নিজেই সোশাল মিডিয়া অ্যাপ খুলছেন ট্রাম্প

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও কিছুতেই মচকান না। এখন তিনি ভূতপূর্ব, কিন্তু গদির লোভ যায়নি মোটেই। এই মুহূর্তে আমেরিকার জনপ্রিয়তাহীন মানুষ তিনি। ভোট পর্বে যে ভাবে নেট মাধ্যমে উস্কানিমূলক ব্যবহার করেছেন তা মানুষ ভুলতে নারাজ। হেরে যাওয়ার পরও তিনি যে সমস্ত বাক্য ব্যবহার করেছেন, বা গদি আগলে বসে ছিলেন তা গণতন্ত্রের পীঠস্থান আমেরিকাতে বেমানান। তাঁকে ফেসবুক থেকে অনেকেই বিদায় করেছেন, তাঁর করা টুইটার এখন কেউ ফলো করে না। কার্যত এই কারণে ট্রাম্পের গোঁসা হয়েছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষ ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে তাঁর প্রোমোটিংয়ের ব্যবসা। কলকাতাতেও তাঁর সংস্থার তৈরি বহুতল ফ্লাট রয়েছে সায়েন্স সিটির পিছনে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ঠিক করেছেন নিজেই সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম খুলবেন। অনেকটা ফেসবুক-টুইটারের ধাঁচে। এই খবরই পাওয়া যাচ্ছে ট্রাম্পের সংস্থা মারফৎ। খবরের সত্যতা যাই হোক, আপাতত তিনি নিজের দেশেই ভিলেন। তাঁর করা টুইটের জন্য যা কিনা ক্যাপিটাল বিল্ডিংয়ে আগুন ধরিয়েছে সম্প্রতি।      

আমেরিকায় বরফ পিছল রাস্তায় পরপর ধাক্কা মারল ১৩০টি গাড়ি

এমনিতেই প্রবল শীতে কাঁপছে আমেরিকা। এরসঙ্গে শীতকালীন ঝঞ্ঝা ‘শার্লি’ নাভিশ্বাস তুলছে মার্কিনীদের। এবার শার্লির দাপটে বড়সড় বিপত্তি ঘটল আমেরিকার টেক্সাসে। সেখানকার বরফ পিচ্ছল রাস্তায় পরস্পর ধাক্কা মারল ১৩০টি গাড়ি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত একশোজনের বেশি বলে জানা যাচ্ছে। আমেরিকার সময় বৃহস্পতিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। তুষার ঝড়ের জন্য টেক্সাসের রাস্তায় বরফ পড়ে পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে রাজপথে চলাচলকারী গাড়ি পিছলে গিয়ে একে অপরকে ধাক্কা মারতে থাকে। সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় শতাধিক। ফলে এলাকায় কার্যত গাড়ির জট পাকিয়ে যায়।

আকাশপথে দেখা গিয়েছে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে এলোমেলোভাবে গাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বহু কষ্টে সেখানে পৌঁছায় দমকলবাহিনী। পরে তাঁরা উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। এই দুর্ঘটনার খবর সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। একটি ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা গিয়েছে একটি ভারী ট্রাক বরফ রাস্তার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে একটি পরপর কয়েকটা গাড়িকে ধাক্কা মারে। এর পিছনে আসা গাড়ি গুলিও বরফের জন্য নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পরপর ধাক্কা মারতে থাকে। জানা যাচ্ছে, ওই এলাকায় বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করার কাজ চালাচ্ছে পুলিশ ও দমকলবাহিনী। এক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা সংস্থার মুখপাত্র ম্যাট জাভাদস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অন্তত ৬৫ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। পিছল রাস্তার জন্য উদ্ধারকাজ ব্যহত হচ্ছে।

ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট বিচারে ক্যাপিটলের হামলার নতুন ভিডিও

প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আদালতে নতুন সব তথ্যপ্রমাণ হাজির করা হয়েছে। আগে দেখা যায়নি এমন সব ছবি-ভিডিওর পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষা বাহিনীর রেকর্ড তুলে ধরে ওয়াশিংটনের  ক্যাপিটল হিলে হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ভয়াবহ হামলার জন্য ট্রাম্পের সরাসরি দায় রয়েছে বলে ডেমোক্রাটদের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। হামলার সময় ট্রাম্প সমর্থকরা সেসময়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নাম ধরে খোঁজ করছিল। মাইক পেন্স ও সিনেটর মিট রমনির রক্ষা পাওয়ার কয়েক মুহূর্তের ভিডিও দেখা গিয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন চলার সময় এই হামলার মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে মাইক পেন্স, ন্যান্সি পেলোসিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল।
বুধবার দুপুরে মার্কিন সেনেটের প্রবীণতম সদস্য প্যাট্রিক লেহির সভাপতিত্বে আদালতের দ্বিতীয় দিনের কাজ শুরু হয়। সেখানেই পরপর এইসব ভিডিও দেখানো হয়। ডেমোক্রাটদের তরফে বলা হয়েছে, হিংসার অভিযোগে গ্রেপ্তার লোকজন হলফনামা দিয়ে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত থাকার কথা কবুল করেছে। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের আইনপ্রণেতাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়। একইসঙ্গে বলা হয়, তিনি দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি ভাইস প্রেসিডেন্টের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলেছিলেন। ট্রাম্প অনেক আগে থেকেই লোকজনকে প্ররোচিত করে আসছিলেন। আর তার চূড়ান্ত পরিণতিতেই ক্যাপিটল হিলে হামলা হয়। অন্যদিকে, ইম্পিচমেন্টের বিচার নয়, রাজনৈতিক বিচার কাজ চলছে বলেও রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে অনুযোগ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যাঁর বিরুদ্ধে সিনেটে দ্বিতীয় দফা ইম্পিচমেন্ট বিচার চলছে। এই প্রস্তাব গ্রহণের সময় ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটর ট্রাম্পের পক্ষে ভোট প্রদান করেছিলেন।

