করোনা আক্রান্ত সচিন তেন্ডুলকার

ভয়াবহ ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের নব্য ঢেউ | শুক্রবার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে | ২০২০ থেকেও ১০ গুন্ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন করোনা যা কিনা প্রবেশ করেছে ভারতেও | প্রশ্ন উঠেছে, নতুন ঢেউ কি তবে লন্ডন আগত? জানা নেই এখনও কিন্তু চিকিৎস্যকদের ধারণা হতেই পারে | দু দিন ধরে ক্রিকেটের মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকারের শরীর খারাপ ছিল | টেস্ট করার পর জানা গিয়েছে করোনা পজেটিভ | অবশ্য তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় নি | আপাতত তিনি গৃহ নিভৃতালয়ে রয়েছেন | সচিন নিজেই টুইট করে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন | অবশ্য লক্ষ লক্ষ সচিন ভক্ত চিন্তিত

দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেল

তিন মাস পর ফের সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়ে গেল। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, বিগত তিন মাস পর সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা তিন লক্ষাধিক হল। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ জন। সেটাই এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। এরপর ধীরে ধীরে সংখ্যাটা কমছিল। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ভারতে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩,৬৩৯ জন। এরপর থেকে দ্রুততার সঙ্গেই কমছিল সংক্রমণ। কিন্তু সম্প্রতি দেশে ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, এটাকে দ্বিতীয় ঢেউ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই তিনমাসে সংখ্যাটা ফের বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখের বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজারের কাছাকাছি। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ১৩০ জন। ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে। ফলে দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে দিনে দিনে। এরমধ্যেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট অন্যদিকে করোনার মাথাচাড়া। সবমিলিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকমহল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্তারা।

মহারাষ্ট্র একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ, গোটা দেশেই বাড়ছে করোনা

মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।  এখনও পর্যন্ত কোনও রাজ্যে ২৬ হাজারের বেশি পৌঁছায়নি। তবে মহারাষ্ট্রে আগামী ২৪ ঘন্টায় সংখ্যাটা বেড়েই যাচ্ছে। শুক্রবারে সংখ্যাটা পৌঁছে গেল ২৫ হাজারের বেশি। এদিকে শুধুমাত্র মুম্বইয়ে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে ৫ হাজারের বেশি। শুক্রবারের আগে পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ১৫ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৩১ জন। এরমধ্যে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৭১ হাজার ২৮২ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টার সারা দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯ হাজার ৭২৬ জন। যার অর্ধেকের বেশি রয়েছেন মহারাষ্ট্রে। দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ লক্ষ ৫৭ হাজার ৩৮৩ জনের। দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। দেশে মোট মৃত্যু দেশে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৭০। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে করোনা বেড়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল ও কলেজগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হোস্টেলগুলি ২৩ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এদিকে মুম্বইয়ে করোনা সংক্রমণ রুখতে সমস্ত শপিং মলে করোনা রাপিড আন্টিজেন পরীক্ষা করার নির্দেশ রয়েছে। বিশ্বের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। এদিকে ফ্রান্সে নতুন প্রজাতির করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। যারজেরে প্যারিসে একমাসের টানা লকডাউন শুরু হয়েছে।

বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করল চিন

করোনাভাইরাস ও চিনের সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়কে নিয়ে সংবাদ প্রচার করায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে চিনের সরকার। শুক্রবার ভোরে চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটেনের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক অফকম চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক সিজিটিএন-এর সম্প্রচারের লাইসেন্স বাতিলের এক সপ্তাহের মাথায় শুক্রবার চিন বিবিসির সম্প্রচার নিষিদ্ধ করল। চিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিবিসির ওয়ার্ল্ড নিউজ চিন-সম্পর্কিত রিপোর্টে বিধিনিষেধ ‘গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে’ যা ‘সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায়সঙ্গত’ হওয়া উচিত। এর ফলে চিনের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্যের ক্ষতি করেছে। এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সও বাতিল করা হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে তারা হতাশ। ব্রিটিশ বিদেশসচিব দোমিনিক রাব বলেছেন, এটা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। নিন্দা করেছে আমেরিকাও। তবে বিবিসি ওয়ার্ল্ড নিউজ চিনে বেশি চলে না। কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক হোটেল ও কিছু দূতাবাসেই বিবিসি চলে।

চিনের উহানে গিয়েও করোনার উৎপত্তি বের করতে পারল না হু

কোনও ল্যাবরেটরি থেকে নয়, মধ্যবর্তী কোনও প্রাণীর মাধ্যমেই তা মানবদেহে ছড়িয়েছে। তবে চিনের উহানে একমাস ঘুরেও কোন প্রাণী থেকে করোনাভাইরাস ছড়াল তা খুঁজে বের করতে পারল না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-র বিশেষজ্ঞদল। তাঁদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে ২৩ লাখ লোকের মৃত্যুর কারণ যে ভাইরাস তা বাদুড় থেকেই ছড়িয়েছে। তবে অন্য কোনও স্তন্যপায়ী জীবের সাহায্য ছাড়া এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে না। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট টডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, চিনের ল্যাবরেটরি থেকেই করোনা ছড়িয়েছে।
হু-র পিটার বিশেষজ্ঞ বেন এমবারেক জানিয়েছেন, উহানের তদন্তে নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে করোনা সংক্রমণের ব্যাপারে নাটকীয় কোনও তথ্য আসেনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানের বাজারের বাইরে যে ব্যাপকভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে। তবে তার আগে এই ভাইরাস ছড়ানোর পিছনে করোনাভাইরাস থাকার কোনও প্রমাণও মেলেনি। এর আগে এক চিনা বিশেষজ্ঞ লিয়াং ওয়ান্নিয়নান বলেছেন, করোনাভাইরাস উহানে ছড়ানোর আগে অন্য অঞ্চলেও ছড়াচ্ছিল। ২০১৯ সালের শেষে তা ধরা পড়ে উহানে। তার আগে উহানে এই ভাইরাস ছিল না। গত ১৪ জানুয়ারি এই বিশেষজ্ঞদল উহানে পৌঁছেছিল। তারা মাছবাজার, উহান ইন্সটিটিউট অফ ভাইরোলজি সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। তাঁরা বলছেন, করোনার উৎপত্তি বুঝতে বহু বছর লাগবে।