নিষিদ্ধ হল ড্রোন কেনাবেচা ও ব্যবহার

জম্মু: বায়ুসেনার ঘাঁটিতে ড্রোন-র মাধ্যমে বিস্ফোরণের পর কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। উপত্যকায় নিরাপত্তা বাড়াতে রাজৌরি-তে ড্রোন কেনাবেচা এবং ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।  

রাজৌরির জেলাশাসক রাজেশ কুমার বুধবার একটি নির্দেশিকা জারি করেন, তাতে বলা হয়েছে ড্রোন ব্যবহার ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে আবেদন করা হয়েছে, যাদের কাছে ড্রোন রয়েছে, তারা যেন স্থানীয় থানায় ড্রোন জমা দেন। তবে সরকারি সংস্থাগুলি ম্যাপিং, সমীক্ষা ও নজরদারির কাজের জন্য যে ড্রোন ব্যবহার করে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে জম্মু বিমানবন্দর চত্বর। ভারতীয় বায়ুসেনা পরিচালিত সাতওয়ারি বায়ুসেনা স্টেশনে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ১ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায় বিস্ফোরণের আওয়াজ। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

সূত্রের খবর, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি বিস্ফোরণের তীব্রতা তেমন জোরালো ছিল না। সংবাদ সংস্থা খবর, দুটি ড্রোনের মাধ্যমে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণ জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। এর  নেপথ্যে জঙ্গি-যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জম্মুর আকাশে ফের ড্রোন

সোমবার জম্মু বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ফের মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ জম্মুর তিন জায়গায় ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কুঞ্জওয়ানি, সাঞ্জোয়ান এবং কালুচকে মধ্যরাতে এই ড্রোন লক্ষ্য করে সেনা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই সেগুলো গায়েব হয়ে যায়। যদিও ড্রোন হামলার তদন্তভার দেওয়া হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর হাতে। এই হামলার পেছনে করা জড়িত, এছাড়া কোথা থেকে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে,তা সবকিছু তদন্ত করে দেখবে এনআইএ।

এদিকে শনিবার মধ্যরাতে পর পর দু’টি বিস্ফোরণ হয় জম্মুর সামরিক ঘাঁটিতে। এই ঘটনায় বায়ুসেনার দুই জওয়ান সামান্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরই রাজৌরি, পুঞ্চ এবং পঞ্জাবের পঠানকোটে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়। এই প্রথম দেশে ড্রোনের মাধ্যমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। তবে এই বিষয়ে সমস্তকিছু খতিয়ে দেখা হবে জানানো হয় ।

পুঞ্চে ড্রোনের সাহায্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলেছে পাকিস্তান

ঈদের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্তে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এরমধ্যেই দু’দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ঈদের মিস্টি ও কুশল বিনিয়ম হয়। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ড্রোনের মাধ্যমে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলার অভিযোগ আনল ভারতীয় সেনা। ঘটনাটি জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে। জম্মু সীমান্তের বিএসএফের ডিআইজি এসপিএস সন্ধু ‌এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌শুক্রবার ভোরে সাম্বা সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্তের রিগ্যাল পোস্টের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বিএসএফ জওয়ানেরা’। তিনি আরও জানান, ভারতের সীমানার ২৫০ মিটার ভিতরে এই অস্ত্রগুলো চোরাচালান করা হয়েছে। সেগুলি পলিথিনের প্যাকেটে মোড়া ছিল, সম্ভবত লিঙ্কম্যানদের সাহায্যে সেগুলি জঙ্গিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত।


বিএসএফের ডিআইজি জানিয়েছেন, একেকটি প্যাকেটে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ৯টি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ৯ এমএম ম্যাগাজিন এবং ১৫টি পিস্তলের খোল উদ্ধার হয়েছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গিয়েছে ড্রোনের ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী একটি কাঠের ফ্রেম। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে ড্রোনের সাহায্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলি ভারতীয় সীমানায় ফেলা হয়েছে। এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে তৎক্ষণাৎ পাক বাহিনীকে নোট জমা দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সব সময়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর মতে এটা বড়সড় সাফল্য।