তবে কি হু-র স্বীকৃতি পেতে চলেছে কোভ্যাক্সিন!

ভারতে তৈরি দু’টি টিকার মধ্যে এর আগে শুধু কোভিশিল্ডকেই করোনার টিকা হিসেবে অনুমোদন করেছিল হু। তবে কোভিশিল্ড সম্পূর্ণ ভারতের তৈরি নয়। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি। কোভ্যাক্সিন ভারতের গবেষণাগারে তৈরি করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরাই। দামে কোভিশিল্ডের দ্বিগুণ হলেও হু-র অনুমোদন ছিল না। ফলে দেশে স্বীকৃতি পেলেও কোভ্যাক্সিন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন অনেকেই। দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য নতুন করে টিকা নিতে হচ্ছিল তাঁদের। এবার করোনার বৈধ টিকা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চলেছে ভারতীয় টিকা কোভ্যাক্সিন।

এ সপ্তাহের শেষেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই স্বীকৃতি দিতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। যদিও দেশজুড়ে টিকাকরণ চলছে।তারমধ্যেই টিকার যোগান ঠিকমত না থাকায় কিছুটা সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যদিও এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিছু দিন আগে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

তিনি জানিয়েছিলেন ‘‘যাঁরা বিদেশের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাবেন ভেবেছিলেন তাঁরা কোভ্যাক্সিন নিয়ে বিপদে পড়েছেন। কেন না কোভ্যাক্সিনের টিকা নিয়ে তাঁরা দেশের বাইরে যাওয়ার শংসাপত্র পাচ্ছেন না।’’ এ সপ্তাহের শেষে কোভ্যাক্সিন হু-র অনুমোদন পেলে এই ধরনের সমস্যা মিটবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু, সতর্ক WHO

দেশে এবার করোনার তৃতীয় ঢেউ যে শুরু, তা সতর্ক করলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO )। এদিকে বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান,'দুর্ভাগ্যের সাথে তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক সস্তরে  আমরা পৌঁছে গেছি'. এদিকে বিশ্বে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা গত চার সপ্তাহ ধরে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। হুয়ের নির্ধারিত ছ’টি অঞ্চলের মধ্যে পাঁচটিতেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা নজরে এসেছে।

যদিও ট্রেডস বলছেন ‘কিছু কিছু দেশে টিকার অভাব আর টিকা হয়ে যাওয়া দেশগুলিতে করোনা বিধি মানার গাফিলতিই তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছে আমাদের।’’ করোনার তৃতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে বিশ্বের ১১১টি দেশে প্রভাব ফেলেছে। সমীক্ষায় তাই দেখা যাচ্ছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যে টিকার হার বাড়াতে হবে. যদিও মোট জনসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ মানুষের টিকা সম্পূর্ণ করতে হবে । অর্থাৎ বলা যায় এই ভাইরাস কিন্তু আরও অন্যরকম রূপ নিতে চলেছে। তাই ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে টিকার ওপর দিতে হবে বিশেষ নজর ।

WHO এর ছাড়পত্র মিলবে কোভ্যাকসিনে

এবার ভারত বায়োটেকের তৈরী কোভ্যাকিসন কে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর তরফে। ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের  তথ্য খতিয়ে দেখে এর কার্যকারিতা নিয়ে মোটের উপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান গবেষক ডঃ সৌম্যা স্বামীনাথন। ভারত বায়োটেক আশাবাদী আগামী মাসের মধ্যেই তাঁদের তৈরি টিকাটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। তাঁদের দাবি, করোনার উপসর্গযুক্ত রোগীদের উপর ৭৭.৮ শতাংশ কার্যকর কোভ্যাক্সিন।

যাঁদের অতিমাত্রায় উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ৯৩.৪ শতাংশ কার্যকরী তাঁদের টিকাটি। এমনকী, করোনার বিপজ্জনক ডেল্টা প্রজাতির বিরুদ্ধেও এই টিকাটি ৬৫.২ শতাংশ প্রতিরোধী বলে দাবি করেছে ভারত বায়োটেক। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে করোনা টিকাকরন। অন্যদিকে ভারত বায়োটেক আশাবাদী শীঘ্রই কোভ্যাক্সিনের ছাড়পত্র মিলবে।


ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশের জন্যই ভারতে বেড়েছে সংক্রমণ, জানাল WHO

ভারতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশে জমায়েতকেই দায়ী করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। তাঁদের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘ভারতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতের পিছনে রাজনৈতিক জনসভা এবং ধর্মীয় জমায়েতের বড় ভূমিকা রয়েছে’। WHO-এর ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ভারতে করোনা ভাইরাসের নতুন প্রজাতির (বি.১.৬১৭) সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এরপর সেটা দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। করোনার এই নতুন প্রজাতি (যা ভারতীয় প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে) দু’দফায় নিজের জিনগত চরিত্র পরিবর্তন (ডাবল মিউট্যান্ট) করে আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে বলেই জানিয়েছিল WHO। ফলে এর সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। এই বিষয়ে সাবধান বার্তা দেওয়ার পরও ভারতে বিভিন্ন ধর্মীয় (মূলত কুম্ভমেলা) এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সমাবেশ (পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট) করার অনুমতি দেয় ভারত সরকার। ফলে সংক্রমণ আরও দ্রুত হয়। যার জেরে ভারতে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে। প্রসঙ্গত এর আগে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিষয়ক পত্রিকা ‘ল্যানসেট’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘নেচার’ পত্রিকাও একই দাবি করেছিল তাঁদের প্রতিবেদনে। এবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য ভারতের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সমাবেশকেই দায়ী করল।