আড়াই লাখের নীচে নামল দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যুও চার হাজারের নীচে

ক্রমশ নিম্নমুখী করোনার দৈনিক সংক্রমণ। ভারতে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। পাশাপাশি করোনায় মৃত্যুর হারও অনেকটা কমল। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৩,৭৪২ জনের। ফলে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৯ জন। এই সময়ে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১০২ জন। ফলে দেশে কমছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। এই মুহূর্তে ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৮ লাখ ৫ হাজার ৩৯৯ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে টিকা নিয়েছেন মোট ১০ কোটি ৫০ লক্ষ ৪ হাজার ১৮৪ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে বিগত কয়েকদিন ধরেই দৈনিক সংক্রমণের হার নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছিল দৈনিক মৃত্যু। এবার মৃত্যুর হারও অনেকটা কমায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তারা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাণ গিয়েছে ৩২৯ চিকিৎসকের, জানাল IMA

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কার্যত বেসামাল হয়ে পড়েছিল ভারত। প্রথম ধাক্কার থেকেও এই সময়টা বেশি সঙ্কটময় বলেই দাবি করে আসছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। করোনার নতুন স্ট্রেনগুলি আরাও বেশি শক্তিশালী ও ঘাতক, তাই সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হারও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে গত বছরের তুলনায়। তবে এই সময়কালে শুধুমাত্র যে সাধারণ মানুষরাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন সেটা নয়। বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক এবং চিকিৎসাকর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন মারণ ভাইরাসে। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ) জানিয়েছে, শুধুমাত্র করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েই মারা গিয়েছেন ৩২৯ জন চিকিৎসক। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেনি।


তবে আইএমএ-এর তরফে পরিসংখ্যান দিয়েই দাবি করা হয়েছে এই খবর। আইএমএ সভাপতি ডাঃ জে জালাল জানিয়েছেন, গোটা দেশ থেকে আইএমএ- বিভিন্ন শাখার থেকে আসা তথ্য এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। আইএমএ আরও জানাচ্ছে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বিহারে, ওই রাজ্যে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসের জেরে। এরপরেই আছে দিল্লি। এখানে মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জন চিকিৎসকের। প্রসঙ্গত, গত ১৮ মে আইএমএ জানিয়েছিল করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় ২৬৯ জন চিকিৎসক প্রাণ হারিয়েছেন গোটা দেশে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় এই সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। ফলে চিন্তায় চিকিৎসক মহল।

চলে গেলেন সদালাপী অজয় দে

এবারে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন শান্তিপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা শান্তিপুর পৌরসভার প্রশাসক অজয় দে। সদালাপী এবং এলাকায় জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন অজয়বাবু। টানা তিন দশকের কোনও না কোনও সময়ে তিনি ওই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘদিন কংগ্রেস দল করেছেন। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেসের সাথে জোট করেছিলেন তখনও তিনি কংগ্রেস করতেন। পরে মুকুল রায়ের হাত ধরে ২০১২ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। আজকের শান্তিপুর টাউনের প্রবল উন্নতি অজয়বাবুর হাত ধরেই। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। জানা গিয়েছে তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও হাই সুগার ছিল। কয়েকদিন লড়াই করে তাঁর প্রিয় নেতা রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর দিনই চলে গেলেন শান্তিপুরের অজয় দে। 

দেশে দৈনিক সংক্রমণ কমলেও একদিনে রেকর্ড মৃত্যু

দেশে দৈনিক সংক্রমণ কমছে, সুস্থও হচ্ছেন লাখের ওপর। কিন্তু করোনায় মৃত্যুর হার বাড়ছে দিন দিন। যা নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য কর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯১ জন। অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ জন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমেছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। বিগত কয়েকদিন ধরেই দেশে দৈনিক আক্রান্তের থেকে সুস্থতার হার বেশি। এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা কমে হয়েছে ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৯২৯ জন। তবে চিন্তা বাড়াচ্ছে দৈনিক মৃত্যুর হার। কারণ গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে করোনার থাবায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ২০৯ জনের। ফলে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৩১ জনে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন জারি করার পরই করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি টিকাকরণের কাজও চলছে দেশে। এখনও পর্যন্ত দেশের ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৩ জন মানুষ করোনার টিকা পেয়েছেন। পরিস্থিতি যদি একই থাকে তবে জুন মাসের মধ্যেই সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। শর্ত একটাই সঠিক দূরত্ববিধি মেনে চলা এবং টিকাকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে চলা। নাহলে ফের করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পরতে পারে দেশে।

