কলকাতায় চালু হলো ড্রাইভ-বাই কোভিড ভ্যাকসিনেশন

কলকাতা পুলিশ এবং এএমআরআই হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে বুধবার থেকে শহরের কয়েকটি জায়গায় চালু হলো ড্রাইভ-বাই কোভিড ভ্যাকসিনেশন। অর্থাৎ কোনও হাসপাতাল অথবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া প্রয়োজন নেই, নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি নিয়ে পৌঁছে পরিচয়পত্র দেখালে নিজের গাড়িতে বসেই পেয়ে যাবেন ভ্যাকসিন।
 
লালবাজার জানিয়েছে,ড্রাইভ-বাই কোভিড ভ্যাকসিনেশন-র উদ্বোধন করেন কলকাতার নগরপাল সৌমেন মিত্র। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত ১৮ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য চালু থাকবে তিনটি ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র।

কেন্দ্রগুলো হল- ময়দানে ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব সংলগ্ন পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাব,অজয়নগর সার্ভিস রোড এবং টালা পার্ক ট্রাফিক ট্রেনিং স্কুল।
 
ভ্যাকসিন নিতে হলে COWIN-এ রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক, এবং শুধুমাত্র  চার-চাকা যানের যাত্রীরাই ভ্যাকসিন পাবেন। বর্তমানে তিনটি কেন্দ্রেই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। ভ্যাকসিন নেওয়ার পর নিয়মমাফিক আধঘণ্টা গাড়িতেই অপেক্ষা করতে হবে। ভ্যাকসিনের মূল্য মাথাপিছু ৮৫০ টাকা।

পুলিশের ওয়ার্ক ফ্রম হোম

করোনাকালে সরকারি বেসরকারি সংস্থার অধিকাংশ কর্মী ওয়ার্ক ফ্রম হোম এর সুবিধা পাচ্ছেন। এবার ওয়ার্ক ফ্রম হোম এর  সুবিধা পাবে কলকাতা পুলিশও। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসিরা পাবেন। তাছাড়া সপ্তাহে একদিন ছুটিও নিতে পারবেন তারা। তারফলে পরিবারের সঙ্গে একদিন সময় দিতে পারবেন।


করোনার দ্বিতীয় পর্বেও অনেক পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। তবুও সামনের সারিতে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়ছেন তারা। অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা ছুটি পেলেও, টানা ছুটি পেতেন না থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসিরা। এবার এরা একদিন ছুটি নিতে পারবেন। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, একই দিনে যাতে একটি থানার ওসি ও অতিরিক্ত ওসি ছুটিতে না চলে যান।  

কাটল দুর্গোগ, কলকাতায় খুলে দেওয়া হল সমস্ত ফ্লাইওভার

আপাতত দুর্যোগ কেটেছে কলকাতার। যদিও বৃষ্টিপাত এখনই কমছে না, তবুও ঝড়ের আশঙ্কা অনেকটাই কম। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ কলকাতার সমস্ত উড়ালপুল যান চলাচলের জন্য খুলে দিল। কলকাতা পুলিস জানিয়েছে ফ্লাইওভারে যান চলাচলে আর কোনও বাধা নেই। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জেরে বুধবার সকাল থেকেই শহরের ৯টি উড়ালপুল বা ফ্লাইওভারে যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাফিক পুলিশ। বেলা গড়াতেই কাটে দুর্যোগ, ফলে সবক’টি উড়ালপুল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রথমে লকগেট উড়ালপুলটি খুলে দেওয়া হয়। তার পর দুপুর ১টা নাগাদ খুলে দেওয়া হয় তারাতলা উড়ালপুল। পরে মা এবং এজেসি বোস রোডের পর বাকি উড়ালপুলগুলিও একে একে খুলে দেয় প্রশাসন। পরে গার্ডেনরিচ, পার্ক স্ট্রিট, তারাতলা, গড়িয়াহাট, এজেসি বোস রোড, মা, চিংড়িঘাটা এবং লকগেট উড়ালপুলগুলি দুপুর ২টোর আগেই খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালের দিকে কলকাতার বুকে ঘন্টায় ৬২ কিমি গতিবেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে, কলকাতায় আপাতত বড় কোনও দুর্যোগের আশঙ্কা নেই।

নিজাম প্যালেসে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার চার, চলছে তল্লাশি

নারদ মামলায় রাজ্যের দুই মন্ত্রী সহ চার হেভিওয়েট নেতাকে গ্রেফতার করে সিবিআই। গত সোমবার সকাল থেকেই এই ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের জারি করা কার্যত লকডাউন উপেক্ষা করেই কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী সমর্থক জড়ো হয়ে যান নিজাম প্যালেসের সামনে। বেলার দিকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নিজাম প্যালেস চত্বর। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। সিবিআইয়ের আঞ্চলিক দফতর নিজাম প্যালেসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা রক্ষীদের দিকে ইট-পাথর-বোতল ছোড়া হয়। পরে অবশ্য পুলিশ ওই বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। এবার ওই ঘটনার প্রায় তিনদিন পর পুলিশ চার়জনতে গ্রেফতার করল। সূত্রের খবর, শেক্সপিয়র সরণী থানায় একটি মামলা রুজু হয় নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায়। তদন্তে নেমে পুলিশ অবশেষে চারজনকে গ্রেফতার করল শেক্সপিয়র সরণী থানার পুলিশ।


