Sreebhumi: বুর্জ খলিফা, এবার বিতর্কে সুজিত পুত্র

কলকাতাঃ বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না শ্রীভুমি স্পোর্টিং এর বুর্জ খলিফার। এবার বিতর্কে সুজিত পুত্র সমুদ্র বসু। দশমীর দিন মমতা ও অভিষেকের পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ। ওই ঘটনায় সুজিত পুত্র সমুদ্র বসুর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় এফআইআর দায়ের। সব্যসাচী অনুগামী উদয়ন সরকার এফআইআর করেন সুজিত পুত্রের বিরুদ্ধে। 

এবারের দু্র্গাপুজর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ও অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছবি দিয়ে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে হোডিং দেওয়া হয়েছিল। সল্টলেকের একটি পুজো মন্ডপ ও অন্যান্য জায়গায় হোডিং দিয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দা উদয়ন সরকার। অভিযোগ সুজিত পুত্র ওই হোডিং ছিড়ে ফেলেছে। 

এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয় বিধাননগর উত্তর থানায়। বিধাননগরের বর্তমান বিধায়ক সুজিত বসু। অথছ তার পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলেও,তিনি অনেক পরে তা জানতে পারেন।  

এদিকে বুর্জ খলিফায় ভিড় সামলাতে ষষ্ঠীতে প্রথমে লেজার লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সপ্তমীতে মণ্ডপে ঢোকার একদিকের রাস্তা বন্ধ করে প্রশাসন। অষ্টমীতে বন্ধ হয় প্রতিমা দর্শন। নবমী থেকে পূর্ব রেলের সিদ্ধান্ত মতো লোকাল ট্রেন দাঁড়ানো বন্ধ হয় বিধাননগর স্টেশনে। আর দশমীতে সুজিত পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের থানায়। 

এই প্রথমবার নয়,অতীতেও দত্তাবাদে ঝুপড়ি উচ্ছেদ থেকে নিউটাউনের সিন্ডিকেট নিয়ে বারবার ‘ঝামেলা’ বেধেছে সুজিত-সব্যসাচী অনুগামীদের মধ্যে। এবার জল কোনদিকে গড়ায় সেদিকেই নজর সবার।

Durga Puja 2021: ষষ্ঠী থেকে দশমী ১২ লক্ষে বেশি মানুষ মেট্রো যাত্রা করেছেন

কলকাতাঃ ষষ্ঠী থেকে দশমী ১২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫৮৩ জন মানুষ  মেট্রোর যাত্রা করেছেন। 

রেল সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোয় মহাসপ্তমীর দিন ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫১ জন  যাত্রী মেট্রো রেল ব্যবহার করেছেন। ওই দিন ১২ টি অতিরিক্ত রেল চালিয়েছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। অষ্টমীর দিন ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ১৩ জন যাত্রী উঠেছেন মেট্রো রেলে। অষ্টমীতে মোট ২০৪ টি মেট্রো চালানো হয়।

নবমী দিন মেট্রোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৪৮০ জন যাত্রী যাত্রা করেছেন মেট্রোতে। ওইদিন যাত্রী পরিষেবায় ২১৬ টি মেট্রো চলেছিল। 

পুজোর পাঁচ দিন মেট্রো যাত্রীদের নিরাপত্তার উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কুইক রেসপন্স টিম, রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স এবং কলকাতা পুলিশের সাহায্যে মানুষকে সঠিক ভাবে পরিষেবা দিয়ে সফল হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মহিলা আর পি এফ মোতায়েন করা হয় পুজোর পাঁচ দিন। এছাড়া চারটি স্টেশনে মেডিক্যাল বুথ করা হয়েছিল।  

Sreebhumi: ফের বিতর্কে বুর্জ খলিফা! প্যান্ডেল এর উচ্চতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ?

