ভোটের মধ্যেই পরবর্তী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন সুশীল চন্দ্র

শুক্রবারই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা। কিন্তু ফল ঘোষণা আর করা হবে না তাঁর। কারণ তার আগেই তিনি অবসর নেবেন। কিন্তু ভোটের মাঝখানে, আগামী ১৩ এপ্রিল মেয়াদ শেষ হচ্ছে সুনীল আরোরার। ফলে শুক্রবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁর শেষ সাংবাদিক বৈঠক ছিল। সাধারণত ভোট ঘোষণা এবং ফল ঘোষণার দিন আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু এবারই সম্ভবত ছেদ পড়ছে দীর্ঘদিনের এই রীতিতে।

যদিও এরমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে পাঁচ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাঝপথেই কি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পরিবর্তন করা ঠিক হবে? এতে কমিশনের কাজকর্মে প্রভাব বা ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হবে না তো? নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, সুনীল আরোরা অবসর নেবেন সেটা মাথায় রেখেই যাবতীয় ব্যবস্থা এবং প্রস্তুতি সারা হয়েছে। ফলে ধারাবাহিকতা ছেদ পড়ার সম্ভবনা নেই। ফলে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনার সুশীল চন্দ্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পেতে পারেন। জানা গিয়েছে, ১৯৮০ সালের ক্যাডার, ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসের অফিসার সুশীল চন্দ্র। তাঁর অবসর নেওয়ার কথা আগামী বছর।

পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় ভোট, দেখে নিন সূচি

করোনা আবহে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে। শুক্রবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করল। ভোট ঘোষণার পরই আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়ে গেল বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল আরোরা। পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় হবে ভোট গ্রহন। প্রথম দফায় ২৭ মার্চ ভোট হবে বাংলার ৩০টি আসনে। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিল ভোট হবে ৩০ আসনে। তৃতীয় দফায় ৬ এপ্রিল ভোট হবে ৩১ আসনে। চতুর্থ দফায় ১০ এপ্রিল ভোট হবে ৪৪ আসনে। পঞ্চম দফায় ১৭ এপ্রিল ভোট হবে ৪৫ আসনে। ষষ্ঠ দফায় ২২ এপ্রিল ভোট হবে ৪৩ আসনে। সপ্তম দফায় ২৬ এপ্রিল ভোট হবে ৩৬ আসনে এবং অষ্টম তথা শেষ দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল শেষ ৩৫ আসনে। ভোটগণনা ও ফলাফল ২ মে। পাশাপাশি কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতে একদফায় ভোট। অসমে তিন দফায় ভোট।
প্রথম দফা- ২৭ মার্চ (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া-১, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর-১ এবং পূর্ব মেদিনীপুর-১)
দ্বিতীয় দফা- ১ এপ্রিল (বাঁকুড়া-২, পূর্ব মেদিনীপুর-২, পশ্চিম মেদিনীপুর-২, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-১)
তৃতীয় দফা- ৬ এপ্রিল
চতুর্থ দফা- ১০ এপ্রিল (হাওড়া-২, হুগলি-২, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-৩, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার)
পঞ্চম দফা- ১৭ এপ্রিল ( উত্তর ২৪ পরগনা-১, নদিয়া-১, পূর্ব বর্ধমান-১, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি)
ষষ্ঠ দফা- ২২ এপ্রিল (উত্তর ২৪ পরগনা-২, নদিয়া-২, পূর্ব বর্ধমান-২, উত্তর দিনাজপুর)
সপ্তম দফা- ২৬ এপ্রিল (মালদা -১, মুর্শিদাবাদ -১, পশ্চিম বর্ধমান, কলকাতা দক্ষিণ, দক্ষিণ দিনাজপুর)
অষ্টম দফা- ২৯ এপ্রিল (মালদা-২, মুর্শিদাবাদ-২, কলকাতা উত্তর এবং বীরভূম)

আজই বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন

শুক্রবারই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে এই কথা এখনও জানায়নি কমিশন। শুক্রবার সকাল থেকেই দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। যদিও জানা যাচ্ছে, এদিন বিকেল সাড়ে চারটেই সাংবাদিক বৈঠক করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাই ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন বিষেষজ্ঞমহল।

কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গে ছয় থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হতে পারে। উল্লেখ্য গত লোকসভা নির্বাচনে সাত দফায় ভোট হয়েছিল। কিন্তু এবার করোনা আবহে পশ্চিমবঙ্গে আরও এক-দুই দফা বাড়তে পারে। কারণ বুথের সংখ্যা বেড়ে এক লাখের বেশি করা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ববিধি বজায় রাখার জন্য। যদিও বাকি তিন রাজ্য (অসম, কেরালা এবং তামিলনাড়ু) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে কম দফায় ভোট হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত গত ২২ ফেব্রুয়ারি অসমের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আরও আগেই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এমনও করছেন, শুক্রবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেও নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তি দিন কয়েক পর জারি করা হতে পারে।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চের মধ্যেই ফের রাজ্যে আসছেন উপ নির্বাচন কমিশনার

