করোনায় স্বস্তি, দেশে দৈনিক সংক্রমণ নামল ২ লাখের নীচে

ভারতে একলাফে অনেকটাই নামল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। সেই সঙ্গে মৃত্যুর হারও অনেকটা কমল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪২৭ জন। মারা গিয়েছেন ৩ হাজার ৫১১ জন। অপরদিকে গত ২৪ ঘন্টায় করোনামুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৫০ জন। ফলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও কমছে হু হু করে। এখনও পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২ কোটি ৬৯ লাখ ৪৮ হাজার ৮৭৪ জন। তবে বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ২৫ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮২ জন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউনের জেরেই দৈনিক সংক্রমণে রাশ পড়েছে। সম্প্রতি রাজস্থান, হরিয়ানা এবং বিহারেও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী ১ জুন পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ কোটি ৮৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৯ জন করোনার টিকা নিয়েছেন। এটাও সংক্রমণ কমার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।

লকডাউন উঠতে কতদিন ?

দিল্লি মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ততম শহর স্তব্ধ থাকবে আর কতদিন? প্রশ্ন উঠছে বণিক মহলে। কারণ দিল্লি এবং মুম্বইতে দেশের বেশিরভাগ বড় সংস্থাগুলির হেডকোয়াটার অবস্থিত। ফলে দেশজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে লকডাউনের জেরে। কিন্তু সংক্রমণের কারণে সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছে। রবিবার আরও এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সম্ভবত ১ জুন থেকে শিথিল হতে পারে দিল্লির অবস্থান। একই চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও। কিন্তু উভয় মুখ্যমন্ত্রীর দাবি একটাই টিকাকরণ সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। সময়মতো টিকার জোগান নেই। এ ক্ষেত্রে কেজরিওয়াল নরম প্রতিবাদ করলেও তীব্র ভাষায় মোদির সমালোচনা করছে শিবসেনা প্রধান। একই সুর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই রাজ্যেও চলছে কার্যত লকডাউন। যা চলবে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত। এখন দেখার এই রাজ্যেও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয় কিনা।                  

রেল ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া স্টাফ স্পেশালে উঠলেই গ্রেফতার, জানাল রেল

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাজ্য জারি হয়েছে কার্যত লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে বন্ধ লোকাল ট্রেন সহ যাবতীয় গণপরিবহন। তবুও কিছু অফিস, জরুরী পরিষেবা চালু রয়েছে। ফলে ওই পরিষ্বার সঙ্গে যুক্তদের কাজে যোগ দিতে হিমশিম অবস্থা। অপরদিকে হাতে গোনা কয়েকটি স্টাফ স্পেশাল লোকাল ট্রেন চালাচ্ছে পূর্ব রেল। হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনে রেলকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের জন্য চালানো হচ্ছে ট্রেনগুলি। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে সরকারি এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ওই স্টাফ স্পেশালে ওঠার অনুমতি দিয়েছে রেল, তবে নির্দিষ্ট কামরায়। অভিযোগ, তবুও বহু মানুষ উঠে পড়ছেন স্টাফ স্পেশালে। এই পরিস্থিতিতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রেল। রেল ও স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া আর কেউ ওই ট্রেনে চড়লেই এবার থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে। এমনটাই জানানো হল রেলের তরফে।