দৈনিক মৃত্যুর হার নামল ৪ হাজারের নীচে, সামান্য বাড়ল সংক্রমণ

গত কয়েকদিন ধরেই নীচের দিকে নামছিল দৈনিক সংক্রমণের হার। কিন্তু গত দু’দিনে সামান্য হলেও বাড়ল দৈনিক সংক্রমণের হার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ দেওয়া রিপোর্টে জানা যাচ্ছে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ১১০ জন। তবে কমছে দৈনিক মৃতের সংখ্যা। দেশে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৩৮৭৪ জন করোনা আক্রান্ত। চার দিন পর চার হাজারের নীচে নামল দৈনিক মৃত্যুর হার। সব মিলিয়ে ভারতে করোনায় মৃত্যু হল ২ লাখ ৮৭ হাজার ১২২ জনের।


কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ২০ লাখ ৫৫ হাজার ১০ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই দাবি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উল্লেখ্য, পর পর দু’দিনে ২০ লাখের বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হল। কিছুটা কমল সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে ৩১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৮ জন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কড়া লকডাউন এবং টিকাকরণের জন্যই কিছুটা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনার টিকা পেয়েছেন ১২ লাখ ৪৯০ জন। তবে সংখ্যাটা গত ফেব্রুয়ারি থেকে অনেকটাই কম বলে জানা যাচ্ছে। এখনও অবধি দেশে টিকা দেওয়া হয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে।

করোনায় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর মেজো ভাই, শোকের ছায়া কালীঘাটে

রাজ্যে মারাত্মক রূপ নিচ্ছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। ছাড় পাচ্ছে না কেউই। শনিবার সকালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে এল দুঃসংবাদ। করোনা প্রাণ কাড়ল মুখ্যমন্ত্রীর মেজো ভাই অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ১ মাস ধরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলে শোকের ছায়া নেমে আসে কালীঘাটে। মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার সূত্রে খবর, এদিন দুপুরেই কোভিড প্রোটকল মেনে নিমতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে তাঁর।  যখন দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে সংক্রামণের হার নিম্নমুখী এবং মৃত্যুর হারও কমছে তখন কলকাতা সহ বাংলায় করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী। এরমধ্যেই শনিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দুঃসংবাদ এল, করোনা ভাইরাস কেড়ে নিল তাঁর মেজো ভাই অসীম বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ক্রীড়াপ্রেমী এবং স্বল্পভাষী অসীমবাবু সকলের কাছেই খুবই জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। যদিও তাঁর কো-মরবিডিটির সমস্যা ছিল বলে জানা যাচ্ছে।                      

আগামী ৪৮ ঘন্টা নিমতলায় শুধুই করোনায় মৃতদের সৎকার

রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও। ফলে শ্মশান বা কবরস্থানগুলিতে চাপও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে আগামী ৪৮ ঘন্টা বৈদ্যুকিন চুল্লি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা। তবে পুরোপুরি বন্ধ হবে না নিমতলা শ্মশান, এখানে শুধুমাত্র কোভিড মৃতদের দেহই সৎকার করা হবে। সুতরাং নন কোভিড মৃতদেহ শহরের অন্যান্য শ্মশানঘাটে নিয়ে যাওয়ার আর্জি জানিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।



কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশাসক অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, ‘নিমতলার চারটি বৈদ্যুতিক চুল্লিতেই কোভিড দেহ দাহ করা হচ্ছে। মৃতদহের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিক গলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এমনকী, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রক যন্ত্রগুলিও সঠিকভাবে কাজ করছে না। তাই বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জরুরি হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য নিমতলায় চারটি বৈদ্যুনিন চুল্লিই কোভিডে মৃতদের দেহ দাহ করা হচ্ছিল। কিন্তু সংক্রমণ ঠেকাতে সেই মৃতদেহ প্লাস্টিকে মুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই অবস্থাতেই চুল্লিতে ঢোকানোর পর প্ল্যাস্টিক গলে যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ছে। অপরদিকে কোভিড দেহ কাঠের চুল্লিতে দাহ করা হয় না। তাই চাপ কমাতে নিমতলায় অন্যান্য মৃতদেহ আপাতত দাহ না করার সিদ্ধান্ত নিল পুর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রতনবাবুর ঘাট এবং ক্যাওড়াতলা শ্মশানঘাটে চাপ বাড়বে।