local train: লোকাল ট্রেন চলবে কবে ?

কলকাতাঃ বিজেপি নেতারা ভবানীপুর নির্বাচনের আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, লোকাল ট্রেন বন্ধ অথচ উপনির্বাচন ডাকা হয়েছে । প্রশ্ন স্বাভাবিক কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করেই তিনটি কেন্দ্রে ভোটের ব্যবস্থা করেছেন । ভবানীপুরের ভোটারদের লোকাল ট্রেনের কোনও প্রয়োজন নেই । জঙ্গিপুর এবং শামশেরগঞ্জ কেন্দ্রের ভোটারদেরও নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্যও ট্রেনের দরকার নেই । কিন্তু ট্রেন চলবে কবে, উঠছে প্রশ্ন বারবার বিজেপির পক্ষ থেকে । তারা দোষ দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে । 

এই বিষয়ে রেলওয়ে সূত্রের কিছু দুর্বলতা ধরা পড়লো ।  জানা গিয়েছে ট্রেন ব্যবস্থা চালু করতে গেলে অনেক মোটরম্যানের দরকার, যার সংখ্যা এই মুহূর্তে যথেষ্ট কম কারণ তাদের ট্রেনিং কেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ । অন্যদিকে গার্ডের সংখ্যা পর্যাপ্ত রয়েছে । দ্বিতীয়ত বহু রেক কাঁচরাপাড়া এবং লিলুয়া শেডে আটকে রয়েছে রক্ষনাবেক্ষনের জন্য । সেগুলির কাজ চলেছে এমন তথ্য নেই । তৃতীয়ত মুম্বাইয়ের অভিজ্ঞতাতে জানা গিয়েছিলো, লোকাল ট্রেনের জন্যই মুম্বাই সহ মহারাষ্ট্র, কেরালা ইত্যাদি প্রদেশে মারাত্মক ভাবে করোনা ছড়িয়ে গিয়েছিলো কাজেই তৃতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কে রাজ্য সরকার ট্রেন চালাচ্ছে না । 

কিন্তু ট্রেন কিন্তু বেশ কিছু চলছে আপৎকালীন প্রয়োজনে । সেই ট্রেনে যথেষ্ট ভিড় হচ্ছেও । 


Staff Special Train: শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার ট্রেন চলাচল ব্যাহত

শনিবার সকালে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়লেন নিত্যযাত্রীরা। এদিন সকালে শিয়ালদহ- বনগাঁ আপ শাখার রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। প্রথমে বেশ খানিকক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। তবে আপাতত দেরি করে চলছে স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন বলে খবর।পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গিয়েছে, গুমা এবং অশোকনগর স্টেশন রোডের মাঝে বিদ্যাধরী খালের সেতু রয়েছে।

আর বৃষ্টির জেরে সেই সেতুতে ধস নামে। তাতেই বন্ধ হয়ে যায় রেল লাইন। শুরু হয় মেরামতির কাজ। ফলে দীর্ঘক্ষণের জন্য পরিষেবা ব্যাহত হয়। রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বেলা ১০টার আগে পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে কর্মক্ষেত্রের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেন ধরতে এসে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের।

করোনা অতিমারীর সংক্রমণে লাগাম টানতে আপাতত রাজ্যে বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। যদিও যাত্রী সুবিধার্থে চলছে বেশ কিছু স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন। এমনকী, বর্তমানে মান্থলি কার্ড না থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেই ট্রেনে ওঠা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল বন্ধ থাকায় হয়রানি বাড়ছে সাধারণ মানুষের। এমন অভিযোগ তুলে বারবার বিক্ষোভ-প্রতিবাদে নেমেছেন যাত্রীরা।

লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে অবরোধ

আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে বিধিনিষেধ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে লোকাল ট্রেন চালানো হবে না। আর এই লোকাল ট্রেন চালানোর দাবিতেই রেল অবরোধ হলো হুগলি জেলার পাণ্ডুয়ায়। সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় অবরোধ শুরু করেন স্থানীয়রা। এখন স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চললেও তাতে সবাই উঠতে পারছেন না। এমনকী স্টাফ স্পেশাল ট্রেন বাড়ানো হলেও তা সবার জন্য নয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, আগের সূচি মেনে লোকাল ট্রেন চালাতে হবে এবং‌ লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

