স্কুলে ফেরার আনন্দে

শুক্রবার রাজ্যে আংশিক ভাবে স্কুলগুলি খুলে গেল। খোলার ঘোষণা আগেই ছিল কিন্তু আচমকা বামেদের বন্ধ ডাকায় চিন্তায় পড়েছিল নবম দশম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্কুলে যেতে পেরেছে সিংহভাগই। তাদের নেটের মাধ্যমে পড়াশুনা আর ভালো লাগছিল না, কারণ ওইভাবে তারা অভ্যস্ত নয় বলে জানাচ্ছে পড়ুয়ার দল। এবারে স্থির হয়েছে পরীক্ষা পিছোচ্ছে অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক। কাজেই অন্তত বেশ কয়েকদিন সময়ে পাবে ছেলেমেয়েরা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করার। স্কুল থেকে বেরিয়ে পড়ুয়ারা জানাচ্ছে, তারা তাদের পরিচিত ক্লাসরুমে যেতে পেরে খুবই আনন্দ পেয়েছে। অনেকদিন বাদে দূরে থাকা বন্ধুদের সাথে দেখাও হয়েছে তবে নিয়ম অনুযায়ী টিফিন ভাগ করে খাওয়া যায়নি এবং জলের বোতল বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে হয়েছে। টিফিনের সময়ে অবশ্য ক্লাসরুমের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে। তবুও স্কুলে গিয়ে অনাবিল আনন্দ পেয়েছে ৩৩৩ দিন বাদে।

স্কুল চালু হলেও এখনই খুলছে না কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়

রাজ্যে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত হলেও আপাতত ঝাঁপ বন্ধ থাকছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির। আপাতত পঠন-পাঠন হবে অনলাইনেই। এমনকী সামনের সেমিস্টারগুলির পরীক্ষাও হবে অনলাইনে। বুধবার রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখনই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না। আগামী মার্চ মাসে আবার হবে বৈঠক, সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সবস্বতী পুজোর আয়োজন করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন পার্থবাবু। তিনি বলেন, ‘সরস্বতী পুজো করার কথাও বলেছি উপাচার্যদের। তবে কী ভাবে হবে, সে সিদ্ধান্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই নেবে’। যদিও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় না খুললেও গবেষণারত পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেওয়া হবে গবেষণাগার।

তবে কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এখনই কোথাও কোনও হস্টেল খুলতে নারাজ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত উপাচার্যরা জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে সকল উপাচার্যের সহমতের ভিত্তিতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তারপরেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখনই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে না। সেইসঙ্গে খোলা হবে না হস্টেলগুলিও। এদিনের বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি স্কুলের ক্লাস চালু করার ভাবনা চিন্তা করছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে শীঘ্রই নির্দেশিকা জারি করবে স্কুলশিক্ষা দফতর। তবে এখন শুধুমাত্র নবম থেকে দ্বাদশের ক্লাস চালু হবে।