ফের ডেল্টার দাপট, সংক্রমণ বাড়ছে শিশুদের

করোনার নয়া প্রজাতি ডেল্টার দাপট বাড়ছে ক্রমশই। তবে গত কয়েক সপ্তাহে বদলেছে ছবিটা। এদিকে স্কুল খোলার মুখে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে সংক্রমণ। এর জন্য ডেল্টা স্ট্রেনের দাপট এবং ১২ বছরের কমবয়সিদের টিকা না-পাওয়াকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ১২ বছরের কমবয়সিদের উপরে পরীক্ষা চালাচ্ছে মডার্না ও ফাইজ়ার। ফাইজ়ার জানিয়েছে, ৫ থেকে ১১ বছর বয়সিদের পরীক্ষার তথ্য মিলবে সেপ্টেম্বর নাগাদ। তার পরে হাতে আসবে ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের ফলাফল।

যারা আরও ছোট, অর্থাৎ ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সি শিশুদের উপরে পরীক্ষা-পর্বের তথ্য মিলবে অক্টোবর বা নভেম্বর নাগাদ। দ্য আমেরিকান অ্যকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (আপ) জানিয়েছে, শুধুমাত্র ৮-১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ২৩,৫৫০টি শিশুর দেহে নতুন করে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যা জুনের শেষার্ধের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ। যদিও আপের মতে, শিশুদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার হার খুবই কম। আমেরিকায় ১২ বছরের কমবয়সিদের টিকাকরণ এখনও শুরু হয়নি। সুতরাং এ বছরের মধ্যে শিশুদের টিকাকরণের সম্ভাবনা যে খুবই কম তা স্পষ্টত ।


ডেল্টা প্রজাতি আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি প্রকট হবে বিশ্বে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউযে সংক্রমণ খানিকটা কমেছে। তবে তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে শীঘ্রই। তবে করোনার নয়া রূপ হিসেবে 'ডেল্টা' আরও বেশি ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।তা বারবার বলা হচ্ছে। এই 'ডেল্টা' প্রজাতি  আগামী দিনে গোটা বিশ্বে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। প্রায় ১০০ টি দেশে এই প্রজাতির অস্তিত্ত্ব মিলবে এমনই অনুমান করা হচ্ছে। এদিকে ভারতে প্রথম হদিশ পাওয়া এই 'ডেল্টা' প্রজাতির সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জুনের রিপোর্টে হু জানিয়েছেন, বিশ্বের ৯৬ দেশে ডেল্টার অস্তিত্ব মিললেও প্রকৃত সংখ্যাটা ১০০-র উপরে। ভাইরাসের প্রজাতি চিহ্নিতকরণের জন্য যে পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তা বহু দেশেই নেই। তবে এই 'ডেল্টা' প্রজাতি রুখতে অবশ্যই সকলকে করোনা বিধি মেনেন চলতে হবে । এছাড়া টিকাকরণের ওপর নজর দিতে হবে. আগামী দিনে এই ভাইরাস আরও বেশি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে।



রাজ্যে ডেল্টার থাবা

কলকাতাঃ করোনার দ্বিতীয় পর্বে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন,তাদের মধ্যে ৭০ শতাংশ রোগীর শরীরেই থাবা বসিয়েছিল ডেল্টা। এমনটাই জানালেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী।

স্বাস্থ্য অধিকর্তা জানিয়েছেন, করোনার দ্বিতীয় পর্বে রাজ্যের করোনা আক্রান্ত প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশের দেহে পাওয়া গিয়েছে ডেল্টা ভাইরাসের উপস্থিতি। শিশুদের মধ্যে এই সংখ্যাটা প্রায় ৮৬ শতাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত কারওর শরীরে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, রাজ্যে ডেল্টা প্লাস থাবা বসিয়েছে কিনা, সঠিক উত্তর খুঁজতে চলছে নমুনা পরীক্ষা। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর

বিশ্বের মাথা ব্যাথার কারণ করোনাভাইরাসের ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়্যান্ট। ইতিমধ্যেই নতুন এই ভাইরাসে ভারতের মধ্যপ্রদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ভারতে এই প্রথম মৃত্যু। মৃত মহিলা উজ্জয়িনীর বাসিন্দা। তবে সরকারিভাবে এখনও এই বিষয় কিছু জানানো হয়নি।