অলিম্পিকে স্পোর্টস স্পিরিট

টোকিওঃ নজিরবিহীন ঘটনা অলিম্পিকে। হাতের কাছে সোনা পেয়েও, ভাগ করে নিলেন প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে। 

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ইটালির টাম্বেরি আর কাতারের ঈশা বারসিমের মধ্যে। টোকিওতে পুরুষদের হাই জাম্প এর ফাইনালে। ফাইনালে দুজনেই লড়াই শেষ করল ২.৩৭ মিটার লাফিয়ে। 

তারপর শেষ লড়াইয়ের আগেই সরে দাঁড়ালেন ইটালির টাম্বেরি। দ্বিতীয়বার লাফানোর পর চোট পেয়েছিলেন তিনি। ফলে তৃতীয়বার সে আর লাফাতে পারবে না। সেক্ষেত্রে কাতারের ঈশা বারসিমের হাতের মুঠোয় ছিল সোনা। 

কিন্তু বারসিম প্রতিদ্বন্দ্বীর চোটের সুযোগ নিতে চাইলেন না। অলিম্পিক কমিটির অফিশিয়ালদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যদি আমি তৃতীয় লাফ না দেই তাহলে কী সোনাটা আমাদের দুজনের মধ্যে ভাগ হবে? 

অফিশিয়ালরা আলোচনা করে জানালেন হ্যাঁ, সে ক্ষেত্রে দুজনকেই যুগ্ম বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। সঙ্গে সঙ্গে কাতারের ঈশা বারসিম তৃতীয় লাফ উইড্র করলেন। এবং জানালেন,প্রতিদ্বন্দ্বীর চোটের সুযোগে সোনা জিততে চান না তিনি। যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই হল স্পোর্টসম্যানশীপ। 

টাম্বেরি প্রথম লাফে ২.৩৭ এর বাঁধা পের করে। ঈশা বারসিমও ২.৩৭ মিটার লাফাল। দ্বিতীয় বারেও দুজনে একই দুরত্ব পের হল। 


Olympics:ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা নিয়ে পদক জয় চানুর

নয়াদিল্লিঃ অলিম্পিক্সে নামার আগে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন মীরাবাঈ চানু। তাঁর পদক জয়ের আগের দিন হঠাৎ করেই ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা শুরু হয় চানুর। সেই যন্ত্রণা নিয়েই রুপো জিতেন মীরাবাঈ। দেশে ফিরে নিজেই জানালেন তিনি। 

চানু জানান, ‘প্রচণ্ড চিন্তায় ছিলাম। বুঝতেই পারছিলাম না কিছু। আমার পদক জয়ের আগের রাতেই এমন হল। সেই সময় শরীর অন্য ভাবে কাজ করতে শুরু করে। স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। সেই নিয়ে চিন্তা পড়ে যাই। কিন্তু আমি নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলাম। খেলার মাঝে এমন হতেই পারে। আমরা অভ্যস্ত।’

আরও পড়ুনঃ  রুপোজয়ী চানু পেয়ে যেতে পারেন সোনার পদক!

অলিম্পিক্সে রুপো জয়ের পর ভারতে ফিরেতেই চানুকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ করল মণিপুর সরকার। মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার চানুকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রীড়া) পদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া তাকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। 

এবার টোকিও অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় হিসেবে পদক পেয়েছেন মীরাবাই চানু। ভারোত্তলনে ভারতের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তিনিই। ২০১৭ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে নজর কেড়েছিলেন মণিপুরের ভারোত্তলক।

গতবছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক পান তিনি। তার আগে ২০১৪ কমনওয়েল্থ গেমসে রুপো এবং ২০১৮ কমনওয়েলথে সোনা জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন মীরাবাই।