কলকাতাঃ বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না শ্রীভুমি স্পোর্টিং এর বুর্জ খলিফার। দীর্ঘদিন ধরেই বিগ বাজেটের পুজো করে অভ্যস্ত এই ক্লাব। প্রত্যেক বছরই তাক লাগানো পুজো করে থাকেন ক্লাব কর্তারা। এবার দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার অনুকরণে মণ্ডপ নির্মিত হয়। ছিলো চোখ ধাঁধানো আলোর সাজ।  

ফলে শ্রীভুমিতে প্রথমা থেকেই উপচে পড়া ভিড়। সেই  ভিড় সামলাতে প্রথমে বন্ধ করে দেওয়া হয় বুর্জ খলিফা আলোকসজ্জা। পরে ঘোষণা করা হয়, পুজো চললেও মণ্ডপের ভিতরে কোনও দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেনা। এখানেই শেষ নয়, নবমীতে বিকাল ৪টা থেকে বিধাননগর রেলওয়ে স্টেশনে ডাউনে কোনও ট্রেন দাঁড়ায়নি। 

অভিযোগ, ভিআইপি রোড সংলগ্ন এই পুজোর লেজার আলোর কারণে বিমান উড়ান এর সমস্যা তৈরি হয়। এরপর আরও একটি তথ্য সামনে আসায় ফের অস্বস্তি বাড়তে চলেছে শ্রীভুমির। 

রাজ্য দমকল বিভাগের গাইড লাইন মেনে পুজোর মণ্ডপ তৈরি করতে পুজো উদ্যোক্তাদের। দমকল বিভাগের গাইড লাইন এর ৪ নম্বর আর্টিকেল এ বলা হয়েছে প্যান্ডেল এর সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪০ ফুট এর বেশি হবে না কখনোই। 

এই পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস। ফলে শ্রীভুমির প্যান্ডেল বুর্জ খলিফার উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? সুজিতবাবু এই পুজোর পৃষ্ঠপোষক হওয়ার পরও তারই দপ্তর এর নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সুউচ্চ বুর্জ খলিফা গড়ে উঠলো কিভাবে,তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। 


Durga Puja: করোনা বিধি মেনে গঙ্গার ১৭ টি ঘাটে বিসর্জনের প্রস্তুতি, সতর্ক পুলিশ

দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য এবার গঙ্গায় ১৭টি ঘাটে প্রস্তুত কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ । নবান্নের নির্দেশ মেনে আগামী চারদিন প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে। শুক্রবার প্রথম দিন বাড়ির প্রতিমা ও ছোট বারোয়ারি পুজোগুলির প্রতিমা বিসর্জন হবে। শনিবার বিসর্জনের সংখ্যা কম হতে পারে বলে মনে করছে পুরসভার এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা পুরপ্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য ও বিধায়ক দেবাশিস কুমার। আগামী ১৮ অক্টোবর, সোমবার বিসর্জনের শেষদিন। অবশ্য এ বছরই গঙ্গার তীরে হেস্টিংসে প্রতিমা বিসর্জনে দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে পুরসভা। পুরপ্রশাসক ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম  জানিয়েছেন, “বিসর্জনে দূষণ নিয়ে অভিযোগ কাটাতেই হেস্টিংসে দই ঘাটের কাছে গঙ্গার ঘাটে গঙ্গাজল দিয়েই হোসপাইপ ব্যবহার করে প্রতিমা গলানোর উদ্যোগ নিয়েছি।”

গতবছরের মতোই করোনা  সংক্রমণের সতর্কতা ও বিধি মেনেই গঙ্গার ১৭টি ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করেছে পুরসভা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে জাজেস ঘাট, বাজে কদমতলা ও দই ঘাটে। স্বভাবতই সেখানে ক্রেন, পুলিশ ও পুরকর্মীরা বেশি সংখ্যায় থাকবেন।আগামী ১৮ অক্টোবর, সোমবার বিসর্জনের শেষদিন। অবশ্য এ বছরই গঙ্গার তীরে হেস্টিংসে প্রতিমা বিসর্জনে দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে পুরসভা।

পুরপ্রশাসক ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম  জানিয়েছেন, “বিসর্জনে দূষণ নিয়ে অভিযোগ কাটাতেই হেস্টিংসে দই ঘাটের কাছে গঙ্গার ঘাটে গঙ্গাজল দিয়েই হোসপাইপ ব্যবহার করে প্রতিমা গলানোর উদ্যোগ নিয়েছি।” গতবছরের মতোই করোনা সংক্রমণের সতর্কতা ও বিধি মেনেই গঙ্গার ১৭টি ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করেছে পুরসভা। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হবে জাজেস ঘাট, বাজে কদমতলা ও দই ঘাটে। স্বভাবতই সেখানে ক্রেন, পুলিশ ও পুরকর্মীরা বেশি সংখ্যায় থাকবেন।


