ভুলে ভরা টিম, হেরেই চলেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল

ডার্বিতে লজ্জার হারের ক্ষত এখনও সারেনি। এরমধ্যেই মঙ্গলবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে হারলো রবি ফাওলারের দল। এদিন এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জন আব্রাহামের দল জিতল ২-১ গোলে। হারের কারণ হিসেবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ঠিকঠাক দলই গঠন করতে পারেনি লাল-হলুদের প্রধান এবং সরকারি কোচ। লাল-হলুদের আপফ্রন্ট বলে মঙ্গলবার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে কিছুই ছিল না। ছিলেন না ব্রাইট ও পিলকিনটন। ফলে নর্থইস্টের পেনাল্টি বক্সের কাছাকাছি এসে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন আমাদিরা।

কোচ রবি ফাওলার বিদেশি তারকাদের নামে যাঁদের দলে এনেছেন, তাঁরাও চূড়ান্ত ব্যর্থ। যদিও আইএসএল-এর মাঝপথে দলে আসা ব্রাইট এনোবাখারে কিছুটা উন্নতি করেছিলেন দলের, এদিন তাকেও দলে রাখেননি নির্বাসিত রবি ফাওলার। ফলে যা হওয়ার তাইই হল। এসসি ইস্টবেঙ্গল হারল খালিদ জামিলের ক্ষুরধার ফুটবল মস্তিষ্কের কাছে। এদিন প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুই গোল হজম করল এসসি ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ভিপি সুহেরের গোল এবং ৫৫ মিনিটে স্বার্থক গোলুইয়ের আত্মঘাতী গোল। এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ফাওলারের ছেলেরা। যদিও ম্যাচের শেষ লগ্নে সেই স্বার্থক গোলুই গোল করে নিজের প্রায়শ্চিত্র করলেন বটে, কিন্তু দলের হার বাঁচাতে পারলেন না। যারফলে একশো বছরের ইস্টবেঙ্গল চলতি বছরেই সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। ঘটা করে আইএসএল খেলার সুযোগ পেলেও বিশ্রী দল গঠন ও ততোধিক বিশ্রী খেলা শতবর্ষে পড়া ক্লাবকে খাদের অতলে তলিয়ে দিল। ফলে আইএসলে ১৯ ম‍্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শেষের দিকেই শেষ করছে এসসি ইস্টবেঙ্গল।

হায়দরাবাদকে হারাতে মরিয়া ‘খোঁচা খাওয়া বাঘ’ এসসি ইস্টবেঙ্গল

শুক্রবার আইএসএলে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। প্রথম পর্বে জ্যাঁ মাঘোমা জোড়া গোল করলেও হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জিততে পারেনি লাল-হলুদ শিবির। কিন্তু এই ম্যাচ জিততেই হবে ইস্টবেঙ্গলকে। তবেই ফাওলারের দলের প্লে অফে ওঠার আশা থাকবে। অপরদিকে হায়দরাবাদ এদিনের ম্যাচ জিতলেই শেষ চারে নিশ্চিত হয়ে যাবে। গত ম্যাচে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে জয় কিছুটা হলেও অক্সিজেন দিয়েছে ফাওলারের ছেলেদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে জামশেদপুরের থেকে বেশ শক্তিশালী দল হায়দরাবাদ এফসি। ফলে এই ম্যাচে জয় নিয়ে আশাবাদী নন তাঁরা। ১৬ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রয়েছে মানোলা মার্কোজের দল। অন্যদিকে শেষ পাঁচ ম্যাচে তিন গোল করলেও, পাঁচ গোল হজম করতে হয়েছে ড্যানি ফক্সদের। ফলে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে লাল হলুদ ডিফেন্স। লাল-হলুদের সহাকরী কোচ টনি গ্র্যান্ট রক্ষনের ওপর জোড় দিয়ে দল সাজাচ্ছেন বলেই জানা যাচ্ছে। কারণ নির্বাসিত ফাওলার এদিনের ম্যাচেও ডাগ আউটে থাকবেন না। অপরদিকে হায়দরবাদের বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে দেশীয় ফুটবলাররাও ভালো খেলছেন। ফলে প্রতিপক্ষ দলকে নিয়ে বেশ চিন্তিত টনি গ্র্যান্ট। যদিও ডার্বির আগের ম্যাচ জিততে মরিয়া লাল-হলুদ শিবির।

