নতুন নিয়মে ১ মাসেই ফেসবুক থেকে উধাও ৩ কোটি পোস্ট

নতুন নিয়মে ১ মাসের মধ্যেই ৩ কোটি পোস্ট মুছে ফেলল ফেসবুক। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম থেকে ২০ লক্ষ পোস্ট বাদ যেতে পারে।

দেশের নয়া ডিজিটাল আইন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে প্রতি মাসে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। যেখানে লেখা থাকবে, কত অভিযোগ জম পড়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে।

প্রথম মাসেই ফেসবুক জানিয়েছে, ১৫ মে থেকে ১৫ জুনের মধ্যে ৩ কোটি পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই কোটি স্প্যাম, ২৫ লক্ষ হিংসাত্মক গ্রাফিক্স, ১৮ লক্ষ যৌনতা সংক্রান্ত পোস্ট ও ৩ লক্ষ ১১ হাজার ঘৃণামূলক মন্তব্য সরানো হয়েছে। এ ছাড়াও হেনস্তা, আত্মহত্যা, জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত পোস্ট মুছে ফেলেছে ফেসবুক।

সংস্থা জানিয়েছে, ৩০-৪৫ দিনের ব্যবধানে রিপোর্ট প্রকাশ করবে তারা। এরপরে ১৫ জুলাই ফের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনবে ফেসবুক। সেদিন রিপোর্ট প্রকাশ করবে তাতে হোয়াটসঅ্যাপ সংক্রান্ত তথ্যও থাকবে।

অন্যদিকে শুক্রবারই গুগল এবং কু তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করে। ৫৯ হাজারেরও বেশি আইন লঙ্ঘনকারী লিঙ্ক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সেই রিপোর্টে দাবি করেছে গুগল। শুধু গুগল-ই নয়, অভিযোগ হাতে পাওয়ার পরই পদক্ষেপ করেছে নেটমাধ্যম সংস্থা কু।

২ বছরের জন্য ফেসবুকে নিষিদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প

এবার ফেসবুকে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হল আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্যাপিটাল হিংসার জেরে মূলত তার আকাউন্ট সাসপেন্ড করা হয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এদিকে ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক ক্লিক জেক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, 'গুরুতর কারণে তার ওপর কঠোর নিষেধ  চাপানো হয়েছে। যদি সেগুলো না মানা  হয় তবে আরো কঠিন শাস্তি তিনি পেতে পারেন।
দরকার পড়লে তার ফেসবুক একাউন্ট চিরতরের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ফেসবুকে রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক তাদের নীতি বদলাচ্ছে।এদিকে মার্ক জুকের বার্গ অনেক নতুন নিয়ম বদলাচ্ছে। এই নিয়ে অনেকবার রাজনীতিবিদদের প্রসঙ্গে বহু কথা উঠে এসেছে।এবার ফের একই ঘটবেনা হয় সেই কারণে এই সিদাহঁত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ক্ষোভ  উগরে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর মাত্র কয়েক ঘন্টা, ভারতে বন্ধ হতে পারে ফেসবুক-টুইটার-ইনস্টাগ্রাম!

কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া গাইডলাউন অনুযীয় সোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় অ্যাপ ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম ভারতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এবং সেটা কাল থেকেই হতে পারে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য একটি গাইডলাইন জারি করেছিল। সেই অনুযায়ী ২৫ মে তারিখের মধ্যেই সংস্থাগুলির বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকে। সূত্রের খবর, একমাত্র ভারতীয় ম্যাসেজিং অ্যাপ ‘কু’ ছাড়া আর কোনও সংস্থাই সেগুলি জমা করেনি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী ওই অ্যাপগুলি ভারতে বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এখন দেখার কেন্দ্রীয় সরকার কড়া মনোভাব নেয় কিনা।


কেন্দ্রের নয়া গাইডলাইনে বলা হয়েছে, সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা হবে। প্রত্যেক সংস্থাকেই তাঁদের ভারতীয় সদর দফতরের ঠিকানা, যোগাযোগ নম্বর, ই-মেল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ আধিকারিকের নাম এবং নম্বর জমা দিতে হবে। এছাড়া অভিযোগ জানানোর মতো (কমপ্লায়েন্স) একজন অধিকর্তাও নিয়োগ করে তাঁর নাম ও নম্বর জমা দিতে হবে। এবং কোনও অভিযোগ এলেই দ্রুত তার সমাধান করতে হবে। সমস্ত আপত্তিকর কনটেন্টের উপর নজরদারি রাখা এবং ব্যবস্থা নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই গাইডলাইনে। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত একমাত্র ভারতীয় সংস্থা ‘কু’ ছাড়া কোনও সংস্থাই এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নেট নাগরিকদের রক্তচাপ বাড়ছে। তবে জানা যাচ্ছে গাইডলাইনের নিয়মাবলী পালনের জন্য তাঁদের হেড কোয়ার্টার থেকে সবুজ সংকেত না আসায় সংস্থাগুলি এখনও সেগুলি দিয়ে উঠতে পারেনি। এখন দেখার কেন্দ্র তাঁদের কিছুটা সময় দেয় কিনা।