Bharat Chakra: মণ্ডপ থেকে আপাতত সরছে না জুতো,পুজোর পর রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

কলকাতাঃ লেকটাউন ভারতচক্র পুজো মণ্ডপ মামলায় এখনই আদালত হস্তক্ষেপ করছে না। ফলে আপাতত স্বস্তি পুজো কমিটির। পুজো মিটলে, আগামী ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের। 

ভারতচক্র ক্লাবের পুজোর মণ্ডপ সজ্জায় ব্যবহার করা হয় জুতো। তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এমনকি অভিযোগ দায়ের করা হয় লেকটাউন থানায়। জুতো বিতর্ক গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে।

আজ নবমীর দিন ছিল ওই মামলার শুনানি। আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, অভিযোগ ভিত্তিহীন। মাতৃ মন্দির থেকে যেখানে জুতো লাগানো হয়েছে তার দুরত্ব ১১ ফুট।

বিস্তারিত আসছে --


Durga Puja: বুর্জ খলিফার জন্য ট্রেনে ভিড়! আজ বিধাননগর স্টেশনে থামবে না কোনও ট্রেন

কলকাতাঃ বুর্জ খলিফায় আলোর পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থী প্রবেশ। এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। আজ নবমীতে বিধাননগর স্টেশনে থামবে না কোনও ট্রেন। 

বুর্জ খলিফায় আলো বন্ধ রাখার পরও অষ্টমীতে প্রচুর ভিড় হয়েছিল শ্রীভূমিতে। সবার যেন একটাই লক্ষ্য ছিল বুর্জ খলিফা। যার ফলে ভিড় বাড়ছিল ট্রেনেও। মূলত লেকটাউনের শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের বুর্জ খলিফা দেখতে যাওয়া দর্শনার্থীদের জন্যই বিধাননগর স্টেশনে যাত্রীচাপ বাড়ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। 

এবার ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ নিয়ন্ত্রণে বড় সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। বিধাননগর স্টেশনে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টে থেকে দাঁড়াবে না কোনও ডাউন ট্রেন। অর্থাৎ শিলায়দহগামী ট্রেনগুলি দাঁড়াবে না ওই স্টেশনে। এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে শুক্রবার ভোর ৪টে পর্যন্ত।  

বিস্তারিত আসছে --


Sreebhumi: কেন বন্ধ হল বুর্জ খালিফার আলোক সজ্জার মূল আকর্ষণ লেজার শো!

কলকাতাঃ দুবাইয়ের বুর্জ খালিফা এবার ছিল কলকাতার মূল আকর্ষণ। বুর্জ খালিফার আদলে মণ্ডপ সজ্জা করেছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব। ১৪০ ফুট উঁচু এই মন্ডপের প্রতিটা তলে লাগানো হয়েছিল আধুনিক মুভিং হেড লেজার লাইট। 

বুর্জ খালিফার আদলে তৈরি এই মন্ডপের লেজার শো দেখতে উপচে পড়ছিল ভিড়। বিভিন্ন জেলার থেকেও মানুষ ভীড় করছিল এই পুজো মণ্ডপে এবং আলোকসজ্জা দেখতে। এরই মাঝে আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হলো বুর্জ খালিফার মুভিং হেড লেজার লাইট শো। 

শো বন্ধের পরই গুজব রটে থাকে বিমানবন্দরের কিছু পাইলটের অভিযোগের ভিত্তিতেই বন্ধ করে দেয়া হলো এই লেজার শো। কিছু পাইলট নাকি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তাদের প্লেন ওঠা নামার সময় লেজার শোর কারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তারা পাইলটদের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে অবগত নয়। 

এই অত্যাধুনিক লেজার শো রিয়াজ আহমেদ নামক এক ব্যক্তির মস্তিষ্কপ্রসূত। তারই চিন্তাভাবনা এই লেজার শোর থিম সৃষ্টি করা হয়েছিল। দুবাইয়ের বুর্জ খালিফার আদলে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মন্ডপ তৈরি করেছেন শিল্পী রোমিও হাজরা। 

