মুম্বাইয়ের গনেশ পূজা

আজকাল সারা ভারতের মতো বাংলাতেও বিভিন্ন পাড়াতে গণপতি বাপ্পার পুজো হয়ে থাকে । গণপতির পুজো মূলত মহারাষ্ট্র প্রধান উৎসব । প্রায় ১০ দিন ধরেও পুজো হয়ে থাকে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে । আমাদের দূর্গা পূজার মতোই স্কুল কলেজ অফিস ছুটি  থাকে । মানুষ এখানকার মতোই পুজোর দর্শনার্থী হয়ে বিভিন্ন পাড়াতে যান । রাস্তায় খাবারের দোকান খোলে বিভিন্ন খাবার বিক্রেতারা । শোনা যায় লক্ষ লক্ষ টাকার লাড্ডু বিক্রি হয় । কিন্তু করোনা আবহে গত বছর থেকে পুজো উৎসবে অনেকটাই সংযত মুম্বাইবাসী । ভিড় করা হয় না । কিন্তু পুজো হয় । 

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বাড়িতে যেমন পুজো হয় তেমন অভিনেতা সলমন খানের বাড়িতেও পুজো হয় । পুজো যেমন আনুষ্ঠানিক ভাবে করা হয় তেমনই একজন আরেকজনের বাড়িতে নিমন্ত্রিত থাকেন । ঠাকরেদের বাড়ি খুলে দেওয়া হয় যেমন আম জনতার জন্য তেমন সলমনের বাড়িতেও প্রবেশাধিকার থাকে সর্বজনের জন্য । এ বছরও তৃতীয় ঢেউয়ের চিন্তাই ঘিরে রেখেছে মহারাষ্ট্র অধিবাসীদের তাই এই বছরও কড়াকড়ি উৎসব বা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ।

সংসারের সমৃদ্ধিতে আজ গণেশ পুজোয় ঘর সাজান !

আজ গণেশ চতুর্থী। বেশকয়েকবছর ধরেই গণেশ পুজো করার একটা রীতি চলছে। তাই আজকের দিনটা অনেকে মেতে উঠেছে পুজোয়।তবে  যেকোনও পুজো পার্বণে ঘরকে যদি সুন্দর করে সাজানো যায়, তাহলে গোটা বাড়ি জুড়েই একটা পজিটিভ ফিল আসে। ফুলের মালা, রঙিন আলপনা  ধূপকাঠির গন্ধে ঘর বারান্দা ভরে গেলে মনে হবে সুখ বাসা বাঁধবে আপনার সংসারেই। করোনা আবহে এটাই তো আমাদের প্রার্থনা, সুস্থ থাকার। সুখে থাকা। আজ অনেকের বাড়িতেই গণেশ পুজো। সকলেই আজ ঘর সাজিয়ে তুলবে।বিভিন্ন রঙের ফুল দিয়ে।


ঘরের দুয়ারে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন দ্বারঘট। দ্বারঘটের চারপাশে হলুদ গাঁদার মালা জড়িয়ে দিন। ঘরে ঢোকার মূল দরজায় লম্বা লম্বা করে গাঁদার মালা ঝুলিয়ে দিন।লাল ও হলুদ রং গণেশ ঠাকুরের খুব প্রিয়। তাই ঘর সাজানোর ব্য়াপারে এই দুটো রংকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিন। কিনে আনতে পারেন লাল ও হলুদ রঙের ওড়না। ওড়নায় ছোট ছোট করে কুঁচি করে জানলায় পর্দা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ জল রাখুন। জলের মধ্যে গোলাপের পাপড়ি ভাসিয়ে দিন। ঠাকুরের সামনে এটি রাখতে পারেন। বেশি বড় পাত্র হলে আলপনার উপরে পাত্র রেখে সাজাতে পারেন।এছাড়া গণেশকে এদিন লাল কাপড়ের ওপর  রাখুন। সেখানে পুজো করুন। যেখানে সেখানে রেখে পুজো নয়. নিষ্ঠাসহ পুজো করলে আপনি সাফল্য পাবেন অবশ্যই।

Ganesh Chaturthi: গণেশ চতুর্থীতে মণ্ডপে প্রবেশ নিষিদ্ধ, নির্দেশ মহারাষ্ট্র সরকারের

হাতে আর মাত্র একদিন। তারপরেই গণেশ পুজো। এদিকে বেশকয়েকদিন আগে থেকেই মহারাষ্ট্রে সাজো সাজো রব । তবে এবছরও করোনা পরিস্থিতির জেরে মণ্ডপে প্রবেশ নিষিদ্ধ।  মঙ্গলবারই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএমসি। এবার গোটা রাজ্যেই এ নির্দেশ কার্যকর করল উদ্ধব ঠাকরের সরকার। কোভিড পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। মহারাষ্ট্র এই নির্দেশ কার্যকর হতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে বাংলার বাসিন্দারা। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে গণেশ পুজো। আর মহারাষ্ট্রে সাড়ম্বরে পালিত হয় এই উৎসব।

করোনা কালে গতবছর মহারাষ্ট্রে কার্যত স্থগিত ছিল সাড়ম্বরে গণেশ চতুর্থী উদযাপন। এবার করোনা পরিস্থিতি অনেকটা ভাল। তাই পাড়ায়-পাড়ায় পুজোর অনুমতি মিলেছে। তবে বেশকিছু নিয়মবিধি আগে থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।গত সপ্তাহেই গণেশ চতুর্থী উদযাপন নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছিল মহারাষ্ট্র সরকার।

তাতে বলা হয়েছিল, গণেশ মূর্তি মণ্ডপে আনা বা নিরঞ্জনের সময় কোনও রকম শোভাযাত্রা করা চলবে না। পাড়ার পুজোতে মণ্ডপের উচ্চতা হতে পারে সর্বোচ্চ ৪ ফুট। বাড়িতে গণেশ পুজো হলে সেই মণ্ডপের উচ্চতা হতে পারে মাত্র ২ ফুট। এর মাঝেই বিধিবাম। ফের বাড়ছে আরব সাগরের পাড়ের রাজ্যের সংক্রমণ।