বিজেপিতে যোগ দীনেশের

বিজেপিতে যোগ দিলেন এবার দীনেশ ত্রিবেদী। সব জল্পনা কাটিয়ে দিল্লির বিজেপির  কার্যলয়ে দেশের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার হাত ধরি দলে যোগ দিলেন।  যদিও আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ১২ ই ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূলের রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন. এরপর তিনি জানান , 'মন চেয়েছে তাই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। কাজ করতে পারছিলাম না. তাই এই সিদ্ধান্ত।শেষমেষ আজ দিল্লিতে গিয়ে তিনি যোগ দিলেন বিজেপি দলে. আগামীকাল কলকাতায় মোদির ব্রিগেডে জনসভা।  তার আগেই রাজনৈতিক জগতের বহু পরিচিত মুখ দীনেশ ত্রিবেদীর যোগদান।  

যুক্তিতে প্রার্থী তালিকায় বিলম্ব বিজেপির

শুক্রবারে তৃণমূল তাদের ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিল | কিছুক্ষনের মধ্যে বাম চেয়ারম্যান কংগ্রেসকে পাশে বসিয়ে তাঁদের প্রার্থী তালিকার এক বড়ো অংশ প্রকাশ করলেন | কিন্তু দেশের বৃহত্তম দল এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারলো না | সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বেশ কিছু কারণে নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড জনসভার পরইবেশ কিছু কারণে নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড জনসভার পরই তাঁরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে | কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম পর্ব ভোটের মনোনয়ন জমা দেবার শেষ তারিখ ৯ মার্চ, তবে এতো দেরি কেন ? সূত্র জানাচ্ছে এই বিলম্বের যুক্তি আছে | কিন্তু কি সেই যুক্তি? সোম, মঙ্গল, বুধবারে কলকাতায় রাজ্য নেতৃত্বের বৈঠকের পর তালিকা তৈরি করে দিলীপ ঘোষরা চলে যান দিল্লিতে | এরপর দফায় দফায় বৈঠক হয় | প্রথমে শিবপ্রকাশের বাড়িতে বৈঠক হয় পরে সর্ব ভারতীয় সভাপতি নাড্ডার বাড়িতে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন  অমিত শাহ | এরপর বেশ কিছু আসন নিয়ে ভাবনা বদলানো হয় | পরিশেষে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বৈঠক হয়, শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন |

এরপরও ধীরে চলো নীতি নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব | তার অনেক যুক্তি আছে বলে শোনা গেলো | বিজেপি নেতৃত্ব দেখে নিতে চাইছে যে তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে কে কে বিদ্রোহী হয়, তাদের নিয়ে ভাবনা| এছাড়া এখনই মোদির সভার আগে তালিকা বের হলে যারা বাদ পড়েছে তারা বিদ্রোহ করে সভায় নাও আসতে পারে | ফলে অনেক যুক্তি দেখি বিজেপি তার অন্দরে দলকে ব্রিগেডের সভায় চাঙ্গা রাখতে চাইছে |

বিজেপিতে ‘মহাগুরু’ মিঠুন?

মিঠুন চক্রবর্তীকে একসময় সিনেমাপ্রেমীরা দাদা বলেই ডাকতো। কিন্তু সৌরভ সেলেব দুনিয়ার পদার্পণ করার পর দাদা ডাকটি ঘুরে যায়। সৌরভই ভারতবাসীর কাছে ‘দাদা’ হয়ে ওঠেন কালক্রমে। অপরদিকে মিঠুনও কলকাতায় আসা ততদিনে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর টেলিভিশনে একটি রিয়ালিটি শো করে রাতারাতি হয়ে যান ‘মহাগুরু’। মিঠুনের রাজনৈতিক জীবন বর্ণময়।  শোনা যায় কলেজ জীবনে তিনি নকশাল  আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সমস্যায় জড়িয়ে পড়ার আগেই চলচিত্র স্কুলে যোগ দেন বলে খবর। এরপর অনেক লড়াই করে বলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। কলকাতায় সঙ্গে তাঁর বরাবরই নাড়ির টান ছিল, সেটাই বাড়ে সিপিএম মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হয়ে। সবাই ধরে নিয়েছিল তিনি সিপিএম থেকে রাজ্যসভায় যাবেন কিন্তু অনিল বিশ্বাসরা বিষয়টিতে ছেদ টানেন।