ভোট ঘোষণার আগেই রাজ্যে চলে এসেছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যেই তাঁরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ শুরু করে দিয়েছে। এবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আসছেন উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের ভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, চলতি মাসের সম্ভবত ২৫ তারিখ কলকাতায় পৌঁছবেন সুদীপ জৈন। ওইদিন ও ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপরই ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই ভোট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছিলেন উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন। সেবারও রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। পাশাপাশি প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। কিন্তু এবার ভোট ঘোষণার দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে যে তাঁরা কতটা চিন্তিত সেটা বোঝা যাচ্ছে তড়িঘড়ি রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো দেখেই। রবিবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে এরিয়া ডোমিনেশন। রুটমার্চের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাও বলছেন। সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারী মাসের মধ্যেই রাজ্যে ধাপে ধাপে ১২৫ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠাবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

প্রয়োজনে অন্য রাজ্য থেকে কর্মী অনুক কমিশন, দাবি বিজেপির

ভোটের কাজে যেন রাজ্য সরকারের চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা না হয়। এমনিই একগুচ্ছ দাবিদাওয়া নির্বাচন কমিশনের কাছে পেশ করল বঙ্গ বিজেপি। পাশাপাশি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি চালু করারও অনুরোধ করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি সংসদ স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিশির বাজরিয়া রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে এই নতুন দাবিদাওয়া পেশ করেছেন। শিশির বাজরিয়া দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের গ্রুপ-ডি কর্মী হিসেবে দেখিয়ে ভোটের কাজে লাগাতে চাইছে। আমাদের কাছে এর নির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। যেহেতু ওরা স্থায়ী কর্মী নয়, সেহেতু ওরা কোনও ভুল করলে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। আবার কমিশন তাদের শাস্তিও দিতে পারবে না স্থায়ী কর্মী না হওয়ার জন্য।

বিজেপির বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাজে লাগিয়ে ভোটে সুবিধা পেতে চাইছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রেও কারচুপি হতে পারে। যেমন স্পর্শকাতর এলাকায় বাহিনী না পাঠিয়ে হাইওয়ে বা বড় রাস্তায় রুটমার্চ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। তাই আগেভাগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জানিয়ে রাখলো বলে জানাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। যদি রাজ্য সরকারি কর্মচারী কম পড়ে তাহলে পড়শি রাজ্য থেকে আধিকারিকদের এনে ভোটের কাজে লাগানো হোক বলেই দাবি তুলেছে বঙ্গ বিজেপি। অপরদিকে শনিবার বিকেল থেকেই রাজ্যের কয়েকটি জেলায় রুটমার্চ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

রাজ্যে চলে এল কেন্দ্রীয় বাহিনী, ভোট ঘোষণা শীঘ্রই

শনিবারই বিশেষ ট্রেনে দুর্গাপুর এসে পৌছালো প্রথম দফার কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এদিন ১২ কোম্পানি আধা সেনা বঙ্গে এসে পৌঁছেছে। এরমধ্যে ২ কোম্পানি দুর্গাপুরে নামে, এক কোম্পানি বর্ধমানে। বাকিরা ডানকুনি হয়ে কলকাতা পৌঁছাবে। এখনও ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন কিন্তু তার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো কার্যত নজিরবিহীন। যদিও ভোটের  নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই তাঁদের দিয়ে রুট মার্চ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। কমিশন সূত্রে খবর, এদিন রাজ্যে আসা ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক কোম্পানি বাঁকুড়ায়, এক কোম্পানি বীরভূমে ও এক কোম্পানি বর্ধমানে মোতায়েন করা হবে। বাকি ৫ কোম্পানি আধা সেনা আপাতত ডানকুনি স্টেশনে নামবে। এবং কলকাতা স্টেশনে ৪ কোম্পানি নামবে।


সূত্রের খবর, ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রাজ্যে ১২৫ কোম্পানি আধা সেনা রাজ্যে পাঠানো হবে। যার বেশিরভাগই সিআরপিএফ জওয়ান। এছাড়া বিএসএফ, আইটিবিপি, সিআইএসএফ জওয়ানও থাকবে ভোটের কাজে। জানুয়ারি মাসের শেষেই কলকাতা ঘুরে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেসময়ই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বার্তা দিয়েছিলেন এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করবে না কমিশন। এজন্য রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কড়া বার্তা দিয়ে গিয়েছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এবার বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়ে দিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিল কড়া হাতেই ভোট পরিচালনা করতে চায় তাঁরা।