ডেল্টা প্রজাতি রুখতে এবার কার্যকর কোভ্যাক্সিন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউযে সংক্রমণ কিছুটা কম। তবে তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে। এবার তৃতীয় ঢেউয়ের পাশাপাশি করোনার এক নতুন প্রজাতি ডেল্টা সবচেয়ে বেশি ভয়ানক। ইতিমধ্যে বেশকিছু দেশে কিন্তু ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ডেল্টা প্রজাতি এবার রুখতে পারে একমাত্র কোভ্যাকসিন। উপসর্গযুক্ত করোনার ক্ষেত্রে ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকরী কোভ্যাক্সিন। চূড়ান্ত পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষে শনিবার এমনই দাবি করেছে এই টিকার প্রস্তুতকারক সংস্থা ভারত বায়োটেক।

এদিকে টিকা কতটা নিরাপদ তারও তথ্য তুলে ধরছে ভারত বায়োটেক। করোনার ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন ৬৫.২ শতাংশ কার্যকরী। উপসর্গহীন করোনার ক্ষেত্রে এই টিকা কার্যকরী ৬৩.৬ শতাংশ। তাই এবার করোনা রুখতে কোভ্যাক্সিন বেশি কার্যকরী বলে মনে করা হচ্ছে  ট্রায়ালের রিপোর্ট অনুযায়ী।


জুলাই মাসে রাজ্যগুলিকে ভ্যাকিন দেবে কেন্দ্র

বেশকিছুদিন আগেই কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দিনে ১ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে । সরকার কার্যত নিশ্চিত ছিল, জুলাইয়ের মাঝামাঝি দেশে সেই পরিমাণ টিকা উৎপাদনও হবে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ঘোষণায় একপ্রকার স্পষ্ট যে, চলতি মাসেও দৈনিক ১ কোটি টিকাকরণের টার্গেট পূরণ হচ্ছে না। তবে, টিকাকরণের গতি অনেকটা বাড়বে।

এদিকে জুলাই মাসে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে প্রায় ১২ কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ পাঠানো হবে। এই ১২ কোটির মধ্যে ১০ কোটি কোভিশিল্ড ও ২ কোটি ডোজ দেওয়া হবে কোভ্যাকসিনের। যদিও কেন্দ্রের তরফে এর আগেই বলা হয়েছে, ২১ জুন থেকে দেশজুড়ে বড়সড় টিকাকরণ কর্মসূচি পালন করা হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যগুলিকে টিকা পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে টিকাকরণ কর্মসূচি। তবে পূরণ হচ্ছেনা টিকাকরণের টার্গেট।

স্বাস্থ্য দফতরের টিকাকরণ তালিকা

কসবার ভুয়ো টিকা থেকে বড়সড় শিক্ষা নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দফতরের ওয়েবসাইটে প্রতিদিন ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করা হবে, যেখানে কোন জেলায় কতগুলি টিকাকরণ কেন্দ্র চলছে, তার যাবতীয় তথ্য থাকবে। সরকারি কেন্দ্রগুলির পাশপাশি বেসরকারি উদ্যোগে তৈরি করোনা টিকা শিবিরে হদিশও থাকবে। এই শিবিরগুলি সবই স্বাস্থ্যদপ্তর অনুমোদিত। প্রতিদিন এই সংখ্যার হেরফের হতে পারে।

মঙ্গলবার যেমন, স্বাস্থ্যদপ্তরের ওয়েবসাইটে রয়েছে মোট ১৬৩৩টি কেন্দ্রের নাম। অর্থাৎ মঙ্গলবার দিনভর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকার অনুমোদিত মোট ১৬৩৩ টি কেন্দ্র থেকে দেওয়া হবে করোনা ভ্যাকসিন । অর্থাৎ টিকা নিতে গেলে প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যদপ্তরের ওয়েবসাইটে  দেখে নিতে হবে, ওইদিন কোন জেলার কোথায় কোথায় কটি শিবির চলছে। তাই সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই এই টিকাকরণ কেন্দ্রগুলির তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।  



