রবিবাসরীয় বিকেলে কলকাতা সহ কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়ে গিয়েছে নিম্নচাপ, যা ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যা পরিনত হবে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ নামে। এরমধ্যেই আলিপুর হাওয়া অফিস জানাল রবিবার বিকেলেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে হওয়া বইবে। সেই সঙ্গে দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতাতেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কারণ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। তার ফলেই এই বৃষ্টির সম্ভাবনা। আর বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের জেরে আগামী মঙ্গলবার থেকে প্রথমে বাংলার উপকূলীয় এলাকা এবং পরবর্তী সময়ে গোটা দক্ষিণবঙ্গেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ঢুকবে বর্ষা

সুখবর দিল আবহাওয়া দফতর। গরমের হাঁসফাঁস করার দিন এবার শেষ হতে চলেছে শীঘ্রই। কারণ সময়ের আগেই দেশে ঢুকে পড়ছে বর্ষারানী। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে চলতি বছরের ৩১ মে কেরলে ঢুকে পড়ছে বর্ষা। অর্থাৎ নির্ধারিত দিনের একদিন আগেই দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢুকছে দেশে। এখন দেখার বিষয় বঙ্গে কবে ঢোকে বর্ষা। কারণ এই রাজ্যে বর্ষার প্রবেশের স্বাভাবিক সময় মোটামুটি ৮ জুন। তবে কেরলে আগে ঢুকলেও যে বাংলায় আগে ঢুকবে তার কোনও মানে নেই বলেই জানিয়েছেন আবহবিদরা। তবে ইন্ডিয়া মেটেরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের (IMD) তরফে জানানো হয়েছে, এবছর স্বাভাবিক বর্ষাই হবে দেশে। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হয় বর্ষা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সচিব আশ্বাস দিচ্ছেন এবছর মুলত ৯৮ শতাংশ বর্ষা হতে চলেছে দেশে, যা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হয়। ফলে কৃষকদের জন্য সুখবরই বলা চলে। কারণ অতিবৃষ্টি বা কম বৃষ্টি হলে চাষের কাজে সমস্যা হয়।

তুমুল বৃষ্টিতে কলকাতায় জমল জল, মুর্শিদাবাদে বজ্রপাতে মৃত ১

কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে তুমুল বৃষ্টিপাত শুরু হল। বেলা সাড়ে ১২টা থেকে তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে চলে বজ্রপাত, সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। কলকাতা সহ বৃষ্টি হয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমানে। দুপুরের মধ্যে সন্ধ্যার আঁধার নেমে যায় শহর কলকাতায়। বেলা ১টা থেকে তুমুল বৃষ্টির জেরে শহরের অধিকাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মানিকতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ঠনঠনিয়া, পার্ক স্ট্রিটে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত জল জমে যায়। জল জমে সুখিয়া স্ট্রিট, বিধান সরণী, বেহালা, লেক গার্ডেন্সেও। ফলে যান চলাচল ধীর গতিতে চলছে ওই সমস্ত এলাকায়। এমনিতেই করোনা পরিস্থিতির জন্য আংশিক লকডাউনে কলকাতায় জনসমাগম অনেকটাই কম। রাস্তাঘাটে গণপরিহণ কম। এই পরিস্থিতিতে আচমকা বৃষ্টির জেরে সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রীরা। অপরদিকে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পুঠিমারী মাঠে বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। মৃতের নাম নাজির হোসেন (৩৫)। জেলায় জেলায় চলছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। প্রচুর চাষজমির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
 

দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই ব্যপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আলিপুর হাওয়া অফিস। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় নামবে বৃষ্টি, সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে পরিবর্তন হবে আবহাওয়ার। দক্ষিণবঙ্গে কলকাতা সহ দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং উত্তরবঙ্গের মালদা ও দুই দিনাজপুরে ঝড়-বৃষ্টি হবে। ঝড়ের গতিবেগ ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা থাকতে পারে। আলিপুর হাওয়া অফিসের বক্তব্য, দক্ষিণবঙ্গের উপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা তৈরি হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি হচ্ছে বজ্রগর্ভ মেঘের। দুইয়ে মিলেই ঝড়-বষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হল। যদিও রাজ্যে প্যাচপ্যাচে গরম কমেনি। কিন্তু বৃষ্টির পূর্বাভাস স্বস্তির খবর দিল আম জনতাকে।