ছন্ন হাতে জামাটি ধরে থাকতে পারেন।

#ভিড়ের মধ্যে কেনাকাটা করতে যাবেন না। একটু ফাঁকা কোনও জায়গায় যান। প্রয়োজন পরলে শনিবার-রবিবার বাদ দিয়ে বাকি দিনগুলিতে পুজোর বাজার করতে যেতে পারেন।

# পুজোর বাজার করতে গিয়ে স্ট্রিটফুড খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে? করোনাকালে কিন্তু এই ইচ্ছে মূলতুবি রাখতে হবে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুচকা, চাউমিন, ভেলপুরি একেবারেই খাবেন না। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে এই রকম কোনও রেস্তরাঁয় যান।

তাই এই অতিমারীতে সাবধানে করুন কেনাকাটা। অবশ্যই বেরোনোর সময় মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। 


Durga Puja Shopping: মীনাকারি থেকে নয়নতারা,পুজোর কেনাকাটায় জমজমাট তাঁতের হাটে

করোনা কেড়েছিল মুখের হাসি। মহামারী আবহে ম্লান হয়েছিল হাটের ঔজ্বল্য। কমেছিল বেচাকেনার পরিমাণও। তবে পুজোর আগেই ফিরছে সেই হারিয়ে যাওয়া আনন্দ। রবিবার সকাল থেকেই জমে উঠেছে কালনা ও পূর্বস্থলীর তাঁতের হাট। বাজারে এসেছে নতুন ধরনের শাড়িও । পুজো আসতেই ভিড় বাড়ছে কালনা ও পূর্বস্থলীর সরকারি ও বেসরকারি তাঁতের কাপড়ের হাটে। এদিন সকালেও পূর্বস্থলী-১ ব্লকের সমুদ্রগড়ের গণেশচন্দ্র কর্মকার তাঁত কাপড়ের হাটের এমন জমজমাট ছবি ধরা পড়ল ক্যামেরায়। শুধু বেসরকারি নয়, সরকারি তাঁতের হাটেও রেকর্ড বিক্রি হচ্ছে। 

ক্রমশ চওড়া হচ্ছে তাঁতি ও ব্যবসায়ীদের মুখের হাসি।করোনা আবহে বিক্রিবাটা তলানিতে ঠেকায় মাথায় হাত পড়েছিল তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা কালনা মহকুমার লক্ষাধিক শিল্পীর। যদিও এবার বেশকিছু ট্রেন চালু হওয়ায় দূরদূরান্তের মানুষজন শুধু এই কর্মকার হাটে-ই নয়, কালনার ধাত্রীগ্রামে ও পূর্বস্থলী ১ ব্লকের শ্রীরামপুরে থাকা সরকারি তাঁতের হাটেও ভিড় জমাচ্ছেন।

সপ্তাহে দু’দিন খোলা থাকা এই তাঁতের বাজারের লাভও আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। ধাত্রীগ্রামের তাঁতের হাটে একদিনে ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৪০ টাকার শাড়ি বিক্রি হয়েছে। আর তাই পুজোর আগে আশার আলো দেখছেন ব্যবসায়ীরা। 


Durga Puja: এবার পুজোয় দুয়ারে কেনাকাটা, জেনে নিন কোথায়

করোনা আবহে এবার ও জমেনি পুজোর বাজার। সেই অর্থে ভিড়ভাট্টাও হচ্ছে না শপিং মল বা হকার বাজারে। কারণ পুজোর আগেই চোখ রাঙাচ্ছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সংক্রমণের আশঙ্কায় অনেকেই ভিড় ঠেলে গড়িয়াহাট-নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে বেরতে ভয় পাচ্ছেন। পাছে পুজোর মুখে বিপত্তি ঘটে! তাঁদের জন্যই শহরের বহু আবাসনে স্টল সাজিয়েছে নামীদামি জামা-জুতো-শাড়ির বিপণিগুলো। একেবারে ‘দুয়ারে কেনাকাটা।’ যদিও এই অতিমারীর ক্ষেত্রে অনলাইনে কেনাকাটার চল একটু বেশি হচ্ছে। হাতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তবে এই অতিমারীতে মানুষ কিছুটা আতঙ্কে রয়েছে।

সামনেই তৃতীয় ঢেউ আসার প্রবল সম্ভাবনা। তাই সেই কথা মাথায় রেখে মানুষ ভিড় এড়াতে চাইছে।এদিকে পুজোর জামা-কাপড়ের সেভাবে কোনও কালেকশন নেই. ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছে, বিক্রিবাট্টা নেই বলেই জিনিসপত্র সেভাবে তোলা হচ্ছেনা। তবে এবার ঘরের সামনেই চাইলে কেনাকাটা করা যাবে। পুজোর মাস দেড়েক আগে থেকেই দক্ষিণ কলকাতা এবং বাইপাসের ধারের বড় বড় আবাসনে স্টল দিয়েছে জামা-কাপড়-জুতোর কোম্পানিগুলো। তাতে সেই আবাসনের বাসিন্দারা ভিড়ও জমাচ্ছেন ভালই।

কোনও কোম্পানি স্টল রাখছে সাত দিনের জন্য, কেউ বা দিন দুয়েকের জন্য। নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে সময়। আর সেই সময়ই চলছে কেনাকাটা। থাকছে বিভিন্ন জিনিসের উপর ছাড়ও। যা দেখেই লোকে আরও আরও ভিড় করছেন। তবে এই কেনাকাটার সুযোগ থাকছে কেবলমাত্র সেই আবাসনের বাসিন্দাদের জন্যই। বাইরের কেউ দোকান দেখে ভিতরে ঢুকতে পারছেন না।

মূলত সন্ধের দিকেই হচ্ছে কেনাকাটার ভিড়।যদিও আবাসনগুলিতে পুজোর আগে স্টল বসতে দেলখা যায়. বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে মানুষের কথা ভেবে আরও বেশি স্টলের আয়োজন রয়েছে। অনেকের আবার এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ব্যস্ততা। যার ফলে বাইরে বেরোনোর বিশেষ সময় থাকেনা। তাই তাদের ক্ষেত্রে অনেকটা সুবিধা বাড়ির কাছে কেনাকাটা।