ফাওলারের শাস্তিঃ অসন্তুষ্ট ইস্টবেঙ্গল চিঠি প্রফুল প্যাটেলকে

এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে চতুর্থ রেফারিকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে শাস্তি হয় রবি ফাওলারের। এসসি ইস্টবেঙ্গলের কোচকে চার ম্যাচের নির্বাসন এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। এবার এই শাস্তির এক্তিয়ার নিয়ে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলকে চিঠি দিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তবে চিঠিতে রবি ফাওলারের শাস্তি কমানো নিয়ে কোন আবেদন করা হয়নি ক্লাবের তরফে।  
সূত্রের খবর, ক্লাবের অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার মৌখিকভাবে এই বিষয়ে অলোচনা করেছিলেন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান উষানাথ বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তবে খুব বেশি লাভ হয়নি তাতে। ফাওলারের শাস্তি কমানোর বিষয় কোনও আবেদন করা না হলেও তাঁর প্রতি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মনোভাব ও আচরণ নিয়ে খুশি নন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সে বিষয়ে ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল প্যাটেলকে চিঠি দিয়েছে বলে ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে। মূলত যে দুটি বিষয় চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি হল, ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি চেয়ারম্যান পদে উষানাথ বন্দেপাধ্যায়ের থাকার যোগ্যতা আছে কিনা। এবং দ্বিতীয়ত, এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ কমিশনার যে রিপোর্ট পেশ করেছিলেন, তাঁর ম্যাচ পরিচালনা করার আদৌ যোগ্যতা আছে কিনা। এখন দেখার আইএসএলে নবাগত দলের অভিযোগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন ফেডারেশনের সর্বময় কর্তা।

৫ ম্যাচ পর ফাওলারকে ছাড়াই জয় পেল ইস্টবেঙ্গল

রবিবাসরীয় লড়াইয়ে জামশেদপুর এফসিকে ২-১ গোলে হারাল এসসি ইস্টবেঙ্গল। টানা পাঁচ ম্যাচ পর কোচ ফাওলারকে ছাড়াই জয় তুলে নিল লাল-হলুদ শিবির। এসসি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেছেন স্টেইনম্যান ও পিলকিংটন। ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করল ইস্টবেঙ্গল। 

ফাওলারের ডাগ আউটে না থাকলেও তাঁর সাজানো প্রথম একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। খেলার শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জার্মান স্ট্রাইকার স্টেইনম্যান। ৬ মিনিটে নারায়ণ দাসের কর্নার থেকে ভাসানো বল হেডে জামশেদপুরের জালে জড়িয়ে দেন তিনি। গোল পরিশোধের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানান ভালস্কিসরা। আক্রমণে জোর বাড়াতে বেশ কয়েকটি পরিবর্তনও আনেন জামশেদপুর কোচ। তবে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্সের কাছে ব্যর্থ হয় তাঁরা। এদিনের ম্যাচে গোল না পেলেও বেশ দুরন্ত পারফর্ম্যান্স দেখান নাইজেরিয়া স্ট্রাইকার ব্রাইট। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিলকিংটন। স্টেইম্যানের বাড়ানো বল বক্সের মধ্যে জোরালো শটে জামশেদপুরের গোলকিপারকে পরাস্ত করেন মিডফিল্ডার। যদিও ৮৩ মিনিটে প্রতি-আক্রমণে জামশেদপুরের হয়ে গোল ব্যবধান কমান হার্টলে। আইজাকের ক্রস থেকে গোল করেন ইংরেজ স্ট্রাইকার। তবে ম্যাচ শেষ জয়ের সারণিতে ফিরল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচে জিতে ১৬ পয়েন্ট পেয়ে নবম স্থানে রয়েছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। রবিবার আইএসএলের অপরম্যাচে হায়দরাবাদ এফসির সঙ্গে  ড্র করেছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি।

বড় শাস্তি ফাওলারের, ডার্বিতে গ্যালারিতেই থাকতে হবে লাল-হলুদ কোচকে

বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে প্লে অফের যাওয়ার আশা কার্যত শেষ এসসি ইস্টবেঙ্গলের। তাই দলের মূল লক্ষ্য এখন বড় ম্যাচ জেতা। কিন্তু তার আগেই বড় ধাক্কা খেল লাল-হলুদ শিবির। ম্যাচ রেফারিকে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে চার ম্যাচ নির্বাসন এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হল রবি ফাওলারের। লিভারপুল কিংবদন্তীকে এই শাস্তি দিল উষানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। ফলে আসন্ন বড়ম্যাচ অর্থাৎ ডার্বি ম্যাচে ডাগ আউটে থাকতে পারবেন না ফাওলার। তবে অনুশীলনে দলের সঙ্গে থাকাতে বাধা নেই। 
ফাওলারের বিরুদ্ধে ম্যাচ রেফারি ও কমিশনারকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগে এনে, ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছিলেন প্রায় চার-পাঁচ জন রেফারি। বুধবার সন্ধেয় ভার্চুয়ালি সেই মামলার শুনানি হল। এফসি গোয়া ম্যাচের বিরুদ্ধে হেরে গিয়েছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচেই ফাওলার চতুর্থ রেফারি এবং ম্যাচ কমিশনারকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে শাস্তি ঘোষণা করল ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। সেই ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ ক্ষতিয়ে দেখেছেন ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ। এআইএফএফ-এর ডিসিপ্লিনারি কোডের ৫০, ৫৮ ও ৫৯.১(এ) ধারায় ফাওলারকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, তাঁর আচরণের দিকে নজর রাখা হবে। ফলে নির্বাসন কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও ফাওলারে উপর কড়া নজরদারি থাকবে। যদিও এই ধরেনর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, কোনও বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেননি ফাওলার। সূত্রের খবর, শুনানিতে ফাওলারও অস্বীকার করেন বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য প্রসঙ্গে।