আগামী সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলন, ভার্চুয়ালি যোগ প্রধানমন্ত্রীর

করোনা আবহে চলতি সপ্তাহে বসতে চলেছে জি-৭ সম্মেলন। যদিও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ডাক পেয়েই এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। তবে এই বৈঠক হবে ভার্চুয়ালি। আগামী ১২ ও ১৩ জুন এই বৈঠক করা হবে উপস্থিত থাকবেন জি-৭ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়,এরপর জানানো হয়েছে, এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগ দেবে।

পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তন, আবহাওয়ার সংকট দূর হওয়া সম্ভব কিনা। সেইসমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা সারবেন প্রধানমন্ত্রী। একমাস আগে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, দেশের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় ব্রিটেনের সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন না প্রধানমন্ত্রী। তবে এবার তাঁর ভারচুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
 

অনাথ শিশুদের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রী, খোঁচা পিকের

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এতে অনেক শিশু তার মা বাবাকে হারাচ্ছে।যার জেরে হয়ে পড়ছে অনাথ। শনিবার সেইসমস্ত অনাথ শিশুদের কথা ভেবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বড়সড় সিদ্ধান্ত। অনাথ শিশুদের সমস্ত দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন টুইটে নরেন্দ্র মোদি। তবে এই নিয়ে এবার কেন্দ্রকে তোপ দাগলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। এখনই অনাথ শিশুদের সাহায্যের প্রয়োজন। সেখানে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে. কেন্দ্রের এই প্রতিশ্রুতি  নিয়ে বেঁচে থাকুক দিশেহারা শিশুরা।
টুইটে পিকে এও লেখেন, “বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার সংবিধানেই রয়েছে। কিন্তু এই শিশুদের মোদির প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত আরও একবার সেই একই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য।” এর পাশাপাশি আয়ুস্মান ভারত প্রকল্প নিয়েও টুইটে খোঁচা দেন তিনি।  “আয়ুষ্মাণ ভারত প্রকল্পে এই শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করা হয়েছে।ইতিমধ্যে এই প্রকল্পে ৫০ কোটি মানুষ আওতাভুক্ত।কিন্তু তাতেও মানুষজন পায়না সুযোগ-সুবিধা। এই নিয়ে খোঁচা প্রশান্ত কিশোরের।

করোনার বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই, মন কি বাতে আশ্বাস

 দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই বেসামাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। সংক্রমণের সাথে সাথে বাড়ছে মৃতের  সংখ্যা। এদিকে ভ্যাকসিনের যোগান কম থাকার জেরে অভিযোগ উঠছে বারবার। রবিবার 'মন কি বাত 'এর মাধ্যমে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  জানালেন, লড়াই কঠিন। ভারত বরাবর কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে এসেছে। এবারও কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে  লড়াই করছে। তবে সেই যুদ্ধজয়ের  ব্লু প্রিন্ট কী, তা নিয়ে এদিনও স্পষ্ট দিক নির্দেশ করতে পারলেন তিনি। আজকের এই মন কি বাটে তিনি ফের লড়াইয়ের কোথায় বললেন।
করোনা পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা পরিকাঠামো, অক্সিজেন অথবা  টিকার সংকট নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এদিন এই পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের তরফে প্রধানমন্ত্রী সদার্থক বার্তা দেবেন। কিন্তু ৪০ মিনিটের এই ভাষণে সেসব নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করলেন না  মোদি।

মোদির সঙ্গে নামমাত্র কথা মমতার

শুক্রবার ঠিকই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইয়াস ঝড় নিয়ে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী | কিন্তু তিনি জানতে পারেন অন্য মন্ত্রী এবং রাজ্যপালও থাকবেন সর্বোপরি থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী | সরকারের তরফ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জানানো হয় যে শুভেন্দু থাকলে মমতা সেই বৈঠকে থাকবেন না | সম্পূর্ণ বিষয়টি রাজনৈতিক পটভূমিতে চলে যাচ্ছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোলাইকুণ্ডাতে মমতা এলেন, প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ইয়াস নিয়ে কাগজপত্র তাঁর হাতে তুলে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলে আসেন দিঘায় | সেখানে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করেন এবং দিঘা সমস্যার দায়িত্ব দেন প্রধান সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে | এর আগে তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন ঝড় বিধস্ত অঞ্চল ঘুরে দেখেন | তবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এসেছেন বলেই তাঁর সাথে দেখা করি এবং তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিই |           

মোদি আসছেন শুক্রবার

শুক্রবার উড়িষ্যা এবং বাংলা সফরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি | সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ইয়াস ঝড়ে প্রবল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী উড়িষ্যা ও বাংলা | তিনি কোলাইকুণ্ডা বিমানবন্দরে নেমে হেলিকপ্টার যোগে এই দুই রাজ্য সফর করবেন বলে খবর | এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ জেলাগুলিতে যাবেন | শোনা যাচ্ছে কোলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে | মোদি জানতে চাইবেন, কোথায় কতটা ক্ষতি হয়েছে | যদিও ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে রাজ্যকে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে | মুখোমত্রী জানাচ্ছেন কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে সেখানে ৪০০ কোটি কিছুই নয় | আশা করা যাচ্ছে অর্থের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সাহায্যের কথা জানাবেন মমতা |           