বেসরকারি টিকাকরণ ক্যাম্প বন্ধ

সোমবার রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি টিকাকরণ বন্ধ করে দেওয়া হল। যদিও দেবাঞ্জন কান্ডের জের এই সিধান্ত নেওয়া হল রাজ্য সাস্থ দফতরের তরফে। এদিকে টিকা নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক করবে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। সেখানেই নয়া টিকাকরণের গাইডলাইন তৈরী হবে। এরপর তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কয়েকদিন ধরেই ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ড নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। দেবাঞ্জন দেবের নামে একাধিক তথ্য উঠে আসছে।

তাই এবার রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর বেসরকারি টিকাকরণ ক্যাম্প বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল। রাজ্য সরকার আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছেনা। তবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চলবে এই টিকাকরণ। আজ স্বাস্থ্যদফতরের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে টিকাকরণ নিয়ে। বেসরকারি কেন্দ্রগুলিতে আদতে টিকাকরণ ছলবে কিনা তা রাজ্য সরকারের তরফে নতু গাইডলাইন প্রকাশের পর জানা যাবে।

দেশে টিকাকরণের হাল ভালো,বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

শনিবার দেশের করোনা পরিস্থিতি ও টিকাকরণের হালচাল জানতে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা টিকাকরণের গতি নিয়ে সন্তুষ্ট নরেন্দ্র মোদি। এদিকে বৈঠকে  টিকাকরণের গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বেশি করে মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে দিতে পারলে ভাল। সে কারণে টিকাকরণ কর্মসূচিতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও অন্তর্ভূক্ত করার কথা বলেছেন তিনি।

এছাড়া দেশে বয়সভাব্দে কিভাবে চলছে টিকাকরণ তার সমস্ত তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রথম সারির যোদ্ধাদের টিকাকরণ নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন মোদি। তবে সামনেই আসছে করোনার তৃতীয়  ঢেউ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আগে থেকে সমস্ত পদক্ষেপ নিতে হবে. যদিও 'ডেল্টা' প্রজাতি রাজ্যে প্রবেশ করতে চলেছে। তার আগেই পরিস্তগীতি খতিয়ে দেখতে হবে. করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একে ওপরের পাশে থাকার বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি।


কলকাতা থেকে গায়েব ৫৫ হাজার ভ্যাকসিন

কলকাতা: দিনে দিনে করোনা ভ্যাকসিনের চাহিদা বাড়ছে। এদিকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। তবে ভ্যাকসিন নিয়ে একের পর এক কেলেঙ্কারি চলছে। রাজ্যে ভ্যাকসিন আসা সত্ত্বেও বহু মানুষ ভ্যাকসিন পাচ্ছেনা এখনও। এই নিয়ে প্রতিদিন অভিযোগ উঠছে। এছাড়া শহরের একাধিক জায়গায় ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্পের অভিযোগ উঠছে। এদিকে শহরের বিভিন্ন সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলি থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে একাধিক ভ্যাকসিন।

বালিগঞ্জের সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে সরানো হয়েছে কয়েক হাজার ভ্যাকসিনের ডোজ়। সপ্তাহ খানেক সেই বিষয়ে কোনও তথ্যই ছিল না স্বাস্থ্য দফতররে কাছে। ঠিক সময়ে তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুরসভার বিরুদ্ধে।জানা গিয়েছে, কোভিশিল্ডের প্রায় ৫৫ হাজার ডোজ় ও কোভ্যাকসিনের ৫ হাজার ডোজ় টিকা সরানো হয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চেতলায় ‘মেয়র’স হেলথ ক্লিনিক’-এ নিয়ে যাওয়া হয় ভ্যাকসিনগুলি। প্রশ্ন উঠছে করা বা কেনই এই ভ্যাকসিন সরাচ্ছে। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও তথ্য নেই স্বাস্থ্য দফতরের।

