টিকা নিয়ে অসুস্থ অভিনেত্রী পরিণীতি !

টিকা নিয়ে অসুস্থ অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। গত মার্চ মাস থেকে দেশের বাইরে তিনি। বর্তমানে লন্ডনে তুতো দিদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস-এর বাড়িতে রয়েছেন পরিণীতি। সে দেশেই টিকা নিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিজের ছবি দিয়েছেন নেটমাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাঁ হাতে পট্টি বাঁধা। অন্য একটি ছবিতে তিনি সোফায় বসে রয়েছেন। মুখে হাসি নেই। শরীর যেন এলিয়ে পড়েছে। যে হাতে  টিকা নিয়েছেন,সেই হাতে ধরে রয়েছেন একটি হট ওয়াটার ব্যাগ। পাশে পোষ্য।

এই ছবিগুলোর পর, আরও একটি ছবি শেয়ার করে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পরিণীতি। সেই থেকেই নেট নাগরিকদের ধারণা, লন্ডনে জোনাস পরিবারে আপাতত খোশ মেজাজেই রয়েছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কার যত্ন পেয়ে হয়তো দ্রুতই সেরে উঠবেন পরিণীতি।

কোভ্যাক্সিন কোভিশিল্ড নিলেও করোনা সংক্রমণ

নয়াদিল্লি: এবার কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন নেওয়া থাকলেও হতে পারে করোনার ডেল্টা স্ট্রেইন। যদিও অক্টোবরে মাসে ভারতে প্রথম ডেল্টা স্ট্রেইন চিহ্নিত হয়েছিল। এই স্ট্রেইন যে ভয়ঙ্কর,তা আগেই জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর সেই স্ট্রেইন দ্বিতীয় ওয়েভে আরও মারাত্মক হতে চলেছে। এদিকে দিল্লির এইমস তাই জানাচ্ছে।যদিও গবেষণায় উঠে আসছে, কোভিসিল্ড কিংবা কোভাক্সিন নিলেও হতে পারে এই করোনা সংক্রমণ। এইমসের গবেষণায় উঠে এসেছে, ইউকে-তে পাওয়া করোনার 'আলফা' স্ট্রেইন থেকে প্রায় ৪০-৫০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক এই ডেল্টা স্ট্রেইন। এই স্ট্রেইনের জেরেই ভারতের করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এতটা ভয়ঙ্কর  আকার ধারণ করেছে। এইমস ও ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিকস অ্যান্ড ইন্টাগ্রেটিভ বায়োলজির নতুন এই গবেষণা করা হয়েছিল হাসপাতালের এমারজেন্সিতে শুয়ে থাকা ৬৩ জন উপসর্গযুক্ত রোগীকে নিয়ে। তাঁদের পাঁচ থেকে সাতদিন টানা খুব বেশি পরিমাণে জ্বর ছিল। তবে ভ্যাকসিন নিলেও কি তবে নিরাপদ নয়, প্রশ্ন উঠে আসছে।

জুলাই আগস্টে ১ কোটি মানুষকে টিকা, জানালো আইসিএমআর

 দেশে দ্বিতীয় করোনার স্ট্রেন রুখতে শুরু হয়ে গেছে টিকাকরণ। ইতিমধ্যে বহু মানুষ টিকা দিতেও শুরু করেছে।তবে অনেকক্ষেত্রে দেখা মিলছেনা টিকার।  তবে এবার আর দেশে টিকার কোনও ঘাটতি থাকবেনা জানালো কেন্দ্রীয় সরকার। জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার জন্য থাকবে পর্যাপ্ত টিকা। এবার আর  সমস্যার মধ্যে পড়তে হবেনা টিকা দিতে। যদিও কোউইনে বহু মানুষ তাদের নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছে।কিন্তু সেখানেও বহু মানুষ পাচ্ছেনা টিকা। করার বারবার এই নিয়ে অভিযোগ করছে। তবে মঙ্গলবার আইসিএমআরএর ডিজি বলরাম ভার্গব জানান দেশের সব মানুষকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন কেন্দ্রের সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে তা করা হবে. টিকা নিয়ে আর হতাশের মধ্যে পড়তে হবেনা।

জুন মাসে মিলবে ১০ কোটি টিকা, কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানাল সিরাম ইনস্টিটিউট