সিবিআইয়ের নতুন অধিকর্তা হলেন সুবোধকুমার জয়সওয়াল

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি বেছে নিল সিবিআইয়ের নতুন অধিকর্তাকে (CBI Director)। সিবিআই এর নতুন অধিকর্তা হলেন সুবোধকুমার জয়সওয়াল। তিনি মহারাষ্ট্র ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক। বর্তমানে তিনি সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) ডিরেক্টর জেনারেল পদে আসীন ছিলেন। সিবিআই ডিরেক্টর পদে যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করার ওই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়া রয়েছেন‌ দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা ও লোকসভায় বিরোধী নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন ঋষিকুমার শুক্লা। এরপর থেকে পদটি খালি ছিল। তবে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিরেক্টর প্রবীণ সিনহা। সোমবারই এই কমিটি বৈঠক করেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পুরোনো একটি রায় উল্লেখ করে কেন্দ্রের বাছাই করা দুই প্রার্থীর নাম বাতিল করে দেন। এরপর আজ ফের ওই কমিটি বসে বৈঠকে। অবশেষে সিবিআইয়ের ডিরেক্টর হিসেবে সুবোধকুমার জয়সওয়ালের নাম চুরান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি।

রাজ্যে টিকা তৈরির কেন্দ্র গড়তে জমি দিতে প্রস্তুত, ফের মমতার চিঠি মোদিকে

আবারও করোনার টিকা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার সঙ্গে দিলেন এক অনন্য প্রস্তাবও। রাজ্যে এবং দেশে করোনা টিকার বিপুল চাহিদা মেটাতে এই রাজ্যেই টিকা উৎপাদন কেন্দ্র খোলার প্রস্তাব দিলেন তিনি। বুধবার লেখা সেই চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, রাজ্যে ১০ কোটি মানুষের টিকার প্রয়োজন। সেখানে রাজ্যকে নামমাত্র ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছেন, বিদেশি বা দেশি সংস্থা দিয়ে করোনার টিকা উৎপাদন করতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি দিতে প্রস্তুত। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, আন্তর্জাতিক টিকা প্রস্তুতকারক সংস্থা চাইলে দেশের কোনও সংস্থাকে ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে টিকা করতে পারে, সেদিকে জোর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দেশে টিকার আকাল মেটাতে বিদেশ থেকে টিকা আমদানি করার দিকটিও ভেবে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দেশের বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে আমরা এখন যাচাই করে নিতেই পারি কোন বিদেশি সংস্থার তৈরি টিকা ভারতে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী? সেই অনুযায়ী দ্রুত বিদেশ থেকে টিকা আমদানির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।



জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন মোদি?


সাম্প্রতিক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পরাজয় এবং বাকি ৫ রাজ্যেও হতাশাজনক ফল। একমাত্র অসম ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে দাগ কাটতে পারেনি মোদি ম্যাজিক। এর সাথেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা, যেখানে এই সংক্রমণ রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলেই দাবি করছে একাধিক দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি এই সঙ্কটের মুখে পড়তে পারেন তা নাকি আগেই ধারণা করেছিলেন বিজেপির তাবড় নেতারা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বেপরোয়া রাজনীতিক, ভোট চলাকালীন প্রথম আক্রমণ আসে তাঁর দিক থেকেই। তিনি জানিয়েছিলেন, দেশ যখন করোনা আবহে অস্থির তখন মোদি বাংলা দখলের নেশায় ব্যস্ত। এবারে বাংলায় পরাজয়ের পর দেশের প্রতিটি বিরোধী দল আজকের ভয়ঙ্কর সংক্রমণ তথা মৃত্যুর মিছিলে দায়ী করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। অক্সিজেন থেকে টিকা, পরিষেবা, হাসপাতালে বেডের অভাব নিয়ে সরব বিরোধীরা। এমনকি বিজেপি দলের অভন্ত্যরেও মুখ খুলছেন অনেকেই।


সম্প্রতি 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে করোনা সতর্কতার পাশাপাশি সরকারি সাহায্যের বার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ওই বার্তা নিয়েই সরব বিরোধী এবং দলের অভন্ত্যরের নেতারা। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে একটি অংশের পঞ্চায়েত ভোটে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। সেখান থেকেই ভাবনা শুরু হয়েছে আগামী নির্বাচনগুলির। সূত্র মারফত জানা গেল মোদি টিমের ম্যানেজাররা দলের মধ্যে মোদির জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন, তাতে হিতে বিপরীত হয়েছে। জানা গিয়েছে আরএসএসের কাছেও নাকি একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এরই মধ্যে বিরোধীরা বলছে দেশ ডুবছে আর তখন অমিত শাহরা ব্যস্ত এজেন্সিদের দিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার। বিরোধীরা কিন্তু আর পরোয়া করছে না বলে জানাচ্ছে শিবসেনা। তবে জনপ্রিয়তা কমছে নরেন্দ্র মোদির।