জানা যাচ্ছে ধৃতদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি খিদিরপুর এলাকায় এবং একজনের বাড়ি বেনিয়েপুকুরে। সূত্রের খবর, ওই দিন নিজাম প্যালেসে বিক্ষোভের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠিয়েছে সিবিআই এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। চাপের মুখে তদন্তে নামে কলকাতা পুলিশ। এরপরই এই গ্রেফতারি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে আরও অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই চারজনকে ধরা হয়েছে। ধৃতদের বৃহস্পতিবারই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। তাঁদের জেরা করেই বাকিদের খোঁজ চালানো হবে। অপরদিকে, আইনজ্ঞদের একাংশের দাবি, নিজাম প্যালেসে ওই তাণ্ডবের জেরেই যে চার নেতা-মন্ত্রীর জামিনের বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।

গঙ্গা থেকেই উদ্ধার নিখোঁজ ব্যবসায়ীর দেহ

রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে নিজের গাড়ি নিয়েই বের হয়েছিলেন কড়েয়ার ব্যবসায়ী স্মরণকুমার বিড়লা। এরপর দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে তাঁর গাড়িটি পাওয়া গেলেও খোঁজ ছিল না ব্যবসায়ীর। গঙ্গায় ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করে কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। অবশেষে রবিবার রাত ৯টা নাগাদ হাওড়ার নাজিরগঞ্জের কাছে গঙ্গায় রাত ৯টা নাগাদ ভেসে ওঠে তাঁর দেহ। খবর পেয়ে পুলিশ উদ্ধার করে দেহটি। নিখোঁজ ব্যবসায়ী স্মরণকুমারের পরিবারের লোকজন দেহ শনাক্ত করেন। তবে এটি খুন নাকি আত্মহত্যার ঘটনা সেটা নিয়ে ধন্ধ রয়েছে। দেহটি ময়নাতদন্ত করা হবে। তবে হেস্টিংস থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। পরিবার সূত্রে খবর, কয়েকদিন আগেই তিনি সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে স্মরণকুমার করোনামুক্ত হলেও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এরজন্যই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। 

গাড়ি মিলল দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে, রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ব্যবসায়ী

রবিবার সকালে কড়েয়ার বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী স্মরণকুমার বিড়লা প্রাতঃভ্রমণের নাম করেই গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে বেলার দিকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে তাঁর গাড়িটি পাওয়া যায়। ওই গাড়ির সূত্র ধরেই ব্যবসায়ীর পরিচয় জানতে পারেন পুলিশ আধিকারিকরা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ জানতে পারেন এদিন সকাল থেকেই নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ী। এরপরই পুলিশ গঙ্গায় ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। পুলিশের অনুমান মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন ব্যবসায়ী স্মরণকুমার বিড়লা। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে দিন কুড়ি আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তবে সেরে গেলেও বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল তাঁর। এই কারণেই হয়তো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তবে ওই ব্যবসায়ীকে অপহরণ বা খুন করা হয়েছে কিনা সেটা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চিন্তিত ওই ব্যবসায়ীর পরিবার।

জরুরী পরিষেবার জন্য রাস্তায় বের হবেন? জেনে নিন কিভাবে নেবেন e-Pass

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ফের কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকার। রবিবার সকাল ৬টা থেকেই আগামী ১৫ দিনের জন্য কার্যত লকডাউন ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। যেমন ই-কমার্স সংস্থার ডেলিভারি, খাবারের হোম ডেলিভারি, ওষুধ-অক্সিজেন সরবরাহ এবং আপাতকালীন পরিষেবার সঙ্গে যুক্তরা রাস্তায় বের হতে পারবেন। কিন্তু তাঁদের সংগ্রহ করতে হবে বিশেষ ই-পাস। কিভাবে পাবেন এই বিশেষ পাস? উত্তর খুঁজছেন অনেকেই। এই ব্যাপারে কলকাতা পুলিশ অবশ্য জানিয়ে দিল মুশকিল আসানের পথ। শনিবার রাতেই কলকাতা পুলিশ টুইট করে জানাল কিভাবে সংগ্রহ করতে হবে ই-পাস। অনলাইন আবেদন জানাতে হবে ই পাসের জন্য। নির্দিষ্ট কিছু তথ্য জমা দেওয়ার পরে পাওয়া যাবে এই পাস। গতবারের লকডাউনের মতো এ বারও এই নিয়ম চালু হচ্ছে।


কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, জরুরি পরিষেবার পাশাপাশি ই-কমার্স তথা অনলাইন ডেলিভারির সঙ্গে যুক্ত এবং খাবারের হোম ডেলিভারির সঙ্গে যুক্তরা এই ই-পাস সংগ্রহ করবেন।কলকাতা পুলিশের ওয়েবসাইটে সমস্ত তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলআপ করতে হবে অনলাইনে। তারপর সেখান থেকে একটি কিউআর কোড পাওয়া যাবে। যে কোনও নাকা চেকিংয়ের ক্ষেত্রে সেই কিউআর কোড দেখালে তবেই ছাড়পত্র মিলবে। একই নিয়ম লাগু হবে যারা কোভিড পরীক্ষা করাবেন বা টিকা নিতে যাবেন তাঁদেরও একই পদ্ধতিতে ই-পাস সংগ্রহ করতে হবে।  


কিভাবে সংগ্রহ করবেন ই-পাস?

  • কলকাতা পুলিশের passkolkatapolice.gov.in লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে। সেখানেই অনলাইনে ফর্ম ফিলআপ করে ই-পাস সংগ্রহ করা যাবে।
  • এছাড়া অন্য একটি লিঙ্কও দেওয়া হয়েছে, সেটি হল  https://coronapass.kolkatapolice.org/ এই লিংকে ক্লিক করে I Agree বক্সে ক্লিক করার পর একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। এখানে ‘Individual’ এবং ‘Organaisation’ অর্থাৎ সংস্থার নাম লিখে নির্দিষ্ট চেকবক্সে ক্লিক করে ফর্ম পূরণ করতে হবে।