দেশে করোনার দ্বিতীয় স্ট্রেন আছড়ে পড়তে বাড়ছে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা। এদিকে দেশে ভ্যাকসিনের আকাল। সমস্যায় সাধারণ মানুষ। তবে এরমাঝেই সিরাম ইনস্টিটিউট একটি চিঠি দে কেন্দ্রকে। চিঠিতে জানানো হয় যে, আগামী জুন মাসে ১০ কোটি টিকা সরবরাহ করা হবে কেন্দ্রের সরকারকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে সিরাম  ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, জুনে ৯-১০ কোটি টিকার ডোজ উৎপাদন এবং সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়েছে তারা। মে-তে উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি। এদিকে দেশে টিকারব আকাল  নিয়ে রাজ্যগুলি বারবার প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ১৮-৪৪ বছর বয়সীদের টিকাকরণ বন্ড রয়েছে আপাতত। রাজ্যে টিকার আকাল। তবে সিরাম জানিয়েছেন, মানুষের সুরক্ষার্থে আগামী জুন মাসের মধ্যে টিকা এসে পৌঁছবে  দেশে। 

বিদেশ থেকে টিকা কিনতে চায় দিল্লি সরকার

দেশে টিকার অভাব, পাওয়া যাচ্ছে না, এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে জনতার মধ্যে | দেশের মানুষকে টিকা দেওয়ার আগেই বিদেশকে ভ্যাকসিন দান করে বসে আছে মোদি সরকার বলে দাবি কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলির | ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, নেতা সহ বিশিষ্টজন থেকে সাধারণ মানুষের সংখ্যা একটি ছোট রাজ্যের থেকে বেশি | কেজরিওয়াল সরকার লকডাউন করে দিল্লির মতো শহরকে অনেকটাই সংক্রমণ মুক্ত করেছে | এবারে টিকার অভাবে বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে টিকা কিনতে চাইছে আপ সরকার | পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তর দিল্লি সরকারকে জানিয়েছে , বিদেশ থেকে টিকা কিনতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত সংস্থা থেকে কিনতে হবে | দিল্লি সরকার ৭ জুন বিদেশি সংস্থাগুলির কাছ থেকে দরপত্র চেয়ে পাঠালো |   

আড়াই লাখের নীচে নামল দৈনিক সংক্রমণ, মৃত্যুও চার হাজারের নীচে

ক্রমশ নিম্নমুখী করোনার দৈনিক সংক্রমণ। ভারতে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার ৮৪২ জন। পাশাপাশি করোনায় মৃত্যুর হারও অনেকটা কমল। গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে মৃত্যু হয়েছে ৩,৭৪২ জনের। ফলে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৯৯ জন। এই সময়ে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১০২ জন। ফলে দেশে কমছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। এই মুহূর্তে ভারতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৮ লাখ ৫ হাজার ৩৯৯ জন। এখনও পর্যন্ত দেশে টিকা নিয়েছেন মোট ১০ কোটি ৫০ লক্ষ ৪ হাজার ১৮৪ জন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে বিগত কয়েকদিন ধরেই দৈনিক সংক্রমণের হার নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছিল দৈনিক মৃত্যু। এবার মৃত্যুর হারও অনেকটা কমায় কিছুটা আশার আলো দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের কর্তারা।

দেশে দৈনিক সংক্রমণ কমলেও একদিনে রেকর্ড মৃত্যু

দেশে দৈনিক সংক্রমণ কমছে, সুস্থও হচ্ছেন লাখের ওপর। কিন্তু করোনায় মৃত্যুর হার বাড়ছে দিন দিন। যা নিয়ে চিন্তায় স্বাস্থ্য কর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৯১ জন। অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৯৫ জন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমেছে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। বিগত কয়েকদিন ধরেই দেশে দৈনিক আক্রান্তের থেকে সুস্থতার হার বেশি। এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা কমে হয়েছে ৩০ লাখ ২৭ হাজার ৯২৯ জন। তবে চিন্তা বাড়াচ্ছে দৈনিক মৃত্যুর হার। কারণ গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে করোনার থাবায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ২০৯ জনের। ফলে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২ লাখ ৯১ হাজার ৩৩১ জনে।