ভারত-ভুটান সীমান্তে লোকদের টিকা দেওয়ার জন্য Trekking করলেন ডি এম

ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস) অফিসার সুরেন্দ্র কুমার মীনা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কালেক্টর, আলিপুরদুয়ার জেলার করোন ভাইরাস মহামারীর প্রভাবে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি গ্রামে টিকা দেওয়ার অভিযান পরিচালনার জন্য ইন্টারনেট থেকে একাধিক প্রশংসা পেয়েছিল।


আসলে সুরেন্দ্র কুমার মীনা এই প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে পৌঁছানোর জন্য বন এবং পাহাড়ের মধ্য দিয়ে ট্রেকিং করে সমস্ত পথ ধরে হেঁটেছিলেন।ইন্ডিয়া টোডে.ইন-এর সাথে কথা বললে সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেছিলেন যে তিনি তাঁর দল সহ ভারত-ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী বক্সা পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রাম আদমায় পৌঁছানোর জন্য প্রায় ১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। অ্যাডমা ছিল তাদের শেষ স্টপ। “আমরা আদমাকে দেখেছি, যা লোকদের টিকা দেওয়ার জন্য জেলার সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম। আমরা পাশের গ্রাম পোখারী, টরিবাড়ী, শেগাঁও এবং ফুলবাটি থেকে ১-18-১।


কিলোমিটার দূরে আদমায় সমস্ত পথ চললাম। আমাদের দলের স্বাস্থ্যকর্মীরা কোভিড ভ্যাকসিনযুক্ত শীতল বাক্স বহন করছিলেন, ”সুরেন্দ্র কুমার মীনা ইন্ডিয়া টোডেআইএনকে বলেন। পথে, সুরেন্দ্র কুমার মীনা পূর্ববর্তী শহরগুলিতে অদমায় যাওয়ার জন্য যে টিকা ড্রাইভ করেছিলেন সেগুলিও চালিয়েছিল।“আমরা গ্রামগুলির বেশিরভাগ বাড়ি পরিদর্শন করেছি এবং কোভিড ভ্যাকসিন সম্পর্কিত সচেতনতা ছড়িয়েছি। আমরা তাদের টিকা দেওয়ার জন্য উত্সাহিত করেছি এবং তাদের ভুল ধারণাটি পরিষ্কার করেছি। কোনও সন্দেহ নেই যে স্থানীয় জনগণকে বোঝানো একটি চূড়ান্ত কাজ ছিল তবে শেষ পর্যন্ত পুরো যোগ্য জনগোষ্ঠী নিশ্চিত হয়ে দিনের শেষের দিকে ভ্যাকসিন দিয়েছিল, "তিনি যোগ করেছেন।ভারতীয় বন পরিষেবাদির পারভীন কাসওয়ান সুরেন্দ্র কুমার মীনা এবং তাঁর দলের একটি ভিডিওও পোস্ট করেছেন। আপনি আজ দেখতে পাবেন এটি সেরা জিনিস।



তিনি সুরেন্দ্র কুমার মীনা। আলিপুরদুয়ারের ডিএম, যারা ভ্যাকেশন টিকা দেওয়ার জন্য ভুটান সীমান্তের একটি প্রত্যন্ত স্থানে পৌঁছানোর জন্য বন ও পাহাড়ের মধ্য দিয়ে দিনের জন্য পদচারণ করেছিলেন। এর ফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। কুদোস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা মন্তব্য বিভাগে সুরেন্দ্র কুমার মীনা ও তাঁর দলকে প্রশংসনীয় প্রশংসা করেছেন।

সোমবার থেকেই ১৮ ঊর্ধ্বদের করোনা টিকা

কলকাতা: সোমবার থেকে করোনা মোকাবিলা করতে শুরু ১৮ ঊর্ধ্বদের করোনা টিকাকরণ। এদিকে কেন্দ্র পর্যাপ্ত টিকা রাজ্যে পাঠাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তবে তার মাঝেই সোমবার থেকে কলকাতা শহরের নির্দিষ্ট ৩৭টি সেন্টারে আঠারোর্ধ্ব নাগরিকদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করছে কলকাতা পুরসভা। এর মধ্যে ২৯টি সেন্টারে এতদিন শুধুমাত্র সুপার স্প্রেডার গোষ্ঠীকে টিকা দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেখান থেকেই টিকা পেতে চলেছেন সব প্রাপ্তবয়স্করা।

