ফুটবল নেই, মিজোরামে এখন মাছের পাহারাদার লাল-হলুদের স্ট্রাইকার

ভারতের জাতীয় দল এবং আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা স্ট্রাইকার এখন পজিশন বদলে ডিফেন্ডারের ভূমিকায়। না ফুটবলের ডিফেন্স নয়, বরং অন্যকিছু। ফুটবল না খেললেও লাল-হলুদের স্ট্রাইকার জেজে লালপেখলুয়া নিজের রাজ্য মিজোরামে ব্যস্ত এক মহৎ কাজে। কী সেই কাজ? জেজে ব্যস্ত নদী পাহারায়। বলা ভালো মাছ চুরি ঠেকাতেই নদী পাহারা দিচ্ছেন জেজে। মিজোরামের তুইচাং নদীতে মাত্রাতিরিক্তভাবে মাছ চুরি হচ্ছে। যার ফলে ওই নদীতে মাছের জোগান কমে গিয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় মৎসজীবীরা। তাই এবার মাছ চুরি ঠেকাতে গ্রামের যুবকদের নিয়ে একজোট হয়ে নদী পাহারা দিচ্ছেন জেজে লালপেখলুয়া।


সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেজে বলছেন, কয়েক বছরে অতিরিক্ত মাছ ধরার জন্যই আমাদের তুইচাং নদীতে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। এটা একটা বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় মৎসজীবীদের বেঁচে আছেন এই নদীর ওপর ভর করে, তাঁদের খুব সমস্যা হচ্ছে।"তুইচাং নদীর তীরবর্তী টানা ৫০০ মিটার করে এলাকা চিহ্ণিত করে জেজেরা সেখানে মাছ ধরায় ফতোয়া জারি করেছেন। এর ফলে এখন মাছের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। তিনি আরও জানান, এখানে ২৪ ঘন্টাই পালা করে নদী পাহারা দেওয়ার পর থেকে নদীতে মাছের সংখ্যা বেড়েছে।


নিজের হাতেই হাসপাতাল সাফাই করলেন করোনা আক্রান্ত মন্ত্রী, ভাইরাল ছবি

তিনি নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। একই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের। তিনি মিজোরামের বিদ্যুৎমন্ত্রী আর লালজিরলিয়া। করোনা আক্রান্ত হয়েও তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। যার ছবি সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হল। কী করেছেন মন্ত্রীমশাই? হাসপাতালের মেঝে ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেললেন তিনি। করোনাকালে তাঁর এই কাজ যথেষ্ট প্রশংশা পেল নেটিজেনদের কাছে। গত শুক্রবারই তিনি হাসপাতালের সাফাইকর্মীদের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝে পরিস্কার করলেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। তবে কাউকে শিক্ষা দিতে বা লজ্জিত করতে নয়, তিনি এটা করেছেন করোনাকালে সাধারণ মানুষকে একটু ভালো পরিষেবা দিতেই, অকপট মিজোরামের বিদ্যুৎমন্ত্রী আর লালজিরলিয়া। এই বিষয়ে তিনি কোনওরকম ভনিতা না করেই বলেছেন, বাড়িতেও তিনি ঝাঁট দেওয়া বা ধোয়া-মোছার কাজ করেন। ফলে হাসপাতালে এই কাজ করতে তাঁর কোনও লজ্জা বা সঙ্কোচ হয়নি।


মন্ত্রীর এই কাজের ছবি ভাইরাল হতেই প্রশংশার বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলেছেন, মন্ত্রী মানেই ভিআইপিস মন্ত্রী মানেই লালবাতি। অথচ মিজোরামের এই মন্ত্রী ভিআইপি সংস্কৃতিকে বিদায় জানিয়ে অবলীলায় সাফাইকর্মীদের নিয়ে হাসপাতাল পরিস্কার করলেন। তবে মিজোরামের মানুষ কিন্তু এই ঘটনায় একেবারেই আশ্চর্য নয়। মিজোরামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, আর পাঁচজন সাধারণের মতোই জীবন যাপন করে থাকেন মিজোরামের একাধিক নেতা-মন্ত্রী। সে রাজ্যের অনেক মন্ত্রী লালবাতির গাড়ি নয়, সাধারণের মতোই গণপরিবহণ বা মোটরবাইকে যাতায়াত করে থাকেন। কেউ কেউ ঘর গৃহস্থালির কাজেও হাত লাগান বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে। সেক্ষেত্রে বিদ্যুৎমন্ত্রী যে হাসপাতালের মেঝে পরিস্কার করছেন এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। প্রসঙ্গত, মিজো বিদ্যুৎমন্ত্রী আর লালজিরলিয়া এবং তাঁর স্ত্রী গত ১১ মে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথমে তাঁদের বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে এলে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরে একটু সুস্থ হতেই মন্ত্রী হাসপাতাল সাফাই অভিযানে নেমে পড়েন।