বাড়তে থাকা করোনা আবহেই আজ থেকে ৭১টি অসংরক্ষিত ট্রেন চালু

একদিকে দেশে করোনা সংক্রমণের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ রযেছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। যদিও কয়েক মাস ধরে স্পেশাল ট্রেন হিসেবে বেশ কয়েকটি মেল-এক্সপ্রেস ট্রেন চালাচ্ছে রেলমন্ত্রক। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি ট্রেন চলাচল। এরমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এই আবহেই এবার ৭১টি অসংরক্ষিত (Unreserved) প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করল উত্তর রেল। বিজ্ঞপ্তি আগেই হয়েছিল, সোমবার থেকে ওই ট্রেনগুলির চলাচল শুরু হয়ে গেল। রেলমন্ত্রকের দাবি, বাড়তে থাকা যাত্রী সংখ্যার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর রেলওয়ে। ফলে আশা করা যাচ্ছে, দেশের অন্যান্য প্রান্তেও রেল জোনগুলিকে এবার অসংরক্ষিত প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করার অনুমতি দেবে। আপাতত উত্তর রেলের আওতায় নতুন দিল্লি, সুলতানপুর, গাজিয়াবাদ, বারানসী, সাহারানপুর, নঙ্গলড্যাম, জলন্ধর, পাঠানকোট, ভাতিন্ডা, ফিরোজপুর, লুধিয়ানা, মেরঠ ক্যান্টনমেন্ট এবং আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে চলাচল করবে।

১১ মাস পর ১০০ শতাংশ প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর অনুমতি পূর্ব রেলকে

করোনা অতিমারীর জেরে লকডাউনে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এরপর আনলক পর্বে ধাপে ধাপে কিছু ট্রেন চালু করা হলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা। রেলমন্ত্রকের দাবি, সারা দেশে ৬৫ শতাংশ মেল-এক্সপ্রেস ট্রেন চলছে বর্তমানে। বিভিন্ন শাখায় ও রেল জোনে লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা শুরু হলেও তা স্বাভাবিক হয়নি এখনও। এরজন্য যাত্রীদের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। পূর্ব রেল সূত্রে খবর, আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের ১০০ শতাংশ প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর অনুমতি দিয়েছে রেল বোর্ড।


পূর্ব রেল জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ১৩০টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা দিচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও ১৭০টি প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালু করে দেওয়া হবে। যে সমস্ত শাখায় ট্রেন বাড়বে সেগুলি হল, শিয়ালদা-লালগোলা, আসানসোল-বর্ধমান, আসানসোল-যসিডি, আসানসোল-সাঁইথিয়া, রামপুরহাট-বর্ধমান, রামপুরহাট-বাহারওয়া, অজিমগঞ্জ-কাটোয়া, অজিমগঞ্জ-বাহারওয়া, বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ, সাহেবগঞ্জ-তিনপাহাড়, নবদ্বীপ-মালদহ। এই সমস্ত শাখায় খুব কম সংখ্যক ট্রেন চলছিল, বা একেবারেই চালু করা হয়নি কোনও ট্রেন। এবার এই সমস্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেনই পুনরায় আগের টাইমটেবিলে চলাচল করবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব রেলের কর্তারা। অপরদিকে, স্বল্প দূরত্ব সহ অন্যান্য মেল এক্সপ্রেস ট্রেনও ধাপে ধাপে চালু করছে রেলমন্ত্রক।

এপ্রিলেই স্বাভাবিক হতে পারে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা

গত বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা। যদিও লকডাউনে আটকে পরা পরিযায়ী শ্রমিক, পর্যটক ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভিন রাজ্যে থাকা মানুষদের ঘরে ফেরাতে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন চালিয়েছিল রেলমন্ত্রক। কিন্তু যাত্রীভাড়া থেকে আসা রেলের আয় একেবারেই তলানিতে চলে গিয়েছে চলতি অর্থবর্ষে। আনলক পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশো দূরপাল্লার ট্রেন চালু করা হয়েছে। যেগুলি স্পেশাল ট্রেন হিসেবেই চলছে এখনও। সূত্রের খবর, আগামী এপ্রিল থেকেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে চলেছে রেলমন্ত্রক। অপরদিকে উল্লেখযোগ্য দিক হল আগামী ৩১ মার্চ মেয়াদ শেষ হতে চলেছে বর্তমানে চলাচলকারী স্পেশাল ট্রেনগুলির। ফলে এরপর ওই ট্রেনগুলি আগের নম্বরে চালাতে বাধা নেই রেলের।


রেল সূত্রের খবর, যাত্রীবাহী ট্রেনের টিকিট থেকে রেলের বড় আয় হয়। কিন্তু করোনা কালে ট্রেল চলাচল বন্ধ থাকায় সেই লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ হয়নি চলতি অর্থবর্ষে। এবার নতুন অর্থবর্ষে পূর্ণমাত্রায় যাত্রীবাহী ট্রেন চালিয়ে আয়ের দিকটি নিশ্চিত করতে চাইছে রেলকর্তারা। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে যাত্রী পরিবহণ থেকে রেলের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনে প্রায় দশ মাস ধরেই বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন। ফলে ঘাটতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও আনলক পর্বে শুরু হওয়া স্পেশাল ট্রেন থেকে রেলের আয় হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এতেও ঘাটতি পূরণ হয়নি। তাই এপ্রিল মাস থেকেই পূর্ণমাত্রায় দূরপাল্লা ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালাতে চাইছে রেল কর্তাদের একটা বড় অংশ।


রেল কর্তাদের একাংশের বক্তব্য, দেশে করোনার টিকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণের হারও নগণ্য। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে জনজীবন এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। তাই যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক করাই যেতে পারে। এছাড়া লোকাল ট্রেন এবং মেট্রো পরিষেবাও পুরোপুরি চালু হয়েছে দেশের সমস্ত প্রান্তেই। সেখানেও সংক্রমণের হার কম। ভারতীয় রেল বর্তমানে প্রতিমাসেই ১৫০টি করে নতুন দূরপাল্লার ট্রেন চালু করেছে স্পেশাল নম্বর দিয়ে। তাই যাত্রীবাহী ট্রেন চালাতে বাধা কোথায়? প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।