ফের বাংলায় রাজ্যসভার ভোট

সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীর ছেড়ে যাওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতাতে নির্বাচিত হন তৃণমূলের জহর সরকার । এবারে ফের রাজ্যসভায় ভোটার ঢাকে কাঠি পরে গেলো । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের উপনির্বাচন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ফল ঘোষণা ৩ অক্টোবর রবিবার ঠিক তার পরদিনই রাজ্যসভার ভোট । মানস ভূইঞার ছেড়ে যাওয়া পদে ভোট নির্ধারিত হয়েছে ৪ অক্টোবর । মানসবাবু গত মে মাসে তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ পদটি থেকে ইস্তফা দেন । তিনি তাঁর আগেই সবং কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন । 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সময়টিই ধার্য্য করা হয়েছে খালি আসনের জন্য । ১৫ সেপ্টেম্বর জারি হতে পারে নোটিফিকেশন । এরপর ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে হবে । ২৩ সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি । ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নাম তুলে নেওয়ার শেষ তারিখ । ৪ অক্টোবর ভোটের সময় সকাল ৯ থেকে বিকেল ৪টা অবধি । তারপর শুরু হবে ভোট গণনা । অবশ্য ফের যদি বিজেপি প্রার্থী না দেয় তবে আগেই যিনি মনোনয়ন জমা দেবেন তাঁকেই জয়ী ঘোষণা করা হয় । এখনও তৃণমূলের কে প্রার্থী হবে তা ঠিক হয় নি । 

রাজ্যসভায় প্রবেশ নয় তৃণমূলের ৬ সাংসদের

বুধবার তৃণমূলের ৬ রাজ্যসভার সাংসদকে সেই দিনের মতো সাসপেন্ড করা হয় কারণ জানায় যে এই সাংসদরা ওয়েলে নেমে সংসদের কাজে বাধা দেন । গতকাল সারাদিন অবশ্য সংসদ মুলতুবি ছিল । এরপর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা সংসদে প্রবেশ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় । কার্যত তৃণমূলের সাংসদের প্রবেশ করতে না দিলে তাঁরা সদর দরজার সামনে প্রতিবাদ শুরু করেন এতে দরজার কাঁচ ভেঙে যায় । ধাক্কাধাক্কি হয় বিস্তর । মৌসম নূর, অর্পিতা ঘোষ, শান্ত ছেত্রী, আবিররঞ্জন বিশ্বাস, নাদিমুল হক এবং দোলা সেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ।
তৃণমূলের তরফ থেকে জানানো হয় যে ঐদিনের ওয়েল প্রতিবাদে কংগ্রেসও ছিল অথচ তাঁদের কিছু বলা হয় নি ইটা আসলে বিরোধীদের মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি করা হচ্ছে । এই প্রতিবাদ ফের আজ হওয়াতে বিজেপি সরকার চটেছে । সংসদীয় মন্ত্রী প্রল্হাদ যোশী জানিয়েছেন এই হট্টগোল মণ হবে না । আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানা গিয়েছে ।

তৃণমূলের ৬ সাংসদ সাসপেন্ড রাজ্যসভায়

টেলিফোন আড়িপাতা কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং একই সাথে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সাংসদ শান্তনু সেনের সাসপেন্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল তৃণমূলের উভয় কক্ষের সাংসদরা । তাঁরা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন । অবশ্য এর আগে পরে নিয়মিত ভাবে মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের আলোচনা । আজ একদিকে তৃণমূলের নতুন সাংসদ জহর সরকার রাজ্যসভায় এসে শপথ নেন তারপরই সাস্পেনশন আসে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্যের উপর ।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছিলো তৃণমূলের উপর সাসপেনশন আস্তে চলেছে । প্রথমে রাজ্যসভায় মন্ত্রীর হাত থেকে কাগজ ছিড়ে ফেলার কারণে বাদল অধিবেশনে পুরো সময়ের জন্য সাসপেন্ড হন ড.শান্তনু সেন । আজ সাসপেন্ড করা হয়ে যে ৬ সাংসদকে তাঁরা যথাক্রমে মৌসম নূর , দোলা সেন , আবিররঞ্জন বিশ্বাস , নাদিমুল হক , শান্তা ছেত্রী এবং অর্পিতা ঘোষ । তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংসদের কাজ বানচাল করার প্রচেষ্টা । অবশ্য এই ৬ জনকে ১ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় ।