যদিও লেজার শো বন্ধ নিয়ে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, লেজার শো দেখার জন্য রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় মানুষ দাঁড়িয়ে পড়ছিল। ফলে অত্যাধিক ভীর সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এবং এই ভিড়ের সমস্যার কথা ভেবেই লেজার শো বন্ধ করা হয়েছে। 

এরই মাঝে মঙ্গলবার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মূল প্রবেশদ্বার ঘড়ির মোর অত্যাধিক ভিড়ের কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়। সাবওয়ে দিয়ে মানুষদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে ছিল প্রশাসন। অত্যাধিক ভিড়ে সাবওয়েতে অক্সিজেনের অভাব অনুভূত হয়। তারফলে তিন জন অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদেরকে তৎপরতার সঙ্গে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে ক্লাবের সদস্যরা।  

এদিকে লেজার শো বন্ধ হলেও চালু থাকল ফিক্সড লাইট। ফলে পুজোর সময় যারা বুর্জ খালিফার এই প্রতিকৃতি মন্ডপ দেখতে আগ্রহী তাদের আনন্দে খুব একটা ভাটা পড়বে না।


Durga Puja: পুজোয় মাস্ক পড়ার বালাই নেই, তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা বাড়াচ্ছে !

১১ দফা বিধিনিষেধের ঘোষণা করা হয়েছিল দুর্গাপুজো সূচনার আগে। তবে পুজোর আমেজে সেই সব বিধিনিষেধ ভুলেছে কলকাতাবাসী। দূরত্ববিধি মানার তো কোনও দৃশ্য দেখাই গেল না। পাশাপাশি করোনার আতঙ্ক ছড়িয়ে মাস্কহীন শহরবাসীকে দুর্গা দর্শন করতে দেখা গেল। গত তৃতীয়া থেকেই কলকাতাবাসী রাস্তায় নেমেছে পুজোর আবেগে ভাসতে। এই আবহে প্রতিদিনই রাস্তার ভিড় বাড়ছছে। রবিবার পঞ্চমীর থেকে অনেকর বেশি ভিড় ছিল সোমবার ষষ্ঠীতে। যেভাবে ভিড় বাড়ছে তাতে, কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনা।

যদিও তৃতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল আগেই বিশেষজ্ঞরা। বাস, ট্রাম, মেট্রোরর মতো গণপরিবহণে বিশাল ভিড়। রাস্তার যানজটে নাকাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। তবে পুজো বলে কথা... বেড়োতে তো হবেই। আর ঘুরতে বের হলে কি সেলফি না তুলে থাকা যায়? আর সেলফি তুলতে গেলেই খোলা হচ্ছে মাস্ক। তারপর যেন আর সেই মাস্ক পরার কোনও ইচ্ছে দেখা যায় না।

পুলিশ এসে মাস্ক পরতে বললে অনেকে আবার গরমের অজুহাত দেন। সত্যি তো, অনেকটাই গরম। তবে করোনার আতঙ্কটাও যে সত্যি! রবিবার অর্থাৎ পঞ্চমীতে শহরের রাস্তায় বিনা মাস্কে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগে ১৯৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার, ষষ্ঠীর দিন বিকেল তিনটে পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে ১৩২ জন। বেআইনি গাড়ি পারকিংয়ের অভিযোগে মোট ৪০টি গাড়ি আটক করা হয়েছে। 

Durga Puja 2021: গ্রাম্য পরিবেশে দেবী আরাধনা

একেবারে দোড়গোড়ায় বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। ঢাকে কাঠি পড়তে আর কয়েকটা দিন বাকি। অনেক আগে থেকেই চুঁচুড়ার ত্রি-মাতৃ শক্তি সংঘের দুর্গা আরাধনায় শুরু হয়ে গেছে সাজো-সাজো রব।

হুগলীর চুঁচুড়া কামারপাড়াতে ত্রি-মাতৃ শক্তি সংঘের পরিচালনায় উত্তরাঞ্চলের দুর্গাপুজো এ বছর প্রাক রজত জয়ন্তী বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। এদের এ বছরের থিম "এক চিলতে একটি ছোট্ট গ্রাম"।

যেখানে শহরের রাস্তা-ঘাট-সহ সমস্ত কিছুই কোলাহল মুখরিত হয়ে ভরে যাচ্ছে ইট বালি কাঠ কংক্রিটের বহুতল বাড়ির চাদরে, সেখানে গ্রামের শান্ত- স্নিগ্ধ পরিবেশ কেমন হয়, তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তাদের এই প্রয়াস।

