বিধাননগরে কী এবার সুজিত-সব্যসাচী লড়াই?

শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষনা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে এই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা এখন তুঙ্গে। সাধারণত ভোট ঘোষণা হলেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই তৃণমূলে দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। ফলে আজ-কালের মধ্যেই শাসকদলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। অপরদিকে প্রার্থী তালিকা নিয়ে বঙ্গ বিজেপিতেও তৎপরতা তুঙ্গে। সূত্রে খবর, পদ্ম শিবিরও খুব শীঘ্রই তালিকা প্রকাশ করে দেবে ভোটের ময়দানে সমানে সমানে টক্কর দেওয়ার জন্য। এর আগে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থীর দৌঁড়ে কে কে এগিয়ে আছেন সেটা নিয়েও জল্পনা কল্পনা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে।

কলকাতা লাগোয়া হাই প্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র বিধাননগর। এই আসনটি তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। বিদায়ী বিধায়ক রাজ্য রাজনীতির পরিচিত মুখ, তথা দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। কিন্তু এই আসনে বিজেপির প্রার্থী কে? রাজনৈতিক জল্পনায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সব্যসাচী দত্তের নাম সামনে আসছে বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে। সব্যসাচী দত্ত, দীর্ঘদিনের কংগ্রেসী নেতা, পরে প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সম্প্রতি দলের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সব্যসাচী দত্ত। বিধাননগর কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হওয়ার পর তিনিই ছিলেন প্রথম মেয়র। পাশাপাশি সব্যসাচী তৃণমূলের টিকিটে রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভা আসনে জিতে বিধায়কও হয়েছিলেন। বিধাননগরে তাঁর প্রভাব যথেষ্টই রয়েছে। এবার তিনি নিউটাউন নয়, নিজের এলাকা থেকেই ভোটে দাঁড়াতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।  সব্যসাচীর সঙ্গে সুজিত বসুর শীতল সম্পর্ক নিয়ে বিধাননগর, লেকটাউন ও দমদম এলাকায় প্রায় সকলেরই মুখে মুখে গুঞ্জন শোনা যায়। এই দুই গোষ্ঠীর কোন্দোল একসময় প্রকাশ্যেই চলছিল। এরপরই দল ছাড়ার পর সব্যসাচীকে দিল্লিতে ডেকে সম্মানের সঙ্গেই বিজেপিতে স্বাগত জানানো হয়। শোনা যায় তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর খুব প্রিয় পাত্র।


এই বছরের প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিল রাজারহাট-নিউ টাউন নয় নিজের এলাকা বিধাননগর থেকেই দাঁড়াতে চলেছেন সব্যসাচী। সন্দেহটি আরও প্রবল হয় যখন বিধাননগরের বাড়িতে বাড়িতে সব্যসাচীর নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ড পৌঁছাতে শুরু করায়। শুধু তাই নয় বিধাননগর বিধানসভার অন্তর্গত দক্ষিণ দমদম এলাকাতেও ওই শুভেচ্ছা পত্র পৌঁছে গিয়েছিল। কে কোন আসনে দাঁড়াবে তা অবশ্যই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঠিক করবে। কিন্তু অমিত ঘনিষ্ঠ যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন তবে তা শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন বাংলার রাজনৈতিক মহল। তবে কি একুশের ভোটে বিধাননগরে সুজিত বনাম সব্যসাচী লড়াই দেখবে বঙ্গবাসী? উত্তর মিলবে শীঘ্রই।


 ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুজিত বসু। তিনি পেয়েছিলেন ৬৬,১৩০ ভোট। পরাজিত করেছিলেন জোট প্রার্থী কংগ্রেসের অরূনাভ ঘোষকে। তিনি পেয়েছিলেন ৫৯,১৪২ ভোট। সেবছর বিজেপি প্রার্থী ছিলেন সুশান্ত রঞ্জন পাল, তিনি পেয়েছিলেন ২১,৭৩৫ ভোট। অপরদিকে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে এখানে বিজেপি ভালো ফল করেছিল। ২০১৯ লোকসভায় তৃণমূলের ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার বিধাননগরে পেয়েছিলেন ৫৮,৯৫৬ ভোট, সেখানে বিজেপি প্রার্থী মৃণালকান্তি দেবনাথ পেয়েছিলেন ৭৭,৮৭২ ভোট। ফলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল তৃণমূল। তাই ২০২১-এর বিধানসভায় বিধাননগরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ভোট ঘোষণার পর রাতেই বিজেপির পরিবর্তন রথ ভাঙচুর

ভোট ঘোষণার দিনই বিজেপির পরিবর্তন রথ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল মানিকতলা এলাকায়। অভিযোগের তির অবশ্যেই তৃণমূলের দিকেই। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে মানিকতলার কাদাপাড়া এলাকায় একটি গোডাউনে রাখা বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ ভাঙচুর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও ওই রথে থাকা এনইডি স্ক্রিন, মোবাইল ও ল্যাপটপও চুরি গিয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ, ভোটের প্রচারের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী রাখার জন্যই ওই গুদামঘরটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিজেপির দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে সেখানেই হানা দেয় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল। তাঁরা নির্বিচারে ভাঙচুর শুরু করতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন নিরাপত্তারক্ষী এবং পরিবর্তন রথের চালক ও খালাসি। গোলমাল শুনে সেখানে ছুটে আসেন আরও কয়েকজন। অভিযোগ তাঁদের মারধোর করে চম্পট দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত। পরে তিনি ফুলবাগান থানায় এই সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ফুলবাগান থানার পুলিশ। যদিও শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারির খবর নেই।

আর্মহার্স্ট স্ট্রিটে শুভেন্দু-অর্জুন-মুকুলদের মিছিলে ঝাঁটা-জুতো ছুঁড়ল তৃণমূল

এবার খাস কলকাতায় বিজেপির মিছিল আটকাল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা। ঠুঁঠো জগন্নাথ হয়ে দেখল পুলিশ। ফলে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বুধবার বিকেলে। হৃষিকেশ পার্ক থেকে লেবুতলা পার্ক পর্যন্ত মিছিল কর্মসূচি ছিল বিজেপির। বিজেপির সেই মিছিল যখন ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার আগেই বেশ কয়েকশো তৃণমূল কর্মী সমর্থক সেখানে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।


মিছিলে তখন উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়, অর্জুন সিংয়ের মতো নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ, ট্যাবলো লক্ষ্য করে তৃণমূল কর্মীরা ঝাঁটা, জুতো ছুঁড়েছে। এমনকি তাঁদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার পরই দুদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। যার রেশ গিয়ে পৌঁছায় আরহার্স্ট স্ট্রিট সিটি কলেজেও। কলেজের ভিতরেও সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়।