রাজ্যসভায় তৃণমূলের জহর সরকার

অবশেষে দীনেশ ত্রিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রসার ভারতীয় প্রাক্তন প্রধান, জহর সরকার ( আইএএস) । আজই নাকি জহরবাবুকে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কথা বলেন । জহরবাবুকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার অনুরোধ করলে তিনি রাজি হয়ে যান । কিন্তু কয়েকদিন ধরে নানান নাম থাকা সত্বেও জহর সরকার কেন ? জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি এবং প্রসার ভারতীর প্রধান হওয়ার কারণে সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল সর্বোপরি উচ্চ শিক্ষিত এই ব্যক্তিত্বর ইমেজ সচ্ছ ।

বর্তমানে তৃণমূল দল যে সচ্ছতা চাইছে দলের নেতাদের তার অন্যতম উদাহরণ অরাজনৈতিক জহরবাবুকে রাজ্যসভায় পাঠানো । অবশ্য এক সময়ে কংগ্রেসের গুডবুকে থাকা জহরবাবু সম্প্রতি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি নিয়ে তুলোধোনা করেছিলেন মোদী সরকারকে । তিনি জানিয়েছিলেন, মোদী অমিত শাহ পাগল হয়ে গিয়েছেন । কার্যত মোদী বিরোধী সোজাসাপ্টা কথা বলা জহরবাবুর দায়িত্ব থাকবে আগামীদিনে প্রশাসনিক দিকে কেন্দ্রর নীতিকে সমালোচনা করা ।


মুকুল কি ফের রাজ্যসভায় ?

তৃণমূলের অন্দরে এই বিষয়টি ঘুরে বেড়াচ্ছে যে মুকুল রায়কে ফের রাজ্যসভায় পাঠানো হতে পারে বলে সংবাদ । সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় মুকুলকে নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে জটিলতা বাড়ছে । মুকুলকে পি এ সি চেয়ারম্যান করে তৃণমূল যে 'খেলা ' খেলেছিল তবে কি তার থেকে সরে আসতে চাইছে, উঠেছে প্রশ্ন ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে মুকুল ইস্যু নিয়ে আর দীর্ঘ জটিলতা চাইছে না তৃণমূল নেতৃত্ব । এর থেকে মুকুলকে রাজ্যসভায় পাঠালে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে অনেক বেশি কাজে লাগানো হতে পারে । সে ক্ষত্রে পিএসি চেয়ারম্যানের কি হবে? সূত্র বলছে এমন কিছু নতুন ঘটনা ঘটবে যা কিনা চমকদার এবং শুভেন্দুর পক্ষে সুখকর নয় । তারপরই তৃণমূল মুকুল যুক্তি দেখিয়ে শিশির অদিকারী সদস্যপদ খারিজ করার কাজে নামবে । প্রসঙ্গত রাজ্যসভায় দুটি আসন তৃণমূলের খালি হয়েছে । একটি দীনেশ ত্রিবেদীর যার ভোট অগাস্টেই হয়ে যাবে । অন্যটি মানস ভূইঞার আসন । যার ভোট নভেম্বরে মধ্যে করতে হবে । একটিতে মুকুল গেলে অন্যটিতে যেতে পারেন যশবন্ত সিনহা ।  

রাজ্যসভা থেকে সাসপেন্ড তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন

সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। অধিবেশন শুরুর ঠিক আগের দিন রবিবার রাত থেকেই সংবাদের শিরোনামে চলে আসে পেগাসাস। এই আবহে আজও পেগাসাস নিয়ে উত্তাল হতে পারে সংসদ। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ডঃ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে মন্ত্রী অশ্বীনি বৈষ্ণবের বৃবৃতি ছেঁড়ার অভিযোগ ওঠে।

সূত্রের খবর, রাজ্যসভার ২৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে চলেছে বিজেপি।চলতি বাদল অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদকে যাতে সাসপেন্ড করা হয়, সেই দাবি জানিয়ে শুক্রবার ডেপুটি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জমা করতে পারে বিজেপির। এই ঘটনার জেরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু শান্তনু সেনের নিন্দায় সরব হলেন। বেশকয়েকদিন ধরেই পেগাসাস নিয়ে নান বিতর্ক উঠছে। এরপর আজ সংসদে ফের পেগাসাস নিয়ে আলোচনা উঠতে উত্তাল হয়ে উঠলো সংসদ।

সৌরভ কি রাজ্যসভায় যাচ্ছেন ?

