সংসদ শেষ হয়ে যাচ্ছে দুদিন আগেই

পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ বাদল অধিবেশন বাতিল হয়ে গেলো নির্দিষ্ট দিনের দুদিন আগেই অর্থাৎ শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৩ অগাস্ট কিন্তু শেষ হচ্ছে আজই । এবারে প্রথম থেকেই কিন্তু পেগাসাস, ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে উত্তাল ছিল বিরোধী দলগুলি তার সাথে যুক্ত ছিল কৃষি আন্দোলন ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি । প্রথম দিন থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূল সহ প্রতিটি বিরোধী দল একযোগে প্রতিবাদ ও বাদানুবাদ চলে । কোনও মন্ত্রী থেকে বিজেপির কোনও সাংসদকে বক্তব্য রাখতেই দেওয়া হয় নি । শুধু সেখানেই নয়,বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে স্থির করে একযোগে প্রতিবাদ চলবে এরই সঙ্গে তারা দেখা করে কৃষক আন্দোলনে থাকা নেতাদের সঙ্গে । গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অবস্থান করাও হয় মোটের উপর সবই চলে সভা বাদ  দিয়ে । কার্যত এই কারণে বিরক্ত হয় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে পেগাসাস নিয়ে আলোচনায় যায় না সরকার ।

বুধবার রাজ্যসভায় এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু কেঁদে ফেলেন । তিনি বলেন, এই ভাবে গণতন্ত্রের পীঠস্থান কলুষিত হয়েছে । তিনি জানান যে পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি কড়া মনোভাব নেবেন । ভেঙ্কাইয়া বহুদিনের সাংসদ। মূলত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন । এরপর শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে নভেম্বেরে । দেখার বিষয় ওই সময়ে কি হয় ।


সংসদ চালাতে সাহায্য করুন, সুদীপকে অনুরোধ রাজনাথের

বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সংসদের উভয় কক্ষ অচল হয়ে গিয়েছে । ঠিক ১১ টাতে শুরু হওয়ার সাথে সাথে প্রতিবাদ শুরু করছে কংগ্রেস তৃণমূল সহ সবকটি বিরোধী দল । কোনও সুনির্দিষ্ট আলোচনাতে আসা যাচ্ছে না । লোকসভার তৃণমূল পরিষদীয় নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সি এন কে এক সাক্ষৎকারে বলেন যে, সরকারেরই কোনও সদিচ্ছা নেই সংসদ চালানোর । অবশ্য গত ৬ বছর ধরেই নানান কারণে নিয়মিত ভাবে সংসদ অচল হয়ে যাচ্ছেই । সুদীপের ধারণা এটি সরকার নিজেই চায়, অচল থাকুক সংসদ ।

মঙ্গলবারের খবর, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ফোন করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেছেন যে সংসদ অচল না করে তাকে চলতে দেওয়া হোক । রাজনাথের সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত । কাজেই অনুমান করা যায় যে এই কারণেই দল তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে । সুদীপের অবশ্য সাফ জবাব, পেগাসাস ইস্যুকে তুলে ধরে প্রতিবাদ চলবে ।


সংসদে নিয়মিত হোন, দলীয় সাংসদের নির্দেশ অভিষেকের

লোকসভা এবং রাজ্যসভা চলাকালীন উভয় কক্ষের সাংসদের পার্লামেন্টে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দিলেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । বিগত দিনে দেখা গিয়েছে অনেকেই দিল্লিতেই আসেন না কিন্তু এবারের বিষয়টি জটিল ফলে এই নির্দেশিকা । ইতিমধ্যে পেগাসাস কাণ্ডে উত্তাল দুই সভা । রোজই কক্ষের অভ্যন্তরে আন্দোলন করছে বিরোধীরা ।

এবারের বাদল অধিবেশনে বিরোধিতার স্টিয়ারিং ধরেছে তৃণমূল এবং বিরোধীরা বিশেষে করে কংগ্রেস নির্ভেজাল সমর্থন করছে তাদের । অভিষেক চাইছেন প্রতিদিন এই আন্দোলন চলুক, যতোদিন না পেগাসাসের বিষয়ে মুখ খুলছে বিজেপি সরকার । অবশ্য এই আন্দোলন তথা সংসদ অচল করে দিলেও বিজেপি সরকার ঠিক করেছে যে ভাবেই হোক প্রতিদিন দুটি করে বিল তারা যে ভাবেই হোক পাশ করিয়ে নেবে ।