পুজো কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য হল-গ্রাম্য পরিবেশকে তুলে ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানের এই অতিমারীর সংকটময় কালে সরকারী সমস্ত রকম স্বাস্থ্য বিধি মেনেই এই পুজানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলে জানালেন পুজো কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি তাঁরা বলেন টানা দু'বছর কোভিড সংকট। তাই এবছর বাজেট কমাতে আমরা ক্লাব সদস্যরা নিজেরাই মন্ডপ তৈরীতে হাত লাগিয়েছে। ক্লাবের কম-বেশি ১৫ জন সদস্য দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন। বাঁশ, খড়, মাটি, চট প্রভৃতি দিয়ে চলছে কাজ।

মন্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা সম্পূর্ণ সাবেকি। সদস্যদের বক্তব্য এ বার কোন শিল্পী বা ডেকরেটরকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে না। নিজেরাই কাজ করছেন তারা। ফলে বাজেট অনেকটাই সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি নিজেরা সেই কাজকে আলাদাভাবে উপভোগও করছেন। নিজেদের হাতের কাজের মধ্য দিয়ে তাঁরা দর্শকদের মন জয় করতে পারবেন বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের। 


durga puja 2021: রাঙা দালানে আলো করে আসেন উমা

২৩১ বছরে পা দিল বাঁকুড়া ময়নাপুরের চণ্ডীচরণ রাজবাড়ির পুজো। দালান কোঠা, প্রাসাদ এই সবের মধ্যে ছিল স্বাচ্ছন্দ্যের জীবন। জমিদারমশাই সপরিবারে থাকতেন প্রাসাদে। আর দুর্গাপুজো হত খড়িমাটির দালানে। নিজে থাকেন পাকা দালানে আর দেবীপূজা সমাধা হয় মাটির দালানে। মনের মধ্যে খুতখুত করছিল। তাই দুর্গাপুজোর জন্য পাকা ঠাকুরদালান তৈরি করা হয়। এখন জমিদারি না থাকলেও পুজোর ঐতিহ্য কিন্তু চিরন্তন। সেই জমিদারির জেল্লাও এখন হারিয়ে যাওয়ার মুখে। 

তবে ভাঙাচোরা জমিদার মহল্লায় লেগেছে শরতের সোনালি রোদের ঝলকানি। ঝাড়বাতির আলোর ছটায় বসত যাত্রাপালা। রামায়ণ গান আর পুতুলনাচে গমগম করত ঠাকুরদালান। এখন সময়ের থাবায় ধস নেমেছে জমিদারিতে। কিছুটা টাল খেয়েছে আড়ম্বরেও। জমিদারির সেই রং নেই। তবুও মুখোপাধ্যায়দের ঠাকুরদালানে পুজোর রং লাগে নিয়ম মেনে। আর রাঙা দালানের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন উমা।

জমিদার বাড়ির পুজো বলে কথা। তাই গল্পতো থাকবেই। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিষ্ণুপুরের শেষ মল্ল রাজা চৈতন্য সিংয়ের দেওয়ান ছিলেন ময়নাপুরের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর আমলেই জমিদারি সত্ত্ব লাভ করে মুখোপাধ্যায় পরিবার। ১৭৯১ খ্রীঃ পুত্র লাভের আশায় এই পুজো শুরু করেন চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। সেই থেকে নিয়ম মেনে একই ভাবে এই পুজো হয়ে আসছে। সেই সময় গোটা গ্রামের মানুষের জন্য ভোগের ব্যাবস্থা করা হত। এখন সেই আড়ম্বর না থাকলেও সমস্ত রীতিমেনেই হয় পুজো।

আগে ১৫ দিন ধরে পুজো হত। কিন্তু এখন ৫ দিনই হয় পুজো। আগে সপ্তমী ও নবমীতে ছাগ বলি দিয়ে পুজো হত। এখন পুজো হয় ছাঁচিকুমড়ো ও আঁখ বলি দিয়েই। জমিদারি প্রথা না থাকলেও পুজোর জৌলুস কিন্তু একই আছে।এই পুজো উপলক্ষ্যে মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা সকলে একত্রিত হয়। মহা আনন্দে কাটে পুজোর দিনগুলো।


