রাকেশ কাণ্ডে সোজাসাপ্টা রুপা

ড্রাগকাণ্ডে রাকেশ সিং গ্রেফতার হওয়ার পর কি তাঁকে ছেঁটে ফেলতে চাইছে বিজেপি? বিজেপির অন্দরমহলে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। যদিও রাকেশ সিং ইস্যুতে কোনও নেতাই এখন মুখ খুলতে চাইছেন না। কিন্তু দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, অকারণে রাকেশের ছেলেদের অকারণ হয়রানি করেছে পুলিশ। কিন্তু একই সাথে তিনি এও দেখে নিতে চাইছেন, ড্রাগ কর্মকাণ্ডতে গতি কোন পথে যায়। অন্যদিকে এই ইস্যুতে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রুপা গঙ্গোপাধ্যায় অনেকদিন বাদে মুখ খুললেন সংবাদ মাধ্যমের কাছে।
রুপা সোজাসাপ্টা জানালেন যে, যাকে যা অন্যায় করতে দেখা যাবে তাকে গ্রেফতার করে ফেলা হোক। অভিষেকের বাড়িতে কেন্দ্রীয় পুলিশের অভিযানের পাল্টা হিসাবে রাকেশ গ্রেফতার? এমন প্রশ্নের উত্তরে রুপা জানালেন, আমি পাল্টা বুঝি না, যে অন্যায় করবে তাঁকেই জেলে যেতে হবে। বুধবার আলিপুর কোর্টের বিশেষ নার্কোটিক আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রাকেশকে ১ মার্চ অবধি পুলিশি হেফাজতে থাকতে হবে।

১ মার্চ পর্যন্ত রাকেশ সিংয়ের পুলিশ হেফাজত

বুধবার আলিপুর আদালতে বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে হাজির করানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক আইনের একাধিক ধারা যুক্ত করেছিল পুলিশ। এদিন দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক রায়দান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখেন। পরে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিচারক রাকেশ সিংকে ১ মার্চ পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, বিজেপি নেত্রী পামেলা গোস্বামী অভিযোগ করেন, রাকেশ সিং তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন। যদিও পামেলাকে মাদক সহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এরপরই মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাকেশকে গ্রেফতার করতে এবং তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। এমনকি হাইকোর্টেও জামিনের আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবারই তাঁকে কলকাতায় এনে আলিপুর আদালতে হাজির করেছিল পুলিশ।

রাকেশ সিংকে তলব লালবাজারে

একদিকে যখন সিবিআই তৎপর হয়েছে কয়লা কাণ্ডে রুজিরাকে,তখনই কলকাতা পুলিশ মাদক কাণ্ডে ডেকে পাঠালো বিজেপি নেতা রাকেশ সিংকে। গত সোমবার কোকেন সহ ধরা পড়েন বিজেপির যুবনেত্রী পামেলা গোস্বামী। তাকে আলিপুর কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি প্রচার মাধ্যমকে দেখে চিৎকার করে জানানযে তিনি নির্দোষ এবং তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি জানান,তাঁকে বিপাকে ফেলেছে কৈলাশ বিজয়বর্গিওর ঘনিষ্ঠ রাকেশ সিং।  রাকেশই নাকি তাকে অকুস্থলে ডেকে পাঠিয়ে ছিলেন। রাকেশ অবশ্য জানান, পামেলা মিথ্যাচার করছে। 
যাই হোক না কেন একদিন অপেক্ষা করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ রাকেশের বিষয়ে তৎপর হয়ে ওঠে। দায়িত্বে এসেই রাকেশ সিংকে নোটিশ পাঠান তাঁরা। মঙ্গলবার বিকেল ৪ টের মধ্যে তাকে লালবাজারে আসতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত এখনও পামেলা পুলিশ হেফাজতেই আছেন।

অবশ্য রাকেশ সিংহ জানিয়েছেন এটি নিউ আলিপুর থানার চক্রান্ত,তাই তিনি আপাতত লালবাজারে যাচ্ছেন না।জানা গেছে তিনি দিল্লির দিকে রওনা দিচ্ছেন।