শুক্রবার থেকে দু’দিনের সফরে দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী

শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন তাঁর পরিকল্পনা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ভরা কোটালের কারণে জলস্তর বেড়ে গিয়ে সুন্দরবনের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সব এলাকাতেই পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আজ বুধ ও বৃহস্পতিবার দুর্যোগ থাকবে, তাই হেলিকপ্টার উড়তে সমস্যা হবে। তাই শুক্রবারই বেড়িয়ে পড়বেন তিনি। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ মে দু’দিনের সফরে বেরচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিন দুপুরে প্রথমে হিঙ্গলগঞ্জে যাবেন তিনি। ঘুরবেন সুন্দরবন। তার পর সাগরে একটি বৈঠক করবেন। সেখান থেকে চলে যাবেন দিঘায়। ত্রাণের কাজ খতিয়ে দেখতে ২৯ মে দিঘায় যাবেন। পরে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করে কলকাতায় ফিরবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যে নদীর কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। তিনি সাধারণ মানুষকেও বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ বুধবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে উপকূল এলাকায় প্লাবন আসতে পারে। ফলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর।

কাটল দুর্গোগ, কলকাতায় খুলে দেওয়া হল সমস্ত ফ্লাইওভার

আপাতত দুর্যোগ কেটেছে কলকাতার। যদিও বৃষ্টিপাত এখনই কমছে না, তবুও ঝড়ের আশঙ্কা অনেকটাই কম। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ কলকাতার সমস্ত উড়ালপুল যান চলাচলের জন্য খুলে দিল। কলকাতা পুলিস জানিয়েছে ফ্লাইওভারে যান চলাচলে আর কোনও বাধা নেই। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জেরে বুধবার সকাল থেকেই শহরের ৯টি উড়ালপুল বা ফ্লাইওভারে যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাফিক পুলিশ। বেলা গড়াতেই কাটে দুর্যোগ, ফলে সবক’টি উড়ালপুল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রথমে লকগেট উড়ালপুলটি খুলে দেওয়া হয়। তার পর দুপুর ১টা নাগাদ খুলে দেওয়া হয় তারাতলা উড়ালপুল। পরে মা এবং এজেসি বোস রোডের পর বাকি উড়ালপুলগুলিও একে একে খুলে দেয় প্রশাসন। পরে গার্ডেনরিচ, পার্ক স্ট্রিট, তারাতলা, গড়িয়াহাট, এজেসি বোস রোড, মা, চিংড়িঘাটা এবং লকগেট উড়ালপুলগুলি দুপুর ২টোর আগেই খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালের দিকে কলকাতার বুকে ঘন্টায় ৬২ কিমি গতিবেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে। তবে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে, কলকাতায় আপাতত বড় কোনও দুর্যোগের আশঙ্কা নেই।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যের এক কোটি মানুষঃ মমতা

বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ওডিশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ইয়াস। ফলে ইয়াস কার্যত কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের। তবুও বুধবার সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত তলছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রে প্রবল জলচ্ছ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ঝড়ের প্রভাব কম থাকলেও ভরাকোটালের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকটা বেড়েছে। নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ। ১৫ লাখ লোককে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত খোলা হয়েছে ১৪ হাজার ত্রাণ শিবির। ঘূর্ণিঝড় এবং প্লাবনের জেরে রাজ্যে কমপক্ষে ১৪৩টি নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।



এদিন নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, আজ (বুধবার) রাত ৮টা ৪৫ পর্যন্ত জোয়ার হবে। যার ফলে জল আরও বাড়বে। গঙ্গা ও সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কালও জল বাড়বে। তাই বান আসতে পারে আজও। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ভরা কোটালে ঘূর্ণিঝড় বলেই এত ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। কালও জল বাড়বে প্রায় ৫ ফিট পর্যন্ত। তাই কেউ ত্রাণ শিবির ছেড়ে বের হবেন না। কালকের দিনটা যাক, তারপর ফেরার কথা ভাববেন। আগে জল নামা দরকার। সাইক্লোনের জল এত তাড়াতাড়ি নামা সম্ভব নয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা, সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় যারা থাকেন, তাঁরাও সতর্ক থাকুন। বাড়ি থেকে বের হবেন না। রাজ্য সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।