ট্রাক্টর চালিয়ে সংসদে রাহুল গাঁধী

সোমবার অর্থাৎ আজ কৃষি আইনের প্রতিবাদে দিল্লির রাজপথে নামলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁন্ধী। মূলত ট্রাক্টর চালিয়ে সংসদে পৌঁছলেন। যদিও আজ সংসদে পেগাসাস নিয়ে উত্তাল। এদিন কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন। তিনি জানান, 'অবিলম্বে এই কৃষি আইন বাতিল করা হোক.'  রাহুলের ট্রাক্টর বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন কংগ্রেসের সমস্ত সাংসদরা। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, "কৃষকদের কথা আমি সংসদে তুলে ধরছি।

এই সরকার কৃষকদের কণ্ঠরোধ করছে , সংসদে কোনও আলোচনা করতে দিচ্ছে না। এই কালা কানুন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। গোটা দেশ জানে ২-৩ জন ব্যবসায়ীকে খুশি করার জন্য এই আই আনা হয়েছে।"  এদিকে সোমবার দিল্লির যন্তর-মন্তরে ধর্নায় বসেছেন মহিলারা। ট্রাক্টরের গায়ে বড় বড় করে ব্যানারে লেখা 'এই তিনটি কালো আইন বাতিল করতে হবে সরকারকে।' অর্থাৎ আজ সকাল থেকেই উত্তাল হয়ে রয়েছে সংসদ।

পেগাসাস বিতর্কে উত্তাল সংসদ

পেগাসাস বিতর্কে বৃহস্পতিবারও উত্তাল হয়েছিল সংসদ। অভিযোগ, রাজ্যসভায় এই নিয়ে বিবৃতি পাঠ করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।  এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন সাংসদ শান্তনু সেন। তাঁর অভিযোগ, অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর নাকি তাঁকে ডেকে অপমান করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। শুধু তাই নয়, শান্তনুর অভিযোগ, তাঁকে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়.

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে শান্তনু সেন দাবি করেন, তাঁ বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের অভিযোগ উঠুক কি তাঁকে সাসপেন্ড করার দাবি করা হোক, তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন। এই বিষয়ে শান্তনু সেনের পাশে ছিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের অপর দুই বর্ষীয়ান নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং সুখেন্দুশেখর রায়। এই বিষয়ে ডেরেকের বক্তব্য, 'কেন্দ্রীয় সরকার যদি মামলা করে তবে দেখে নেব। কৃষি আইন পাশ হওয়ার পর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে আমি রুলবুক ছিঁড়েছি। কিন্তু এর কোনও প্রমাণ বা ভিডিয়ো আছে? সরকার সূত্রের নাম করে এসব খবর আমদানি করে।' এদিকে সুখেন্দুশেখর এই বিষয়ে বলেন, 'পেগাসাস ইস্যুতে আমরা প্রশ্ন তোলায় তা নিয়ে সংসদে বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

প্রশ্নের জবাবে তৈরী সরকার,বার্তা মোদির

করোনা আবহে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগেই ‘পেগাসাস প্রজেক্ট’ অর্থাৎ দেশের মন্ত্রী, নেতা, বিচারপতি-সহ প্রায় শ তিনেক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির ফোনে ‘আড়ি পাতা’ কাণ্ডে উত্তপ্ত দেশ। সংসদের অধিবেশনে এই বিষয়টি বড়সড় ঝড় তুলতে পারে বলে আশঙ্কা। তার আঁচ হয়ত টের পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ।

এদিন সকালে সংসদে প্রবেশের আগে বার্তা দিতে গিয়ে তাঁর আবেদন, ”সরকার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে তৈরি। কিন্তু সংসদ কক্ষের শান্তি বজায় রেখে সরকারে সেই উত্তর দিতে দিন।” সংসদের বাইরেও দলনেতাদের সঙ্গে নানা আলোচনা চান বলেও জানালেন তিনি। জোর দিলেন সাংসদদের টিকাকরণের উপর। বললেন, ”বাহুতে টিকা নিলেই করোনার বিরুদ্ধে বাহুবলী হয়ে ওঠা যাবে।” এদিকে অধিবেশন শুরুতেই তোলপাড় হওয়ার কথা ছিল. প্রতিনিয়ত যেহারে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি চলছে তাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ. এদিন তৃণমূল সাংসদেরা সাইকেল চালিয়ে পৌঁছল সংসদে। ইতিমধ্যে বাদল অধিবেশনে পেট্রোপণ্যের পাশাপাশি পেগাসাস প্রসঙ্গ নিয়ে তোলপাড় চলছে।