রাজ্যের প্রশংসা কেন্দ্রের সমালোচনা অভিজিতের

কলকাতাঃ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, নোবেল লরিয়েট, এ দেশে এ রাজ্যে এসে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে । মূলত বর্তমান অর্থনীতি ও কোভিড নিয়েই আলোচনা হলো বলেই জানা গিয়েছে । সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ জানালেন, মানুষের হাতে টাকা নেই ।  সংকট হচ্ছে জিডিপি নিয়েই । অভিজিৎ এর আগেও বলেছিলেন যে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের হাতে টাকা না থাকলে দেশের অর্থনীতিতে ধস নামবে । তিনি বলেছিলেন মোদির উচিত আমি জনতার হাতে টাকা তুলে দেওয়া ।

আজ বললেন বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থানের দিকে নজর দেওয়া উচিত । তিনি বললেন, করোনার ভ্যাকসিন ঠিক মতো রাজ্যের মানুষ পাচ্ছে না । তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে বলেন যে গত উৎসবের সময়ে রাজ্যে নিরাপত্তা ঠিক ভাবেই পালন করা হয়েছে । করোনা কালে বর্তমান সরকার রাজ্যে ভালো কাজ করেওছে । ছাত্রছাত্রী নিয়েও মমতা অভিজিতের মধ্যে কথা হয়েছে  । মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুজোর পর একদিন অন্তর স্কুল খোলার ভাবনা রয়েছে অবশ্যই পরিস্থিতি বুঝেই ।

আজ মোদি-মমতার বৈঠক

মঙ্গলবার  একাধিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দুপুর থেকে সন্ধে – কার্যত ম্যারাথন কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তার মধ্যে অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। সেদিকেই আপাতত নজর সব মহলের। বিকেল ৪টে নাগাদ দু’জনের আলোচনায় বসার কথা। কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহে এই বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও দিল্লিতে প্রতিবার গেলে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এবারেও তার খামতি থাকবেনা।তবে তাঁর আগেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তিনি সাক্ষাৎ সারবেন। এছাড়া জরুরি বৈঠক করবেন তিনি। চারদিনের সফরে কেন্দ্রবিরোধী জোট আরও শক্তপোক্ত করার লক্ষ্য তাঁর। এই লক্ষ্যে এগোতে একাধিক ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিরোধী ঐক্যে শান দেবেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার বিকেলে রাজধানীতে পা রেখেই সেই কাজ শুরু করেছেন তৃণমূল নেত্রী। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে একটানা একাধিক বৈঠক রয়েছে মমতার। আর সেইদিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।



মোদিকে আম পাঠালেন মমতা

একদিকে চলছে রাজনৈতিক তরজা। অন্যদিকে একের পর এক ইস্যুতে একে অপরের বিরোধিতা করেছেন। কেন্দ্র-রাজ্যের রাজনৈতিক দূরত্ব যতই থাকুক সৌজন্য দেখাতে ভুললেন না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছরের মতোই এ বছরও প্রধানমন্ত্রীকে আম পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে বাংলার ফল-মিষ্টি উপহার পাঠান মুখ্যমন্ত্রী।

গত বছর করোনার জন্য সেই রীতিতে ছেদ পড়েছিল। বাংলার ভোটের সময় রাজনৈতিক তরজা চূড়ান্ত আকার নিয়েছে। একের পর এক ইস্যুতে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলেছে। তবে উপহারে মালদহের লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া আম পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঝুড়িতে রয়েছে হিমসাগরও। তবে শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকেও আম পাঠিয়েছেন মমতা। উপহারের ঝুড়ি গিয়েছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ির ঠিকানাতেও। যদিও গতবছর করোনা অতিআম্রিরি প্রথম ধাপে অনেকটা সমসের মুখে পরতে হয়। কিন্তু এবছরে কোনও খামতি রাখেনি মুখ্যমন্ত্রী।

পুজোর আগেই শিক্ষক নিয়োগ,ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পুজোর আগেই প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক মিলিয়ে রাজ্যে সাড়ে ২৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ। সোমবার বিকেলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করা হবে । সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে জানালেন,পুজোর আগে শিক্ষক নিয়োগ সেরে ফেলার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পর আরও ৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে আজ সাংবাদিক বৈঠকে এও জানান, 'পুজোর আগেই উচ্চ প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে । এছাড়া প্রাথমিকে সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে'। করোনা অতিমারিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে, শেষমেষ পুজোর আগেই তা করা হবে জানিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতাকে বাধা দিতে কমিশন ভোট করছেনা ,বিস্ফোরক মন্তব্য যশবন্ত সিনহার

 একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের জন্য বিপুল ভোট জয়ী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে নন্দীগ্রামে অল্প ভোটার ব্যবধানে তাকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে যেতে হয়.যদিও তাকে ৬ মাসের মধ্যে নিয়মমাফিরে ভোট জিতে আস্তে হবে. এইমূৰতে নির্বাচন কমিশন যাচায়ছেনা ভোট করতে। বিধানসভায় মমতাকে আটকাতেই করা হচ্ছে ভোট. এই নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি যশবন্ত সিনহা।
তিনি টুইটে একটি ছোট্ট পাখির কথা উদ্ধৃতি করে কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  নন্দীগ্রাম থেকে কম ভোটার ব্যবধানে হেরেছেন।কিন্তু এরপর ৬ মাসের মাথায় ফের নির্বাচন হওয়া দরকার সেই জায়গায় কমিশন চাইছেনা ভোট করতে। এই নিয়ে কটাক্ষ ইকোরলেন টুইট যশবন্ত সিনহা।


কেন্দ্র তথা মোদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মমতা

প্রধানমন্ত্রী এমন নোংরা খেলা খেলবেন না বলে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | কেন্দ্রের নিত্য চাপের বিষয়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অবিহিত করলেন মমতা | সম্প্রতি ইয়াস ঝড়ের পর প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার উড়িষ্যা এবং বাংলার অবস্থান দেখতে আসেন পরে কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন | কিন্তু শুক্রবার রাতেই জানানো হয় যে ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত থাকবেন এবং এখানেই আপত্তি জানান মমতা | তিনি কলাইকুন্ডাতে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দুর্যোগের কাগজপত্র দিয়ে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠক আছে বলে বিদায় নেন | এরপরই সক্রিয় হয় বিজেপি এবং তাদের মন্ত্রীবর্গরা | অমিত শাহ সহ বিভিন্ন মন্ত্রী টুইট করে মমতার নিন্দা করেন এবং রাতে দিল্লিতে বদলি করা হয় রাজ্যের চিফ সেক্রেটারি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে, যিনি সম্প্রতি অবসর নেওয়ার পর তিন মাসের এক্সটেনশন দেন মুখ্যমন্ত্রী | এর পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন এই সমস্ত বাংলা তথা আমাকে ছোট করা হচ্ছে |       
                                       

শুক্রবার থেকে দু’দিনের সফরে দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী

শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন তাঁর পরিকল্পনা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ভরা কোটালের কারণে জলস্তর বেড়ে গিয়ে সুন্দরবনের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সব এলাকাতেই পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আজ বুধ ও বৃহস্পতিবার দুর্যোগ থাকবে, তাই হেলিকপ্টার উড়তে সমস্যা হবে। তাই শুক্রবারই বেড়িয়ে পড়বেন তিনি। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ মে দু’দিনের সফরে বেরচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই দিন দুপুরে প্রথমে হিঙ্গলগঞ্জে যাবেন তিনি। ঘুরবেন সুন্দরবন। তার পর সাগরে একটি বৈঠক করবেন। সেখান থেকে চলে যাবেন দিঘায়। ত্রাণের কাজ খতিয়ে দেখতে ২৯ মে দিঘায় যাবেন। পরে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করে কলকাতায় ফিরবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যে নদীর কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। তিনি সাধারণ মানুষকেও বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ বুধবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে উপকূল এলাকায় প্লাবন আসতে পারে। ফলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যের এক কোটি মানুষঃ মমতা

বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ওডিশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ইয়াস। ফলে ইয়াস কার্যত কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের। তবুও বুধবার সকাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টিপাত তলছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রে প্রবল জলচ্ছ্বাস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ঝড়ের প্রভাব কম থাকলেও ভরাকোটালের কারণে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকটা বেড়েছে। নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন প্রায় ১ কোটি মানুষ। ১৫ লাখ লোককে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত খোলা হয়েছে ১৪ হাজার ত্রাণ শিবির। ঘূর্ণিঝড় এবং প্লাবনের জেরে রাজ্যে কমপক্ষে ১৪৩টি নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।



এদিন নবান্ন থেকে তিনি জানালেন, আজ (বুধবার) রাত ৮টা ৪৫ পর্যন্ত জোয়ার হবে। যার ফলে জল আরও বাড়বে। গঙ্গা ও সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রচুর মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কালও জল বাড়বে। তাই বান আসতে পারে আজও। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, ভরা কোটালে ঘূর্ণিঝড় বলেই এত ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর গ্রাম ভেসে গিয়েছে। কালও জল বাড়বে প্রায় ৫ ফিট পর্যন্ত। তাই কেউ ত্রাণ শিবির ছেড়ে বের হবেন না। কালকের দিনটা যাক, তারপর ফেরার কথা ভাববেন। আগে জল নামা দরকার। সাইক্লোনের জল এত তাড়াতাড়ি নামা সম্ভব নয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গঙ্গা, সমুদ্রের উপকূলবর্তী এলাকায় যারা থাকেন, তাঁরাও সতর্ক থাকুন। বাড়ি থেকে বের হবেন না। রাজ্য সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।