মার্কিন সাংবাদিকের হত্যাকারীকে জেল থেকে মুক্তি পাকিস্তানে

১৯ বছর আগে মার্কিন সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্লের মুণ্ডচ্ছেদ করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আহমেদ ওমর সইদ শেখকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার করাচি সেন্ট্রাল জেলের ডেথ সেল থেকে বের করে সরকারি বিশ্রাম আবাসে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দিয়েছে। তার পরিবারকে সরকারি পরিবহনে সেই বিশ্রাম গৃহে নিয়ে আসারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিন কয়েকের মধ্যেই সইদ শেখতে জেল থেকে সরাতে হবে বলেও শীর্ষ আদালত জানিয়েছে। তাকে করাচিতেই রাখতে হবে। হত্যাকারীরা ড্যানিয়েলের মুণ্ডচ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করেছিল।
এই আদেশের পর উদ্বিগ্ন আমেরিকা। ২০০২ সালে ৩৮ বছরের ড্যানিয়েলের অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তকে জেল থেকে বের করার নির্দেশে আমেরিকা চিন্তিত। গত ২৯ জানুয়ারি মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির বৈঠকে ড্যানিয়েল পার্লের হত্যাকারীর বিরুদ্ধে তদন্তে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কথা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সন্ত্রাসের বলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে। তারা রায়ের নতুন করে বিবেচনার দাবি করেছে। নিম্ন আদালত সইদ শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
এর আগে সিন্ধ হাইকোর্ট সইদ শেখকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত সেই রায় বহাল রেখেছে। তার সঙ্গে অন্য অভিযুক্তদেরও মুক্তির আদেশ দেয় তারা। হাইকোর্টের মুক্তির রায়ের বিরুদ্ধে সিন্ধ সরকার ও ড্যানিয়েলের পরিবার আপিল করেছিল। আমেরিকা বলেছে, পাকিস্তান সুবিচার করেব বলে তারা আশা করছে। তারা সইদ শেখের বিরুদ্ধে আমেরিকায় বিচার করার দাবিও জানিয়েছে।

ভয়াবহ তুষারঝড়ে স্তব্ধ নিউইয়র্কের জনজীবন

আমেরিকার উত্তরপূর্বে ভয়ঙ্কর তুষারঝড় বইছে। বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গিয়েছে পুরু বরফের চাদরে। নিউইয়র্ক সহ একাধিক শহরে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। উত্তরপশ্চিম থেকে উত্তরপূর্বে আসছে এই ঝড়। নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। তাঁর কথা, এই ঝড়ে জীবনের আশঙ্কা রয়েছে। অবস্থা দ্রুত খুবই খারাপ হতে পারে। নিউইয়র্ক থেকে বাতিল হয়েছে ৯০ ভাগ উড়ান। লা গার্ডিয়া ও জেএফকে বিমানবন্দর স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করা হয়েছে। নিউ জার্সির করোনা টিকাকরণ কেন্দ্রগুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। একই অবস্থা বস্টনেও।


মঙ্গলবার দেড় থেকে দুই ফুট বরফ জমে যাওয়ার আশঙ্কা আবহাওয়া দফতরের। নিউ জার্সি ও পেনসিলভেনিয়ার কিছু অংশে ২৭ ইঞ্চির মতো বরফ জমে গিয়েছে। ম্যানহাটানের সেন্ট্রাল পার্কে জমে রয়েছে ১৩ ইঞ্চিরও বেশি বরফ। বস্টনে বৃষ্টির সঙ্গে তুষারপাত চলছে। ৪৮ থেকে ৬৪ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ২০১৬ সালের মতো তুষারঝড় হলে নিউইয়র্ক শহরে জমে যেতে পারে দুই ফুট বরফ। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, গত ৩০ বছরে এমন তুষারপাত তাঁরা দেখেননি। উত্তরপশ্চিম আমেরিকায় সাবওয়ে পরিষেবা এবং ম্যানহাটান থেকে নিউ জার্সির ট্রেন চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বন্ধ স্কুলও।