বিজেপি, বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাই গণতন্ত্রের খেলায় নামবেন মমতা

"আপনারা সিপিএম-কংগ্রেসকে নিয়ে টিম করে খেলতে পারেন, আমরা একা লড়ব। আমি গোলকিপার হব। দেখব, কত গোল দিতে পারেন। আমাকে অত সহজ না গোল দেওয়া। হোক না একটা খেলা! গণতন্ত্রের খেলা। খেলাটা যেন ঠিকমতো হয়।" বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বিজেপির উদ্দেশে একথা বলেন। তাঁর কথায়, চাষিদের লুট করে, ধর্মকে পালন করতে না দিয়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে বাংলা দখল করতে চাইছে। এদের কাছে মাথা নত করব না। আমাকে গালাগালি করতে পারেন, কিন্তু উপেক্ষা করতে পারবেন না। এদিন উত্তীর্ণায় তিনি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও ধর্মীয় সংগঠনের সম্মেলনে বলেন, অমিত শাহর দৈত্যপরায়ণ মনোভাবের কথা তুলে মমতা বলেন, যেন শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এ সব মানায় না।
এদিন কোচবিহারে শাহ বলেছেন, ভোট শেষ হতে না হতেই মমতাও জয় শ্রীরাম বলবেন। জবাবে মমতা বলেন, গলা কেটে দিলেও আপনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করব না। ‘পিসি-ভাইপো’ নিয়ে শাহর খোঁচার জবাবে মমতা চেনে এনেছেন অমিতপুত্র জয় শাহের কথা। তিনি বলেন, খালি বুয়া-ভাতিজা? আপনার ছেলে কী করে? কী করে এত টাকা এল তার কাছে? মমতার প্রশ্ন, আমি দুর্নীতিপরায়ণ হলে তোমরা কী? বলেছেন, এটা বাংলা। এখানে গুন্ডামি চলবে না। যত খুশি ক্যা (সিএএ) করো। কিন্তু এখানে ট্যাঁ ফু করা যাবে না! তাঁর আবেদন, বিজেপি-কে যেন বাংলার মানুষ ক্ষমতায় না আসতে দেন।ওরা এলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। সেই সর্বনাশ হতে দেবেন না।

শরিকদের বাদ দিয়েই আজ কংগ্রেস-বাম বৈঠক

রবিবার কংগ্রেস-বাম জোটের বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। জটিলতা বাড়তে থাকায় আসনরফা নিয়ে সিপিএম ছাড়া বামফ্রন্টের অন্য দলের সঙ্গে এখনই আলোচনায় বসতে চায় না কংগ্রেস। এখন তারা সিপিএমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবে। রবিবারই শহরে আসছেন পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদ ও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় চার সদস্য। উল্লেখ্, বিধানসভার আসনরফা নিয়ে বামফ্রন্টের অন্য শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক ও আর এসপির সঙ্গে জটিলতা বাড়ছে কংগ্রেসের। তাই তাদের বাদ দিয়ে শুধু সিপিএমের সঙ্গেই বৈঠক করবে তারা। এছাড়া, আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের সঙ্গেও জোট নিয়ে কথা বলে নিতে চাইছে দুই পক্ষই। আব্বাসের সঙ্গে জোটের অনুমতি চেয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেছিলেন আবদুল মান্নান। তা মিলবে বলে আশাবাদী কংগ্রেস।

বাম কংগ্রেসের ভোটের ইস্যু কর্মহীনতা, অনুন্নয়ন

ভোটের ৫ মাস আগে থেকেই বাংলায় ২০২১ এর নির্বাচনী সভা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি। মূল লড়াই এবার এই দুই দলের মধ্যে। কিন্তু এখনও কোনও দলই অর্থনীতি বা কর্মহীনতা, বেকারত্ব নিয়ে খুব একটা মুখ খুলছেন না। ৫ বছরের মার্কশিটও বিশেষভাবে কেউই তুলে ধরছেন না যদিও এখনও প্রধানমন্ত্রী ময়দানে নামেননি পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তাঁর ১০ বছরের কাজের কথা বলছেন কিন্তু বাকি সবাই ব্যস্ত ব্যক্তিগত আক্রমণে।
কিন্তু বাম-কংগ্রেসের অন্দরমহলের কথায় জানা যাচ্ছে, তারা অর্থনীতি, বেকারত্ব, কর্মহীনতা ইত্যাদি ইস্যুতে বাজার গরম করতে নামছে। তাদের সুবিধা কেন্দ্র কিংবা রাজ্য কোথাও ক্ষমতায় নেই তাদের দল। এর সাথে কৃষি আন্দোলনকে তুলে ধরবে তারা। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার কলকাতা ঘুরে গেলেন আবার আসবেন ভোট প্রচারে। আসবেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতারাও। পাশাপাশি কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে নামছেন। রাজ বব্বর  থেকে আজহারউদ্দিনের মতো তারকা নেতারাও।