এছাড়া সোমবার থেকে কোন কোন সেন্টারে ১৮ থেকে ৮৮ টিকা দিতে পারবে,তা জানিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভার মুখ্যপ্রশাসক ও পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার চাহিদামতো ভ্যাকসিন না দিলেও আমাদের সাধ্যমতো নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে ১৮ উর্ধ্বদের জন্য ভ্যাকসিন চালু করে দিচ্ছি।


তারপর কেন্দ্র থেকে আরও টিকা এলে ১৪৪টি ওয়ার্ডেই ‘ভ্যাকসিন ফর অল’ হবে।” অহীন্দ্র মঞ্চ, রক্সি, এলিট, স্টার থিয়েটার, কোয়েস্ট মল, সাউথ সিটি স্কুল মিলিয়ে মোট ৩৭টি সেন্টার থেকেও প্রাপ্তবয়স্করা টিকা পাবেন। যদিও বেশকিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ১৮ বছরের উর্দ্ধে সকলের জন্য বিনামূল্যে এই টিকা।

ম্যাগনেট ম্যান

বেশকিছুদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসছে যে করোনা টিকা নেওয়ার ফলেই নাকি মানুষের শরীর চুম্বকে পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ বলা যেতে পারে 'ম্যাগনেট ম্যান'. তবে এই নিয়ে কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও করছে। তাঁরা তাদের শরীরে একাধিক হালকা থেকে ভারী জিনিস চাপিয়ে দিচ্ছে। খুচরো পয়সা, হাতা -খুন্তি এমনকি মোবাইল আটকে যাচ্ছে শরীরে। এ এক আশ্চর্য ঘটনা ! আর সেই  ভিডিও ভাইরাল হতেই মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক তৈরী হচ্ছে। যার ফলে এবার পানাগড় এলাকার এক বাসিন্দা,তিনি নিজেই তার শরীরে একাধিক জিনিস চাপিয়ে দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শরীরে আটকে যাচ্ছে। এরপর ওই এলাকার বাসিন্দা নিজেই জানালেন , যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা  মাত্রই তিনি মনে করলেন যে টিকা নেওয়ার  পর সত্যি হচ্ছে কিনা যাচাই করতে তিনি করেছেন।

তবে এটা  যে আদৌ ঠিক নয়,তিনি জানালেন। এর পাশাপাশি এদিন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চের তরফে সত্যতা যাচাই করতে এদিন শরীরে বিভিন্ন জিনিস চাপিয়ে রাখেন,তারপর জানানো হয়,যে এই খবর ভুল। তিনি এর ব্যাখ্যা দিলেন , 'টিকা নিলে যে চুম্বকে পরিণত হচ্ছে শরীর তা নয়. আসলে আমাদের শরীরে আসঞ্জন বল থাকে।অর্থাৎ আকর্ষণ বল থাকাতেই , যেকোনো জিনিস সহজে আটকে যেতে পারে। এছাড়া আমাদের শরীরে ঘামটা থাকে। যার কারণে আরও বেশি আটকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। একেই দেশে করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ চলছে।সংক্রমণ বেড়েছে।কিন্তু ধীরে ধীরে তা স্থিতিশিল হয়েছে।তারমধ্যে টিকাকরণ শুরু হয়ে গেছে। এরমধ্যেই এরকম এক ঘটনায় মানুষ ভয় পাচ্ছে। বলা যায় একরকম গুজব ছড়াচ্ছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে সকলকেই টিকা নিতে হবে'।


