তৃণমূলে যোগ দিলেন গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা

কলকাতা : শেষমেষ তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। সোমাবার কলকতার তৃণমূল ভবনে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলেও দিলেন মুকুল রায় ও ব্রাত্য বসু. এদিন গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা সহ আলিপুরদুয়ারের আরও ৮ জন বিজেপি নেতা যোগ দিলেন তৃণমূলে। যদিও বিধানসভা ভোটের আগেই তিনি দোল পাল্টে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, ভোটের আগে দলের সঙ্গে দূরত্ববিধি তৈরী হচ্ছিল।


সেইকারণেই তিনি দলকে না জানিয়েই একের পর এক নেতাকে কলকাতায় এনে এছাড়া দিল্লিতে চিঠি পাঠিয়ে যোগদান করানো তবে সেই সময় দল ছাড়িনি, কারণ ভোটের আগে ছাড়লে লোকে গদ্দার বলত। ভোটের ফল দেখিয়ে দিয়েছি। ৫ টা আসনই বিজেপির দখলে। তবে তার আগে থেকেই তৃণমূলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।” উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য কিংবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গড়ার পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ  জন বার্লা। তবে বলা যায় উত্তরবঙ্গে বিজেপিতে একটা বোরো ভাঙ্গন তৈরী হয়েছে।

মধুচক্রের নায়ক এবার প্রবীর ঘোষাল

এবার মধুচক্রের নায়ক হিসেবে নাম উঠল প্রবীর ঘোষালের। বিধানসভা ভোটের আগে ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মশিবিরে নাম লিখিয়েছেন প্রবীর ঘোষাল। যারা বিজেপি দলে নাম লিখিয়েছেন, তাদের পরে  আবার অনেকের মোহভঙ্গ হয়েছে । ফের পুরনো দলে ফিরতে চাইছেন তাঁরা। তবে কানাঘুষো শুরু হয়েছে সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রবীর ঘোষালের । বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে পোস্টারে ছয়লাপ কোন্নগর।

এদিকে ভোটের আগে তার একটা তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ ছিল. এই ক্ষোভ উগড়োতে  বিজেপি দলে যোগ দেন।  এদিকে প্রাক্তন বিধায়কের দলবদলের সুর ছড়াচ্ছে  স্বভাবতই। মঙ্গলবার কোন্ননগরে তার ছবি দিয়ে একাধিক পোস্টার পরে। বলা যায় এই নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা।

সোনালীর পর এবার তৃণমূলে ফিরতে চাইলেন বিজেপির সরলা

শনিবারই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেগঘন টুইট করেছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোনালী গুহ। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই আরেক বিজেপি নেত্রী ফিরতে চাইলেন পুরোনো দল তৃণমূলে। এবার আবেদন করলেন মালদা জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সরলা মুর্মু। তাঁর দাবি তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে দলনেত্রীকেই চিঠি দিয়েছেন তিনি। তবে মালদা জেলা তৃণমূল নেতৃ্ত্বের দাবি, এরকম কোনও চিঠি তাঁরা পাননি।  প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা ভোটের কয়েকদিন আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সরলা মুর্মু। তাঁকে তৃণমূল হবিবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল। যেটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। চেয়েছিলেন পুরাতন মালদহ থেকে লড়তে। কিন্তু দল সেই দাবি না মানলে তাতে অভিমান করেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।


সরলার দাবি, বিজেপিতে গিয়েও কার্যত নিষ্কৃয় হয়ে বসে থাকতে হচ্ছিল। অপরদিকে তাঁকে ভোটে টিকিটও দেয়নি বিজেপি। সরলাদেবীর বক্তব্য, ভোটের ফল প্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, দলবদলকারীরা ফের দলে ফিরতে চাইলে তাঁদের স্বাগত। সেই কথাতেই তিনি ফের পুরোনো দলে ফিরতে চান এবং নেত্রীর সহযোদ্ধা হিসেবে লড়াই করতে চান। এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল বলেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয় নিয়ে কথা বলবো। অপরদিকে মালদা জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, তাঁকে (সরলা মুর্মু) শহর তৃণমূল যথেষ্ট সম্মান দিয়েছিল। প্রার্থীও করেছিল হবিবপুরে। কিন্তু তিনি দলকে বিপদে ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এদের মেনে নেওয়া যাবে না, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য নেতৃত্ব। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ যদিও পরিস্কার করেছেন, যারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন তাঁদের ফিরে আসা নিয়ে দল এখনও কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়নি।