Durga Puja: ঘন জঙ্গলে দুর্গার আরাধনা! ইতিহাস জেনে দেখুন

এ যেন এক অদ্ভুত দৃশ্য!  জঙ্গলের মধ্যে ইমারতের ভগ্নস্তুপ। ভেঙে পড়া ইঁটের দেওয়ালে শ্যাওলা ও পুরাতন গাছ ডালপালা মেলেছে। ভগ্ন ইটের দেওয়ালের কোণায় কোণায় সাপেদের আড্ডা। কথিত আছে, এখানেই বৈশ্য রাজা সুরথ বিশ্বের মধ্যে প্রথম দুর্গাপুজো করেন। দুর্গাপুরের  কাঁকসার গড়জঙ্গলে গড়চণ্ডীধাম। মেধাশ্রমের পাশেই সুরথের এই দুর্গা মন্দিরের ভগ্নাশেষ এখনও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ফি বছর সেই ইতিহাস স্মরণ করেই দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন এলাকাবাসী।কথিত আছে, মেধা মুনির নির্দেশে আজকের এই জায়গাতেই সপ্তম শতকে গভীর অরণ্যের মাঝে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য বসন্তকালে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। তৎকালীন বীরভূমের অন্তর্গত বোলপুরে বিশাল রাজ্য ছিল রাজা সুরথের। সুপুর ছিল রাজধানী।

বহিরাগতদের আক্রমণে রাজ্য ও রাজধানী হারিয়ে সুরথ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সমাধি বৈশ্য ছদ্মবেশ ধারণ করেন। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে কাঁকসার অজয় নদের দক্ষিণে শাল, সেগুন, মহুয়ার গভীর জঙ্গলে মহর্ষি মেধা মুনির আশ্রমে আশ্রয় নেন তাঁরা। যা এখন কাঁকসার গড়জঙ্গল নামে পরিচিত। মেধা মুনির আদেশেই রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য মৃন্ময়ী দুর্গামূর্তি নির্মাণ করে শুরু করেন পুজো। রাজা সুরথ রাজ্যে ফিরেই কাঁকসার  এখানে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে তিনটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেসব ধংস হয়েছে বহুদিন।

তার নিদর্শন এখনও ছড়িয়ে রয়েছে গড়চণ্ডীধামের এদিক ওদিক। মেধা মুনির নির্দেশমতো এবং রাজা সুরথের দুর্গাপুজোর রীতি ও পদ্ধতি মেনেই এখনও দুর্গাপুজো হয় এখানে। এখনও পুজোর পাঁচদিনই প্রথমে রাজা সুরথের তিন মন্দিরের পাঁচিলের ধংসবশেষ প্রদক্ষিণ করে তবেই শুরু হয় পুজো। বিশ্বের প্রথম দুর্গাপুজোর ধংসাবশেষ ও ইতিহাস জানতে, দেখতে বহু মানুষের ভিড় জমে স্রেফ দুর্গাপুজোর সময়েই।

Durga Puja: পুজোতে ছুটি কাটাতে আকর্ষণীয় প্যাকেজ আনল NBSTC

সামনেই বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তবে পুজোতে অনেকেই বেরিয়ে পরে তার পছন্দের জায়গায়। সারাবছর কাজের মধ্যে থাকায়। তাই একটু পুজোর ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পরে ভ্রমণ পিপাসুরা। এবার গরুবাথান থেকে ঝালং, চিলাপাতা থেকে ফুন্ট শেলিং। পুজোয় পাহাড়, জঙ্গলের সৌন্দর্য ঘুরিয়ে দেখাবে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি)। রকি আইল্যান্ড, লাভা, রিকিসুম, ডেলো কোথায় নিয়ে যাবে না! টুক করে নিগমের ওয়েবসাইটে ঢুকে শুধু প্যাকেজ সিলেক্ট করে বুকিং করে নিতে হবে। আর তারপরই নিশ্চিন্তে বাসে বসে আঁকাবাঁকা পথে দিয়ে প্রকৃতির শোভা দেখতে দেখতে চলে যাওয়া যাবে পাহাড়ের নানা পর্যটনস্থলে। এদিকে পাহাড়ি পথে অনেকেই বেড়াতে পছন্দ করে।