শিশুদের করোনা টিকার ট্রায়াল শুরু হচ্ছে

কলকাতা: কলকাতায় শুরু হবে এবার শিশুদের করোনা টিকার ট্রায়াল। ' জাইডাস ক্যাডিলার' নামক এই টিকার ট্রায়াল শুরু করা হবে।  মূলত ১২-১৮ বছর বয়সি শিশুদের জন্য। যদিও এই টিকার ট্রায়াল হবে পার্ক সার্কাসে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ হাসপাতালে। এদিকে কলকাতায় ট্রায়াল শুরু করা হবে ১০০ জনের ওপর।  ভালো সেচ্ছাসেবক পাওয়া গেলেই এই ট্রায়াল শুরু করা হবে।  দেশে মোট ১ হাজার ৫০০ জন শিশু এই ট্রায়ালে অংশ নিতে পারবে।

জাইডাস ক্যাডিলা শীঘ্রই ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসিজিআই-এর কাছ থেকে এই টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পেতে আবেদন করতে পারে। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সের শিশুদের জন্য এটি ভারতের প্রথম টিকা হতে পারে। যদিও করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ আসতেই দেশে হু হু করে বাড়ছে যেমন সংক্রমণ। তারপর তৃতীয় ওয়েভ আসার সম্ভাবনা প্রবল। যেখানে বলা হচ্ছে,শিশুদের ওপর সংক্রমণ বেশি হবে।  তাই সংক্রমণ রুখতে আগেভাগেই করোনা টিকার ট্রায়াল শুরু হচ্ছে এবার শিশুদের জন্য।

সোমবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাকরণ

এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুরু হচ্ছে টিকাকরণ। সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে রাজস্থানের বিকানের শহরে। সোমবার শহরে চালু হচ্ছে 'দুয়ারে টিকাকরণ'. প্রাথমিকভাবে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে।  বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে এখন থেকে অ্যাম্বুল্যান্স এবং তিনটি ভ্রাম্যমাণ দলকে  রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে, যে নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ করে নাম ও ঠিকানা-সহ টিকাকরণের জন্য আবেদন করতে হবে।

তবে আবেদন করলেই বাড়িতে এসে টিকা দিয়ে যাবে,এমনটা নয় কিন্তু। টিকাকরণের জন্য ১০ জনের নাম নথিভুক্ত থাকলে তাদেরকে বাড়িতে এসে টিকা দেবে স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইতিমধ্যে সব জায়গায় টিকাকরণ শুরু হয়ে গেছে।তবে এবার টিকার জন্য যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় তাই এবার শুরু হচ্ছে দুয়ারে টিকাকরণ।

করোনা টিকা নিলেই পাবেন সুদ

নয়াদিল্লি: দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে টিকাকরণ। তাই এবার সাধারণ মানুষকে টিকাকরণের জন্য উৎসাহিত করতে ফিক্সড ডিপোজিটের ওপর বাড়তি সুদ দেওয়ার অফার দিচ্ছে দেশের বেশ কয়েকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক।এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই করোনা  অতিমারিকে রুখতে সকলকে টিকা দিতে হবে।  সেই কারণে দেশের এই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি বিশেষ  উদ্যোগ নিয়ে এই বাড়তি সুদের ঘোষণা করা হয়েছে। uco ব্যংক জানিয়েছে যারা এখনও পর্যন্ত টিকা নিয়েছে তাদের ৯৯৯ দিনের স্থায়ী আমানতের উপর ৩০ শতাংশ বেশি সুদের হার দেবে। যদিও এর আগে বেশকিছু ব্যাঙ্ক এই আবর্তী সুদের অফার দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহুর্তে যারা এই টিকা নেবে,তাঁরাই পাবে এই বাড়তি সুদের সুযোগ।

১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন, ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

