Uttam Kumar: আজকের প্রজন্ম উত্তমকুমারকে আদৌ চেনে কি ?

তাঁকে বলা হতো মহানায়ক বা মধ্যে গগনের সূর্য্য । স্বাভাবিক উত্তমকুমার নিজেই ছিলেন বাংলা সিনেমা ব্যবসার মূল মুখ । ১৯২৬ এ জন্ম, বেঁচে থাকলে আজ তাঁর ৯৬ তম জন্মদিন হতো । উত্তমকুমারের সিনেমায় আসাটা নেহাতই যোগাযোগ নয় বরং ৫০ এর মধ্যভাগে উত্তম যখন তাঁর পিতৃদত্ত নাম অরুন কুমার চট্টোপাধ্যায় হিসাবে সিনেমায় এসেছিলেন তখন পরপর তাঁর ছবি ফ্লপ করতে শুরু করে ।

একসময় তাঁকে ফ্লপ মাস্টার জেনারেল নামও দেওয়া হয়েছিল অথচ ম্যাট্রিক পাশ করে তিনি যোগ দিয়েছিলেন কলকাতা পোর্ট কমিশনে এবং থিয়েটারের নেশা ছিল কাজেই চালচিত্রে আসাটা তাঁর একান্ত ইচ্ছাই ছিল । এরপর তাঁর নাম পাল্টিয়ে যখন উত্তমকুমার হলো এবং ভালো পরিচালকের হাতে পড়লেন তারপর আর তাঁকে পিছনে তাকাতে হয় নি । অবশ্য সুচিত্রা সেনের সাথে জুটি বাঁধা বাংলা বাংলা ছবির এক বিরাট বিপ্লব ছিল যা আজ এতো যুগ বাদেও অটুট রয়েছে । 

আজকের প্রজন্ম উত্তমকুমারকে আদৌ চেনে কি অথবা চিনতে চায় কি ? ৪০ বছরের আগে উত্তমকুমার মাত্র ৫৪ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন । সে দিনের বামফ্রন্ট সরকার এই প্রবাদপ্রতিমকে সম্মান দেয় নি কিন্তু আজ যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন উত্তমকে সম্মান জানাচ্ছেন তখন মানুষ কি মনে রেখেছে মহানায়ককে ?


Uttam Kumar: মহানায়কের জন্মদিন

উত্তমের সেই ভুবন ভোলানো হাসি, প্রেমিকসুলভ আচার-আচরণ এখনো মানুষের মন মাতায়। বাংলা সিনেমার আইকন হয়ে কোটি হৃদয়ে এখনো বেঁচে আছেন মহানায়ক উত্তম কুমার। আজ ৩ সেপ্টেম্বর তার জন্মদিন। ১৯২৬ সালের আজকের এদিনে কলকাতার ভবানীপুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্মেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তার জুটি ছিলো তুমুল জনপ্রিয়৷ বহু সিনেমায় তারা কালজয়ী হয়ে আছেন। এছাড়াও সুপ্রিয়া দেবী, তনুজাসহ আরও অনেক নায়িকার সঙ্গেই সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনিউত্তম কুমার শুধু যে বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন তা কিন্তু নয়। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।

তার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘ছোটিসি মুলাকাত’, ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ -তে উত্তম কুমার নিজেকে তুলে ধরেছেন অনন্যভাবে। ন দশকের অভিনয় জীবনে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে দুইশোর বেশি চলচ্চিত্রে দেখা গেছে উত্তম কুমারকে।

তবে বেশির ভাগ ছবিই বাণিজ্যিক সফলতার মুখ দেখেনি। এরপরও মহানায়কের আসনে উত্তম কুমারকে বসাতে একটুও দ্বিধা করেনি। এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবিতে অসামান্য অভিনয় দক্ষতার জন্য উত্তম কুমার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই চিরবিদায় নেয়ার পরও বাংলার মানুষের মনে থেকে গেছেন মহানায়ক হয়েই। যতো দিন বাংলা সিনেমা থাকবে তার নাম থেকে যাবে অমর হয়ে।

আজও কি উত্তমকুমার প্রাসঙ্গিক?

বঙ্গ জীবনে দুই ব্যাক্তিত্বর মৃত্যুদিবস পালিত হয় । একজন লোকনাথবাবা । অবশ্য লোকনাথবাবা পূজিত হন ধর্মীয় ভাবাবেগে । অন্যজনের মৃত্যুদিন পালিত হচ্ছে, তিনি মহানায়ক উত্তমকুমার । আজকের তারিখে আজ থেকে ৪১ বছর আগে ৫৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন উত্তমকুমার । তাঁর সমকালীন সিনেমা প্রেমীদের অধিকাংশই হয় মারা গিয়েছে অথবা বেঁচে থাকলেও বৃদ্ধ । ৫০ দশক থেকে ৮০ দশকের মধ্যভাগ অবধি উত্তমই ছিলেন বাংলা সিনেমার সুপারস্টার ।  তাঁর একটি ছবি মানেই হিট । বহু প্রযোজক, পরিচালক তাঁর সাহচর্য পেয়ে নাম করতে পড়েছিলেন । টালিগঞ্জ ষ্টুডিও তথা বাংলা সিনেমা দাঁড়িয়ে ছিল উত্তম নির্ভর হয়ে ।

আজ আধুনিক যুগ । কলকাতায় সিনেমা হল নামক বস্তুটিকে খুঁজে দেখতে হয় দূরবীন দিয়ে । আজকের প্রজন্ম সিনেমা দেখতে যায় মাল্টিপ্লেক্সে, যেখানে টিকিটের মূল্য বিশাল । উত্তমের পুরোনোদিনের ছবি মোটেই কোথাও দেখানো হয় না । ফলে প্রশ্ন থেকেই যায় উত্তমকুমার কি আজও প্রাসঙ্গিক বাংলা সিনেমা জগতে ?