স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন জারি করার পরই করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। পাশাপাশি টিকাকরণের কাজও চলছে দেশে। এখনও পর্যন্ত দেশের ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৩ জন মানুষ করোনার টিকা পেয়েছেন। পরিস্থিতি যদি একই থাকে তবে জুন মাসের মধ্যেই সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে। শর্ত একটাই সঠিক দূরত্ববিধি মেনে চলা এবং টিকাকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে চলা। নাহলে ফের করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পরতে পারে দেশে।

দৈনিক মৃত্যুর হার নামল ৪ হাজারের নীচে, সামান্য বাড়ল সংক্রমণ

গত কয়েকদিন ধরেই নীচের দিকে নামছিল দৈনিক সংক্রমণের হার। কিন্তু গত দু’দিনে সামান্য হলেও বাড়ল দৈনিক সংক্রমণের হার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ দেওয়া রিপোর্টে জানা যাচ্ছে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ১১০ জন। তবে কমছে দৈনিক মৃতের সংখ্যা। দেশে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৩৮৭৪ জন করোনা আক্রান্ত। চার দিন পর চার হাজারের নীচে নামল দৈনিক মৃত্যুর হার। সব মিলিয়ে ভারতে করোনায় মৃত্যু হল ২ লাখ ৮৭ হাজার ১২২ জনের।


কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে ২০ লাখ ৫৫ হাজার ১০ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলেই দাবি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উল্লেখ্য, পর পর দু’দিনে ২০ লাখের বেশি মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হল। কিছুটা কমল সক্রিয় রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে ৩১ লাখ ২৯ হাজার ৮৭৮ জন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কড়া লকডাউন এবং টিকাকরণের জন্যই কিছুটা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনার টিকা পেয়েছেন ১২ লাখ ৪৯০ জন। তবে সংখ্যাটা গত ফেব্রুয়ারি থেকে অনেকটাই কম বলে জানা যাচ্ছে। এখনও অবধি দেশে টিকা দেওয়া হয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে।

উদ্যোগ রাজ্যের, আরও ২ লাখ কোভিশিল্ড আসছে রাজ্যে

রাজ্যে করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে টিকাদান কর্মসূচি অনেকটাই ব্যহত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবারই দাবি করছেন কেন্দ্রের কাছে টিকা চেয়েও চাহিদা মতো পাচ্ছে না রাজ্য। এবার নিজেই উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। টিকা উৎপাদনকারী সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউডকে করোনার টিকার বরাদ দিয়েছিল নবান্ন। সূত্রের খবর, আগামীকাল অর্থাৎ বুধবারই কলকাতায় আসছে মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৪৬০টি টিকার ডোজ। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রের কাছ থেকে সরাসরি টিকা কেনার ছাড়পত্র পাওয়ার পরই রাজ্য সরাকার করোনার টিকা কেনার অগ্রিম দিয়েছিল সেরাম ইনস্টিটিউডকে। এরপরই এই প্রথম রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে আসছে কোভিশিল্ড টিকা। সূত্রের খবর, পুণে থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের বিমানে কলকাতা আসবে এই ভ্যাকসিন। রাখা হবে বাগবাজারের সেন্ট্রাল ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার স্টোরে। পরে চাহিদা মতো তা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়ে দেবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেশে, তবুও কমল দৈনিক সংক্রমণ

সোমবারই দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ নেমে গিয়েছিল তিন লাখের নীচে। খানিকটা স্বস্তি বাড়িয়ে আরও নীচে নামল দৈনিক সংক্রমণের হার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫৩ জন। কিন্তু চিন্তা বাড়িয়ে দৈনিক মৃত্যুর হার আরও বাড়ল। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মারা গিয়েছেন ৪,৩২৯ জন করোনা আক্রান্ত। ভারতে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট সংক্রমিতের সংখ্যা আড়াই কোটি পেরিয়ে গেল। এখনও অবধি দেশে মোট সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৫২ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৬ জন। আবার করোনার জেরে দেশে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭১৯ জনের। মৃত্যুর নিরিখে গত ২৪ ঘন্টায় মৃতের সংখ্যাই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।


বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, কেরলের মতো রাজ্যগুলিতে সংক্রমণের হার কমেছে। যার ফলে দেশের সার্বিক সংক্রমণ কমল অনেকটা। কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছে তামিলনাড়ু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি। আপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যেও সংক্রমণ লাগামছাড়া। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৩ জন। সেখানে করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৩৬ জন। এর জেরেই দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমছে। এখনও পর্যন্ত আশার আলো এটাই। বর্তমানে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৫।

প্রায় এক মাস পর দেশে দৈনিক সংক্রমণ নামল ৩ লাখের নীচে

প্রায় এক মাস পর দেশে দৈনিক সংক্রমণের হার ৩ লাখের নীচে নামল। যা কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর বলেই মানছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও করোনার মৃতের সংখ্যা চার হাজারের উপরেই থাকল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৩৮৬ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন ৪,১০৬ জন। গত এক সপ্তাহ ধরেই দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখের নীচে ছিল, এবার সেটা নেমে গেল তিন লাখের নীচেই। মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে লকডাউনের ফল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ দেশে গত ২৪ ঘন্টায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমল প্রায় ১ লাখের বেশি। মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও নেমে গিয়েছে ৩৫ লাখের নিচে। সবমিলিয়ে আশার আলো দেখছেন চিকিৎসকরা। দেশজুড়ে টিকাকরণ প্রক্রিয়াও চলছে জোরকদমে। গত ২৪ ঘন্টায় ৭ লাখ ৬ হাজার ২৯৬ জন টিকা পেয়েছেন। দেশে মোট টিকা পেলেন ১৮ কোটির বেশি মানুষ।

করোনা চিকিৎসা এবং টিকায় প্রয়োজন নেই আধার কার্ডের

এবার থেকে আধার কার্ড না থাকলেও কোনও করোনা রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না কোনও রোগীকে। এমনকি করোনার চিকিৎসা, ওষুধ এবং টিকার জন্যও লাগবে না আধার কার্ডের তথ্য। শনিবারই এই খবর জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এক বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘কোনও প্রয়োজনীয় পরিষেবা অস্বীকার করার অজুহাত হিসাবে আধার-কে অপব্যবহার করা উচিত নয়। আধারের জন্য একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যতিক্রম হ্যান্ডলিং মেকানিজম (ইএইচএম) রয়েছে এবং আধারের অভাবে সুবিধা এবং পরিষেবাদির সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এটি অনুসরণ করা উচিত।  কোনও ব্যক্তি যদি আধার না রাখেন তবে আধার আইন অনুযায়ী তাঁকে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি থেকে বঞ্চিত করা উচিত যাবে না’। উল্লেখ্য, করোনার চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই আধার না থাকার অজুহাতে ফেরত পাঠাচ্ছে হাসপাতালগুলি। এছাড়া করোনার টিকার জন্যও আধার দেখাতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। ফলে নড়েচড়ে বসে, বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল, করোনার টিকা নিতে গেলে Aadhaar number, driving licence, permanent account number (PAN), passport, pension passbook, NPR smart card এবং voter’s ID দিয়ে নাম নথিভুক্ত করলেই হবে।

ভারতে কমছে দৈনিক সংক্রমণ, তবে চিন্তা বাড়াচ্ছে করোনায় মৃত্যু

বিগত কয়েকদিন ধরেই দেশে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে পরপর তিন দিন কমল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ১১ হাজার ১৭০ জন। শনিবারই দৈনিক আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ২৬ হাজার মানুষ। যদিও এই পরিসংখ্যান কিছুটা স্বস্তি দিলেও মৃত্যুর হার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে স্বাস্থ্যকর্তাদের। কারণ ফের দৈনিক মৃতের সংখ্যা চার হাজার ছাড়াল। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় ৪ হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৪ জনের।


স্বস্তির খবর এই যে আক্রান্তের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে সুস্থতার হার বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭ জন। ফলে মোট সুস্থতার সংখ্যা ২ কোটি পেরিয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে মোট সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৮ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাটের মতো রাজ্যগুলিতে লকডাউন এবং কড়াকড়ির জেরেই দেশে করোনা সংক্রমণ কমছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়েই চলছে করোনার টিকাকরণ। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে মোট টিকা পেয়েছেন ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৫৮৫ জন। ফলে টিকাকরণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট টিকা পেয়েছেন ১৮ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার ১৬৪ জন।