করোনা টিকাকরণ নিয়ে এবার কেন্দ্রের বড়সড় সিদ্ধান্ত। আগামী ২১ জুন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বিনামূল্যে টিকা দেবে ভারত সরকার। ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখন থেকে টিকাকরণের জন্য রাজ্যগুলিকে আর অর্থ বায় করতে  হবেনা. আজ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে  তিনি জানালেন , অনেক রাজ্যে টিকাকরণের সমস্যা হচ্ছে, সেই সমস্যা মেটাতে কেন্দ্র নাগরিকদের টিকাকরণের দায়িত্ব নিল। তবে নাগরিকরা চাইলে  বেসরকারি হাসপাতালে টিকা নিতেই  পারে। সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে টিকার দামের ওপর আরও ১৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে. এই বিষয়টি রাজ্য সরকারকে দেখে নিতে হবে. যদিও নরেন্দ্র মোদি এদিন এও বললেন, এখনও পর্যন্ত ২৩ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। গতবছর টিকা টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে । আরও দ্রুত টিকা সরবরাহ বাড়বে। অন্যদিকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা জানালেন। এছাড়া ভারত সফলভাবে টিকাকরণ চালাচ্ছে, এমনটাই জানালেন নরেন্দ্র মোদি।

২-১৮ বছর বয়সিদের জন্য শুরু ভ্যাকসিন ট্রায়াল

নয়াদিল্লি: সোমবার অর্থাৎ আজ থেকে শুরু দিল্লির এমসে শিশুদের কোভ্যাক্সিন ট্রায়াল। এদিকে ট্রায়াল নেওয়ার জন্য শিশুদের বাছাই চলছে। ইতিমধ্যে কমবয়সিদের জন্য এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু। ২-১৮ বছর বয়সিদের মধ্যে ভারত বায়োটেকের তৈরি এই কোভ্যাক্সিন কতটা উপযোগী সেই বিষয়টি দেখা হবে।   যদিও করোনার প্রথম ওয়েভের থেকে  দ্বিতীয় ওয়েভ আরও বেশি ভয়ঙ্কর। যেখানে কমবয়সিরা  সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে মানুষকে আরও সতর্ক হতে হবে।  

এছাড়া মানুষ এখন থেকেই যদি টিকা না নেয়  সেক্ষেত্রে আরও বেশি ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। দ্বিতীয় ওয়েভের পর এবার তৃতীয় ওয়েভের আশঙ্কা বেশি। যেখানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হবে শিশুরা। দেশে এখনও পর্যন্ত তিনটি টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে সকলেই টিকা নিতে পারবে এমনটাই জানানো  হয়েছে। শিশুদের ওপর ট্রায়াল দিতে আগেই কেন্দ্র ছাড়পত্র দিয়েছেন। আজ থেকে সেইমত শুরু হচ্ছে ট্রায়াল। 

করোনার তৃতীয় ঢেউ অনিবার্য

নয়া দিল্লি :দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে বাড়ছে মৃত্যু। তবে সাধারণ মানুষ কিন্তু সেভাবে এখনও সতর্ক নয়। কিছুক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মাস্ক পড়তে অনিহা।  এখনই যদি সাবধান না হওয়া যায় তাহলে সামনে বড় বিপদ আসতে  চলেছে। প্রত্যেককে নিতেই হবে টিকা। এই নিয়ে সতর্ক করলেন, নীতি আয়োগের সদস্য ডাঃ বিনোদ পাল। ইতিমধ্যে দেশে ফের আবার লকডাউন শুরু হয়েছে । যার জের কিছুটা সংক্রমণ কমছে  এবার। এর পাশাপাশি টিকাকরণের আওতায় আনতে হবে। যদিও কিছুটা সময় লাগবে টিকার ক্ষেত্রে। ততদিন পর্যন্ত সকলকে মানতে হবে বিধিনিষেধ । যদি সেটা না হয়। তবে দেশে তৃতীয় ওয়েভ খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে। তাই মাস্ক পড়তে অনিহা,কিংবা বিধিনিষেধ না মেনে নিজের মত চলা সেক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এদিকে আশঙ্কা করা হচ্ছে আগস্ট -সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই তৃতীয় ওয়েভ আসতে পারে। ইতিমধ্যে দেশে টিকাকরণ শুরু হয়েছে। সেদিকে যথেষ্ট নজর রাখা হচ্ছে। তবে দেশে দ্বিতীয় করোনা রুখতেও যথেষ্ট তৎপর। তৃতীয় ওয়েভ আসতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইতিমধ্যেই ভারত।