ফলে মিঠুন ব্যস্ত হয়ে পড়েন সিনেমা জগতেই। বয়স বাড়লে নায়কের রোল ছেড়ে চরিত্রাভিনয়ে দেখা যেতে থাকল মিঠুনকে। তৃণমূল আমলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ তালিকায় তাঁর নাম চলে আসে। তিনি অবশেষে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য হন, কিন্তু চিটফান্ড কাণ্ডের  ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি  বিরক্তি প্রকাশ করে রাজ্যসভায় পদত্যাগ করে চলে যান বেঙ্গালুরুতে। এরপর নিজের ব্যবসায়ে মন দিয়েছিলেন। সম্প্রতি নাকি বিজেপির সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে আসেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তারপরই জল্পনা বাড়ে। এবারে শহরের মস্ত জল্পনা মিঠুন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন এবং নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেড সভায় যোগ দিতে পারেন। কি হবে পরের কথা, তবে ৭ মার্চ মানুষের লক্ষ্য থাকবে ব্রিগেডে মহাগুরুকে খোঁজার জন্য।                          

দিল্লি পুরসভার উপনির্বাচনে ধরাশায়ী বিজেপি

ইদানিং কালে কোনও ভোট বিজেপির ফল এত খারাপ হয়নি। যা হলো দিল্লি পুরসভার উপনির্বাচনে। মাত্র ৫ টি আসনে ভোট হয়েছিল দিল্লি পুরনিগমে। তাতে বিজেপির ঝুলিতে শূন্য। এই উপনির্বাচনের ফলাফলের দিকে নজর ছিল সমস্ত উত্তর ভারতের। দিল্লির কাছে তিন মাসের কৃষি ধর্নাকে কেন্দ্র করে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং হরিয়ানার জনতা ক্ষুব্ধ বলে শোনা গিয়েছিল। যে কেন্দ্রগুলিতে ভোট হয়েছে সেগুলি যথাক্রমে উত্তর দিল্লি পুরসভার 'রোহিনী-সি', পূর্ব দিল্লির ত্রিলোকপুরী, কল্যাণপুরী ও চৌহান বাঙ্গার এবং শালিমার বাগ |
রবিবার এই কেন্দ্রগুলিতে ভোট হয়েছিল। এই কেন্দ্রগুলিতে সারা ভারতের মানুষ বসবাস করেন ফলে একই মিনি ভারতের নির্বাচন বলা যেতে পারে। ৫ টি কেন্দ্রের চারটিতে জিতেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ। এছাড়া খড়ার বাজারে কংগ্রেস একটি আসন জিতেছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় প্রতিটি কেন্দ্রে অনেকটাই ফারাকে বিজেপি পরাজিত হয়েছে।            

দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বড়জোড়ায়

দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তাল হল বাঁকুড়ার বড়জোড়ার তাজপুর এলাকা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলল উত্তেজনা। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। এখনও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি কোনও দলই। তবুও দেওয়াল দখল নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগামী ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের প্রচারেই  বিজেপি কর্মীরা বড়জোড়ার তাজপুর এলাকায় কয়েকটি বাড়ির দেওয়াল লেখার জন্য চুন রঙ করেন।


অভিযোগ, সেই দেওয়াল দখল করে তৃণমূল নিজেদের প্রতীক এঁকে দেন তৃণমূল কর্মীরা। এই নিয়েই শুরু হয় বিবাদ। নিজেদের দখলে রাখা দেওয়ালে তৃণমূলের পোস্টার লাগানোর ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পাঁচজন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের রাস্তায় ফেলে রড, লাঠি ও টাঙি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন আহতরা। এদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর থাকায় তাঁদের বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার পর বুধবারও থমথমে এলাকা। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাবি, বিজেপিই তাঁদের দেওয়াল দখল করেছিল। 

CMO থেকে রাজনৈতিক নির্দেশ আসছে, তালাচাবি লাগাতে হবেঃ শুভেন্দু

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে। ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এরমধ্যেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরে ইস্কনে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ‘নবান্নে যে সমস্ত আধিকারিকরা আছেন কমিশনকে বলব অবিলম্বে তাঁদের সরাতে হবে। সিএমও-তে তালাচাবি লাগাতে হবে। কারণ ওখানে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা রাজনৈতিক নির্দেশ দিচ্ছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলব, কমিশনের সবটাই দেখা দরকার। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলবে’। ৮ দফা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে ২০ দফা ভোট হওয়া উচিৎ ছিল।