৮ জুলাই ছিল প্রিন্স অফ কলকাতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ৪৯ তম জন্মদিন । ওই দিন হঠাৎ ই তাঁর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । অবশ্য মমতা জানিয়েছেন যে প্রতি বছর সৌরভকে তিনি শুভেচ্ছা বার্তা জানান কিন্তু এবারে নিজেই গিয়ে উপস্থিত হলেন তাঁর বাড়িতে । স্বাভাবিক ভাবেই আপ্লুত গাঙ্গুলি পরিবার । তারপরেই জমে ওঠে 'চা' সহযোগে আড্ডা । এইবারে প্রশ্ন উঠেছে হটাৎ মুখ্যমন্ত্রী কেন হাজির হলেন 'দাদা'র বাড়িতে ।

সৌরভকে বিজেপির কেন্দ্র নেতৃত্ব এবারের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করতে চেয়েছিলো বলে গুঞ্জন । সৌরভ নাকি নানান কারণ দর্শিয়ে এই আহ্বান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন । এমনও শোনা গিয়েছিলো স্বয়ং মোদি, শাহরাও উৎসাহী হয়েছিলেন মহারাজকে সিংহাসনে বাসাতে । প্রতিবারই বিজেপি ব্যর্থ হয়েছিল । স্বাভাবিক ভাবে এতে খুশি তৃণমূল হাই কম্যান্ড । এবারে কি তারই পুরস্কার পেতে চলেছেন সৌরভ ? সোশ্যাল নেটে এমন বার্তাই ছড়িয়ে পড়েছে । স্বয়ং বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এমন কিছু হলে তাঁদের আপত্তি নেই । দিলীপবাবুর ধারণা মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত কোনও বার্তা নিয়েই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং তা রাজ্যসভার শূন্য দুই আসনের একটি সৌরভের জন্য ।

তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভায় যাবেন কারা?

এই মুহূর্তে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় দুটি আসন শূন্য হয়েছে। একটি দীনেশ ত্রিবেদীর আচমকা পদত্যাগের কারণে অন্যটি সাম্প্রতিক বিধানসভায় মানস ভুঁইয়া জিতে মত্রী হওয়ার ফলে। ফলে তাঁদের আসনে কাদের মনোনয়ন দেবেন তৃণমূলনেত্রী সেটা নিয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। এই গুঞ্জনে বহু নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। দীনেশের স্থানে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তিনি দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা। সম্প্রতি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। এবং বর্তমানে তিনি তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি পদে রয়েছেন। যশবন্তজি দিল্লির রাজনীতি খুব ভালো বোঝেন এবং মোদি-অমিত শাহ বিরোধী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। একুশের নির্বাচনে তিনি বাংলায় যেমন তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন তেমনই বারবার মোদি ও অমিত শাহকে আক্রামণ শানিয়েছেন।


অপরদিকে তিনি ইংরেজি ও হিন্দি খুব ভালো বলেন এবং পার্লামেন্টের কাজকর্ম ভালো বোঝেন। সুতরাং যশবন্ত সিনহার রাজ্যসভায় যাওয়া এক প্রকার নিশ্চিত। অন্য আসনে মানস ভুঁইয়াকেও রাজ্যসভায় রেখে দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন একাংশ। সেক্ষেত্রে ভবানীপুর কেন্দ্রে ইস্তফা দেওয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সবং থেকে জিতিয়ে আনা হতে পারে। কিন্তু মানস ভুঁইয়াকেও মন্ত্রী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তাঁকে বিধানসভাতেই রাখা হতে পারে। আবার ঘনিষ্ঠমহলে শোভেনদেবও চাইছেন এই রাজ্যে থেকেই কাজ করতে। ফলে রাজ্যসভার ওই আসনে নতুন কোনও মুখ আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার কাদের নামে মনোনয়ন দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।