অবরোধের জেরে বর্ধমান মেনের ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।রাজ্যে বন্ধ রয়েছে লোকাল ট্রেন প্রায় আড়াই মাস। যদিও স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন চলছে। তাতেই চেপে কর্মস্থলে যাচ্ছেন ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষ। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা কম। তাই সেখানে ভিড় হচ্ছে। অফিস–টাইমে ট্রেন বাড়ানোর দাবি করছেন বিক্ষোভকারীরা। স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনে উঠলে হাওড়ায় ধরপাকড়করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এমনকী সব স্টেশনে দৈনিক টিকিট না দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এদিকে আজ সকাল থেকেই রেলস্টেশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় শয়ে শয়ে মানুষ। বন্ধ ট্রেন চলাচল।


রাজ্যে লোকাল ট্রেন চাইছে রাজ্য বিজেপি

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন , বাস চালু হলেও ভর্তি প্যাসেঞ্জের নেওয়া যাবে না এবং লোকাল ট্রেন একদমই এখন চলবে না | কারণ স্পষ্ট মুম্বাই সহ বিভিন্ন মেট্রো শহরে লোকাল ট্রেনের জনঘনত্বের কারণে করোনা প্রবল ভাবে বেড়ে গিয়েছিলো বিশেষ করে দ্বিতীয় ঢেউয়ের অন্যতম কারণ লোকাল ট্রেন কিন্তু ওই ট্রেন চালাতেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েলকে পত্র দিয়ে অনুরোধ জানালো রাজ্য বিজেপি |
বিজেপির পক্ষ থেকে বিগত বিধানসভায় পরাজিত প্রার্থী এবং বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, পীযুষ গোয়েলকে এই চিঠি দেন | বিজেপির পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, সরকার মর্জিমাফিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, বাস চলছে অথচ ট্রেন বন্ধ | দিলীপ ঘোষ জানান, গরিব মানুষ লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভরশীল অথচ সেটাই বন্ধ | তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিয়মিত পেট্রো সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস সাধারণ যাত্রীদের, এই সময়ে স্বপনবাবু , দিলীপবাবুদের নীতিবোধ কোথায় থাকে? ট্রেন চালু করার পর ফের সংক্রমণ বৃদ্ধি হলে তার দায়িত্ব বিজেপি নেবে তো ?

এখনই লোকাল ট্রেন চালাতে চায় না রাজ্য

করোনাকালে বন্ধ রয়েছে লোকাল ট্রেন। তবে কিছু স্টাফ স্পেশ্যাল চালানো হচ্ছে। তাতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। কোথাও কোথাও যাত্রী বিক্ষোভের জেরে ব্যহত হচ্ছে পরিষেবা। এই পরিস্থিতিতে লোকাল ট্রেন চালু করতে চায় রেল। তবে এখনই লোকাল ট্রেন চালাতে রাজি নয় রাজ্য।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ‘‘এখন ট্রেন চালালে করোনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।’’ তবে লোকাল ট্রেন আরও কতদিন বন্ধ থাকবে সে ব্যাপারে কিছু বলেননি মমতা।

লোকাল ট্রেন চালু করতে কী ভাবনা? তা রাজ্যকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছে রেল। তারপর আজ বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়েছে পূর্ব রেল। সেখানে বলা হয়েছে,করোনা আবহে স্টাফ স্পেশ্যালে ভিড় কমানো প্রয়োজন। এমনটাই সূত্রের খবর।

রেল ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া স্টাফ স্পেশালে উঠলেই গ্রেফতার, জানাল রেল

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্য জারি হয়েছে কার্যত লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ লোকাল ট্রেন সহ যাবতীয় গণপরিবহন। তবুও কিছু অফিস, জরুরী পরিষেবা চালু রয়েছে। ফলে ওই পরিষ্বার সঙ্গে যুক্তদের কাজে যোগ দিতে হিমশিম অবস্থা। অপরদিকে হাতে গোনা কয়েকটি স্টাফ স্পেশাল লোকাল ট্রেন চালাচ্ছে পূর্ব রেল। হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনে রেলকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য চালানো হচ্ছে ট্রেনগুলি। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ওই স্টাফ স্পেশালে ওঠার অনুমতি দিয়েছে রেল, তবে নির্দিষ্ট কামরায়। অভিযোগ, তবুও বহু মানুষ উঠে পড়ছেন স্টাফ স্পেশালে। এই পরিস্থিতিতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রেল। রেল ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া আর কেউ ওই ট্রেনে চড়লেই এবার থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। এমনটাই জানানো হল রেলের তরফে।