দেশে অনেকটাই কমল দৈনিক সংক্রমণ এবং মৃত্যু

দেশে বেশ কিছুটা কমল করোনার দৈনিক সংক্রমণ। সেই সঙ্গে মৃতের সংখ্যাও কমে এল চার হাজারের নীচে। ফলে দেশজোড়া করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও যা কিছুটা আশার আলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৮ জন। আর মারা গিয়েছেন ৩,৮৯০ জন করোনা আক্রান্ত। যেখানে পরপর তিন দিন দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর হার ছিল চার হাজারের উপর। এখনও পর্যন্ত ভারতে ২ লাখ ৬৬ হাজার ২০৭ জন করোনার বলি হলেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে বর্তমানে সংক্রমণের হার ১৯.২৬ শতাংশ।


সবচেয়ে ভালো খবর, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট ও ছত্তীসগড়ের মতো রাজ্যগুলিতে করোনা সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ ৪০ হাজারের নীচে চলে এসেছে, দিল্লিতে নেমে এসেছে ১০ হাজারের নীচে। দিল্লিতে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৫০৬ জন। গত ১০ এপ্রিলের পর এই প্রথম দিল্লিতে দৈনিক আক্রান্ত ১০ হাজারের নীচে নামলো। অপরদিকে উত্তরপ্রদেশে ১৫ হাজার, ছত্তীসগড়ে ৭ হাজার, গুজরাটে ১০ হাজার মধ্যপ্রদেশে দৈনিক সংক্রমণ ৮ হাজারের নীচে নেমে এল। যার প্রভাব পড়েছে দৈনিক সংক্রমণেও। সার্বিক ও আংশিক লকডাউনে কড়াকড়ির জন্যই করোনার শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব হচ্ছে সংক্রমিত এলাকাগুলিতে। ফলে কমে আসছে দৈনিক সংক্রমণের হার। এরসঙ্গে টিকাদানের প্রভাবও একটা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা পেয়েছেন ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট টিকা দেওয়া হয়েছে ১৮ কোটির বেশি।

WHO এবং FDA অনুমোদিত যে কোনও ভ্যাকসিন আমদানি করা যাবেঃ কেন্দ্র

দেশের করোনার ভ্যাকসিন সংকট কাটাতে যে কোনও দেশ থেকে টিকা আমদানি করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পল বৃহস্পতিবার জানালেন, এবার থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা WHO এবং FDA অনুমোদিত যে কোনও করোনা ভ্যাকসিন এবার বিদেশ থেকে আমদানি করা যাবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দুই এক দিনের মধ্যেই দিয়ে দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পল। বিরোধী দলগুলি টিকার আকাল নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই সরব হচ্ছিলেন। দেশজোড়া করোনা সংক্রমণের হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই টিকাকরণ প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছিল টিকার আকালে। এবার টিকার জোগান ঠিক রাখতে আরও সংস্থার টিকা আমদানি করার অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকার।


অপরদিকে আগামী সপ্তাহ থেকেই ভারতের বাজারে আসছে করোনার তৃতীয় টিকা। চলতি মাসের প্রথম দিকেই রাশিয়া থেকে এসে গিয়েছিল করোনার টিকা স্পুটনিক ভি। তবে ড্রাগ কন্ট্রোল অফ ইন্ডিয়ার (DCGI) ছাড়পত্রের অপেক্ষা ছিল। বৃহস্পতিবার মিলল ওই জরুরী ছাড়পত্র। প্রাথমিকভাবে রাশিয়া থেকে যে দেড় লাখ স্পুটনিক ভি টিকার ডোজ এসেছিল এবার তা বাজারজাত হবে। আগামী সপ্তাহ থেকেই পাওয়া যাবে স্পুটনিক ভি।

রাশিয়ার গ্যামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৈরি হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন স্পুটনিক ভি। ভারতীয় সংস্থা ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ওই সংস্থার টিকা ভারতে এল। বৃহস্পতিবার নীতি আয়োগের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে সুখবর দেওয়া হয়েছে। নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পলের কথায়, আগামী সপ্তাহ থেকে সীমিত সংখ্যায় নয়, প্রয়োজনমতো বাজারে মিলবে রুশ করোনা ভ্যাকসিন।