দেড় মাসের মধ্যেই দৈনিক মৃত্যু ২০০০ হতে পারে

একটি বিশেষ সংস্থা রিপোর্ট বের করেছে যা জেনে আতঙ্কিত বিশেষজ্ঞ মহল। এই খবর ভারতের মধ্যে গেলে তারা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়বে। জানা গিয়েছে জুন মাসের প্রথম থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ২২০০ থেকে ২৩০০ মানুষের মৃত্যু হওয়ার সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে ভারতে। সেক্ষেত্রে মড়ক অবস্থান সর্বকালের সর্বোচ্চ হতে চলেছে ভারতে। এবং  সর্বকালের বিশ্ব রেকর্ডও। দেশে করোনার প্রভাব প্রথম দফায় সংক্রমিতের ৭৫ শতাংশ ৬০ থেকে ১০০ জেলায় ছিল। দ্বিতীয় দফায় করোনার সংক্রামণে আক্রান্তের ৭৫ শতাংশ ২০ থেকে ৪০ জেলায়। দ্বিতীয় দফায় সংক্রামণের হার অনেক বেশি এবং দ্রুত। উপসর্গহীন বা অল্প উপসর্গ প্রচুর বেড়েছে। মানুষ প্রাথমিকভাবে ধরতেই পারছে না সংক্রমণ। টিকাকরণ ভীষণ রকম দরকার। শুক্রবার ভারতে ২,১৭,৩৫৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা ভয়ঙ্কর।     

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে করোনা, রাজ্যে ফের সাত হাজার ছুঁইছুঁই দৈনিক সংক্রমণ

উদ্বেগ বাড়িয়ে ফের সাত হাজার ছুঁইছুঁই দৈনিক সংক্রমণ। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে আজ অর্থাৎ শনিবার পঞ্চম দফার ভোট চলছে। এখনও বাকি তিন দফা। এরমধ্যেই করোনা সংক্রমণ লাগামছাড়া। শুক্রবার রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেন ৬,৯১০ জন। এরমধ্যে কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন  ১,৮৪৪ জন। কলকাতার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণে জোরদার টক্কর দিচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা। শুক্রবার একদিনেই এই জেলার ১,৫৯২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হাওড়ায়২৪ ঘন্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪২০ জন। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। ইতিমধ্যেই কোভিড হাসপাতালে বেড অমিল। কিছু জায়গায় বেড বাড়ানো হলেও চিকিৎসক ও প্যারা মেডিকেল স্টাফ কম।


ফলে চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। রাজ্যে সর্বোচ্চ হারে দৈনিক সংক্রমণ বাড়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন। ফলে কমছে সুস্থতার হার। বর্তমানে রাজ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৪১,০৪৭ জন। সুস্থতার হার কমে দাঁড়িয়েছে ৯১.৯৯ শতাংশে। পাশাপাশি গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে ২৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০,৫০৬ জন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। প্রচারের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পাশাপাশি শেষ তিন দফায় ৭২ ঘন্টা আগেই প্রচার শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

এই রাজ্যে মাস্ক না পড়লে জরিমানা এবার ১০,০০০ টাকা!

মুখ্যমন্ত্রী নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি এই রাজ্যেও করোনার হার ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে কড়া সিদ্ধান্ত নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। উত্তরপ্রদেশে এবার মাস্ক না পড়ে ধরা পড়লে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে প্রথমবার মাস্ক ছাড়া ধরা পড়লে গুণতে হবে ১০০০ টাকা জরিমানা। কিন্তু পরবর্তী সময় মাস্ক ছাড়া ধরা পড়লেই জরিমানার পরিমান বাড়বে দশ গুণ। অর্থাৎ জরিমানা হবে ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও উত্তরপ্রদেশ সরকার এবার করোনা সংক্রমণে রাশ টানতে রবিবার করে লকডাউন ঘোষণা করল। শনিবার রাত ৮ থেকে সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত চলবে লকডাউন। এই সময়কালে জরুরী পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকবে সমস্ত কিছুই।


সেই সময় রাজ্যজুড়েই চলবে স্যানিটাইজিং এবং সাফাই অভিযান। এদিন করোনায় আক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ টুইট করে জানিয়েছেন। ‘উত্তরপ্রদেশের লখনউ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী, কানপুর নগর, গৌতম বুদ্ধ নগর, গাজিয়াবাজ, মেরঠ ও গোরখপুরের মতো ১০টি জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। তাই এই জেলাগুলিতে রাত ৮ থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত জারি থাকবে নৈশ কার্ফু’। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে বেশ কড়া পদক্ষেপই নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার।

বাড়ছে করোনা, দেশে দৈনিক সংক্রমিত ১ লাখ ৮৪ হাজার, মৃত ১,০২৭

রোজই হু হু করে বাড়ছে করোনা। গোটা দেশেই ত্রাহি ত্রাহি রব। গোটা মহারাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি করেছে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা সরকার। দিল্লিও কঠোর বিধি লাগুর পথে। তবুও কমার লক্ষণ নেই সংক্রমণের। সোমবার হয়েছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার। মঙ্গলবার তা কমে হয় ১ লাখ ৬১ হাজার। বুধবার দেশে নতুন করে আক্রান্ত হলেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭২ জন। বিগত সপ্তাহে রোজই দেড় লক্ষাধিক মানুষ নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন দেশে। বুধবার তো সব রেকর্ড ভেঙে গেল দৈনিক সংক্রমণের। একদিনে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮২৫ জন।