১২ মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন শুভেন্দুর, থাকবেন একাধিক হেভিওয়েট

একুশের নজরকাড়া কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্রেই এবার শাসকদল ও প্রধান বিরোধী দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মুখোমুখী। একজন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং অন্যজন তাঁরই দীর্ঘদিনের সঙ্গী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাই এবারের বাংলার ভোটে এটাই সবচেয়ে বড় লড়াই বলে মনে করছেন রাজ্যবাসী। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১২ মার্চ মনোনয়ন পেশ করতে পারেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সূত্রে খবর, ওই দিন শুভেন্দুর সঙ্গে থাকতে পারেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান থাকতে পারেন শুভেন্দুর সঙ্গে। মিঠুন চক্রবর্তীও থআকতে পারেন। অপরদিকে, আগামী শিবরাত্রীর দিন মনোনয়ন পেশ করতে পারেন তৃণমূল নেত্রী। সবমিলিয়ে উত্তেজনা চরমে নন্দীগ্রামে। ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের দেওয়ালে দেওয়ালে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম লেখা চলছে। প্রচারও চলছে দুই দলের। তৃণমূল নেত্রী এখানে আসবেন বলে স্থানীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই চারটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে ফেলেছেন। এরমধ্যে একটি বাড়িতে নেত্রী সয়ং থাকবেন, অন্য একটিতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় হবে। বাকি দুটি বাড়িতে কলকাতা থেকে নন্দীগ্রামে প্রচারে যাওয়া হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী এবং সেলিব্রেটিরা থাকবেন।

নন্দীগ্রামে মমতার মুখোমুখী শুভেন্দুই, ইঙ্গিত দিলেন দিলীপ

নন্দীগ্রাম থেকেই ভোটে লড়বেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী শিবরাত্রির দিনই তিনি মনোনয়নপত্র জমা করবেন বলেই আপাতত খবর। এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হল তাঁর বিরুদ্ধে কি শুভেন্দু অধিকারীই বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন? এই ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু না জানালেও বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবারই এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আলোচনায় আছে’। উল্লেখ্য শুভেন্দুই নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক।

মূলত শুভেন্দুর নিজের হাতে গড়া এখানকার তৃণমূলের সংগঠন। এখন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। ফলে তৃণমূলের সংগঠনেও বড়সড় ফাটল ধরেছে একথা বলাই বাহুল্য। শুভেন্দুর অনুগামী অনেকেই ঘাসফুল ছেড়ে পদ্মফুলে চলে এসেছেন। আবার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, অনেকে তৃণমূলে থেকে গেলেও মন থেকে শুভেন্দুরই অনুগামী রয়ে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মর্যাদার আসন নন্দীগ্রাম বাঁচাতেই তৃণমূল নেত্রী নিজে সেখান থেকে দাঁড়াতে চেয়েছেন। কিন্তু শুভেন্দুও তাঁকে খোলা চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছেন, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ালে তাঁকে হাফ লাখ (৫০ হাজার) ভোটে হারাবেন।


বুধবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি বলেন, আজ (বুধবার) দলের নির্বাচনী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে প্রথম দুই দফার ভোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই একেকটি আসনে দুই থেকে তিনজনের নাম দিল্লিতে চলে গিয়েছে। সেখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে চুরান্ত নাম। তাঁকে শুভেন্দুর নাম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে এবিষয়ে কথা হয়নি। তবে ওনার নাম এসেছে’। তবে তিনি এও জানান, ওই বিধানসভা আসনের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং ওই কেন্দ্রে (নন্দীগ্রাম) প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা আছে কিনা সেই সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। মার্চের ৪-৫ তারিখের মধ্যে প্রথম দুই দফার ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়ে যাবে।

অভিষেক, শুভেন্দুর চাপান উতোর

আজ ঘাটালের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তাঁর বক্তব্যে জানালেন যে মেদিনীপুরে সমস্ত বিজেপি প্রার্থীর পরাজয় হবে | জামানত জব্দও হবে ঘটালে বলে দাবি তাঁর | তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন যে মেদিনীপুর কারুর পৈতৃক সম্পত্তি নয় | ইঙ্গিতটি যে অধিকারীতে আটকে তা বলাই বাহুল্য | পাশাপাশি আজ হুগলির ডানকুনির জনসভাতে গর্জে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী | তিনি বলেন, তৃণমূল করোনা ভাইরাসের চেয়েও ভয়ঙ্কর | তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন নবান্নর সিএমও অফিসকে | তাঁদের ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন |
শুরু হয়ে গেল লড়াই | একসময় একসাথে থাকা দুই যুব নেতা আজ পরস্পর বিরোধী | এক সময়ে প্রফুল্ল সেন ও অজয় মুখোপাধ্যায় পরম ঘনিষ্ঠ ছিলেন পরে ১৯৬৭ তে তাঁরা আলাদা হয়ে যান | ৬৭ তে অজয়বাবু হারান প্রফুল্ল সেনকে আবার ১৯৬৯ এ প্রফুল্ল সেন হারান অজয়বাবুকে কিন্তু দুই গান্ধিবাদী নেতার সম্পর্ক নষ্ট হয়নি | কিন্তু আজ বর্তমানের দুই নেতা ব্যক্তিগত লড়াইয়ে নেমেছেন ভোট যুদ্ধে |

CMO থেকে রাজনৈতিক নির্দেশ আসছে, তালাচাবি লাগাতে হবেঃ শুভেন্দু

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়ে গিয়েছে। ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এরমধ্যেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরে ইস্কনে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু। সেখান থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, ‘নবান্নে যে সমস্ত আধিকারিকরা আছেন কমিশনকে বলব অবিলম্বে তাঁদের সরাতে হবে। সিএমও-তে তালাচাবি লাগাতে হবে। কারণ ওখানে যাঁরা বসে আছেন, তাঁরা রাজনৈতিক নির্দেশ দিচ্ছেন’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলব, কমিশনের সবটাই দেখা দরকার। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলবে’। ৮ দফা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, এই রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে ২০ দফা ভোট হওয়া উচিৎ ছিল।


অপরদিকে, শনিবার বিকেলেই বিজেপির এক প্রতিনিধি দল রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতের যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত, সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে বেশ কয়েকটি অভিযোগপত্র তুলে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পরে সাংবাদিকদের স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, রাজ্য প্রশাসন ভোট ঘোষণা হওয়ার পরও প্রকল্পে টাকা দিচ্ছেন। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করার নির্দেশিকা দিয়েছেন। এছাড়া যে সমস্ত পুরসভা ও কর্পোরেশনে প্রশাসক বসানো হয়েছে সেখানেও পিছনের দরজা দিয়ে প্রকল্প চালু করছে। মানুষকে খুশি করতেই এগুলি করছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এছাড়া, বেশ কয়েকজন পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নামেও নালিশ ঠুকে এসেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

আর্মহার্স্ট স্ট্রিটে শুভেন্দু-অর্জুন-মুকুলদের মিছিলে ঝাঁটা-জুতো ছুঁড়ল তৃণমূল

এবার খাস কলকাতায় বিজেপির মিছিল আটকাল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা। ঠুঁঠো জগন্নাথ হয়ে দেখল পুলিশ। ফলে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বুধবার বিকেলে। হৃষিকেশ পার্ক থেকে লেবুতলা পার্ক পর্যন্ত মিছিল কর্মসূচি ছিল বিজেপির। বিজেপির সেই মিছিল যখন ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার আগেই বেশ কয়েকশো তৃণমূল কর্মী সমর্থক সেখানে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।